বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃজলরং
পর্ব-4
লেখাঃ সানিয়াত আহম্মেদ
স্মরণের সাথে প্রেম করা হয়ে উঠেনি কখনো, কিন্তু মনে প্রাণে চাইতাম সে আসুক ফুল প্রতীকী হিসেবে দিয়ে ভালোবাসি আলতো ভাবে ঠোঁট কেঁপে উচ্চারণ করুক। আমি তার উচ্চারিত ভালোবাসি শব্দের পুনরাবৃত্তি হাজার বার শুনতে চাই। চোখ বন্ধ করলে আজও শুনতে পাই।
স্মরণের সাথে দেখা হয় নি স্কুলের পর। কিশোরী মন তাকে খোঁজার ইচ্ছে করি নি। কিন্তু হঠাৎ তরুণ স্মরণের সাথে দেখা আমার। চুল ছেড়ে হেটে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ স্মরণ এর সাথে দেখা। স্মরণ তখন কাঁধে ব্যাগ, হালকা চাপ দাঁড়ি। শুকনো শরীরে ঢিলেঢালা পাঞ্জাবী। কবি কবি ভাব যাকে বলে। আমি তাকে চিনতে পেরেছি, সে কী পেরেছে?
কলেজ ফাঁকি দিয়ে শপিং মলে ঘুরচ্ছিলাম বান্ধবীদের সাথে। আমার নয়নজোড়া তার দিকে তাকিয়ে। সে অন্যজনের কথায় ব্যস্ত। তার ভাবখানা এমন ছিলো পরিচয় দিলেও চিনবেনা। আমার হৃদগভীরে রাখা তার জন্যে অল্পখানি কৈশোরীয় প্রেম উঁকি দিচ্ছিলো। হঠাৎ নিজেকে সংযত করলাম। প্রেম টা শুধুই আমার, তার পক্ষ থেকে প্রেমময়ী আবেদন পাই নি। হয়তো চাই ও নি।
কিশোরীরা প্রেম বলতে হাত ধরা, চুমু খাওয়া ছাড়া আর কী বোঝে! এ-র মাঝে ভীড়ে সিঁড়ে থেকে নামচ্ছিলাম,হঠাৎ পেছন থেকে শক্ত একটা হাতের স্পর্শ। আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম সাথে সাথেই। এই হাতের স্পর্শ আমি চিনি, আমি জানি এটা কে! যদি অনুমান ভুল হয়। সাথে সাথেই পিছে ফিরে তাকাতেই দেখি স্মরণ। গোল মোটা ফ্রেম তার চোখে। আমি অন্য হাত নিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চাচ্ছিলাম। সে শক্ত হাত ধরে টেনে ভীড়ের বাইরে এলো। এক গাল হেসে বললো,
- তোকে কত খুঁজেছি আমি।
- কেন?
- পদ্ম ফুল দিতে! তুই না নীল পদ্ম চেয়েছিলি আমার কাছে৷ মনে পড়ে?
- সে তো কত কাল আগের কথা।
- হু, বাড়িতে সেদিন এক কাগজের পদ্ম বানিয়েছিলাম। নীল রঙ এর কলম দিয়ে বাকিটা একেঁছি। কি বোকা বল তো আমি, নীল রঙ এর কাগজ দিয়ে বানাতে পারতাম। প্রায় তিন দিন লেগেছিলো রঙ করতে। তুই নিবি?
- এখন আছে!
- বাড়িতে আছে৷ তোরা গ্রামে আর থাকিস না।
- না দাদা মারা যাওয়ার পর আব্বু ঢাকায় নিয়ে এসেছে।
- আবার চাঁদপুর গেলে আমায় বলিস, আমি দিয়ে দেবো। আর চাইলে যোগাযোগ রাখ, অন্তত নীল পদ্মটা নিতে আমার পদ্মাবতী।
সেদিন চলে এলেও, যোগাযোগ রয়ে গেছিলো ঠিক। স্মরণ লেখাপড়া ছেড়েছিলো। কবি কবি বা বৈরাগী ভাব ছিলো তার কথাবার্তায়। পূর্ব আবেগ নতুন খামভর্তি হয়ে ফিরে এলো। স্মরণ লিখা যেদিন পত্রিকার কলামের ছাপানো হলো, ছোট পনের লাইনের কবিতা। আমি কত বার যে পড়েছি ইয়াত্তা নেই৷
রাত তিনটা বাজে একদিন স্মরণের সাথে কথা বলছিলাম, লুতুপুতু প্রেমের আলাপ নয়। ভালো আছি বলে দুজনে দুপাশে বসে থাকতাম। বাবা আমাকে ঐভাবে দেখে সেদিন কিছু না বললেও, আমার বিয়ের তোড়জোড় চলছিলো গোপনে। একটা পুরোনো ক্ষত নতুন ভাবে ঠোঁট কাঁপাচ্ছে। আমি অনবরত স্মরণের আবেগে ঢলে পড়ছি।
চলবে......?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now