বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Md.Tuhin
(প্রথম অংশের পর) তোর বাবা চেয়ে দেখে পুরাতন দূর্গের মতন দালান। বড় একটা চাতাল পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে জিলানী তোর বাবাকে একটি ঘরে নিয়ে এল। মশালের আলোয় দেখল একটা পালঙ্কে একটি রূপসী
মেয়ে শুয়ে। অবস্থা সত্যিই ক্রিটিকাল। যাক। শেষমেশ তোর বাবার কল্যাণে রক্ষা পেল। ফুটফুটে এক ছেলে হল। তোর বাবার ওপর জিলানী অনেক খুশি হয়েছিল। তোর বাবাকে অনেক রূপার টাকা দিয়েছিল। রূপার টাকা? হ্যাঁ রে আফরিন। রূপার টাকা। রূপার টাকা ওরা কেন দিল মা? ওরা ছিল জ্বীন।জ্বীন! হ্যাঁ। জ্বীন। আশ্চর্য! সেই রূপার টাকা কই মা? জ্বীনের টাকা নাকি ঘরে রাখতে নেই। সে টাকা তোর বাবা আউলিয়াপুর জামে
মসজিদে দান করেছেন। ওহ্ । পরে ওই জ্বীনদের আর দেখেনি বাবা? হ্যাঁ, দেখেছে। পরে একবার নাকি জিলানী মিষ্টি-টিষ্টি নিয়ে তোর বাবার চেম্বারে এসেছিল। ছেলের নাম রেখেছে আদনান। আদনান! হ্যাঁ। আদনান ।
আশ্চর্য! একদিন দুপুরে একটা ভারী অদ্ভূত ঘটনা ঘটল...তাতে আমি রোকন ভাইয়া সম্বন্ধে সত্য ঘটনা জানতে পারলাম। ভাইয়া তখন ঢাকা ইউনিভারসিটিতে পড়ে। অর্থনীতি বিভাগে। এইচএসসিতে ভাইয়া দারুণ রেজাল্ট করেছিল। ততদিনে আমি এসএসসি দিয়েছি। রেজাল্ট তখনও বের হয়নি।রান্না করে, টিভি দেখে আর বই পড়ে সময় কাটছিল। এক দুপুরবেলা। মা ঘুমিয়ে ছিল। মায়ের শরীর ভালো ছিল না। কিছুদিন হল মায়ের হার্টের সমস্যা ধরা পড়েছে। গতমাসে বাথরুমে মা মাথা
ঘুরে পড়েও গিয়েছিল একবার। আমি পড়ার জন্য কিছু খুঁজছিলাম। আব্বার লাইব্রেরিতে গেলাম। খুঁজতে খুঁজতে
ওপরের তাকে বইয়ের ভাঁজে কালো রঙের রেক্সিনের জ্যাকেটের একটা ডায়েরি পেয়ে গেলাম। দেখেই চিনলাম ... বাবার হাতের লেখা, ঝরঝরে বাংলায়- সাধুভাষায় । পড়ব কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। হঠাৎই পাতা ওল্টাতে ‘উলির বিলের পাশে রহিমনপুর’ লেখাটায় চোখ
আটকে গেল। চোখ বুলিয়ে দেখলাম: বাবা যা লিখেছে সেসব আমি আমার মায়ের মুখে শুনেছি। আমি পড়তে শুরু করলাম। ... অনেক রাত্রে জিলানী আমাকে ঘোড়াগাড়ি করিয়া উলির বিলের পাশে রহিমনপুরের সেই পরিত্যক্ত দূর্গবাড় হইতে আমার ঠাকুরগাঁও শহরের বাসায়
পৌছাইয়া দিল। রেহনুমা (আমার মায়ের নাম) গর্ভবতী হইয়া ছিল। তাহার প্রসব বেদনা আরম্ভ হইলে পড়ে পরের দিনই তাহাকে আমি ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করাইয়া দিলাম। আমার দুর্ভাগ্যই বলিতে হয়, প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিল।হাসপাতালের গাইনি বিভাগের আমার একজন সিনিয়র কলিগ ডা. সুমিতা দস্তিদার আমাকে এই ইঙ্গিতে বলিলেন যে, রেহনুমা বাঁচিলেও তাহার অনাগত সন্তান বাঁচিবে নাও
পারে। আমি উৎকন্ঠিত হইয়া নির্জন করিডোরে পায়চারী করিতেছিলাম। গভীর শীতের রাত্র। ঠিক তখনই জিলানী
আর আঞ্জুমান কে দেখিতে পাইয়া আমি বিস্মিত হইলাম।আমি জানিতাম যে তাহারা জ্বীন প্রজাতির এবং ইহারা যে কোনও সময়ে যে কোনও স্থানে উপস্থিত
হইতে পারে। আমি বিপদের সময়ে অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী জীবদের দেখিয়া এক প্রকারের স্বস্তিও পাইলাম।
আমি জিলানী আর আঞ্জুমানকে রেহনুমার সর্বশেষ অবস্থার কথা খুলিয়া বলিলাম। আঞ্জুমান আমাকে শান্ত্বনা
দিয়া বলিল যে, ভাই, আপনি চিন্তা করিবেন না। আল্লাহই সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন। সন্তান বাঁচিয়া নাই শুনিলে আপনার স্ত্রী মানসিক আঘাত পাইবেন। সেইরকম কিছু হইলে আমি আমার পুত্র আদনানকে আপনার স্ত্রীর কোলে রাখিয়া যাইব। (বুঝিলাম আঞ্জুমান তাহার ছেলের নাম রাখিয়াছে আদনান।) আপনি আমাকে বাঁচাইয়াছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনার ঘরে আমার ছেলে বাঁচিয়া
থাকিবে। ... আমি আর কী বলিব। আমার তখন তরুণ বয়স। যথাযথ সিদ্ধান্ত লইতে কার্পণ্য করিতাম। রেহনুমার মুখের দিকে চাহিয়া আমি নীরব থাকিলাম। যথাসময়ে
রেহনুমা মৃত এক কন্যাসন্তান প্রসব করিল। অবশ্য সে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান লইয়াই আনন্দিত মনে হাসপাতাল হইতে ঘরে ফিরিল। আমিই কেবল শিশুটির প্রকৃত পরিচয় জানিলাম। আর কেহ জানিল না, এমন কী
হাসপাতালের নার্সও না। আমি জানি রোকন আমাদের সন্তান নয়, সে আঞ্জুমান-এর সন্তান। বিস্ময়কর হইলেও সত্য যে সে উলির বিলের জ্বীন পরিবারের একজন।
... পড়তে পড়তে আমার শরীর হিম হয়ে এল। আশ্চর্য! রোকন ভাইয়া জ্বীন। আর বাবা সেটা জানত। কথাটা বাবা মাকেও কখনও বলেনি। এখন সব মিলে যাচ্ছে। ভাইয়া ছেলেবেলায় মাঝে-মাঝে হারিয়ে যেত। পুলিশে খবর দিয়ে কিংবা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ছাপিয়েও নাকি কোনও লাভ হত না। আমি এখন জানি কেন লাভ হত না। আঞ্জুমান মনে হয় ওর ছেলেকে নিয়ে যেত? কোথায়? উলির বিলে? ওই ভৌতিক ঘটনায় মা ভীষন ভয় পেলেও বাবা কেন যেন নিশ্চিন্ত ছিল। আমি এখন জানি বাবা কেন নিশ্চিন্ত ছিলেন। বাবা আরও
লিখেছে ... জিলানী ইহার পরেও আবার একদিন আমার
কাছে আসিয়াছিল। সে মিষ্টি লইয়া আসিয়াছিল। আদনান- এর আকিকার মিষ্টি। সে আরও একটি আনন্দের সংবাদ দিয়া সে বলিল, ফাহমিদা নামে আঞ্জুমান -এর এক বোন আছে। আজই ফাহমিদার একটি কন্যা সন্তান হইয়াছে। ফাহমিদা তাহার কন্যা
সন্তানের নাম রাখিয়াছে শিরিন। এই পর্যন্ত লেখার পর অনেক গুলি পৃষ্ঠা ফাঁকা। অন্য বিষয়ে লেখা। ব্যাঙ্কে
ফিক্সড ডিপোজিট এর হিসাব আর ডাক্তার বন্ধুদের নিয়ে একটা নাসিংহোম দেওয়ার বর্ণনা। ব্যাঙ্ক লোন
আর বিনিয়োগের টাকার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জমি বিক্রির কথা। হঠাৎ একটি পৃষ্ঠায় আমার চোখ আটকে গেল।
তারিখ মিলিয়ে দেখলাম বাবার সাত দিন আগে। বাবা লিখেছে: গতকাল চেম্বারে বসিয়াছিলাম। জিলানী আর তার স্ত্রী আঞ্জুমান আসিল। আঞ্জুমান কে অনেক বৎসর পরে দেখিলাম। এতকাল পরেও মেয়েটি অনিন্দ্য সুন্দরীই
রহিয়া গিয়াছে দেখিলাম। আঞ্জুমান সালাম দিয়া আমাকে বলিল ... তাহার বোন ফাহমিদার ইচ্ছা সে তাহার কন্যা
শিরিনের সঙ্গে তাহার ছেলে আদনান- এর বিবাহ দিবে। এই কথা শুনিয়া আমি হতভম্ভ হইয়া গেলাম। আমি বিস্ফারিত নয়ানে আঞ্জুমানের দিকে চাহিয়া রহিলাম। আমি বিড়বিড় করিয়া বলিলাম: ইহা কী করিয়া হয়? আঞ্জুমান আমাকে বলিল, আপনি ভাবিবেন না। ফাহমিদারা এখন ঢাকায় থাকে। ওয়ারি। আর আল্লাহর
ইচ্ছায় শিরিন এই বৎসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হইয়াছে। এই বলিয়া আমাকে কিছু বলিবার
অবকাশ না- দিয়াই জিলানী আর আঞ্জুমান অদৃশ্য হইয়া গেল।আমার স্মরণ হইল বহু বৎসর পূর্বে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে আঞ্জুমান আমাকে শান্ত্বনা দিয়া বলিয়াছিল যে, ভাই, আপনি চিন্তা করিবেন না। আল্লাহই সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন। আল্লাহই যখন সমস্ত ব্যবস্থা করিয়া রাখিয়াছেন তখন আমি জানি যে এই বিবাহ হইবেই। জানিনা সমস্ত শুনিলে এত বৎসর পরে রেহনুমার
মানসিক অবস্থা কিরূপ হইবে। যাহা হউক, আল্লাহ আমাকে বিবাহ পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকিবার তৌফিক দিন ...
না, আল্লাহ, বাবার দোয়া কবুল করেন নি। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আমি কি ডায়েরির কথা মাকে জানব? নাহ্, ঠিক হবে না। মার শরীরের যা অবস্থা। মাকে জানাবো না বলে ঠিক করলাম। আমার ঘরে ডায়েরিটা লুকিয়ে রাখব ঠিক করলাম। একরাতে খেতে বসে রোকন ভাইয়া বলল,
মা, কাল তুমি দুপুরে কাচ্চি বিরানি রেঁধ। কেন রে? বলে মা ভাইয়ার প্লেটে রুটি তুলে দিল। ভাইয়া রাতে ভাত খায় না। রুটি আর দুধ খায়।কখনও এক টুকরো ফল।
দুধের বাটিটা টেনে ভাইয়া বলল, কাল ইউনিভার্সিটি থেকে আমার এক ক্লাসমেটকে নিয়ে আসব।ও দুপুরে খাবে। বেশ তো। বলে চিনির কৌটা খুলতে
লাগল মা। আমার বুক ধক করে উঠল। ভাইয়া ‘ক্লাসমেট’
বলল। ইস্ কতদিন পর আমার স্বপ্ন পূরণ হতে
যাচ্ছে! আমি কতদিন স্বপ্ন দেখেটি ভাইয়া একদিন ওর এক বন্ধুকে বাসায় নিয়ে আসবে। খুব সুন্দর। লম্বা আর ফরসা। (এত সুন্দর যে ফরিদা দেখে জ্বলে পুড়ে মরবে) তার সঙ্গে আমার পরিচয় হবে। ভাইয়ার ক্লাসমেট ছেলেটা কি খুব সুন্দর? কাল তাহলে আমি শাড়ি পড়ব। আর
বোরহানি আর ফিরনিটাও আমিই রাঁধব। মা আপেল কাটতে কাটতে বলল, তা তোর বন্ধুর নাম কি রে রোকন? শিরিন। ওহ্ । মা আমার দিকে তাকালো। মাকে
কেমন হতভম্ব দেখাচ্ছে। মুখচোরা ছেলের যে মেয়েবন্ধু থাকতে পারে তা সম্ভবত মায়ের বিশ্বাস হচ্ছিল না। মা জিজ্ঞেস করল, তা মেয়েটা কই থাকে রে? ঢাকায়? না হোস্টেলে থেকে পড়ে? না মা, শিরিনরা ঢাকায় থাকে।
ঢাকায় কোথায়? ওয়ারী. আমি মোটেও অবাক হলাম না. কারন পরবর্তীতে কি হবে এটাও আমি জানি বাবার ডায়েরী পড়ার কল্যানে. এখন আমি অপেক্ষায় আছি অনিন্যসুন্দর শিরীন এর মুখচ্ছবি খানা দেখার জন্য. কারন ওই তো হবে আমার ভাবি... (সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now