বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জিহান

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -- আজ এমন কিছু একটা করবো যেন এই বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রেমিক তার প্রেমিকার তা জন্য করেনি . জিহান গার্লস স্কুলের দেয়ালে হাত রেখে যেন প্রতিজ্ঞা করছে । . >> মেয়েটার তোর প্রেমিকা কখন থেকে ? -- হয়নি তো কি হয়েছে হয়ে যাবে >> মেয়েটা তো আমাদের দুবছর সিনিয়ার ! -- তাতে কি ভালোবাসা অন্ধ >> বন্ধু চল বাসায় যাই , আমার মা তোকে হরলিক্স খাওয়াবে . ভালোবাসা খালি অন্ধ না ভীষণ শক্তিশালীও । জিহানকে ৬ ফুটের দেয়াল টপকাতে দেখে মনির মাথায় প্রথমে এই কথাটাই এলো . . এই গার্লস স্কুলের সবকিছুই সে ভালোভাবে ষ্টাডি করে এসেছে । এখন ৭ম ঘন্টা চলছে । তীব্র গরমে সবাই কাহিল । বেশিভাগ মেয়েরা ঝিমাচ্ছে । স্যাররাও অনেকাংশে বিরক্ত । এই সময়টা পড়ানোর একদম অনুপযুক্ত । জিহান ঘড়ি দেখলো । সবকিছু টাইমে টাইমে সারতে হবে । আজ তাকে জেমস বন্ড হতেই হবে . কিছু নিদিষ্ট দরজায় তালা লাগালো । এনাউন্সমেন্ট রুমে উঁকি দিয়ে দেখলো রুম খালি । ভিতরে ঢুকে ভালো করে লক করলো । ধীরে সুস্থে স্পিকারটা অন করল . . প্রতিটা ক্লাশের মেয়েরা ঝিমাচ্ছে বা কেউ লুকিয়ে ফেসবুকে ভাইবারে ওয়াটআপে চ্যাট করছে । স্যার ম্যামরাও দায়সারা ভাবে ক্লাশ নিচ্ছে । ঠিক সেই মুহুর্তে প্রতিটা ক্লাশের সাইন্ড স্পিকার বেজে উঠলো । . "ইটস এ গাংনামষ্টাইল ওপ ওপস ইটস এ গাংনামষ্টাইল" . প্রথমে সবাই শকড এবং পরের মুহুর্তে সবাই পাগল ! এটা কি হচ্ছে ! স্যার ম্যামরা দিশেহারা আর ষ্টুডেন্টরা পাগলপারা । অতি উৎসাহী মেয়েরা বেঞ্চের উপর কোমড় দুলিয়ে গাংনামষ্টাইল নকল করছে । একে অন্যের দেখাদেখি এটা পুরো ক্লাশে ছড়িয়ে গেলো । স্যার ম্যামরা হঠাৎই যেন তাদের জ্ঞান ফিরে গেলো । সবাই এনাউন্সমেন্ট রুমে দৌড়ে গেলো , কেউ স্কেল দিয়ে পিটিয়ে মেয়েগুলোকে লাইনে আনার চেষ্টায় রত . ২য় তলার গেটে তালা মারা । পিওন নিচের তলা থেকে তালা ভাঙ্গার মেশিন আনতে গেলো । আর ঠিক তখনই হঠাৎ করে যেভাবে গানটা শুরু হয়েছিল ঠিক সেভাবে বন্ধ হয়ে গেলো । মেয়েরা একে অন্যের দিকে অবাক হয়ে দিকে তাকিয়ে আছে । এটা কি হচ্ছে ? ঠিক তখনই একটা কন্ঠ শোনা গেলো । . "হ্যালো চেক চেক" . মেয়েরা পুরোই থ ! একটা ছেলে ! গার্লস স্কুলে ! . -- গানটা ভালো লাগলো ? লাগতেই হবে । অফটার অল এটা আমার চয়েস করা । তাছাড়া আমার আরেকটা উদ্দেশ্য ছিল , একটা মেয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করা । আর মেয়েটা এখন আছে ক্লাশ টেনের ক্লাশ রুমে . ক্লাশ টেনের মেয়েরা চিৎকার করে উঠলো । কেউ খুশিতে কেউ বা ভয়ে । "কে এই ছেলে ?" . -- মেয়েটার নাম হল "সামিয়া চৌধুরী" ডাক নাম "জুঁই" আর আমি তার নাম দিয়েছি "মোনালিসা" . সারা স্কুল থেকে হুই করে একটা চিৎকার শোনা গেলো । ক্লাশ টেনের মেয়েদের সবার চোখ তখন জুঁই এর দিকে । সদ্য মোনালিসা উপাধি পাওয়া মেয়েটি হাসবে না কাঁদবে বুঝছে না । লজ্জায় তার লালভ গাল রক্তিম বর্ণ ধারণ করছে । সবাই মোনালিসা মোনালিসা করে চিল্লাচ্ছে । স্যার ম্যামরা সমানে স্কেল চালিয়েও কারো লাগাম টানতে পারছে না । ততক্ষণে দোতলার গেইটের তালা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে । . ওদিকে জিহান বলে চলেছে . -- সময় কম , তাই তোমাকে কতটা ভালোবাসি তা ইনিয়ে বিনিয়ে বলে সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না , তবে এতটুকু বলতে পারি আমি তোমার প্রেমে কখন পড়েছিলাম । সেইদিন দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছিলাম কোথা থেকে উড়ে আসা একটা অটোরিক্সার আঘাতে ছিটকে পড়ি । চসমাটাও ছিটকে যাওয়ায় চোখে কিছু দেখতে পারছিলাম না । হঠাৎ খেয়াল হল কে যেন আমাকে চসমাটা পড়িয়ে দিচ্ছে । তাকিয়ে দেখি এক নীল স্কুলড্রেসের এক কিশোরী আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে । বলল "এই চার চোখ ? চার চোখেও যদি দেখে চলতে না পারো তাহলে নিজের গার্লফ্রেন্ডটাকে দেখার জন্য কি চোখে বাইনোকোলার লাগবে ?" বলে হাসতে হাসতে চলে গেলো । আর আমার ভালোবাসার উৎপত্তি তখনই . সদ্য উপাধী পাওয়া মোনালিসা নামের মেয়েটির সাথে সাথে ছেলেটার কথা মনে পড়ে গেলো । ছেলেটা লম্বার বড় হলেও বয়সে তার ছোট . জিহান যেন তার মনের কথা বুঝেই বলল -- হ্যাঁ আমি তোমার থেকে দু বছর জুনিয়ার আর জুনিয়াররা সিনিয়ার কাউকে ভালোবাসতে পারবে না এটা কোথায় লিখা আছে ? তাছাড়া কবি বলেছে ভালোবাসা বয়স মানে না . মেয়েটা হেসে দিলো । পুরো স্কুল যেন বিস্ফোরিত হল সব মেয়ের চিৎকারে । প্রতিটা মেয়েই তো এমন ছেলে চায় যারা তাদের জন্য পাগলামীর চুড়ান্ড পর্যাযে যেতে পারে . স্যাররা এখন এনাউন্সমেন্ট রুম দরজা বাকি । কেউ একজন চাবি আনতে গেছে । এরই ফাঁকে ভেতরে কে বলে সবাই দরজা ধাক্কাধাক্কি করছে . জিহান তাড়াতাড়ি বলে চলল । - আমার হাতে সময় বেশি নেই মোনালিসা । তাই যাবার আগে আমার সম্পর্কে কিছু কথা বলে নিই আমি "আববার হাসনাত আল মাহামুদ বিন সুফিয়ানউল্লাহ । তুমি আমাকে জিহান বলে ডাকতে পারো । আমি তোমাদের পাশের বয়েস স্কুল পড়ছি । আমার মোবাইল নাম হল "০১৯২০৪২৩৮২৩" হল । ওকে বিদায় মোনালিসা । জানি না তুমি আমাকে ভালোবাসবে কিনা , তবে জেনে রেখো একটা ছেলে চিরকাল তোমাকে ভালোবাসে আর বেসে যাবে । যাওয়ার আগে তোমাকে ডেডিকেইট করে আমার এই গান . . "তোমার জন্য আমি বন্য মাতাল অনুভবে জুড়ে সব শুন্য শুধু বন্য তুই আচিস অচিনপুর" . দরজা খুলার পর দেখে পুরো ঘরে কেউ নেই । পাখি পাগারপার । জিহান তখন দোতলার জানালা খুলে কোনমতে মাটিতে পৌছেছে । পালানোর একটাই সটকার্ট রাস্তা । মাঝমাঠের মাঝখান দৌড়ে যাওয়া । তাই সেই রাস্তাতেই দৌড়ালো । তখন চারপাশের চিৎকারের মাত্রা যেন আরো বেড়ে গেলো । তাকিয়ে দেখে গার্লস স্কুলের প্রতিটা মেয়ে ক্লাশ ছেড়ে বারান্দায় এসে চিৎকার করে হাত দেখাচ্ছে । এই স্কুল জীবনের সেরা দৃশ্যটা তারা দেখছে । আশেপাশে কেউ তাকে এখন ধরতে আসেনি দেখে এক মিনিটের জন্য দাড়ালো । সবাই তখনো দোতলায় তাকে খুঁজে চলেছে । মেয়েরা এই কিউট ছেলেটার দিকে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিচ্ছে । জিহান যাকে দেখার তাকে এত জনের মাঝে খুঁজে পাচ্ছে না । অবশেষে লাল ফিতা নাড়িয়ে একটা মেয়ে তার দৃষ্টি আর্কষণ করলো । . সবাইকে অবাক করে মুর্হুতের মাঝে জিহান ব্যাগ থেকে বাইনোকোলারটা বের করে চোখে লাগলো । মেয়েটা ওর দিকে তাকিয়ে ফিতাটাকে দুহাতে মুটো করে বুকের উপর রাখলো । কিছু বলতে বলতে চোখ বন্ধ করে ঠোঁট নাড়ালো . জিহান চিৎকার করে উত্তর দিল -- আই ল্যাভ ইউ টু মোনালিসা . উত্তেজনায় পুরো স্কুল যেন ভেঙ্গে পড়তে লাগলো । গেইট টপকানোর পরও গানটা জিহানের মনে গুনগুন সুরে গানটা তখনো বেজে চলেছে . "শপথ নিলাম তোকেই রাণী করবো নিশ্চয় এই রাজত্বে খুঁজে দেখিস আমার মত পাবি নাকো স্বর্গমর্তে তোর জন্য আমি বন্য" [] শান্তনু চৌধুরী শান্তু []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জিহান

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now