বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনটাও বন্ধুর জন্য

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X অনুঃহ্যালো দোস্ত কি করো??? নিলয়ঃহাতী মারি,এতো রাতে কিসের জন্য কল দিছিস???নিশ্চয় কোন কিছু চাইবি,,,,দরকার হলেই তো আমাকে ফোন দিস,,দরকার শেষ হলে আমার খবরও তো রাখিস না,,,, . অনুঃএমন করছিস কেনো?কই আমিতো সব সময় তোর খবর রাখি,,,আর শোন আমি আইসক্রিম খাবো,,,এখনি নিয়ে আসবি হোস্টেলের গেটে,,, নিলয়ঃএই অনু তুই কি ঠিক আছিস নাকি মাথার তার সব কয়টা ছিড়ে গেছে??? . অনুঃআমি ঠিক আছি,তুই এক্ষুনি আইসক্রিম আর তুই বেশি কথা বলতেছিস তাই জরিমানা হিসেবে ২টা চকলেটও নিয়ে আসবি,,,, নিলয়ঃপাগলামি বাদ দিয়ে ভালো হয়ে যা,এখন রাত ১১টা বাজে আমি এখন কই তোর শখের জিনিস গুলো পাবো আর এতো রাতে কি শহরে যাওয়া সম্ভব??? . অনুঃঅন্য কেউ বল্লে ঠিকই নিয়ে আসতি,এখন আমি বলছি,,, ওকে,সরি কিচ্ছু নিয়ে আসতে হবে না,,,,,আর তোকে ডিস্টার্ব করার জন্য আবারও সরি,,,,এই বলেই অনু ফোন টা দিলো কেটে,,, নিলয় অনুর কথা শুনেই বুঝতে পারছে রাগ করে আছে পাগলীটা,,,তার রাগ টা তো ভাঙ্গাতেই হবে না হলে নিলয়ের কপালে খারাপ কিছু আছে,,, . এখন যারা কথা বলছিলো তারা হলো নিলয় আর অনু।তাদের পরিচয় ২.৫বছর যাবৎ।কলেজের ৫ম দিন থেকে আজ পর্যন্ত তাদের বন্ধুত্বের মাঝে অনেক ঝগড়া হয়েছে,অভিমান হয়েছে তবে নিলয় অভিমান করে থাকতে পারে না অনুর রাগ ভাঙ্গাতেই যেনো ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিলয়,,, . ওদের বন্ধুত্ব দেখে অনেকের হিংসা হয়,তার পরেও করার কিচ্ছু নাই,তাদের বন্ধুত্ব টা ভেঙ্গে যাওয়ার মতো নয়,,,, নিলয় এখন মেছ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে শহরের দিকে চকলেট আর আইসক্রিমের খোজে,,,এগুলো না পেলে তো পাগলীটার রাগ ভাঙ্গানে যাবে না,,,হেটে হেটে যাচ্ছে শহরের দিকে,আর ভাবছে পাগলি টা এমন কেন???শহরে গিয়ে ২টা আইসক্রিম আর ৫টা চকলেট কিনে মেয়েদের হোস্টেলের সামনে এসে অনুকে ফোন দিলো নিলয়,,, . নিলয়ঃআমি তোদের হোস্টেলের গেটের সামনে এখন কেমনে দিবো এগুলো??? অনুঃআমি জানি তোর যতই কষ্ট হোক তুই নিয়ে আসবি,,,,তুই গেটে নক কর,,টুকু মামার কাছে দিয়ে যা,,,আমি নিয়ে আসবো,,, নিলয়ঃওকে অনুঃহুমমম,মেছে পৌঁছে আমাকে কল দিস,,,, . নিলয়ঃএতো রাতে আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে আবার মায়া দেখায়,,আমি যাবো না মেছে,,,সারা রাত রাস্তায় থাকবো,,,, অনুঃবেশি ভাব দেখালে আইসক্রিম চকলেট কিচ্ছু খাবো না,,,, নিলয়ঃনা না রাগ করো না বাবু,,,খাও,,,আমি মেছে যাচ্ছি,,, অনুঃউমমম,,আইসক্রিম টা খুব মজা রে,লাভ ইউ দোস্ত,,, . এভাবেই কাটে তাদের দিনগুলি,হুমায়ন আহমেদের সে কথাটাই এখানেও সত্য হয়ে যায়,একটি ছেলে মেয়ে সারাজীবন বন্ধু হিসেবে থাকতে পারে না তারা প্রেমে জড়াবেই,,,, নীলয় মনে মনে অনু কে অনেকটাই ভালোবাসে কিন্তু ভয়ে বলতে পারে না,,,, . দেখতে দেখতে তাদের ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার প্রায় কাছাকাছি সময়ে সবাই মিলে রেগ ডে এর আয়োজন করলো,,সবাই মিলে অনেক মজা করলো কিন্তু হাসি-খুশির আড়ালে ছিলো দীর্ঘ ৪বছরের মায়ার বাধন ছিন্ন করার ভয়,,,, সে দিন নীলয় আর অনু অনেক কান্না করেছিলো,,, . চলে গেলো কলেজ থেকে কিন্তু রয়ে গেলো নীলয় অনুর বন্ধুত্ব সম্পর্ক কিন্তু আগের মতো তাদের কথা হয় না,আগের মতো অনু আর নীলয়ের কাছে আইসক্রিম চকলেট চায় না,,, ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার পর পরই অনুর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়,অবশ্য এই বিয়েতে অনুর দ্বিমত ছিলো কিন্তু তার বাবার ভয়ে কিছু বলতে পারে নি,,, . অনেক দিন পরে অনু নীলয় কে ফোন দেয়,, ক্রিং ক্রিং ক্রিং নিলয়ের মোবাইল টা বেজে ওঠে,নিলয় ফোন টা রিসিভ করেই বলে ওঠে,, নিলয়ঃকিরে এতো সহজেই ভুলে গেলি??আমাকে না জ্বালালে তোর পেটের ভাত হজম হতো না আর সেই তুই তিন মাস ফোন না দিয়ে কেমনে ছিলি??? অনুঃঐ কুত্তা তুই ফোন দিছিস আমাকে???তোর উপরে অভিমান করে দেই নি।তো বল কেমন আছিস???? . নিলয়ঃপ্রাণ ছাড়া পাখি যেমন থাকে আমিও তেমন আছি,, তোকে সব সময় মনে পড়ে,,এখনো তোর জন্য প্রতিদিন চকলেট আর আইসক্রিম নিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত বসে থাকি কিন্তু তুই তো এখন আর এগুলো খেতে চাস না,,,তুই কি এগুলো খাওয়া ভুলে গেছিস??? অনুঃসত্যি রে আমি আইসক্রিম আর চকলেট খাওয়া ভুলে গেছি।আর শুন,সামনের মাসের ২০তারিখে আমার বিয়ে।তুই কিন্তু সবার আগে উপস্থিত থাকবি,,আর হে,বিয়ের কার্ড তোকে মেইল করে পাঠিয়ে দিবো,এতো দূর তো যাওয়া সম্ভব না,,, . অনুর কথাগুলো শুনে নিলয়ের চোখের কোনে পানি চলে আসে।কিজে কন্ট্রোল করে বলে,, নিলয়ঃতোর বিয়ে আর আমি আসবো না মানে,তোর কি গিফট লাগবে বল,,, অনুঃতুই আসলেই হবে,আর শরীরের কেয়ার করিস,, নিলয়ঃসত্যি কথা বলতে কি তুই চলে যাবার পর থেকে নিজের প্রতি খেয়াল টাও নেই। অনুঃসব কিছুই মেনে নিতে হবে,,আচ্ছা রাখি ভালো থাক,, এ বলেই অনু ফোন কেটে দিলো,, . নিলয় অতীতগুলো ভাবতে থাকে আর অনুর বিয়েতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।নিলয় অনুর জন্য প্রিয় নীল শাড়ী,চকলেট আর আইসক্রিম কিনে নিয়ে অনুদের বাসায় চলে যায়,,, বিয়ের দিন অনু কে নীলয়ের দেয়া নীল শাড়িতে সত্যি অপ্সরীর মতো লাগছিলো,অবশ্য অনুর ইচ্ছাতেই নিলয়ের দেয়া নীল শাড়ীটা পড়েছিলো।নিলয় শুধু চেয়ে দেখছে,,, . ধুম ধাম করেই অনুর বিয়ে সম্পূর্ণ হয়।বিয়ে শেষে নিলয়ও তার কর্মস্থলে চলে যায়,,, এভাবে আরও কেটে যায় ২টি বছর,এই দুুই বছরে নিলয় একেবারেই শেষ হয়ে গেছে নিকোটিনের ধোয়ায় তাকে শেষ করে দিছে।ডক্টর বলেছে তার এক কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে।আরও অনেক রোগ বাসা বেধেছে তার শরীরে।নিলয় নিজেও জানে সে আর বেশি দিন বাচবে না। একদিন হসপিটাল থেকে বের হওয়ার সময় অনু নিলয় কে দেখতে পায়,,, . অনুঃকিরে এতোটা শুকিয়ে গেলি কেমনে???ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস না??? নিলয়ঃকই শুকায় নি(তার অসুখের কথা অনুর কাছে লুকায়িত রাখে),,,তোর কোলের টা নিশ্চয় তোর সন্তান,,, ওর নাম কি রেখেছিস??? অনুঃতোকে যেনো ভুলে না যাই তাই মেয়ের নাম রেখেছি নীলা,,, . নিলয়ঃতো দিন-কাল কেমন কাটছে???তোর স্বামী আসে নি???আর তুই হসপিটালে কেনো??? অনুঃও কাজের চাপে আসে নি।আর নীলার জন্য খুব টেনশনে আছি,ওর নাকি একটা কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে(কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে),,,, . নিলয়ঃকান্না করিস না,সব ঠিক হয়ে যাবে,,নীলা কে কোলে নিয়ে ৫০০টাকা হাতে দিয়ে নিঝুম কে একটা রিকশায় ওঠিয়ে দিয়ে বাসার দিকে পাঠিয়ে দেয়,,, নিলয় ভাবতে থাকে তার ভালো কিডনী টা নীলা কে দিয়ে দিবে,,, তার এই কথাটা তার মাকে জানালো সে মারা গেলে যেনো তার কিডনি টা নীলা কে দিয়ে দেয়,,, . হঠাৎ করেই নিলয় অসুস্থ হওয়াতে তাকে হসপিটালে নেওয়া হয় ডাক্তার জানায় তাকে বাচানো সম্ভব না,,, তার কিডনি টা শরীর থেকে রেখে দেওয়া হলো পরে রইলো নিলয়ের নিথর দেহ। ডাক্তারকে নিলয়ের মা বল্লো,আমার ছেলের কিডনি টা মারা যাওয়ার আগে নীলা নামের মেয়েকে দান করে গেছে,,, . ডাক্তার অনুকে ফোন দিলো,,, ডাক্তারঃএক যুবক মারা যাওয়ার আগে আপনার সন্তানের জন্য তার কিডনি টা দিয়ে গেছে,,তাড়াতাড়ি চলে আসুন,,, অনুঃকে দিবে কিডনি আমার সন্তান কে???? ডাক্তারঃকথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে আসুন,,, . অনুঃওকে ডাক্তার আমি আসতেছি,,, অনু তার মেয়ে নীলাকে নিয়ে হসপিটালে গেলো এবং নীলার শরীরে নতুন কিডনি স্থাপন করা হলো,,,,, অনুঃআমার মেয়েকে কিডনি দেওয়া লোকটি কোথায়??? ডাক্তারঃদেখেন ২০৪নাম্বার রুমে আছে,,, অনু চলে গেলো ২০৪নাম্বার রুমে। . দেখে সাদা কাপড় দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে,নার্স কে বলে লাশের উপর থেকে কাপড় ওঠাতেই দেখে তার প্রিয় বন্ধুটি চিরদিনের জন্য শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে,,,, অনু নিলয়ের লাশটি জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাদছে,,,আর ভাবছে পাগল টা সারা জীবন আমার সকল চাওয়া পূর্ণ করে আসছে,,,, শেষ মুহূর্তে তোর জীবন টাই দিয়ে দিলি,,,, নীলয় মারা যাওয়ার ৫বছর হয়ে গেছে,অনেক কিছুই বদলে গেছে শুধু বদলে যায় নি অনু,,,, এখনো নিলয়ের নাম্বার ০১৭৮৫৮০,,,,, এই নম্বরে কল দিয়ে যায় তার প্রিয় চকলেট আর আইসক্রিমের জন্য,,,, . অনু নীলয়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে তার কবরের পাশে গিয়ে অনু আর অনুর মেয়ে নীলা দোয়া করে আসে,,,, একদিন পিচ্চি মেয়ে নীলা তার মাকে প্রশ্ন করে,,, নীলাঃতুমি এই কবরের পাশে এসে কান্না করো কেনো আম্মু???কবর টা কার??? . অনুঃমা রে তুই যার জন্য বেচে আছিস,যার নাম অনুসারে তোর নাম রেখেছি ,যার চকলেট আর আইসক্রিম আমি আজও মিস করি,যার জন্য আমি রোজ রাতে কাদি তার কবর এইটা,,,,,, অনুর কথা শুনে পিচ্চি মেয়েটিও কান্না করতেছে,,,, কান্না করতে করতে মেয়েকে নিয়ে নীলয়ের কবরের পাশ থেকে চলে যাচ্ছে অনু,,,, হয়তো নীলয় কে কখনো ভুলতে পারবে না অনু,,, নীলয় মারা গেলেও বেচে থাকুক তাদের বন্ধুত্ব,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনটাও বন্ধুর জন্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now