বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের মূল্য বুঝতে শিখ

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X . আজ সকাল থেকেই মনটা ফুড়ফুড়ে। আমাদের বাসায় নতুন ভাড়াটে আসছে তাও অনেক দিন পর।সাড়াদিন একা রুমে থাকতে থাকতে একদম বোর হয়ে যাই।নতুন ভাড়াটে এলে সময়টা খুব ভালো কাটবে।হঠাৎ বাসায় নিচে গাড়ির হর্ণের শব্দ, তারমানে নতুন ভারাটে চলে এসেছে।শুনেছি এক ভদ্রলোক তার স্ত্রী এবং তাদের এক বাচ্চা থাকবে। হর্ণের শব্দে দোতলার বারান্দায় এসে দাড়ালাম।তিনটা ট্রাক ভরে আসবাবপত্র এসেছে সাথে একটা টেকসি। টেকসিতে ওনারা,টেকসি থামতেই একটা পিচ্ছ লাফিয়ে নামলো।বাচ্চাটা কি কিউট দেখতে, একদম মোটাসোটা নাদুসনুদুস।গাল দুটুতো পুরা টমেটোর মত।মন চাইছে গালটা টেনে দেই।ওই টেকসি থেকে নেমে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে এলো, আমিও বারান্দা থেকে দৌড়ে সিড়ির দিকে এলাম উদ্দেশ্য গবলুটার সাথে ভাব জমানো।সিড়ির সামনে গিয়ে দেখি গবলুটা ওদের রুমের সামনে দাড়িয়ে আছে।দরজায় তালা দেওয়া তাই ঢুকতে পারছে না।ভাব জমানোর উদেশ্য বলাম হাই! -হ্যালো কেমন আছো? - আরে এতটাতো ভাবি নি এত মেঘ না চাইতেই জল।ভালো তুমি? -ভালো। - তোমার নাম কি? -রিয়ান। - বাহ্ খুব সুন্দর নাম। - এটা কি তোমাদের বাসা? - হুম কেনো?? - এখন থেকে এটা আমাদের ওদের রুমের দিকে ঈশারা করে। - হি হি হি আচ্ছা বেশ ঐটা তোমাদের। কথা শেষে দৌড়ে আবার বাহিরে চলে গেল। রিয়ানটা দেখতে যেমন কিউট ওর কথাগুলো আরো বেশি কিউট। পরের দিন সকালে নাস্তা করে রিয়ানের সাথে দেখা করতে গেলাম।দরজায় নক করতেই আন্টি দরজা খুলে দিলেন।আসসালামু আলাইকুম আন্টি,ওয়ালাইকুম সালাম তুমি বিপা তাই না? জ্বি আন্টি, আসো ভেতরে আসো।আমি ভেতরে যেতেই আন্টি বলতে লাগলো তোমার কথা তোমার বাবার মুখে শুনেছি,প্রথমে মনে হচ্ছিলো একটু বেশিই বলছে কিন্তু তোমাকে দেখার পর মনে হচ্ছে ঠিকি বলেছে একদম বাড়িয়ে বলেন নি।আন্টি টাও খুব ভালো, আন্টির সাথে গল্প করে রিয়ানের সাথে গল্প করে খেলা করে নিজের রুমে চলে এলাম।এই অল্প কোদিনে আন্টির সাথে এবং রিয়ানের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।আমি প্রতিদিনি আন্টির সাথে গল্প করি, প্রতিদিনি ওনাদের ফ্লাটে যাই, কিন্তু আমি যতবারি ওনাদের ফ্লাটে গিয়েছি একটা প্রশ্ন একটা কৌতুহল বার বার আমার মনে উকি দিয়েছে।প্রায় প্রতিদিনি আন্টিকে জিজ্ঞাস করব বলে ভাবি কিন্তু আন্টি কি মনে করবে সেটা ভেবে আর করা হয় না। . আজ রিয়ানকে ডাকার জন্য ওদের ঘরে যেতেই দেখি আন্টি আমার কৌতুহল ভরা জিনিসটার দিকে তাকিয়ে কাদছে।এখন আমার কৌতুহল আরো তিন চার গুন বেড়ে গিয়েছে।আমাকে দেখতেই আন্টি তাড়াতাড়ি চোখটা মুছে নিলেন।আরে বিপা তুমি কখন এলে? এইত কিছুক্ষন। আন্টি একটা কথা জিজ্ঞেস করি? হ্যাঁ কর না।আন্টি আপনাদের ঘরের প্রতিটা ছবিতে আপনি আছেন আঙ্কেল আছে,রিয়ান আছে সাথে একটি মেয়েও আছে ঐ মেয়েটা কে? আর তাকে আপনাদের সাথে দেখছিনা কেনো??আন্টি আমার প্রশ্নে পাথরের মূর্তির মত হয়ে গেলো,কিছুই বুঝতে পারছিনা। পুনরায় আন্টির চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে!! আন্টি কি হয়েছে আপনার???জানো ছবির ওই মেয়েটা কে?? না। ওইটা আমার মেয়ে! আমার প্রিন্সেস। তাই নাকি খুব সুন্দর দেখতে, কোথায় আপনার মেয়ে একবারো তো দেখলাম না। চলে গিয়েছে! মানে??? হুম না ফেরার দেশে আমার প্রিন্সেস চলে গিয়েছে! বলেই আন্টি উড়না দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগলো। এই শোকের শান্তনা কি হয় বা কিভাবে দিতে হয় তা সত্যি আমার জানা নেই।শুধু আন্টিকে বলাম কাঁদবে না আমি তো আছি আজ থেকে আমাকে আপনি মেয়ে বলে ডাকবেন।আন্টি খুব শক্ত করে আমাকে জরিয়ে ধরলেন এবং আদর করলেন হয়ত আমার মধ্যে সে তার মেয়েকে খুজে পেয়েছে।তারপর আন্টির কাছেথেকে তার প্রিন্সেসের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার গল্প শুনলাম। . রামিয়া তাদের একমাএ আদরের মেয়ে।আন্টি আঙ্কেলের কলিজার টুকরা নয়নের মণি ছিল রামিয়া।ছোট থেকেই সে খুব মেধাবী।স্কুল জীবন পার করে কলেজে পা দিয়েছে,প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল। হঠাৎ একদিন আন্টি আঙ্কেল জানতে পাড়লেন রামিয়া কাওকে ভালোবাসে এবং তাদের ভালোবাসার গভিরতা অনেক দূর পর্যন্ত চলে গিয়েছে।এ কথা শোনার পর আঙ্কেল অনেক রাগা রাগি করলেও আন্টি অনেক ভাবে ওকে বুঝিয়েছে।কিন্তু রামিয়া মানতে নারাজ।একদিন হঠাৎ করেই বাসার কাওকে কিছু না বলে রামিয়া চলে যায়।অনেক খুজাখুজির পরেও রামিয়াকে পাওয়া যায় নি। এতে বুঝতে আর বাকি রইল না যে রামিয়া ঐ ছেলেটার সাথে পালিয়েছে।রামিয়া চলে যাওয়াতে আন্টি আঙ্কেলের অবস্থা খুবি করুন।একেতো সমাজে মান সম্মান হারানোর ডিপ্রেশন অন্যদিকে কলিজার টুকরা নয়নের মণিকে হাড়ানোর যন্তনা।এ দুটু আন্টি আর আঙ্কেলকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। . এ ঘটনার প্রায় ১৫/২০ দিনের মাথায় আনন নাম্বার থেকে আন্টির কাছে ফোন আসে। আন্টি ফোন রিসিভ করতেই ফোনের ওপার থেকে কেও হাওমাও করে কাঁদতে লাগলো।এতে আন্টির বুঝতে এতটুকুও অসুবিধা হলো না যে এটা রামিয়া!রামিয়া একটা কথায় বলছে আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসতে চাই প্লিজ আম্মু আমাকে নিয়ে যাও।আন্টি আঙ্কেলের কলিজা টুকরা ছিল রামিয়া যতই রাগ অভিমান থাক ওর এমন কান্না ভড়া কন্ঠ শুনে তারা ঠিক থাকতে পারলেন না। তাই সমাজের হাজারটা কথার বিরুদ্ধে গিয়ে তারা রামিয়াকে ঘরে তুলে নেন।রামিয়া মানুষ চিনতে ভুল করেছে,ওর ভালোবাসা খাটি হলেও বিপরীত পাশের মানুষটার ভালোবাসা পুরোটাই ছিল অভিনয়। তাইতো রামিয়াকে বাজারের সস্তা পন্যের মত ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।এই ক্ষতের ঘাঁ টা খুব গভির ছিল রামিয়ার কাছে।যেটা রামিয়া কখন চিন্তাতেও আনেনি।হয়ত তার এই কাজ তার বিবেক কে দংশন করতে করতে শেষ করে দিয়েছিল যার জন্য রামিয়া এমন এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো,এ সিদ্ধাতের কারনে রামিয়া হয়ত মানসিক যন্তনা থেকে মুক্তি পেয়েছে।কিন্তু তার এমন ভাবে চলে যাওয়া আন্টি আঙ্কেলকে মানসিক যন্তনা তো দিয়েইছে সাথে জীবন্ত লাশ বানিয়ে দিয়েছে। . আমার কিছু কথা তাদের জন্য যারা জীনটাকে তুচ্ছ মনে করে। খুব পরিচিত একটা প্রবাদবাক্য আছে"ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভানিও না"।কথা টা খুব দামি এত বড় অন্যয় করার পরও মা-বাবা নামের ওই অসহায় মানুষ দুটো সমাজের হাজারটা কটু কথার বিপক্ষে গিয়ে তোমাকে ঘরে তুলে নেয়।কেন জানো??? কারন তোমাকে তারা ভালোবাসে আর তাদের ভালোবাসায় কোন খাদ নেই।স্নেহ ভালোবাসা সাপ্টে দিয়ে বড় করেছে তোমাকে, আগলে রেখেছে তাদের পুরটা দিয়ে।কি অধিকার আছে তোমার তাদের কষ্ট দেয়ার।তারা এত অপমান সয্য করেও তোমাদের ঘরে তুলে নেয়, তোমাদের মরা মুখটা দেখার জন্য না।নিজের কাধে করে মাটির ঘরে রেখেদিয়ে আসার জন্য ঘরে তুলে না।তোমাকে ভালোভাবে বাচার আরেকটা সুজোগ দেয় তারা।সুযোগটা কাজে লাগাও।একবার তো জীবনটাকে তুচ্ছ ভেবে খুব বড় বোকামি করেই ফেলেছ।এবার জীবনের মূল্য বুঝতে শিখ।দুটাকা এক মানুষের জন্য নিজের এবং পরিবারের এমন ক্ষতি হতে দিওনা।জীবনে চলার পথে হোচট খেতেই হয়, পরে যেতে হয় এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু তুমি যদি পরে গিয়ে আর না উঠ, উঠে দাড়ানোর আত্মশক্তি হারিয়ে ফেল সেটা হবে অস্বাভাবিক।নিজের লক্ষ স্থির কর এবং দাড়াও, দাড়িয়ে আবার হাটতে শুরু কর। দেখবে লক্ষে তুমি পৌছোবেই হয়ত একটু দেরি হবে। আর যারা রামিয়ার মত মেয়েদের সাথে এমন বিশ্বাস ঘাতগতা করে তারা যথা সময়ে নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে।কারন সৃষ্টিকর্তা একান্ত কারো জন্য দুঃখ কষ্ট সৃষ্টি করেননি


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জীবনের মূল্য বুঝতে শিখ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now