বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি হৃদয় বিদারক কাহিনি
- এই রিকশা যাবেন?
- কই মামা?? - বুয়েটে - না, মামা … যাবো না।
বাস থেকে নেমে এ পর্যন্ত ৫ জন রিক্সাওয়ালা কে জিগ্যেস করেছে রাহাত, বুয়েট যাবে কিনা। কেউ কেউ পুরাটা না শুনেই না জানিয়ে দেয় আবার কেউ কেউ ১০/২০ টাকা বেশী চায়। এদিকে ঘড়ির কাটা ৮ টায় ছুই ছুই। প্রথম পিরিয়ড রউফ স্যারের। স্যার মানুষটা ভালো কিন্তু ক্লাসে দেরী করে ঢুকলেই যত সমস্যা। হাজারটা প্রশ্ন সাথে অ্যাটেনডেন্স না পাওয়া। তৃতীয় বর্ষে উঠেও যে কেন ৮ টায় ক্লাস থাকে বুঝে না রাহাত। পিচ্চি পিচ্চি ফার্স্ট / সেকেন্ড ইয়ারের পোলাপাইনের ৮ টায় ক্লাস করা মানায়। তাদের কেন??
- চাচা যাবেন?? - কোথায় যাবেন?? - বুয়েট - উঠেন, ১৫ টাকা দিয়েন ।
যাক একজন রাজী হল। এখন ক্লাসটা ধরতে পারলেই হয়। তড়িঘড়ি করে ক্লাসে ঢুকে রাহাত। স্যার আসছেন তবে ভাগ্য ভালো যে এখনও অ্যাটেনডেন্স নেননি।
***
আজকাল রিকশাওয়ালাদের ভাব খুব বেড়ে গেছে । যেতেই চায় না । কাল কোনো ক্রমে ক্লাস ধরা গেছে আজ মনে হয় না যাবে । হতাশ ভাবে রাস্তায় একা দাড়িয়ে আছে রাহাত । - বুয়েট যাবেন না?? চলেন । আচমকা এমন কথায় ফিরে তাকায় রাহাত । - আপনি গতকালের চাচা না?? আমাকে চিনতে পারছেন? - চিনতাম না কেন?? উঠেন রিকশায় । রাহাত রিকশায় উঠে । - আপনি কি এখানেই রিকশা চালান? - জ্বে .. হা । - বাড়ি কোথায় আপনার? - এইতো ঢাকা মেডিকেল এর পাশেই । - ও!! একটা কাজ করতে পারবেন? প্রতিদিন এই সময়ে এখানে থাকতে পারবেন? যদি আপনার অন্য কোথাও যাওয়া না লাগে … - জ্বে.. পারমু.. - ধন্যবাদ .. আসলে সকালে রিকশা পাওয়াই যায় না.. - জ্বে ..
সন্ধ্যায় মিনার কে পড়াতে যায় রাহাত। মিনার সহ মোট চার জায়গায় টিউশনি করায় রাহাত । বুয়েটে উঠার পর ভালোই যাচ্ছে সবকিছু ।
পরদিন সকালে বাস থেকে নেমেই ওই রিকশাওয়ালার দেখা পায় রাহাত । আজ বেশ তাড়াতাড়িই । রিকশায় চড়ে বসে সে ।
- আপনি আসছেন? আমি তো ভেবেছিলাম ভুলেই যাবেন আপনি - কি যে কন না?? ভুলমু কেন? - আপনার বাসায় কে কে আছে?? -আমি, আমার স্ত্রী আর আমার পোলা.. - কি করে আপনার ছেলে? - ইন্টার দিতেছে । - ও! আপনার ছেলে পড়াশোনা করে?? …………… অবাক হয়ে বলে রাহাত … - জ্বে.. আমি পড়াশোনা করতে পারি নাই কিন্তু আমি চাই আমার পোলায় বুয়েটে পড়াশোনা করুক ..
উনার চোখে মুখে হাসির একটা পলক দেখতে পায় রাহাত .. রিকশা থেকে নেমে ভাড়া বুঝিয়ে দেয় রাহাত । ক্লাস শেষ করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা অথবা ফুটবল খেলা । তারপর বাসা । এই হল প্রতিদিনের ডিউটি । আর সন্ধ্যায় টিউশনি । এই লাইফের উপর বিরক্ত ধরে গেছে রাহাতের ।।
***
আজকাল সকাল সকাল নেমেও জ্যামে পরতে হয়। সাত মসজিদ রোডের এই দশা নতুন নয় । তবে তিন মাস ধরে রিকসাওয়ালা চাচা ঠিকই ঐ জায়গায় দাড়িয়ে থাকে। রিকসার চিন্তা অন্তত করতে হয় না তার। তবে আজকে চাচাকে দেখতে পাচ্ছে না রাহাত। হয়তো ভুলে গেছে অথবা অন্য কোথাও গেছে। চাচা নেই , অন্য রিকসাওয়ালাদের ভাবও মনে হয় তুঙ্গে। ঐ দিন আর ১ম পিরিয়ডের ক্লাস করা হয় না রাহাতের।
***
এক সপ্তাহ পর রিকসাওয়ালা চাচাকে আবার সেই জায়গায় দেখতে পায় রাহাত। মুখটা কেমন যেন বিমর্ষ। - কই ছিলেন এই কয়েকদিন? - আমার ছেলেটার হার্টে ফুটা না কি যেন ধরা পরছে। হাসপাতালে ভর্তি এখন। ডাক্তার কইছে ৩ লাখ টাকা লাগবো। এত টাকা আমি পামু কই??
রাহাত দেখতে পায় চাচার চোখের কোণাটা পানিতে ভিজে আসছে। অজানা কারণে রাহাতের মনটাও মুহূর্তেই খারাপ হয়ে গেল। হয়তোবা মানুষের প্রতি মানুষের এটাই মায়া। রাহাত আর কিছু জিগ্যেস করার সাহস পেল না। আজকের দিনের কোন ক্লাসেই তার মন বসল না, এমনকি সন্ধ্যার টিউশনিতে যেয়েও চুপচাপ বসে রইল। রাতে ঘুমানোর সময় কেন জানি বারবার তার সেই চাচার অসহায় মুখটাই ভেসে আসল। যারা গরীব তাদেরই কেন এত অসুখ হবে? হঠাৎই তার মাথায় একটা ভাবনা এল। সে নিজে তো ৪ টা টিউশনি করায়। আর অন্য বন্ধুরাও আছে। সবাই মিলে চাইলে এটা কোন ব্যাপারই না। আর অন্য ক্লাস, ডিপার্টমেন্ট থেকে বলেও চাইলেই টাকা মেনেজ করা যাবে।
***
বন্ধুদের সব খুলে বলে রাহাত। বুয়েটের স্টুডেন্টদের সহায়তায় আড়াই লাখ টাকার মত উঠে মোট। হাসপাতালে রাহাত আর তার কিছু বন্ধু যায় ঐ ছেলেকে দেখতে। দেখতে পায় রিকসাওয়ালা চাচার বিমর্ষ মুখ। টাকাগুলো হাতে তুলে দেয় রাহাত। চোখ মুছতে মুছতে বুকে জড়িয়ে চাচা বলেন আপনাদের এই ঋন আমি কখনওই শোধ করতে পারব না।
………………..
আজ এইচ এস সি র রেজাল্ট বের হয়েছে। ছেলের গোল্ডেন এ প্লাসের রেজাল্টের কথা রাহাতকে জানাতে ভুল করেন না রিকসাওয়ালা চাচা।সামিট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে তার ছেলে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ায় চোখে আজও পানি তবে সেটা আনন্দের। রাহাত চাচাকে বলে এই কয়েকদিন সে উনার ছেলেকে কিছু পড়া দেখিয়ে দিতে চায় এডমিশনের জন্য। চাচা আনন্দে মাথা নাড়েন।
****
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে আজ। তার স্থান ৭৪৮।
রাহাতের মনটা আজ খুবই ভালো। তার বারবার মনে হচ্ছে তার ভাই ই এই রেজাল্ট করেছে। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কগুলো তো আসলে এমনই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now