বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবনের ২৮টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও আজও ভালবাসা নামক ব্যাপারটি ধরা দিল না এ জীবনে। ধরা দিবেই বা কি করে, মেয়েদের দেখলে তো আমি ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রেখে চলতাম। স্কুল গেল, কলেজ গেল, চাকূরি জীবনেও দু চারটা মেয়ে কলিগ যে পায়নি তা না, তবুও কাউকে তেমন ভালবাসার মত করে দেখা হয়নি। শুনছি বাবা মা' মেয়ে দেখার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাই আর এ স্বল্প সময়ে প্রেম ট্রেম করার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছি কত আগেই!!
প্রাইমারী টিচারদের প্রেম করার সময় ই বা কোথায়? সারাদিন কিচির মিচির, বাচ্চা কাচ্চা দের নিয়ে তো সময় দিব্যি কেটে যাচ্ছে।
এ যুগে ফেসবুক ইউজ না করলে নাকি স্মার্ট হওয়া যায় না, তাই স্মার্ট হওয়ার জন্য খুলে ফেললাম একটা ফেসবুক আইডি। সামনে বিয়েশাদীর ব্যাপার সেপার আছে, স্মার্ট না হলেতো চলবেনা।
পত্র পত্রিকায় টুকটাক লিখতাম স্কুল লেভেল থেকে। ফেসবুকে এসে সেই অভ্যাস টা আবারও জেগে উঠল। ছোট ছোট কাব্য লিখতাম স্ট্যাটাসে।
যে আমি মেয়েদের কে এড়িয়ে চলতাম তার ফ্রেন্ডলিস্ট এ ও হুড়মুড় করে মেয়েরা এড হতে থাকল, নতুন ছিলাম তো আসল, নকল বুঝতামনা মিষ্টি প্রোফাইল পিকচার দেখলেই রিকোয়েস্ট দিয়ে দিতাম। মাস্টারি স্কুলে, ফেসবুকে অত ভদ্র সেজে লাভ নাই, টুকটাক রোমান্টিকতা না ছড়ালে কি চলে?
এড হওয়া মেয়েগুলোর মাঝে একটি মেয়ে ছিল ব্যাতিক্রম, তার প্রোফাইলে কোন পিকচার ছিলনা। আমি ভাবতাম ফ্যাক। আমার সব কইটা স্ট্যাটাসে লাইক দিত। একদিন স্ট্যাটাস দিলাম '' মাথা ব্যাথা করছে'' সাথে সাথে তার একটা লাইক এসে গেল, বোধহয় অফলাইনে ছিল।
ফ্রেন্ডলিস্ট এ থাকলেও কখনও চ্যাট বা মেসেজ আদান প্রদান হতনা।
মেয়েটির নামটা তো বলা হলই না এখনও, ফেসবুকে সে স্নিগ্ধা নামেই এসেছে, স্নিগ্ধা নামেই তাকে উপস্থাপন করছি আপনাদের কাছে। যখন আমার মাথা ব্যাথার স্ট্যাটাসে লাইক দিল, তাকে একটা মেসেজ দিয়ে বসলাম ' আমার মাথা ব্যাথা এটাও আপনার লাইক হয়। মেয়ে টা হাসির সাইন দিয়ে বলল হয় তো।
এভাবেই শুরু এরপর আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে মেসেজের সংখ্যা, একসময় শুরু হয় চ্যাট, চলতে থাকে কখনও ঘন্টা অবদি।
স্নিগ্ধা একটা প্রাইভেট ভার্সিটি তে বি,বি,এ পড়ছে, বাবা শিল্পপতি, মাও একটা প্রতিষ্ঠানের এমডি। মোটামুটি আমার সাথে ভালই ব্যাবধান, কিন্তু বন্ধূত্ব তো ব্যাবধান মানে না। বলা যায় স্নিগ্ধা আমার অনেক প্রিয় এক বন্ধূ হয়ে গেল।
এবার আমার কথায় আসি। আমি সাইফুল, প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক, তবে ফেসবুকে সাঈফ নামে পরিচিত। একটু মর্ডান নাম না হলেতো চলেনা।
স্নিগ্ধার সাথে তো কিভাবে পরিচয় জেনে গেছেন, তার আর আমার বয়সের ব্যাবধান প্রায় ১০ বছর, বাকী ব্যাবধান গুলো তো আরও স্পষ্ট। এ ধরনের বন্ধূত্ব শুধু ফেসবুকেই সম্ভব!
যাক, আমাদের সম্পর্ক দিন দিন শক্ত হতে থাকে, তবে আমাকে বারবার সে স্মরন করিয়ে দিত আমরা শুধু বন্ধূই থাকব, আমি তো এ ব্যাপারে প্রথম থেকে সজাগ। ভুল সে করতে পারে তার বয়স কম আবেগ বেশী।
হল ও তাই, একদিন স্নিগ্ধা আমাকে বলে বসে তোমার তো বিয়ের বয়স হয়েছে বিয়ে করছো কখন? ও হ্যাঁ এতদিনে আমরা তুমিতে নেমে গেছি। আমি বললাম ৬ মাস পর, বাবা মা পাত্রি দেখা শুরু করেছেন।
ছোট ২ বোন কে বিয়ে দিতেই এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, না হয় আরও আগেই করা হয়ে যেত।
তুমি? আমি জানতে চাইলাম,
- আমি বিয়ে করব না,
এতদিন বলতো সে অনার্স শেষ হলেই করবে, আজ বলছে করবেনা! কেন? জানতে চাইলাম।
সেদিন ফোনে স্নিগ্ধা যখন কেঁদে কেঁদে বলেই ফেলল আমাকে সে ভালবেসে ফেলেছে, আমি একদম চূপসে গেলাম! কি বলব বুঝতে পারলাম না। এটা কি করে সম্ভব? তার আর আমার যে অনেক ব্যাবধান! ভাবলাম এসব আবেগ, বুঝাতে চাইলাম, কিচ্ছুই হলনা ব্যার্থ তো হলাম ই এমন কি তার অসীম ভালবাসার কাছে নিজেকে সোপর্দ করতেই হল।
এমনিতে বিয়ের বয়স হয়ে গেছে, মা বাবাও অস্থির হয়ে গেছে বিয়ের জন্য, স্নিগ্ধার জন্য আমাকে আরও প্রায় ৩ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
হায়রে প্রেম!! ধরা দিলিতো দিলি তাও বুড়া বয়সে দিলি, হিহিহি...
আমার এক বন্ধূ লন্ডনে আছে, তার মাধ্যোমৈ যাওয়ার চেষ্টা ছিল আগে, পরে যখন প্রাইমারী জব টা হয়ে গেল প্রিয় দেশ টা আর ছাড়তে ইচ্ছা হল না।
আবার চেষ্টা লাগালাম, মিলেও গেল একটা ওয়ার্কিং হলিডের ভিসা। আসলে আমার এই লন্ডন যাত্রা টা ছিল বিয়ে টা কে এড়িয়ে যাওয়া। আমি ফিরে আসতে আসতে স্নিগ্ধার অনার্স শেষ হয়ে যাবে, তখন তাকে ঘরে তুলে নিব।
অবশেষে লন্ডন এসেই গেলাম। স্নিগ্ধার এ ব্যাপারে আপত্তি ছিলনা। এসেই পড়লাম ঝামেলায় বিদেশ তো বিদেশ ই সেটা লন্ডন হোক আর বার্মা ই হোক। দেশে কাজ বলতে যা করেছি ঐ পড়ানো টাই, বুঝে গেলাম আমার বিদেশ লাইফটা কষ্টকর ই হবে। শেষ পর্যন্ত কাজ মিলল একটা, রেষ্টুরেন্টের ও,সি'র কাজ। ভাবছেন রেষ্টুরেন্টে ওসির কাজ কি?!! এ ওসি হল, O- Onion,C- Cutter , বেতন অনেক।
পরিবার ছেড়ে এবার প্রথম দূরে থাকা, তাও আবার দেশের বাইরে। প্রতিনিয়তই দেশের কথা, পরিবারের কথা, স্নিগ্ধার কথা মনে পরতো। সবার কথা মনে করে যখন চোঁখের পানি ফেলতাম কাজের ফাঁকে, সবাই ভাবতো পিঁয়াজের ঝাঁঝে আমার চোঁখে পানি আসছে কিন্তু কেউ বুঝতে পারতনা এটা আমার আসল কান্না।
স্নিগ্ধার সাথে সপ্তাহের শেষে কথা হত। মনের জমানো কথা সব কথা বৃষ্টি হয়ে ঝরতো সেদিন। আমি কাজের পাশাপাশি ভাল চাকূরীর চেষ্টা করে চলেছি, একবছর ওসি'র কাজ করার পর একটা অফিসে কম্পিউটার অপারেটরের কাজ পেলাম, পড়াশুনা এমন এক জিনিস যা যে কোনসময় কাজে লাগতে পারে সেটা আজ বুঝলাম।
গত কয়েক মাসে স্নিগ্ধার সাথে যোগাযোগটা একটু কম ই হতে থাকল। কারণ টা হল তার পরীক্ষা।
কিন্তু পরীক্ষা শেষ হবার পরও স্নিগ্ধা কে আর আগের মত পাচ্ছিলাম না। ভাবলাম আর ২ মাস পর তো দেশেই যাচ্ছি, তখন তো একেবারেই আমার করে ফেলব তাকে।
২ বছরে টাকা পয়্সা যা রোজগার করেছি, তাতে স্নিগ্ধা দের সাথে কিছুটা ব্যাবধান কমেছে হয়তো কিন্তু তারা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে।
স্নিগ্ধার পরীক্ষা আর আমার ভিসা প্রায় একই সাথে শেষ হল। দেশে যেদিন ফিরলাম ভেবেছিলাম স্নিগ্ধা আসবে এয়ারপোর্টে আমাকে রিসিভ করতে কিন্তু আসল না, পরে ফোন করলাম যখন বলল কি জানি জরুরী কাজ শেষ করে আসতে জ্যাম এ পড়েছিল। তবে ফোনে বলেছে কাল আমাদের দেখা হবে, অনেক জরুরী কথা জমে আছে নাকি।
এরপরদিন-- স্নিগ্ধার সাথে দেখা, একটা রেষ্টুরেন্টে বসলাম, অনেক সুন্দর লাগছে আমার স্নিগ্ধা কে। কিন্তু তার মূখটা অনেক ভীষন্ন লাগছে। এবার স্নিগ্ধা আসল কথায় আসলো,
সাঈফ, তোমার আমার ব্যাপারে আমি ফ্যামিলির সাথে আলাপ করেছি, সব কিছুর আগে আম্মু যে ব্যাপারে নারাজ সেটা হচ্ছে তোমার আমার বয়সের ব্যাবধান। সত্যি এটা অনেক বেশী!! আমার তো কোন আপত্তি নাই, কিন্তু মা যখন নারাজ এটা কখনও হবেনা, তাই আমি তোমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছি। বিদেশে থাকতে তোমাকে জানাতাম কিন্তু তুমি কষ্ট পাবে তাই জানাই নি। ভাবলাম দেশে যখন আসবে তখন সামনাসামনি বলব, আমাকে ক্ষমা করে দিও। আব্বু বোধহয় তার বন্ধূর ছেলের সাথে বিয়ের কথা বার্তা চালাচ্ছেন, আমি তাদের কথার বাইরে যেতে পারবনা।
আসলেই তো!! আমার তো অনেক ব্য্বধান ওর সাথে। কি বলব ? আমি নির্বাক!
ইচ্ছা করছিল চিত্কার করে তার কাছ থেকে আমার ৩ টা বছর ফিরিয়ে চাই, চাচ্ছিলাম তাকে জবাবদিহি করাতে কেন আমার ৩ টা বছর কেড়ে নিল? কিন্তু পারলাম না, তাকে যে আমি অনেক ভালবাসি, অনেক, তাইতো পাখিটা কে মুক্ত করে দিয়ে ফিরে এলাম অজানা ঠিকানায়।
(ভালবাসায় সুখ-দূঃখ, পাওয়া না পাওয়া দুটোই থাকে। আমার লেখা গুলোতে তাই দুটোই ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি।
আমার এই দুঃখ ভরা লেখাটা অদেখা প্রিয় বন্ধূ -সোহরাব হোসেন কে উত্সর্গ করলাম।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now