বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সব কথা বলা হলো, বাকি রয়ে গেল যে কথা, সে শুধু মনের গভীরে। অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের মাঝে মাকুর মতো ঘোরে। থামেও না, বের হয়েও আসে না। কক্ষপথের আবর্তে অনুগত হয়ে চলে অনেকটা নবজাতকের মতো। মাতৃগর্ভ হতে বের হয়েও বের হয় না। সৃষ্টির এই স্রষ্টা এত প্রচণ্ড শক্তিশালী ও ব্যাপকতায় অকল্পনীয়, মানুষ নামের এই আমরা শুধু বুঝতে পারি, আমরা কী করছি, করেছি বা করব। আমরা করি কিন্তু আমাদের দিয়ে করানো হয়। শয়তান দিয়ে বা ভাগ্যের বিপর্যয়ে। কিন্তু এর থেকে ফেরা বা ফেরানো যায় না, মুক্তিরও পথ নেই...!
মধুময় সকালের রৌদ্রের খুনসুটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃদু ঝাঁকুনির পরশ। মেঘের গোল্লাছুট খেলার ছোটাছুটি-দুষ্টুমি। চিরসবুজ সংঘের মাঠে সবুজ অরণ্যর মাঝে হারিয়ে যাওয়া। মনের উদ্যমে দুই শ মিটার দৌড়ের প্র্যাকটিসের মধুর আমেজ স্মরণের পরে ভাবুকের ভাবনার জাল ফেলে পুরোনো রোমাঞ্চিত করে। মোর চিত্তে দেয় দোলা! জাগো, ওঠো ইনসান, জাগাও তোমার ইচ্ছা শক্তি। ভেঙে ফেলো সব বাধা। সমতল করে ফেলো সবার জন্য বাঁচার সুযোগের। অহংকার গুঁড়িয়ে উড়িয়ে দাও। ভালোবাসার ঝান্ডা সমস্বরে চিৎকার করে বলো ভালোবাসা জিন্দাবাদ।
কাহিনির শুরু আমাদের গ্রাম আউলিয়াবাদে। কুল কুল রবে বহমান নদী ইছামতীর তীরঘেঁষা ছোট কিন্তু শান্ত বাসিন্দার এক জোড়া কপোত-কপোতীকে নিয়ে। কাহিনির নারী চরিত্র যেহেতু আমাদের পরিচিত ও এখনো জীবিত নাম এবং পরিচয় গোপন রাখার অবকাশ আছে বিধায় আমি অন্য নাম ব্যবহার করছি। কেউ যদি তাঁর নাম-ধাম বোঝেন ও জানেন kindly keep it secret and lock it in your own heart! আমার নাম লাবলু, আমি যার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম সে আমার চেয়ে তিন বছরের ছোট। দুই ক্লাস ওপরে পড়ি আমি।
মেয়ের নাম আনু। পুষ্পের মতোই সুন্দর এবং adorable, গোলাপ ফুলকে না ভালোবাসলেও ওকে দেখলে যে কেউ ভালোবাসবে। উঁচা-লম্বায় পাঁচ ফিট ছয় ইঞ্চি। দুধে ধোয়া গায়ের রং। উঁচু নাক, লম্বা গলা, গালে তিল। মোট কথা সে অনিন্দ্য সুন্দরীর খাতায় জায়গা করে নিয়েছে স্বমহিমায়। কোনো সুপারিশের প্রয়োজন পড়েনি! বিধাতা সম্ভবত যত্ন করে খুশি হয়ে নিজ হাতে ওকে বানিয়েছেন। স্বর্গের অপ্সরা হেলে দুলে চলে ধরিত্রী মাতার রূপ যেন বাড়িয়ে তুলছে!
আমি আনুর দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই। পারিবারিকভাবে আমরা উভয় পরিবার বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। এ ধারাবাহিকতায় গৃহশিক্ষকের দায়িত্ব মেলে আমার ওপর। গ্রামের জন্য এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। সপ্তাহে পাঁচ দিন ঘড়ির পেন্ডুলামের কাঁটা মিলিয়ে দুই ঘণ্টা করে পড়িয়ে যাচ্ছি ওকে। রেজাল্ট কার্ডে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখে মেয়ের বাবা-মা যারপরনাই খুশি এবং যখনই ডাকেন আমার নামের আগে বাবা শব্দটি জুড়ে দেন। সন্ধ্যায় চা-নাশতা যোগ করতেও ভোলেননি। আমি যেহেতু গ্রামের চৌকস গায়ক। মাঝে মাঝে পড়ার রুম থেকে গানের কলি ভেসে আসলেও আশ্চর্যের কিছু নেই! পড়ার সাহায্য থেকে গানেরও মাস্টার হয়ে যাওয়ায় সময় ভালোই কাটছিল আমাদের।
দ্রুত এ সম্পর্ক মধুর থেকে মধুরতর হতে থাকে। এক সোমবারে পড়ানো শেষে ব্লাউজের ভেতর থেকে ভাঁজ করা নকশির রুমাল আমার হাতের মধ্যে পুরে দিয়ে আনু শুধাল—এ রুমালের মতো আমায় জড়িয়ে রাখতে পারবে তো?
আমার কোনো উত্তর নেই। কী বলব আমি।
আরেক দিনের ঘটনা। লাল গোলাপ এনে বলছে—আমায় খোঁপায় গুঁজে দাও গো চির সখা!
আমি গুঁজে দিলাম।
লেখকএক শুক্রবারের সেই রোমাঞ্চের স্মৃতি আজও ভুলিনি। আমি পড়ানোর জন্য সরল বিশ্বাসে গিয়েছি আনুদের বাড়িতে। সেদিন আনুর বাবা-মা নানা বাড়িতে। বাড়িতে পড়ারত আমরা দুই প্রাণী। দুজনেরই হৃৎপিণ্ড আরেকটু বেশি দগদগ করছে আবেগে। কিছু বুঝতে না দিয়েই ও আমায় চুমোয় চুমোয় সিক্ত করে ফেলল! আমি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৌড়ে পালাল এবং নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। সম্ভবত লজ্জায় আর ফিরে এল না পড়তে।
অগত্যা আর কী করা যায়। না পড়িয়ে মনের জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে বাড়িতে ফিরে এলাম। সারা রাত ওর কথা ভেবে এপাশ-ওপাশ করলাম। দুষ্ট ঘুম এল না। কত বিনিদ্র রজনী এভাবে কাটিয়ে দিলাম ওর কথা ভেবে আমি ছাড়া আর কে জানে! আকাশের তারারা এর সাক্ষী কিন্তু তাদেরতো ভাষা নেই। ওরা মৌন সহব্যথা প্রকাশ করবে কীভাবে।
এদিকে আমাদের প্রেমের ব্যাপারটা আনুর বাবা-মা জেনে গেলেন। তারা আনুর জন্য নতুন গৃহশিক্ষক নিয়োগ দিলেন। বই আদান প্রদানের মাধ্যমে আমাদের চিঠি চালাচালিতে সাহায্য করলেন আমার এক বন্ধু।
আমি ভালোবাসার কামিয়াবের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম। ঢাকা শহরে কাজ নিলাম এবং বিয়ের পয়গাম পাঠালাম। আনুর বাবা আমার বাপকে অনেকটা অপমান করে চলে যেতে বললেন। এই বলে যে—তাঁর মতো বড়লোকের মেয়ে ব্যাংকের কেরানির হাতে ছেড়ে দিতে পারেন না বাপ হয়ে।
আনুর বাবা-মা আনুকে বিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করলেন। বিয়ের আগে ও গোপনে দেখা করে বলল, আমায় বাঁচাও। আমি চুপ হয়ে গেলাম এই ভেবে যে, নির্ঘাত এই খুনোখুনি আমি দেখতে চাই না। সাক্রিফাইসের মহত্ত্ব ও বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না দূরেও সরিয়ে দেয়। এ সত্যের দীক্ষা নিয়ে ওকে শেষ বিদায় জানিয়ে ওর কাছ থেকে চলে এলাম।
বিয়ে ঠিক হয়ে গেল আনুর। কলাকোপার ছেলে। ওর অমতেই জোর করে ওকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হলো। আমি বাড়ি থেকেই দেখতে পাচ্ছি কীভাবে ভালোবাসার মানুষ অন্যের ঘরে চলে যাচ্ছে! পালকির ভেতর সে এখন নতুন বধূর বেশে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে। কেউ কি জানল আমি কী হারালাম আর পেলামই বা কি?
মা বলতেন, ‘হাত বান্ধ, পা বান্ধ, মন বান্ধ কীসে?’
মার কথার সুর মিলিয়ে বলি, আমাদের সমাজের বাপ-মায়েরা আনুর বাপ মায়ের মতো মেয়ের মতামতের কোনো পরোয়াই করেন না। ফলে যৌতুকের সমস্যা, বিবাহ বিচ্ছেদ, অশান্তি বেড়েই চলছে! মেয়ের সুখ তারা চান না!
আমি পোড়া কপাল আর ভাঙা মন নিয়ে অনেক দিন কুমার ছিলাম। বিয়ের কথা কেউ বললে বলতাম, বিয়ে করে আর কী হবে। অন্তরে একজনের অস্তিত্ব অন্যকে কীভাবে স্থান দেব! আমি নিজে কষ্ট পাচ্ছি, আরেকজন নিরপরাধ মহিলাকে নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তার জীবনটা নষ্ট করতে চাই না। আমি মনে হয় আর কাউকে নতুন করে ভালোবাসতে পারব না। ইদানীং চিরকুমারের খেতাব ঘুচিয়েছি শেষ বয়সে!
আমার জীবনের পঁচিশটি বসন্ত পেরিয়ে গেল জীবন থেকে এ সুদূর আমেরিকায়। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব আমি মেলাব না। জীবন চলছে তো চলুক যত দিন চালানো যায়। ওর জীবনে কী হচ্ছে, হয়েছে আমার জানা নেই। ওর জীবন ফুলে ফলে ভরে উঠুক আজকের তরে স্রষ্টার নিকট এই প্রার্থনা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now