বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবণ হতে_নেওয়া
লেখা : Sajib Sutradhar
•••••••••••••••••••••••••••
জীবনটা না বয়সের হিসাবে বড় না কাজের। তবুও এই অল্প সময়ে বাস্তবতা অনেকটা শিখেছি। এখন আমি শুধু ১৭ বছরের কিশোর নয় ৮০ বছরের বৃদ্ধের চেয়েও পরিণত ! যে বাস্তবতা বুঝতে ও তার থেকে শিক্ষা নিতে পারে সেই পরিণত ...।।
•
ছোটবেলা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়তাম আর নিজেকে নিয়ে গর্ব করতাম। ভাবতাম আমিই সেরা ছাত্র। ২০১০ তে যখন PSC পরীক্ষা শেষ করি তখন বাস্তবতা বুঝতে পারলাম। প্রাইমারীতে ও অনেক ভালো ছাত্র থাকে এবং তারা আমার থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করে। রেজাল্ট খারাপ হওয়া জীবনের বড় একটি অর্জন ছিলো ! কারণ এর ফলে সবাইকে গুরুত্ব দিতে শিখেছিলাম।
•
মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পড় পড়াশোনার প্রতি বেশী করে গুরুত্ব দিতে শুরু করি। অনুপ্রেরণা PSC এর খারাপ রেজাল্ট। তার সাথে যুক্ত হয় এক নিকটতম আত্বীয়ের আশ্বাস। তিনি বলেছিলেন JSC তে GPA-5 পেলে শাহীন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করাবেন। তাই অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৩ তে JSC পরীক্ষায় GPA-5 পাই।
•
যদিও আত্মীয় তার কথা রাখেননি তারপরও খুশি ছিলাম। জীবনে কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগে। তাই আরো ভালো করে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে শুরু করে। যার ফলও পেতে শুরু করি। ২০১৫ তে "সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায়" উপজেলা পর্যায়ে ১ম হই। তখন থেকে স্কুলের শিক্ষকরা আমার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। টাকার অভাবে বই কিনতে পারতাম না। প্রধান শিক্ষক রিপন সূত্র ধর আমাকে অনেক বই দিয়ে এবং বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করতেন। তবুও পড়ার খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই টিউশনি করতে শুরু করি।
•
টিউশনির পাশাপাশি পড়াশোনা চালাতে থাকি। দশম শ্রেণীতে উঠার পড় বেশি করে ছাত্র পড়াতে শুরু করি। কারণ সামনে SSC পরীক্ষা। বাবার আয়ে পরিবারও ঠিকমতো চলতো না। তার উপর আমাদের তিন ভাইবোনের পড়ার খরচ চালানো অসম্ভব। তাই আমার পড়াশোনা চালানোর জন্য বড় দুই বোন লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। একজন HSC শেষ করার পড়। অন্যজন দশম শ্রেণীতে উঠার পর।
•
SSC পরীক্ষা চলাকালীন সময় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিন দিন অসুস্থতা বাড়তে থাকে। একসময় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অন্যদিকে আমি এর প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিলাম। পরীক্ষাও ভালো হয়েছিল।
•
পরীক্ষা শেষে বাবাকে তার কাজে সাহায্য করতাম। কিন্তু হয়তো আমার জীবনে শনির প্রভাব ছিলো। হঠাৎ বাবা স্ট্রোক করেন। হাসপাতালে ১ মাস ভর্তি ছিলেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে আমাকে পরিবারের হাল ধরতে হয়। কিন্তু কিভাবে কি করবো কিছু বুঝতে পারতাম না। ১৬ বছর বয়সে পরিবারের হাল ধরা কি এতই সহজ।
•
বিপদে না পড়লে মানুষ চেনা যায়না - যার সত্যতা এই সময়ে বুঝতে পারলাম। বাবার চিকিৎসার খরচ ও পরিবারের খরচ চালানো আমার পক্ষে অসম্ভব। তখন সাহায্যের হাত বাড়ান আমার কাকা পিসিরা। তারা বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে আমি পরিবারের খরচ চালাতে হিমসিম খেতাম। টিউশনি করে করা আয় ছিলো খুবই অল্প। অন্য কোনো কাজও জানতাম না।
•
SSC এর রেজাল্টের সময় জানতে পারলাম আমাদের স্কুলে একটি মাত্র GPA-5 এসেছে। আমি ক্লাসের ২য় ছাত্র হওয়ায় হতাশ হলাম। কিন্তু আমার জন্য আরো বড় কিনা অপেক্ষা করছিলো। কেউ একজন বললো আমি A+ পেয়েছি। প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। স্কুলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করলাম।
•
রেজাল্টের পড় ভর্তি যুদ্ধ শুরু। পাশকৃত সবাই হয় যুদ্ধে সৈনিক। শুধুমাত্র আমি ছিলাম ব্যতিক্রম। কারণ কলেজে ভর্তি ও খরচ বহন করা অসম্ভব। স্বপ্ন দেখতাম MC College এ পড়ার। রেজাল্ট ও ছিলো ভালো। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্র্য। যখন পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম ঠিক তখনই একটি শান্তির বার্তা আসে। "মোল্লাপাড়া হাজী আব্দু মিয়া কলেজ" - আমার উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ার খরচের দায়িত্ব নেয়।
•
আজ এক বছর হলো পরিবারের হাল ধরেছি। প্রথমে ছিলাম অপরিণত। আজ আমি পরিণত। টিউশনি করে যতেষ্ট টাকা আয় করি। পড়ালেখাও ভালো চলছে। চিনেছি নির্মম বাস্তবতাকে।
•
উৎসর্গ : সেই সব মধ্যবিত্ত সন্তানদের
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now