বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে প্রায় ৬-৭ বছর আগে। আমি তখন ঢাকার মিরপুরে ক্লাস নাইনে পড়তাম। ও আমার পরিচয়টাই ত দেয়া হয় নাই, আমি প্রেম, টেক্সটাইল নিয়ে লেখা পড়া করছি। এখন ঘটনায় ফিরে যাই। আমার বাবা একজন সরকারি কমকর্তা। একদিন হঠাৎ করেই তার পোস্টিং হয় চাকুরির সুবাদে। পরিবারের সবাই আমরা খবরটা শুনে খুব আনন্দিত হলাম,কারন বাবার পোস্টিং হয় বান্দরবানে। কিছু দিন পরেই আমরা বান্দরবান চলে গেলাম।বান্দরবান জায়গাটা খুবই সুন্দর। আমরা বান্দরবানের ঠিক মাঝখানে থাকতাম।আমরা যেইখানে থাকতাম তার বিবরণ এই,মাঝখানে দোতলা বাড়ি,ডানপাশে একটি পুকুর আর তার পিছনেই নষ্ট একটা করবস্থান। আর বাড়ির চারপাশে শুধু বড় বড় গাছ আর ধুধু মাঠ। আমাদের বাড়ির আশে পাশে প্রায় ১কি.মি. এর মধ্যে আর কোন বাড়ি নাই। আমার আবার একটা অভ্যাস আছে,প্রতিদিন বিকালে আমি হাটতে বের হই।বিকেলে হাটতে আমার ভালই লাগে।এইভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। হটাৎ একদিন বিকেলে আমি বাগান দিয়ে হাটছি ঠিক তখন মনে হল আমি কোন মেয়েকে দেখলাম। মেয়েটিকে দেখতে খুবই সুন্দর,এই বয়স হয়তো ১৬/১৭ বছর হবে। দেখলাম মেয়েটা একাই বসে আছে।আমার দিকে তাকাতেই মেয়েটা যে কোথায় পালিয়ে গেল দেখতেই পেলাম নাহ। অনেক খুজলাম কিন্তু তারপরও তাকে পেলাম নাহ। এইদিকে আবার রাত হয়ে আসছে তাই তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফিরে গেলাম। রাতের খাবার শেষ করে যেই না শুয়েছি ওমনি মাথায় চিন্তা এলো,কোথা থেকে আসলো এই মেয়ে!! কে এই মেয়েটি!!! হারিয়ে গেল না তো কোথাও!!। এইসব দশ পাচ ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। ঘুম থেকে উঠে দেখি দুপুর ২টা বাজে। তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে যেই কাজে মন দিবো আবার সেই মেয়েটির মায়াবী চেহারা মনে পড়ে গেলো। সারাদিন এদিক সেদিক করে কাটিয়ে দিলাম,কিন্তু আমার মন ত পড়ে আছে অন্যদিকে। বিকেল হতে না হতেই আবার সেই একই জায়গায় গেলাম যেখানে মেয়েটির দেখা পেয়েছিলাম। কিন্তু অনেক খোজার পরো তাকে পেলাম নাহ। সন্ধ্যায় যখন বাসার দিকে রওনা দিচ্ছি তখন মনে হচ্ছে কেউ আমার পিছু নিচ্ছে। পিছনে তাকাতেই দেখলাম সেই মেয়েটি। আমি তখন পুরো অবাক। মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হেসে আবার কোথায় যেন পালিয়ে গেল। আমি আবার তাকে খোজা শুরু করলাম কিন্তু না পেয়ে পরে বাসায় ফিরে গেলাম। কিন্তু মাথায় এক প্রশ্ন,মেয়েটি কোথা থেকে এলো?। পরে ভাবলাম আসে পাশে কোথায় থাকে,নতুন কোন বাড়ি হয়েছে হয়ত। পরের দিন সব কাজ শেষ করে বিকেলে আবার হাটতে বের হয়েছি। কিছু দূর যাবার পরে সেই মেয়েটিকে দেখতে পেলাম একা বসে আছে। আমার দিকে তাকাতেই এবার মেয়েটি আমার দিকে এগিয়ে এলো। কেমন যেন এক অদ্ভুত মায়া তার চোখে। মেয়েটি আমার পাশে আসতেই আমার মনে হলো, মেয়েটি আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে। তাই আমি প্রশ্ন করলাম,তোমার নাম কি?. মেয়েটি বলল ঝুমুর। পরে মেয়েটি উল্টো আমার নাম জানতে চাইলো। আমি আমার নাম বললাম।পরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,তোমার বাসা কোথায়?। মেয়েটি হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বলল ওই যে ওখানে। আমি সেখানে তাকিয়ে দেখলাম একটা মাঝারি আকারের গাছ।আমি ভাবলাম ওইদিকে হয়তো কোন গ্রাম আছে যেটা আমি চিনি নাহ। পরে এইভাবে কথা বলতে বলতে অনেক সময় কেটে গেল।ঝুমুরও কথা বলছে আমিও বলছি। রাত নেমে এলে পর আমি ঝুমুরকে বিদাই দিয়ে চলে যাচ্ছি,তখন ঝুমুর পিছন দিক থেকে বলে উঠলো,কাল আবার আসবে তো? আমি হ্যাঁ আসবো বলে বাসায় চলে গেলাম।আমি মনে মনে খুশিই হলাম কারন,কথা বলার মত একজনকে পাওয়া গেল।এইভাবে অনেক দিন কেটা গেল। একদিন আমার অসুস্থতার কারনে আমি ঝুমুরের সাথে দেখা করতে পারি নি।তাই পরের দিন খুব তাড়াতাড়ি করে ঝুমুরের কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি ঝুমুর এইটা গাছের নিচে চুপ করে বসে আছে। দেখে মনে হল মন খুব খারাপ। ঝুমুরকে প্রশ্ন করলাম কেমন আছো? নাহ কোন উত্তর নেই। বুঝলাম রাগ হয়েছে। তাই ঝুমুরের পাশে বসলাম। ওর পাশে বসতেই ও উঠে চলে গেল অন্য দিকে। আমিও নাছোড় বান্দা যেভাবেই হোক ওর রাগ ভাংতে হবে।আমিও ওর পিছু নিলাম। ঝুমুরও হাটছে আমিও ওর পিছু পিছু হাটছি।মাঝে মাঝে বড় বড় চোখ দিয়ে আবার দিকে তাকাচ্ছে। চোখের মধ্য দিয়ে ও ওর রাগ প্রকাশ করছে। আমার বেশ ভালোই লাগছে। মাঝে মাঝে মুচকি হাসছি ওর চোখের আড়ালে। অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু না কোন কিছুতেই ওর রাগ কমাতে পারছি নাহ। আট ঘাট না পেয়ে শুরু করে দিলাম গান। চুমকি চলেছে একা পথে। গান শুরু করতে না করতেই খিল খিল করে হেসে দিলো ঝুমুর।লজ্জাও পাচ্ছি আবার খুশিও হচ্ছি। হাসতে হাসতে ঝুমুর আমার হাত ধরে ব্জানতে চাইলো গতকাল আমি কোথায় ছিলাম। সব কিছু বলতে না বলতেই আমার গায়ে হাত দিয়ে দেখতে শুরু করলো আমার গা গরম আছে কিনা। ওরে জিজ্ঞেস করলাম রাগ কমছে কিনা। ঝুমুর বলল,হ্যাঁ কমেছে। তারপর আবার ২জন ২জনের হাত ধরে পুকুর পাড় ধরে হাটতে শুরু করলাম। নানান বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম। এভাবেই কেটে গেল অনেক টা সময়। সন্ধ্যা নাততেই ২জন ২জনকে বিদাই দিয়ে বাসায় চলে আসি। ঝুমুরের সাথে দেখা করতে আমার অনেক ভালো লাগে। এভাবেই কেটে যায় আরো কিছু দিন। একদিন মাকে ঝুমুরের বেপারে বলি। মা ঝুমুর কে দেখতে চায় বলে আমায় জানায়। যেই বলা সেই কাজ বিকেলে ঝুমুরকে মার কথা বললাম।ঝুমুর কেমন জানি চুপ হয়ে গেল। ওকে আমার বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে পর ঝুমুর রাজি হয় নাহ। আমি ভাবলাম লজ্জা পাচ্ছে বোধ হয়। তাই আর জোর করলাম নাহ। আমাদের গল্প শুরু করে দিলাম। কে কোন ফল খেতে পছন্দ করে তাই নিয়ে আমাদের গল্প। আমাকে ঝুমুর জিজ্ঞেস করল,আমি কোন ফল থেকে পছন্দ করি। আমি বললাম আম। ঝুমুর আমার চোখ বন্ধ করতে বলল। তাই ওর কথায় চোখ বন্ধ করলাম। কিছুক্ষন পর চোখ খুলতে বলে,,পরে আমি দেখি ওর হাতে একটা পাকা আম। আমার হাতে আমটা দিয়ে বলল এই আমটা নাকি আমার জন্যে নিয়ে এসেছে। আমি অনেক বেশি খুশি হলাম উপহার পেয়ে। পরে ২জন ভাগাভাগি করে আম টা খেলাম। আম খেয়ে হাতে মুখে আমের রস লেগে আছে আমার। তাই ঝুমুর ওর ওড়না দিয়ে আমার মুখ মুছে একটু মুচকি হেসে চলে গেল গান গাইতে গাইতে। আমিও শুরু করলাম গান। এইভাবে গান গাইতে গাইতে বাসায় চলে গেলাম। মাকে বললাম আজ আম খেয়েছি।মা বলল,কে দিয়েছে? আমি বললাম ঝুমুর। মা বলল ঝুমুর আম কোথা থেকে পেলো এখন ত আমের সময় নাহ। আমি এতোক্ষণ পর বুঝতে পারলাম আসলেই ত এখন আম কোথা থেকে আসবে!!! তাহলে ঝুমুর কোথা থেকে পেলো ওই আম!! নাহ কিছু তেই মিলাইতে পারছি নাহ। এইভাবে চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন বিকেলে মাকে নিয়ে বাগানে ঘুরতে বের হই। কিন্তু ঝুমুরের দেখা নাই। অনেক রাত পযন্ত অপেক্ষা করে যখন ঝুমুরের দেখা না পেলাম তখন নিরুপায় হলেই বাসায় চলে আসলাম। কেমন যেন মন খারাপ হয়ে গেল ঝুমুরকে না দেখতে পেয়ে। নাহ কিছুতেই মন বসাতে পারছি নাহ। তার মানে কি সত্যিই আমি ঝুকুরকে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেই যেন নিজেকে প্রশ্ন করছি। সে যাই হোক এখন প্রশ্ন হচ্ছে,ঝুমুর কি আমাকে ভালোবাসে কিনা? কিভাবে কিভাবে বন্ধুত্ব থেকে এতো গভীরে চলে গেলাম এইটা নিয়ে ভাবছি আর হাসছি। সিন্ধান্ত নিলাম আগামীকাল বলেই ফেলবো আমার মনের কথা। কিন্তু চিন্তায় পরে ফেলাম কেন ঝুমুর দেখা করতে আসলো নাহ। তাহলে কি ঝুমুরের কোন ক্ষতি হলো?! নাকি অসুস্থ হয়ে পড়লো!! এটা ওটা চিন্তা করতে করতে ভোর হলে গেল। সারা দিনটাই ঝুমুরের চিন্তায় কেটে গেলো। কোন কিছুতেই মন বসাতে পারলাম নাহ। সে যাই হোক বিকেলে যেতে হবে ঝুমুরের কাছে দেখা করতে। যেই চিন্তা সেই কাজ বিকেল হতে না হতেই বেড়িয়ে পড়লাম বাসা থেকে। ঝুমুরকে দেখলাম বসে আছে সেই গাছটির কাছে। জিজ্ঞেস করলাম কিগো গতকাল আসলে না যে, উত্তর এলো ছিলাম ত আমি কিন্তু তোমার মাকে দেখে আর দেখা করি নাই। আমি একটু অখুশিই হলাম। কিন্তু বুঝতে না দিয়ে বললাম,আমি কত চিন্তায় পরে গেছিলাম তুমি জানো? খেয়াল করলাম ঝুমুর মুচকি মুচকি হাসছে। পরক্ষণেই ঝুমুর আমাকে প্রশ্ন করলো, আমি ঝুমুরকে ভালোবাসি কিনা। আমি একটু হতভম্ব হয়ে পড়লাম।।কিন্তু কোন কিছু চিন্তা না করেই বলে দিলাম হ্যাঁ আমি তোমাকে ভালোবাসি। হো হো করে হেসে দিলো ঝুমুর। ওর হাসিটা খুব সুন্দর। আমার খুব ভালো লাগে ওর হাসিটা,এক অদ্ভুত মায়া আছে ওর হাসিতে। ওর ওই মায়াবী হাসতে এক অন্যরকম সুখ লুকিয়ে আছে,যা সচারাচর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় নাহ। ইচ্ছে করে সারা জীবন ওর হাসিতে ডুবে থাকি৷ ওর ওই হাসিটা দেখলে না মনের সব কষ্ট এক নিমিষেই হারিয়ে যায় আমার। যখন ও হাসে আমি ওর মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকি সারাটাক্ষন। কিছুক্ষন এভাবেই কেটে যায়। তারপর ও আমাকে একটা আংটি উপহার দেয়। আংটিটা পেয়ে আমি এতটা খুশি হয়েছি তা আমি বোঝাতে পারবো নাহ। সাথে সাথেই আংগুলে পরে নিলাম। মনে হচ্ছিল জীবনের সব থেকে আনন্দের মুহূর্ত এটাই। কেন জানি চোখ দিয়ে পানি বেড়িয়ে এলো। আমার ঝুমুর সেটা খেয়াল করেই ওর ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছে দিলো। পরে হাসতে হাসতে ঝুমুর একদম চুপ হয়ে গেল। আর বলতে লাগলো ওর জীবনের সব না জানা কথা। বলল,আমি এই বান্দরবানের এক গ্রামে থাকতাম। মা মরে যাবার পর বাবা আরেকটি বিয়ে করে। প্রথম কিছুদিন সব ঠিক ঠাকই ছিল। কিন্তু কিছুদিন কেটে যাবার পর থেকেই শুরু হয় আমার উপর অমানুষিক নির্যাতন। বেশির ভাগ সময়ই আমাকে অনেক মারত কোন কারন ছাড়া। এমন ভাবে মারত যে আমার জর চলে আসতো। আর সেই জরের মধ্যেও রেহাই পেতাম না। মার খাওয়াটা যেন আমার প্রতিদিনের রুটির হয়ে যায়। এভাবেই কেটে যায় অনেক মাস। গ্রামের কোন মানুষই আমাকে বাচাতে আসে নি মার খাবার হাত থেকে। এমনি আমার নিজের বাবাও কিছু বলত নাহ। কারন বাবা বাধা দিতে আসলে মা আরো অশান্তি করতো। তাই বাবা শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকতো আর লুকিয়ে লুকিয়ে কান্না করতো। একদিন বাবাও মারা যায়। আর সব সম্পত্তি আমার নামে লেখে যায়। এইটা মা জানার পর আমার উপর আরো অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। যাতে আমি মারা যাই আর সব সম্পত্তি মার নামে হয়ে যায়।একদিন রাতে মা আমাকে এইখানে৷ নিয়ে আসে,আমরা যেইখানে আছি এখন। মা আমাকে এই গাছের সাথে বেধে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। এইটা বলার পর ঝুমুর কান্না শুরু করে দেয়। সেই কান্নায় ছিল এক অসহনীয় কষ্ট। আমি তখন বুঝতে পারছিলাম নাহ যে কি করবো। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। তাহলে একদিন যার সাথে মেলামেশা করেছি সেই ঝুমুর কি তাহলে মানুষ না। নানা রকম প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ওকি আসলেই সত্যি বলছে, নাকি আমার সাথে মজা করছে। কিন্তু ওর কান্নাতে মিথ্যার কোন ছাপ নাই। ওর চোখ মিথ্যা বলছে নাহ। পরক্ষনেই মনে পড়ে গেল এই গাছটির কথা। যখন প্রথম ঝুমুরকে তার বাসার ঠিকানা জিজ্ঞেস করি তখন এই গাছটিকে দেখিয়েছিল।কিন্তু আমার কোন প্রকার ভয় লাগছিল নাহ। কারন আমি জানি ঝুমুর আমার কোন ক্ষতি করবে নাহ। ওর পাশে বসে আমিও কেদে দিলাম। মনে হচ্ছিল ওর কষ্ট যেন আমার কষ্ট। আমি ওর চোখের পানি মুছে দিলাম। পরে অনেকক্ষন বসে থাকলাম ওর পাশে। ঝুমুর আমাকে প্রশ্ন করলো আমার ভয় লাগছে কিনা। আমি বললাম নাহ। ঝুমুর একটু হেসে বলল,তুমি চলে যাও। আর কখনও তোমার সাথে আমার দেখা হবে নাহ। আমি তখন ঝুমুরের দিকে তাকাতেই দেখি ঝুমুর নেই। পাগলের মত অনেক খুজি আমি কিন্তু কোথাও পেলাম নাহ। রাত হলে পর কান্না নিয়ে বাসায় ফিরে যাই। কোন কিছুই তখন ভালো লাগছে মাহ, খাওয়া দাওয়া, কাজে কোন ভাবেই মন বসাতে পারছি নাহ। শুধু মনে হচ্ছে, কোন ভাবে ঝুমুরকে সাহায্য করতে পারতাম। সারা রাত আর ঘুম হলো নাহ। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে আমার। শুধু ওর কান্নায় ভরা মুখটা মনে পরছে। সেই কান্নাতে রয়েছে অসহনীয় কষ্ট আর একটু বাচার আকুতি। এরপর অনেক বার গিয়েছি সেই গাছের কাছে,অনেক অপেক্ষা করেছি কিন্তু ঝুমুরের দেখা মেলে নাহ। কিছু মাস পর পড়াশোনার জন্যে ঢাকায় চলে আসি। আর কখনও যাওয়া হয়নি বান্দরবান।অনেক বছর কেটে যায়। কিন্তু সেই আংটিটা আমার কাছে এখনও আছে। আংটিটা দেখলেই ঝুমুরের কথা মনে পড়ে যায়। খুব দেখতে ইচ্ছা করে ঝুমুরকে,জানতে ইচ্ছা করে ও কেমন আছে। আবার এক সাথে হাত ধরে হাটতে খুব ইচ্ছা করে, ওর ওই মায়াবী হাসি দেখতে ইচ্ছা করে।।।।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now