বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঝিকিমিকি বউ ----(০৩)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X পাপড়ি আমার জন্য নাস্তা তৈরী করে নিয়ে আসে.... - এই নাও, নাস্তা করে তাড়াতাড়ি অফিসে যাও! - বললাম না যাব না? - কেন, আজ তোমার কি হয়ছে? - বলছি না একবার, তোমাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যাব? - আমি যাব না, যেতে হয় তুমি যাও! - ঠিক আছে ঠিক আছে, দেখবো আর কখনো বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বল কি না? .. রাগ করে নাস্তা না করেই অফিসে চলে আসলাম, এরই মধ্যে অফিসে আসার পর মোবাইলে (৩০) বার হবে ফোন দিয়েছে পাপড়ি, কিন্তু বারবারই কেটে দিয়েছি আমি! অনেকটা বাধ্য হয়ে রাগে শেষ-মেষ মোবাইলটা ও অফ করে রাখি। অফিসে আসার পথে সাথে করে আজ দুপুরের খাবার ও আনেনি। যখন অফিসে দুপুরের লানস করার সময় আসল, তখন আমার এক কলিগ (নোভা) বলছে..... .. - কি সাজিদ সাহেব, আজ কি ভাবি দুপুরের লানসের খাবার সাথে করে দেইনি! - না! আমি ইচ্ছে করেই আনিনি। - ইচ্ছে করে আনেন নি, নাকি বাসা থেকে রাগ করে এসেছেন? - রাগ করব কেন, আর আপনার কাছে হঠাৎ এটা মনে হল কেন? - নাআ-আ! আপনে তো আবার বাহিরের কিছু খান না, সব সময় তো ভাবির হাতের রান্না করা খাবার-ই খান। - তো এখন! - এখন আবার কি হবে, কাজ রেখে বাসায় চলে যান। - যেতে হয় আপনে যান, আমাকে বলছেন কেন? - বাবা রাগ ও আছে, ঠিক আছে আসুন, আপনাকে ফেলে তো আবার খেতে ও পারি না! শত হলে ও আপনে আমার কলিগ। - হইছে এসব বাদ দেন, আমার ক্ষিদা নাই, আপনার খাবার আপনেই খান। - ওকে যায় লানস করে আসি। .. অফিস শেষে সবাই চলে গেল, কিন্তু আমি এখনো যায়নি বলে, অফিসের বস এসে জিজ্ঞেস করছেন.... - কি সাজিদ সাহেব, আজ বাসায় যাবেন না নাকি? - জী, স্যার আরেকটু কাজ বাকি আছে, সেটা শেষ করেই চলে যাব। - থাক আজকে আর কিছু করতে হবে না, বাসায় চলে যান। - ওকে স্যার। .. বাসায় এসে কলিংবেল বাজাচ্ছি, কিন্তু অনেকক্ষন হল পাপড়ি দরজা খুলছে না, ফোন অন করলাম, সাথে সাথে পাপড়ির আম্মু মানে আমার শাশুড়ি (আম্মা) ফোন দিলেন..... - হ্যালো বাবা তুমি কোথায়? পাপড়িকে নিয়ে তো আমরা হসপিটালে। তোমার নাম্বারে অনেকবার ফোন দিলাম বন্ধ দেখালো, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। - জি আমি এখনই আসছি। এরই মধ্যে ভিতর থেকে কাজের বুয়াটা দরজা খুলে দিল, আর বলতে ছিল.... .. - ভাইজান ভাবি তো হঠাৎ কইরা রান্না ঘরে অজ্ঞান হইয়া পইড়া গেছিল, আপনারে অনেকবার ফোন দিলাম, আপনে ধরেন নাই। তারপর খালু আর খালাম্মা আইসা ভাবিরে হসপিটালে নিয়া গেল। - আর তুই এতক্ষন বাসার ভিতরে কি করতে ছিলি, অনেকক্ষন ধরে কলিং বেল বাজাচ্ছিলাম। - আমি কাপড় ধুইতে ছিলাম, শুনি নাই ভাইজান। - ঠিক আছে, এই ব্যাগটা নিয়ে আমার রুমে রাখ, আমি তর ভাবির কাছে যাচ্ছি। - আইচ্ছা ভাইজান। .. এরই মধ্যে আমি হসপিটালে চলে আসলাম, আমাকে দেখে আমার শাশুড়ি (আম্মা) বলছেন..... - বাবা হঠাৎ করে পাপড়ি নাকি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়, তোমাকে ফোন ও দেয়া হয়েছিল, কিন্তু বন্ধ নাকি ছিল তোমার নাম্বারটা, তারপর আমাদের ফোন দিয়ে বলার পর পাপড়িকে নিয়ে হসপিটালে আসি। - জী আচ্ছা ওর কি হয়েছে, হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল কেন? - জানি না বাবা, ডাক্তার এখনো কিছু বলেনি, রির্পোট আসলেই নাকি বলবে। - জ্ঞান ফিরেছে ওর! - না বাবা এখনো ফিরে নি? আমাদের এসব কথার মধ্যে ডক্তর ম্যাম আমাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে দেখে..... - ম্যাম ওর কি হয়ছে, হঠাৎ করে ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল কেন? - চিন্তার কিছু নেই, জ্ঞান ফিরেছে তার এবং আরেকটি গুড নিউজ হচ্ছে আপনে বাবা হতে যাচ্ছেন। .. শেষ পর্ব..... .. যখন ডক্তর ম্যামের কাছ থেকে জানতে পারলাম, আমি বাবা হতে যাচ্ছি সাথে সাথে ঐ উপরওয়ালার দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করি। - ম্যাম আমরা কি ভিতরে যেতে পারব? - হ্যা অবশ্যই! তবে একজনের বেশি যাবেন না রোগির সমস্যা হবে। ডক্তর ম্যামের কাছ থেকে এ কথা শুনে আমার শাশুড়ী (আম্মা) বলছেন.... - বাবা তাহলে তুমিই যাও! .. আমি পাপড়ির সামনে আসলাম। ও আমার দিকে এক পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, চোখ ভেজা, কিন্তু কথা বলছে না। - আরে পাগলী কাঁদস কেন, আমি তো ইচ্ছে করে এমনটা করি নি! - কথা বলবা না আমার সাথে! - স্যরি তো! এই দেখো কান ধরলাম, আর এমনটা হবে না। - উহু! আমাকে একটু ও ভালবাসো না, এসব মিছে মায়া আর দেখাতে হবে না। - আমি তোমাকে একটু ও ভালবাসি না! - না বাসো না! - তাহলে তোমার দেহের ভিতরে আরেকজন যে আছে, সে আসল কোথ থেকে? - উহু জানিনা! - ঠিক আছে জান না তো, তাহলে আমি আর এখানে বসে থেকে কি করবো চলে যায়! - আটকিয়ে রাখল কে, যাও? - হুম যাচ্ছি। .. চলেই যাচ্ছিলাম, পিছন থেকে আবার ডাক..... - দাঁড়াও! কোথায় যাচ্ছো হুম কোথায় যাচ্ছো? তুমি কি মনে করেছো? তুমি আমায় ভালবাসো না বলে আমি ও তোমায় ভালবাসি না! - আমি কি সেটা কখনো বলেছি, আর তুমিই তো বললে চলে যেতে। - দেখছো, আমি বলেছি বলেই চলে যেতে হবে? - তা নয় তো কি? - তাহলে আমার বাবুটার আব্বু হবে কে? - তা আমি কি জানি! - কিহ? - না মা-মা মানে, আমিই তো! - হুম। তো এতক্ষন ঝগড়া করলে কেন আমার সাথে? - কই কখন! - এখন? - ভুলে গেছি বাদ দাও? - ভুলেই তো যাবা, খাবার এনেছো সাথে করে, সারাদিন তো মনে হয় কিছুই খাওনি! - না, আমি এখনই যাচ্ছি সবার জন্য খাবার আনতে, আর ডক্তর ম্যাম বলেছেন তোমাকে আরো একদিন থাকতে হবে হসপিটালে। - ওকে যাও। .. পরদিন পাপড়িকে নিয়ে হসপিটাল থেকে বাসায় আসলাম। এখন ওর চাইতে আমাকেই ওর প্রতি বেশি নজর রাখতে হয়। যত্ব নিতে হয়। দিন যত যাচ্ছে ততই আমাদের বাবুটা ওর দেহের ভিতর বড় হচ্ছে। .. নয় মাস পর..... আমি অফিসে ছিলাম, আমাদের কাজের বুয়াটা আমাকে ফোন দিল..... - ভাইজান, আপনে তাড়াতাড়ি বাসায় আসেন। ভাবি কেমন জানি করতেছে? আমি সাথে সাথে একটা অ্যাম্বোলেন্স নিয়ে বাসায় আসলাম, পাপড়িকে অ্যাম্বোলেন্সে করে নিয়ে গেলাম হসপিটালে। কিন্তু হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার পথে পাপড়ি শুধু একটা কথাই বারবার বলছিল...... - সাজিদ আমি যদি মরে যায়, আমার যে বাবুটা হবে ওকে তুমি দেখে রেখো, কখনো কষ্ট দিয়ো না প্লিজ। আমি ওকে অনেক ভাবে বুঝাতে লাগলাম, তোমার কিচ্ছু হবে না দেখো, কিচ্ছু হবে না! এই তো আমি আছি, বাবা-মা ও আছেন তোমার পাশে, শুধু শুধু ভয় পাচ্ছো তুমি। .. অপারেশন থিয়েটারে পাপড়িকে নিয়ে যাওয়া হল, দীর্ঘ ৩ঘন্টা অপারেশনের কাজ শেষ করে, ডাক্তাররা যখন বের হলেন অপারেশন থিয়েটার থেকে, তখন একজন ডক্তর আমার সামনে এসে বললেন..... - congratulation সাজিদ সাহেব, আপনে দু'টো যমজ সন্তানের বাবা হয়েছেন, একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে। ডক্তরের মুখ থেকে এ কথা শুনে ও নিজ চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, আমি বাবা হয়েছি। - ডক্তর ওদের মা কেমন আছে। - হে তিনি ও সুস্থ আছেন। - আমরা কি ভিতরে যেতে পারি? - হুম যেতে পারেন, তবে বেশীক্ষণ কথা বলবেন না, নয়তো রোগীর সমস্যা হবে। - জী ঠিক আছে। .. আমি পাপড়ির পাশে গিয়ে বসলাম, ওর দু'পাশে আমাদের দু'সন্তান। পাপড়িকে না দেখলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না, একজন 'মা' সন্তান হওয়ার আগ মূর্হত পর্যন্ত কতখানি কষ্টের মধ্যে সময় পার করে। কিন্তু সন্তান প্রসবের সময় যতই কষ্ট হোক না কেন সন্তানের মুখ দেখলে সেই কষ্ট আনন্দে পরিণত হয়, প্রতিটি মায়ের। ভালো থাকুক, এমন প্রত্যেকটি 'মা' ভাল থাকুক তাদের সন্তান। ....সমাপ্ত....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঝিকিমিকি বউ ----(০৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now