বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হিমাদ্রি ও
নিলাদ্রি দুজন দুজনের
বেষ্ট
ফ্রেন্ড সেই স্কুল
লাইফ থেকে।অনেক
বলে তাদের
নাকি প্রেমের সম্পর্ক
আছে।
তাদের মাঝে এখন
পর্যন্ত এরকম কোন
সম্পর্ক
গড়ে ওঠেনি।
এদিকে হিমাদ্রি মনে মনে নিলাদ্রিকে অনেক
ভালবাসে কিন্তু
বন্ধুত্ব হারানোর
ভয়ে বলতে পারত না।
নিলাদ্রিও
হিমাদ্রিকে ভালবাসত
কিন্তু মুখ
ফুটে বলতে পারত
না কারন হয়ত কোন
একদিন
হিমাদ্রি তাকে বলবে যে "নিলাদ্রি আমি তুমাকে ভালবাসি"।
.
কিছুদিন
ধরে হিমাদ্রি কলেজে আসছে না।
নিলাদ্রি ফোন
দিয়েছে কিন্তু ফোন
ধরছে না হিমাদ্রি।
কলেজে গুরুত্বপূর্ণ
ক্লাস
থাকার
কারনে সে হিমাদ্রির
বাসায়ও
যেতে পারছে না।প্রায়
এক সপ্তাহ পর
হিমাদ্রির
কলেজে আগমন।
.
--কিরে এত দিন
কলেজে আসিস
নি কেন
(নিলাদ্রি)
.
--শরীর ভাল ছিল না।
.
--ফোন দিয়েছিলাম।
ধরিস নি কেন?
.
--আচ্ছা তর সব কথার
উত্তর
দিতে হবে আমাকে।
.
--হুম দিতে হবে।
.
--আমি পারব না যা।
.
নিলাদ্রি কথাটা আর
বেশি দুর
নিয়ে যায়নি।
.
কিছুদিন
ধরে নিলাদ্রির
মনে আচমকা একটা ভয়
কাজ করতেছে।
হিমাদ্রিকে হারানোর
ভয়।কেন
জানি মনে হচ্ছে হিমাদ্রি তার
কাছ
থেকে দুরে চলে যাচ্ছে।
তাই সে সিদ্ধান্ত
নিয়েছে আর
সে হিমাদ্রির
অপেক্ষায়
থাকবে।সে তার মনের
কথা হিমাদ্রিকে বলে দিবে।
.
১৪ই ফেব্রুয়ারি।বিশ্ব
ভালবাসা দিবস।আজ
বলে দিবে হিমাদ্রিকে তার
মনের কথা।তাই
সে আজ অনেক
তাড়াতাড়ি কলেজে এসেছে।
কিছুক্ষন পর
হিমাদ্রির আগমন।
--কিরে আজ এত
দেরি আসলি কেন।
.
--কই
দেরি করে আসলাম।
প্রতিদিন এই
সময়েই আসি।
.
--হিমাদ্রি তর
সাথে আমার কিছু
কথা আছে।
.
--কি কথা?বল।
.
--এই জায়গায়
বলা যাবে না।
.
--তাহলে
.
--চল আজ কোথাও
ঘুরতে যাই।
.
--ক্লাস করবি না।
.
--বললাম না গুরুত্বপূর্ণ
কথা আছে।
.
--তাহলে চল।
.
পরে তারা অনেক
ঘুরা ঘুরির পর পার্কের
এক
কোনে বসে স্থির হয়।
.
--কিরে কি জন্য
ঢেকে আনলি।
.
--বলব।এক ব্যস্ত
হচ্ছিস কেন।
.
--আচ্ছা বল।
.
--
আচ্ছা হিমাদ্রি আমাকে তর
কেমন লাগে।
.
--হঠাৎ এই প্রশ্ন।
.
--এমনি।বল না।
.
--ভাল লাগে।
.
--এই
ভাললাগা টাকে কি আর
একটু
ভাললাগাতে পরিনত
করা যায় না।
.
--আমি তর
কথা কিছুই
বুঝতে পারছি না।
যা বলবি সোজাসুজি বল।
.
--আচ্ছা এই ভাল
লাগাটাকে কি ভালবাসায়
পরিনত করা যায়।
.
--না যায় না।
.
--কেন
-কারন
আমিতোকে বন্ধুর
চোখে দেখি।
ভালবাসা আমার
পক্ষে সম্ভব না।
.
--কিন্তু কেন।
অনেকেরই বন্ধুত্ব
থেকে ভালবাসায়
পরিনত হয়।আমাদের
ক্ষেত্রে হলে সমস্যা কোথায়
.
এই কথা শুনার পর
হিমাদ্রি আর কিছু
না বলে সেখান
থেকে চলে আসে।
নিলাদ্রি তার
চলে যাবার
পথাটা চেয়ে থাকে।
.
১০দিন পরের কথা।২৪ই
ফেব্রুয়ারি।
নিলাদ্রির
কলেজে আগমন।১৪
তারিখের পর
সে আর
কলেজে আসতে পারেনি কারন
তার
কাজিনের বিবাহ
উপলক্ষে গ্রামের
বাড়িতে বেড়াতে যায়।
কলেজের
গেটে পা রাখতেই তার
কাছে ছুটে আসে তার
বন্ধু রিক্তা।
.
--কিরে এত দিন
কোথায় ছিলি।
.
--কাজিনের বিবাহ
উপলক্ষে গ্রামের
বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম।
.
--এ দিকের খবর কিছু
জানিস।
.
--কি হইছ।
.
--হিমাদ্রি মারা গেছে।
.
--কি?কি বলতাছস
এইসব।
.
--হ্যা।১৯তারিখ
সে আমাদের
সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে।
.
নিলাদ্রি ছুটে যায়
হিমাদ্রির বাসায়।
হিমাদ্রির মা বাসায়
যাবার পর নিলাদ্রির
হাতে হিমাদ্রির
লেখা একটা চিঠি দেয়।
প্রিয় নিলাদ্রি,
এতক্ষনে মনে হয়
আমার মৃত্যুর
খবরটা পেয়ে গেছিস।
কি করব বল নিয়তির
উপর কার হাত নেই।
যেদিন
বলেছিলি যে তুই
আমাকে ভালবাসিস,সেদিন
আমারও
ইচ্ছে হয়েছিল
যে তোকে জড়িয়ে ধরে সবার
সামনে উচ্চ
কন্ঠে বলি "নিলাদ্রি আমিও
তোকে অনেক
ভালবাসি"।কিন্তু
কি করব বল
হাতে সময় ছিল মাত্র
পনের দিন।
এই পনের দিন
আমি হয়ত
তোকে ভালবাসতে পারতাম
কিন্তু আমার
চলে যাবার
আঘতটা তুই সহ্য
করতে পারতি না।
হ্যা আমার ব্রেন
ক্যান্সার
হয়েছে।যা আমি তোর
কাছ
থেকে লুকিয়েছিলাম।
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিস।
আমার জন্য
তোর
বুকে মাঝে যে ভালবাসার
জন্ম
হয়েছিল সেই
ভালবাসা দিয়ে অন্য
কার
সাথে জীবনটা পার
করে দিস।
মনে করবি সেইটাই
আমি(হিমাদ্রি)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now