বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♥(যেই ভালবাসার নেই তুলনা)♥,,

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X অনেকটা বিকাল হয়ে গেছে।আজ সানজিদুল ইসলাম জীবনে প্রথম স্যালারি পেয়েছে। এই উপলক্ষ্যে সে বাসার জন্য দুই প্যাকেট মিষ্টি কিনল। বাসার কলিং বেল টিপতেই মা দরজা খুলে দিলেন। সে কিছু না বলেই মাকে জড়িয়ে ধরল।-- আরে ছাড় ছাড় কি করছিস তুই? আমার হাতে ময়লা লেগে আছে তো।--থাকুক ময়লা তাতে কি হবে।--হাতে মিষ্টি, ঘরে এসেই মাকে জড়িয়ে ধরা ব্যাপারটা কি??--এমনি বুঝি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না?--আচ্ছা বাবা ঠিক আছে। এমনিতো অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরলি এবার বলতো কি ঘটনা?--মা আমি আজ বেতন পেয়েছি। তোমাদের ছোট ছেলে আজ নিজ হাতে উপার্জন করা শিখেছে।--হুম তাহলে তো এবার উপার্জন খাওয়ার মত একটা মানুষ আনা দরকার। লাল টুকটুকে একটা বউ হলে হবে তো??--যাহ তুমি না?.লজ্জায় লাল হয়ে সানজিদ পাশের ঘরে চলে গেল। মাকে আরও সারপ্রাইজ দেওয়া বাকী আছে। নিজের অফিস ব্যাগ থেকে খুব ধীরে ধীরে একটা শাড়ির প্যাকেট বের করল। প্যাকেটটা পিছনে নিয়ে মায়ের কাছে গেল।--মা চোখ বন্ধ কর।--আবার কি শুরু করলি? আমার অনেক কাজ আছে। তুই হাত মুখ ধুয়ে আয় খেতে দিব।--আহা বন্ধ করই না।--আচ্ছা করলাম।.সানজিদ চোখ বন্ধ অবস্থায় থাকা মাকে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। এরপরে শাড়িটা মায়ের গায়ের উপর দিয়ে বলল এবার চোখ খোল। মা নিজের গায়ে নতুন শাড়ি দেখে খুব খুশী হলেন। কিন্তু মুখে রাগের ভাব ফুটিয়ে তুলে বললেন এতগুলো টাকা নষ্ট করার কি দরকার ছিল, আমার কি শাড়ির অভাব আছে?? সানজিদ বলল এতদিন তো স্বামীর দেওয়া শাড়ি পড়লে এবার একটু ছেলের দেওয়া শাড়ি পড়ে দেখ কেমন লাগে??আর এই ধর বাবার জন্য পাঞ্জাবী।মা বললেন তুই দিস বাবাকে। না তুমি দিও। আর মনে রেখ আজকে রাতে আমি, তুমি আর বাবা বাইরে খেতে যাব।.সানজিদ পাশের ঘরে চলে গেল। পাশের ঘরে বসে কান পেতে থাকল। কিছুক্ষণ পরে বাবা ঘরে ঢুকেই ডাকাডাকি শুরু করলেন।--কই গেলে সানজিদের মা? সানজিদ ফিরেছে?--হুম ফিরেছে। তুমি হাত মুখ ধুয়ে এস। আর আগে এই নাও মিষ্টি খাও।--কিসের মিষ্টি?--আরে সানজিদ প্রথম বেতন পেয়েছে তাই দুই কেজি মিষ্টি নিয়ে এসেছে।-- ও আচ্ছা।--আর দেখ তো পাঞ্জাবীটা তোমার হয় নাকি?? পাঞ্জাবী পড়ে রেডি হও। বাইরে খেতে যাব।--বাবা রেগে গিয়ে বললেন আবার পাঞ্জাবী কেন? বেতন পাওয়ার সাথে সাথেই এতগুলো টাকা নষ্ট করা লাগল?? তারপরে আবার বাইরে খেতে যাব?--আহ! রাগ করছ কেন? ছেলেটা কত আশা করে আছে নতুন কাপড় পড়ে আমরা একসাথে খেতে যাব।--তোমার যাওয়ার হলে তুমি যাও। আমি যাব না।.মা সানজিদকে বললেন তুই নিচে যা আমি তোর বাবাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দেখি আসে কিনা। সানজিদ নিচে দাঁড়িয়ে আছে। আর মনে মনে ভাবছে আমি জানি বাবা কখনও আসবে না। বাবা যা বলে তাই করে। একদিনের জন্য একটু আসলে কি হয়?? এগুলো চিন্তা করতে করতে সানজিদ দেখল বাবা তার কিনে দেওয়া পাঞ্জাবী পড়ে কেমন গটমট করে নিচে নামছেন।পাঞ্জাবীটাতে হাত বোলাতে বোলাতে বাবা সিঁড়ির ধাপ বেয়ে নিচে নামছেন আর মাকে বলছেন দেখেছ তোমার ছেলের পছন্দ আছে। পাঞ্জাবীটা আমাকে কি দারুন মানিয়েছে না?সানজিদ গর্বে চকচক করতে থাকা বাবা মায়ের মুখ দেখতে থাকে আর মনে মনে বলে এইত আমার জান্নাত। হে আল্লাহ অশেষ ধন্যবাদ! আমাকে আমার বাবা মায়ের এই আনন্দ দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♥(যেই ভালবাসার নেই তুলনা)♥,,

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now