বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জেবী কে?

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X জেবির কাল বিয়ে! আজ তাই বাবার বাড়িতে শেষবারের মতো খিচুড়ি রান্না করছে, ওর হাতের খিচুড়ি সবার খুব পছন্দের! মনের মতো করে নিজের রেসিপি দিয়ে রান্না করছে জেবি, হঠাৎ আগুনের গরম তাপ লেগে হাতে ফোসকা পড়ে গেল! রান্না অসম্পূর্ণ রেখেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল জেবি! রাতে পোড়া হাতে জ্বলুনি বেড়েই চলেছে তাই মেহেদী লাগাতে কষ্ট হচ্ছে হাতে, বান্ধুবীরা জোর করেই মেহেদী লাগিয়ে দিলো তাদের প্রিয়তমা বান্ধুবীকে! সকালে হাতে জ্বলুনি কিচগুটা কমে গেলো আলহামদুলিল্লাহ্! নতুন বউ সাজানো হচ্ছে জেবি কে! আয়নার সামনে বসতেই লজ্জারাঙা হয়ে উঠলো তার মুখ, ভাবতেই কেমন লাগছে সে অপরিচিত এক মানুষের সাথে আজ থেকে থাকবে একই ছাদের তলায়! বরপক্ষ এসে পড়েছে জেবিদের বাড়িতে, জুম্মার আজান পড়ে গেল!তাই বর,তার বাবা আর বন্ধুরা সালাহ পড়তে মসজিদে চলে গেলো! বউ সেজেই আজ সালাহ পড়ে নিলো জেবি। এক আশা ও ভয়মিশ্রিত সালাহ পড়লো আজ সে! সূরা ফুরকান, নামল আর আস সাফফাত এর কিছু আয়াত পড়ে দুয়া করলো জেবি ! কিছুক্ষণ পর জুম্মার সালাহ শেষ হয়ে গেলো, জেবির বাবা এসে ওর সম্মতি জানতে চাইলো যে সে এ বিয়েতে রাজি কিনা! জেবি আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলে হেঁসে দিলো! বিয়ে হয়ে গেলো জেবির বরের সামনে নিয়ে যাওয়া হলো জেবিকে!সালাম দিলো জেবি তার বরকে, লজ্জায় দুজন দুজনের দিকে তাকাতেই পারছিলো না!সালামের উত্তর দিয়ে সোফার একদিকে সড়ে গিয়ে সে জেবিকে বসতে দিলো।চুপচাপ ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে ছিলো বর কনে! মনে হচ্ছিলো যেন দুজন দুজনার নন মাহরাম!! অবশেষে জেবির ছোট ভাই এসে দুজনকে একসাথে দাঁড় করিয়ে দিলো একটা ছবি তোলার বাহানা দিয়ে! সংকোচ কিছুটা কমে গেলো দুজনের ই। মাগরিবের পর বাবার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বরের সাথে গাড়িতে উঠে গেলো জেবি, কেঁদেকেটে একাকার অবস্থা তার! বর তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলো কিন্তু কে শোনে কার কথা, কান্না বেড়েই চলেছে জেবির! বরমশাই বলে উঠলো, এতোদিন তো বিয়ের জন্য পাগল ছিলেন, আজ আমি বিয়ে করলাম আর আপনি কেঁদে ভাসাচ্ছেন!!! বিয়ে না করলেই ভালো ছিলো! বরের কথায় হেসে উঠলো জেবি! কেমন বুদ্ধিমান তার বর!কথার কৌশলে কান্না থামিয়ে দিলো! কিছুক্ষণের মধ্যেই শশুরবাড়ি পৌঁছে গেল জেবি, গাড়ি থেকে নেমেই দেখলো নতুন বউকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য অনেকে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির গেটে, আদরের সাথে শাশুড়ি মা তাকে ঘরে নিয়ে গেলো, আর কিছু উপদেশ দিয়ে গেলেন তার ছেলে আর বউমা কে! ব্যাগ থেকে নিজের জিনিসপত্র বের করে সবকিছু সুন্দরভাবে জায়গামতো গুছিয়ে রাখলো বরের সাহায্যে! বর তাকে সবকিছু শিখিয়ে দিলো! এরপর দুজন কিছুক্ষণ গল্প করলো, জেবি তার নিজের ডায়েরীগুলো তার বরকে উপহার দিলো যা এতোদিন ধরে সে সযত্নে রেখে দিয়েছিলো তার বরের জন্য! ডায়েরী নিয়ে পড়া শুরু করে দিলো তার পড়াপাগল বরমশাই! এমন সুন্দর লিখা পড়ে আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় সিজদা আদায় করলো জেবির বর! সত্যিই এমন একটা ভালো বউ যেন তার জীবনে আসে সেজন্য সে প্রতিদিন দুয়া করতো, আজ তার দুয়া আল্লাহ্ কবুল করলো!!! এশার পর খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো জেবি। খুব ধকল গেছে দুদিন ধরে আজ একটু আরামে ঘুমাচ্ছে সে!সকালে উঠে সবার জন্য রান্না করতে হবে তার নিজ হাতে তাই আগে আগেই ঘুমিয়ে পড়লো! সকালে উঠে জেবির চোখ চড়কগাছ! ঘড়িতে ৯ টা বাজে! সে ভেবেছিল ৭ টায় উঠে রান্না করবে অথচ এখন ৯ টা বাজে! লজ্জা আর অনুশোনায় নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো সে! আগে থেকেই ওর এলার্ম না দিয়ে ঘুমানোর বদঅভ্যাস যা এখনো যায়নি! হঠাৎ আসসালামু আলাইকুম বলে ঘরে ঢুকে গেলো তার বর, ভয় পেয়ে গেলো জেবি! -জলদি চলুন ম্যাডাম, সবাই আপনার জন্য খাবার টেবিলে বসে অপেক্ষা করছে! জেবি বললো, সরি আমার লেট হয়ে গেলো উঠতে, তাই রান্না করতে পারলাম না! - নো প্রব্লেম, আসুন জলদি! জেবিকে হাত ধরে বিছানা থেকে ঝড়ের গতিতে নিয়ে গেল বর! খেতে বসে শাশুড়ি তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ! বউ মা এতো ভালো রান্না কার কাছে শিখলে?!! রান্না খুব ভালো হয়েছে! শাশুড়ির কথা শুনে জেবি আকাশ থেকে পড়লো! সে তো রান্না ই করেনি! জেবি ভয়েভয়ে বললো, আসলে মা আমি মাত্র ঘুম থেকে উঠে খেতে এলাম আমি রান্না করিনি! কি বলছো বউমা এসব? তাহলে আজ কে রান্না করলো? আমিও তো আজ রান্না করিনি! ফিক করে হেসে দিলো জেবির বর," মা আমিই আজ রেঁধেছি ! " জেবি আর শাশুড়ি দুজন ই হা করে তাকিয়ে রইলো!! তুই তো জীবনে রান্না ঘরেই যাসনি! তুই করেছিস রান্না??!! হা হা হা! সত্যি বলছি মা! আমি রাঁধতে জানি না ঠিক ই কিন্তু আজ তোমার বউ মার হাতে ফোসকা পড়েছে, ওর রাঁধতে কষ্ট হবে তাই আমিই রেঁধেছি! -এতো ভালো রান্না কোথায় শিখলি বাবা?? আসলে ক্রেডিট আমার চেয়ে বেশি তোমার গুণবতী বউমার! সে তার ডায়েরীতে অনেক সুন্দর কিছু রেসিপি লিখে রেখেছিল,সেখান থেকে দেখেই আমি রান্না করেছি!!! তুমি খুব ভালো বউ মা পেয়েছো মা ছেলের কথায় মা খুব খুশি হলো! লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে রইলো জেবি!! খাওয়া শেষে সবাই যখন চলে গেলো তখন জেবি রান্নাঘরে গিয়ে প্লেট ধুচ্ছিলো, পেছন থেকে বরমশাই দাঁড়িয়ে দেখছিলো তাকে! জেবি তাকে দেখে ধন্যবাদ দিতে চাইলো কিন্তু বর তাকে বললো, কৃতজ্ঞতা জানাতে হবেনা জনাবা, আপনি শুধু আমার পাশে থাকবেন, এতোটুকুই যথেষ্ট জেবি বরের দিকে তাকিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললো! (Collected)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জেবী কে?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now