বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাইসার জন্য বাসা থেকে পাত্র দেখা হচ্ছে আগে থেকেই। আজ হঠাৎ বাড়ি থেকে জরুরী ফোন পেয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে সে। কারণ সে কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে, পাত্র পক্ষের সামনে দাড়ানোর জন্য এই জরুরী তলব। এবার না গিয়ে পারবেনা। গিয়েই একটা বিহিত করেই ফেলবে। বাসায় হাসান আর তার ব্যপার টা জানিয়ে দিবে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললো। এক সপ্তাহের বেশি হলো হাসান বাড়ি গেছে, ও বাড়ি গেলে সবসময় যোগাযোগ রাখে কিন্তু এবার তেমন একটা কথা হয়নি। হয়তো কোন ঝামেলায় আছে তা না হলে সে তো এমন করেনা কখনো।
বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে বসেই হাসানকে ফোন দেয় রাইসা।
- হ্যালো, এই শুনো না, একটা কান্ড ঘটে গেছে।
- কান্ড! কদিন পরপর তোমার এসব ক্যাচাল আসলেই ভাল লাগেনা।
- এভাবে কথা বলছো কেন? তুমি আগে তো শুনবা আমি কি বলতে চাচ্ছি!
- কি আর বলবা! বলবা বাসায় পাত্র দেখতে আসবে তোমাকে, বাবা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, এসব ই তো?
শোন, এতই যখন বাবা মা পিড়াপিড়ি করছে, রাজি হয়ে যাও না, আর এসব ক্যাচাল করতে এসো না আমার সাথে। আমি রাখছি এখন, আমার একটু তাড়া আছে ...
হাসানের আচরণে ব্যথিত রাইসা , কিছুটা অবাক ও! এমন ভাবে কখনো কথা বলেনি ওর সাথে হাসান। আজ কেন জানি অচেনা ই মনে হচ্ছে তাকে। হাসানের সাথে কথা কাটাকাটি কিংবা মনোমালিন্য হলে সবসময় যা করে তার একটি হচ্ছে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়া। বাস ছাড়তেই সে কাজটি করতেই ফেসবুকে গিয়ে ভূত দেখার মতো চমকে উঠে রাইসা !
একি দেখছে সে! আংটি পড়ানো একটি ছবি পোস্ট করেছে হাসান। আর নিচে তার বন্ধু শুভাকাংখীদের মন্তব্য আর লাইকের ছড়াছড়ি। আর সে সব মন্তব্যে আবার হাসানের লাইক! বুঝায় যাচ্ছে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই হাসান ফেসবুকে মগ্ন আছে আর সবার সাথে আড্ডায় মেতে আছে। এ তাহলে ওর তাড়া!! দুনিয়ার রাগ, ক্রোধ জমা হতে থাকে হাসানের উপর। ব্যাগ থেকে মোবাইলে বের করে ফোন করে হাসান কে। প্রথম দুইবার কেটে দেয় হাসান। তিনবারের সময় বিরক্তি নিয়ে ধরে ফোন।
- হ্যালো, আবার কি? তোমাকে না বললাম আমার তাড়া আছে। যা বলবার বলো পটাপট।
- দুই ঘন্টা ধরে ফেসবুকে সবার সাথে আড্ডায় মেতে আছো, আর আমাকে বলছো তাড়া আছে! এই তোমার তাড়া?
- শুধু শুধু মাথা খারাপ করোনা তো। আর শোনো এমনিতেই তোমাকে ফোন দিতাম একটু পরে আমি, তুমি করেছো ভালই হলো।
পরিবারের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে হচ্ছে আমার। ফেসবুকের পোস্ট দেখেই নিশ্চয়ই বুঝে নিয়েছো? আমার মনেহয় আমাদের সম্পর্কের ইতি টানা উচিত।
- ওহ, তাহলে এতো দূর! সম্পর্কের ইতি টানা উচিত ই নয় শুধু, টেনেই ফেললাম, যা ভাগ! এই মুহূর্তের পর থেকে তুই আর আমার সামনে আসবি না ভন্ড! প্রতারক!
অন্যসময় রেগে হাসান কে অনেক বার ভন্ড বললেও সে বলার মাঝে ভালবাসা থাকতো, আজ ভালবাসা ছাড়া ভন্ড বলেছে তাকে। বাসে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে রাইসা। এবার আর না করবেনা। যে ছেলেই দেখতে আসছে রাজি হয়ে যাবে বিয়েতে। যার জন্য এতদিন পরিবারের সাথে যুদ্ধ করে বিয়ে বন্ধ রেখেছিল সে ই যেহেতু পর হয়ে গেল, তাহলে আর কি!
বাস স্টেশনে মাকে দেখে কিছুটা অবাক রাইসা । অন্যসময় বাবা এলেও এবার ই প্রথম মা এসেছে তাকে এগিয়ে নিতে। এর কারণ টা ও রিক্সায় বসতে বুঝে নিয়েছে রাইসা। মা পথিমধ্যে আজ বিকেলে দেখতে আসা ছেলের গুনগান শুরু করেন।
- জানিস রাইসা , তোর তো রাজ কপাল মা, ছেলে টা ডাক্তার, আর্মিতে আছে, বুঝিস ই তো আর্মির ছেলে রা তো এমনিতেই লম্বা। গত বারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলি ছেলেটা খাটো ছিল বলে আমার মনে আছে, তাই এবার লম্বা ছেলেই দেখেছি।
- মা, তোমার বকবকানি বন্ধ করবে? রিক্সাওয়ালা শুনছে না এসব!
মাথা ঘুরিয়ে রিক্সাওয়ালা বলে উঠে, আপা রাজি হয়ে যান, জামাই ডাক্তার হলে আর অসুখ অইলে চিন্তা নাই, ঘরের মইধ্যে হাসপেতাল, ঘরের মইধ্যে ফারমিছি।
ঐ মিয়া আপনাকে জ্ঞান দিতে কে বলেছে? তাড়াতাড়ি চালান।
বাসায় এসে রাইসা আরও অবাক! এ যেন বিয়ে বাড়ি! ফুফু এসেছে ফারিয়া সহ! ফারিয়া রাইসার কাজিন, হাসানের সাথে কথাও হয়েছে কয়েক বার। এত কিছুর পরেও মন মানেনা রাইসার, ফারিয়া কে দিয়ে একবার চেষ্টা করিয়ে দেখে সে। ফারিয়া ফোন দেয় হাসান কে, স্পিকার টা লাউড ই থাকে।
- হ্যালো, ভাইয়া কেমন আছেন?
- এইতো ফারিয়া, তুমি কেমন আছো?
- আমিতো ভালো, কিন্তু আপু আর আপনার কি হয়েছে?
- আর বলোনা ফারিয়া! বাবা মা জোর করে আমাকে বিয়ে করাচ্ছে, সব কিছু ফাইনাল, কিচ্ছু করার নাই আমার। রাইসা কে অনেক খারাপ ভাবে অনেক কথা বলেছি যাতে আমাকে মন থেকে এড়িয়ে যেতে পারে, ওকে বলিও আমাকে ক্ষমা করে দিতে!
সব আশা শেষ রাইসার, হাসানের প্রতি ক্ষোভের পরিমাণ শেষ সীমানা অতিক্রম করেছে! রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মাকে ডাক দেয়।
- মা, ছেলে কি করে বললে?
- ঘটক তো বললেন আর্মি 'র মেজর, অপর দিকে ডাক্তার ও, ঘটকদের তো বিশ্বাস নেই পছন্দ হলে খোজ নেয়া যাবে, তুই মা টেনশন করিস না।
হাসান ও আর্মির ক্যাপ্টেন, ডাক্তার! ও আমাকে এত বড় ধোঁকা দিয়েছে! ওর উপর শোধ নেয়ার এটাই মোক্ষম সুযোগ! ও পারলে আমি কেন বসে থাকবো?
রুমের দরজা আটকানোর আগে রাইসা মাকে বলে দেয়, তোমরা যা খুশি করো আমি আর আপত্তি করছি না। সিদ্ধান্ত টা যতটা বাবা মায়ের খুশির জন্য দিয়েছে তার চেয়ে হাসানের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে দিয়েছে। মানুষ কয়েক মুহুর্তের ব্যবধানে এত বদলে যেতেই পারেন!
মেয়ের সুমতি দেখে অনেক খুশি রাইসার মা।
মেয়েদের বিয়ে আর ছেলেদের চাকরি এ দুটি নিয়ে মা বাবার অনেক চিন্তা থাকে (সংগ্রহীত)।
সব আয়োজন সম্পন্ন, একটু পরেই পাত্র পক্ষ চলে আসবে। মনের সাথে জোর করা লাগেনি কারণ অনেক ক্ষোভ জমে আছে সেখানে রাইসার। সেজেগুজে তাই সে প্রস্তত। এমন সময় হাসানের কল এ রাইসার মোবাইল বেজে উঠে। রাইসা রিসিভ না করেই কেটে দেয়, আবার বাজতেই বন্ধ করে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দেয় মোবাইল! অথচ একসময় কতটাই না অস্থির থাকতো সে এই হাসানের ফোন কলের অপেক্ষায়।
একটু পর ফারিয়া তার মোবাইল খানা বাড়িয়ে দিয়ে চুপিচুপি বলে আপু হাসান ভাই, এক মিনিট কথা বলতে চাইছে। অনেক মিনতি করছে, বল না।
- যা বলার এক মিনিটেই বলবে কিন্তু! তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছা বা সময় কোনটি আমার নেই। একটু পর ছেলে পক্ষ আমাকে দেখতে আসবে।
- এক মিনিট তো তুমিই বলে ফেললে, আমি আর কি বলবো।
- এসব ঠাট্টা ইয়ার্কি বউয়ের সাথে করিয়েন যা বলার তাড়াতাড়ি বলেন।
- আসলে জানো রাইসা? হয়েছে কি, যে মেয়েটির সাথে আমার এংগেজমেন্ট হয়েছে না সে মেয়েটা একটা ছেলেকে ভালবাসতো, একটু আগে খবর পেলাম সেই ছেলের সাথে মেয়েটা নাকি পালিয়ে গেছে।
দেখেছো কি বাঁচাটাই না বাঁচলাম। আমারা ও তো ভালবাসি একে অপর কে, চল, আমরাও পালিয়ে যায়!
- এক্সিউজ মি, আমরা ভালবাসি না ভালবাসতাম! আর এসব শুনার সময় আমার নাই আপনাকে তো বললাম!
- আমার ভুল হয়েছে আমাকে আর একটা বার সুযোগ দাও প্লিজ।
- সে যোগ্যতা তোমার আর নাই, একটু পর আমি পাত্র পক্ষের সামনে যাবো, আমি রাখছি।
- রাইসা শোন, রাইসা একবা...
রাইসা শুনেনা!
ফোন রেখে রাইসা অন্যরকম হয়ে গেলো, একটু আগেও সে এমন ছিলনা, একটু একটু মায়া হচ্ছে হাসানের জন্য। মায়া জিনিস টা আসলেই অদ্ভুত, সহজে যেমন জন্ম নেয়না তেমনি সহজে ছাড়ানো ও যায়না।
এস এম এস এর শব্দ, হাসানের মেসেজ,
আমি আসবো, দেখি তুমি কি করে ফিরিয়ে দাও আমাকে!
রাইসা ফোন টা সুইচড অফ করে বিছানায় ছুড়ে ফেলে। বাড়িতে সবার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ছেলেপক্ষ এসে গেছে। রাইসা চিন্তিত হয়ে পড়ে যদি আসলেই হাসান এসে হাজির হয়?
হাসানের সাহস সম্পরকে ধারনা আছে রাইসার! ও যে ভীতুর ডিম, জীবনেও তার এত বড় সাহস হবেনা
নাস্তা হাতে ঘোমটা দিয়ে রাইসা পাত্র পক্ষের সামনে হাজির হয়। মুখ নিচ থেকে উপরে উঠাচ্ছেনা রাইসা। পাত্রকে দেখতে তার কেন জানি ইচ্ছে করছেনা। রাইসা আর পাত্র কে একা কথা বলার সুযোগ দিয়ে সবাই বের হয়ে যায় একসময়।
পাত্র গলা খাকারি দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে,
- এভাবে মাথা নিচু করে থাকলে তো ঘাড় ব্যথা হয়ে যাবে, এমন কি কুঁজো হবার সম্ভাবনা ও আছে।
- থাকলে থাক, কেন? কুঁজো বউ নিয়ে ঘর করতে সমস্যা আছে নাকি? নিচের দিকে তাকিয়েই জবাব দেয় রাইসা।
- সমস্যা তো আছেই, কারণ আমি নিজেই কুঁজো, যদি বউ টা ও কুঁজো হয়, আমাদের ছেলেমেয়ে, নাতি নাতনী সবাই কুঁজো হবার সম্ভাবনা থাকবে! পরে লোকে নাম দিবে "দ্যা কুঁজো ফ্যামিলি "
এবার রাইসা মাথা তুলে পাত্রের দিকে তাকায়, আর এক লাফে দাড়িয়ে যায়!
- হাসান! তু, তু, তুমি?
- হুম, আমি, আফনের ভাষায় ভীতুর ডিম!
- এসব কি! কিভাবে সম্ভব?
- সম্ভব করিয়েছি, সকালে সব ফাইনাল হতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস, ফটো আপলোড দিয়েছি।
- কিন্ত মা আমাকে বলেছে ছেলে মেজর, তুমিতো ক্যাপ্টেন।আমি মেজর শুনে রাজি হয়েছি আমি মানিনা।
- আরে বিয়ে শাদী তে অল্প অল্প মিথ্যা জায়েজ আছে, তাছাড়া কদিন পর তো আমি মেজর হবো।
- রাজী হতে পারি, যদি হানিমুন টা নীলগিরি তে করো, আমার অনেক প্রিয় জায়গা।
- ওকে রাজী।
বিয়ে হয়ে গেলো ধুমধাম করে রাইসা আর হাসানের।
বিয়ের এক সপ্তাহ আজ। হাসান কথা রেখেছে, নীলগিরি তে হানিমুনের উদ্দেশ্য তারা এখন চট্টগ্রামের ট্রেনে। ক্লান্ত হাসানের ঘুম পাচ্ছে রাইসা কবিতার বই বের করে বসে আছে, হাসান কে বলছে কবিতা পড়ে শুনাতে। সোজাসুজি না করে দিয়ে চশমা খুলে চোখ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসান কিন্ত রাইসা নাছোড়বান্দা।
- কবিতা শুনবে, না? শুনতে হবেই যেহেতু স্বরচিত ই শুনাই একটু কটমট করে বলে হাসান।
- শুনাও, তাইলে তো তার ভালো।
প্রেমিকা ছিলে,
ভালই ছিলে,
কেন যে হতে গেলে বউ?
হয়েছে হয়েছে বাকী টা আমি ই বলি রেগে গিয়ে বলে রাইসা,,
আহাহাহা,
তখন তো কত,
স্বপ্ন দেখাইতে,
এনে দিবে,
সমুদ্রের ঢেউ!!
দুজন ই চুপচাপ, হাসান ঘুমিয়ে পড়েছিল, জেগে দেখে রাইসা ঘুমুচ্ছে তার কাঁধে মাথা রেখে। জানালা দিয়ে আসা বাতাস চুল গুলোকে নিয়ে হাসানের মুখে ফেলছে।
- এই উঠো, বই টা দাও। কবিতা শুনাবো।
- না, আমার ঘুম পাচ্ছে।
- না, আমি কবিতা শুনাবো, শুনতে হবে......
- না, শুনবো না এখন,,
ট্রেন ছুটে চলেছে, ছুটে চলেছে হাসান রাইসার জীবন নামের ট্রেন, যে ট্রেনের যাত্রী দুজন, চালক ও দুজন, মাঝেমাঝে এরকম খুনসুটি করে দুজন টিকেট চেকার এর মতো চেক করে নেয় একে অপর কে.....
( পত্রবন্ধু থেকে প্রিয় বন্ধু হয়ে উঠা মাহমুদ হাসান, ডাকপিয়নে যারা প্রথম থেকে উঁকিঝুঁকি দিয়ে আসছেন তারা অনেকেই চিনেন তাকে। প্রিয় বন্ধু তার প্রিয়তমা কে বরণ করে নিচ্ছেন ।
বন্ধুর অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল গল্পের মতো এরকম করে একটা প্রেম /বিয়ে করবে। গল্পের মতো করে বিয়ে তো করতে পারলিনা বন্ধু তবে গল্পের চেয়ে মধুর করে প্রেম করে যাবি আজীবন।
সুদূর প্রবাস থেকে এই শুভকামনা করছি)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now