বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যাত্রাপ্রসাদ
========
যাত্রাপ্রসাদ একটি হাতির গল্প । আরও পরিষ্কারভাবে বললে, একটি কুনকি হাতির গল্প । সাধারণভাবে জঙ্গল থেকে কোন হস্তিশাবককে উদ্ধার করে আনলে বা জন্ম থেকেই মানুষের সঙ্গে বড় হওয়া কোন হস্তিশাবককে দীর্ঘদিন ধরে পর্যায়ক্রমিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে “কুনকি” তে পরিণত করা হয় । মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশে মানুষের সঙ্গে বড় হওয়ার ফলে “কুনকিদের” মধ্যে বুনো হিংস্রতা প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে । ফলে এরা সারা জীবনই নিজের অজান্তে স্বজাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে আর মানুষদের পোষ্য হয়েই থাকে । “কুনকিদের” বনজ সম্পদ নজরদারির জন্য, বুনো হাতির হামলা ঠেকাতে, অভয়ারণ্যে পর্যটকদের ফরেস্ট সাফারির কাজে লাগান হয় ।
যাই হোক, যাত্রাপ্রসাদ ছিল অত্যন্ত প্রশিক্ষিত একটি হাতি । বুদ্ধিও রাখতো বেশ । জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে কাজ করতো সে । কাজ বলতে মূলত বুনো হাতিদের হামলা ঠেকাতেই তাকে ব্যবহার করা হত । আর কাজটা সে খুব দক্ষতার সঙ্গে করতোও । কোন কোন সময় তাকে যখন সাফারির কাজে ব্যবহার করা হত তখন সে বুনো হাতিদের ধোঁকা দেবার জন্য এমন এমন রাস্তা ধরত, যে তা দেখে তার মাহুতও অবাক হয়ে যেত । বুনো হাতিগুলোকে গোলকধাঁধায় ফেলে পর্যটকদের সে ঠিক বার করে নিয়ে যেত । জঙ্গলের যে অংশে সবচেয়ে বেশি বন্য জন্তুর আগমন ছিল সেই অংশেই সে নিয়ে যেত পর্যটকদের । বন্যজন্তু, মানে ঐ গন্ডার, বনময়ূর, হরিণ, বন্যশূয়োর ইত্যাদি দেখে যখন পর্যটকরা হাততালি দিয়ে উঠত, বাচ্চারা খিলখিল করে হেসে উঠত, ফটাফট ক্যামেরার ক্লিক-ক্লিক শব্দ – এসব শুনে যাত্রাপ্রসাদের চোখ চকচক করে উঠত । তার কাজটা যে সে ভালমতই উপভোগ করতো এব্যাপারটা বলার অপেক্ষা রাখে না । যাত্রাপ্রসাদের নামডাক মনুষ্যসমাজে যেমন ছড়িয়ে পড়েছিল, তেমনই তার বদনামও হয়েছিল প্রচুর হস্তিসমাজে । ভেতরে ভেতরে তারা ফন্দি আঁটছিল কীভাবে “বিভীষণ”টাকে শেষ করা যায়…
ঘটনাটা ঘটল এক বর্ষণমূখর সন্ধ্যায় । বুনো হাতির একটা দঙ্গল বেরিয়ে এলো বসতির দিকে । সেটা যে পূর্বপরিকল্পিত ছিল তা যাত্রাপ্রসাদ তো দূর, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের লোকজনও টের পায় নি । পূর্বের মতই সে বুনো হাতিগুলোকে ধোঁকা দিয়ে তাড়িয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল গ্রাম থেকে দূরে জঙ্গলের মধ্যে । কিন্তু সর্দার হাতিটির প্ল্যান অন্যরকমই ছিল । জঙ্গলের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে । নিঃশব্দে গিয়ে পেছন থেকে আক্রমণ করল সে যাত্রাপ্রসাদকে । তারপর পরপর কয়েকটি বৃংহন । আশেপাশেই লুকিয়ে ছিল অন্যান্য দাঁতালগুলো । ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলল তারা যাত্রাপ্রসাদকে । লম্বা দাঁতগুলোর আঘাতে আঘাতে তারা চিরে ফেলতে লাগলো যাত্রাপ্রসাদের সারাশরীর । চক্রবূহ্যে আটকে পড়া ‘অভিমূন্যের’ মত শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালাল কুনকিটি । গাছের ডালপালা ভেঙে আঘাত পাল্টা আঘাত হানার একটা ক্ষীণ প্রচেস্টা করেছিল যাত্রাপ্রসাদ । কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারে নি সে । চারিদিক থেকে মত্ত হস্তিবাহিনীর একত্রিত আক্রমণে ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়লো শেষ পর্যন্ত । তার মৃত্যুর শেষ ডাকগুলি জঙ্গল চিরে মনুষ্যবস্তিতেও প্রবেশ করেছিল । কিন্তু ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সকলে ভেবেছিল, ‘যাত্রাপ্রসাদ বুনোগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে বুঝি...!’ শুধু তার মাহুত অনুমান করতে পেরেছিল পুরো ঘটনাটা । সন্ধ্যা নামার পরও যখন যাত্রাপ্রসাদ ফিরল না, তখন বনরক্ষীবাহিনীর টনক নড়ল । কিন্তু রাতে আর কেউই জঙ্গলে ঢুকতে সাহস পেল না । পরদিন সকালে জঙ্গলের ভিতর থেকে যখন যাত্রাপ্রসাদের লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে আসা হল, তখন আশেপাশের সকল গ্রাম থেকে প্রচুর লোক এলো তাকে শেষ দেখা দেখার জন্য ।
যাই হোক ফরেস্ট অফিসার কিন্তু যাত্রাপ্রসাদকে ভালোবাসতেন । যাত্রাপ্রসাদের একটা মূর্তি তিনি স্থাপন করেন অভয়ারণ্যে ঢোকার মুখে । কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে দাঁতালবাহিনী রাতের অন্ধকারে এসে সেই মূর্তিটিকেও ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যায় ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now