বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টিউশনি পড়াতে কমলাপুরের চিরচেনা গলি দিয়ে হাঁটা শুরু করতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হল! যেহেতু আজ ছাতা নিয়ে বের হই নি তাই বৃষ্টিতে পড়তেই হবে। মার্ফিস ল!
গলির দুপাশে ছোট ছোট অনেক দোকান। একটা বড়সড় মিষ্টির দোকানও আছে। বিচিত্র রকমের মিষ্টি। প্রতিবার যাওয়া আসার সময় ভাবি হুট করে একদিন ঢুকে সব ধরনের মিষ্টি টেস্ট করবো। কিন্তু কোনদিন হয়ে ওঠে না।
আজ বৃষ্টির মাঝে পড়ে দৌড়ে ঐ মিষ্টির দোকানে ঢুকলাম। দুজন বয়স্ক পাঞ্জাবি-পরা ভদ্রলোক কথা বলছিলেন নিজেদের মধ্যে। এদের একজন সম্ভবত মিষ্টির দোকানের মালিক। ভিতরে ঢুকতেই উনাদের একজন আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, "জামাই বাবাজি না?"
আমি উনার দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে বললাম, "জ্বি?"
সাথে সাথে পাঞ্জাবি পড়া ভদ্রলোকটি উৎফুল্ল হয়ে পাশের ভদ্রলোককে বলতে লাগলেন, "বলছিলাম না এইটা জামাই বাবাজি! আরে, আবুল কাশেমের মেয়ে রত্না! এইটা রত্নার জামাই! গত রোজার ঈদে যে বিয়ে হইলো, মনে নাই?"
আমি পুরাই কনফিউসড! পাশের মালিক ভদ্রলোকও দেখি কনফিউসড! উনি শুধু আমতা আমতা করে বললেন, "তাই তো মনে হয়! কিন্তু...."
"আরে, কিসের কিন্তু? এইটা জামাই বাবাজি। ঐ মানিক্কা, তোয়ালে আর চেয়ারটা এদিকে আন। জামাই বাবাজি ভিজে গেসে পুরাই!"
মানিক আমার বয়সি। দোকানের কর্মচারি।
সে হন্তদন্ত হয়ে একটা আরএফএলের চেয়ার আর একটা তোয়ালে আনলো।
দোকানদার ভদ্রলোক দ্বিধান্বিত কণ্ঠে বললেন, "বাবাজি শরীরটা মুছে চেয়ারে বসে পড়ো।"
আমি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে শুধু বললাম, "জ্বি আংকেল!"
আমি বাধ্য হয়ে চেয়ারে বসে তোয়ালে দিয়ে মাথা-মুখ মুছতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম কোন এংগেল থেকে আমি জামাই জামাই লাগি! আজ শেভ করে শার্ট পড়েছি, চশমা আছে চোখে। এই জন্যে? রত্না যে কোন হতভাগিনী!!!
"দেখছো, জামাই কত ভদ্র আর সুন্দর। আবুল কাশেমের কপাল ভালো। একটাই মাইয়া ধুমধাম করে বিয়া দিলো মেয়েরে। লোকমান মিয়া, কী ভাবো?"
লোকমান মিয়া যিনি মিষ্টির দোকানের মালিক, এখনো দ্বিধান্বিত! আমি মাথা নিচু করে শুধু বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় আছি।
"ওই মিয়া, জামাই বাবাজিরে মিষ্টি খাওয়াও। আবুল কাশেম আমগো গর্ব। মসজিদের উন্নয়নে কত টাকার ব্যবস্থা করছে একাই! ঐ মানিক্কা, জামাইরে মিষ্টি দে।"
মানিক বড় পিরিজে করে কয়েক জাতের মিষ্টি এনে আমার হাতে ধরায় দিলো।
"তা জামাই বাবাজি, রত্না মা ভালো আছে তো?" ঐ ভদ্রলোক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন।
আমি একটা পোড়াবাড়ির মিষ্টিতে কামড় দিয়ে দ্বিধান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে শুধু বললাম, "জ্বি?"
"যাক, রত্নার কপাল কতো ভালা! এই রকম জামাই কয়জনের ভাগ্যে জোটে? ঐ মানিক্কা আরো মিষ্টি দে জামাইরে।"
আমি আমতা আমতা করে বলতে গেলাম, "আর দরকার নাই আংকেল!"
এর মধ্যে মানিক আরো কয়েকটা মিষ্টি আমার পিরিজে দিলো।
"কত ভদ্র পোলা দেখছো লোকমান! তোমার মেয়ের জন্যেও এমন পোলা খুঁইজো। আজকালকার পোলাপাইনরা ভদ্রতা কী জানে না!"
বৃষ্টি থেমেছে। আমার মিষ্টি খাওয়ার সাধও মিটেছে! এখন পালাতে পারলেই বাঁচি। উঠে দাঁড়ালাম বের হওয়ার জন্যে। আংকেলদের দিকে তাকিয়ে একটু মাথা নিচু করে বললাম, "আংকেল আসি আজ।"
ঐ ভদ্রলোক যেই বললেন, "যাও বাবা, দেখেশুনে যাইও।" ওমনি পা বাড়ালাম।
দোকানের বাইরে এসে স্টুডেন্টের বাসার উদ্দেশ্যে দ্রুত হাঁটা দিলাম। হন হন করে হাঁটার সময় মনে হল গলির ধারেই রত্না নামের সেই মেয়েটা দাঁড়ায় আছে! কেউ একজন হয়তো 'দুলাভাই' বলে চিৎকার করে ডেকে উঠবে। আমি আরো দ্রুত হাটতে লাগলাম।
আগামী এক মাস এই গলিতে আর ঢোকা যাবে না!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now