বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাপ্তাহিক চাকরির পত্রিকাতে যে কয়টা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থাকে সব গুলোতে আবেদন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরেছে রবি। অবশেষে একটা কম্পানির মার্কেটিং অফিসার এর পদে ইন্টার্ভিউ এর জন্য ডাক পরে। এ নিয়ে প্রায় 10 টা ইন্টার্ভিউ দিয়েছে সে। চাকরি না পেলেও পেয়েছে হাজারো অভিজ্ঞতা।
,
,
সকাল সকাল তৈরি হয়ে বের হয় ইন্টার্ভিউ দেয়ার উদ্দেশ্যে। অফিস এ গিয়ে দেখে ২ জন লোকের জন্য এসেছে প্রায় দু শতের অধিক লোক। রবি ভাবে ফিরে যাব নাকি? নাহ্ যাব না সৃষ্টিকর্তা তো কিছু একটা উপহার দিতেও পারে।
,
,
একে একে যেতে যেতে ডাক পরে রবি সাহেব কে? রবি হতচকিত হয়ে বলে "আমি"। আসুন।
রবি ভীতরে গিয়ে আদবের সাথে সালাম দেয়।
বসার অনুমতি পেলে বসে।
রবি প্রশ্নকর্তার প্রথম প্রশ্ন শুনে যেন আকাশ থেকে পড়ল। প্রশ্নটা ছিল "খরচ টাকা আছে"?
রবি প্রথম টায় বুঝতে না পারলেও ক্ষীণমাত্র সময় পরেই বুঝতে পারে চা খাওয়ার খরচ চাইছে। রবির একটা কথা কিছুতেই মাথায় ডুকে না চা খাওয়ার খরচ কেমন করে ৪-৫ লাখ হতে পারে।
"জি খরচ নেই সার"
প্রশ্নকর্তা বিরক্তির ছাপ চেহারায় ফুটিয়ে তুল্লেও মুখে কিছু বল্লেন না।
পর পর খুব কঠিন কয়টা প্রশ্ন করলেন যার সব কয়টাই রবির জানা।
প্রশ্নকরতা রবিকে উদ্দেশ্যে করে বলে এবার দুইটা প্রশ্ন করব পারলেই তোমার চাকরি হয়ে যাবে। সামান্য আশা দেখতে পেয়ে রবির চোখ-মুখ চকচক করে উঠে।
১ম প্রশ্ন : রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর যে পান্জাবি পরতেন তার তৈরি কারকের নাম কি?
রবি যেন চোখে সরষে ফুল দেখতে লাগল।
অসহায়ের মত নিম্নস্বরে জবাব দেয় সরি স্যার।
২য় প্রশ্ন : আমাদের জাতীয় কবি কোন ব্র্যান্ডের টুথপেষ্ট ব্যবহার করতেন?
রবি আর সেখানে বিন্দুমাত্র দেরি না করে অনুমতি না নিয়েই বের হয়ে আসে। রাস্তায় নেমে শেষ আশা টুকু শেষ হওয়ায় ক্ষত মন নিয়ে হাটতে থাকে ফুটপাত ধরে। মনে মনে রবিন্দ্রনাথ আর নজরুল কে গালি দিতে থাকে। কিন্তু পরক্ষনেই সরি বলে মনে মনে ওদের কাছে। রবিন্দ্রনাথ, নজরুলের বা কি দোষ হয়তো ওর কপালি খারাপ। নাহ্ কপাল এতটাও খারাপ নয়, খারাপ তো ওই পেট মোটা অফিসাররা, খারাপ তো তারা যারা টেবিল এর নিচে দিয়ে টাকা লেনদেন করে। কবে হবে আমাদের মেধার বিচার? কবে হবে আমাদের সুষ্টু সমাজ ব্যবস্থা? কবে হবে ওই পেট মোটা অফিসারদের বিচার? ইলেক্ট্রিসিটির তারের উপর বসা কাকের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ ভাবে রবি। তারপর কলাহল পূর্ন ব্যাস্ত গাড়ী ঠাসা রাস্তায় লোকজনের ভীরে মিশে যায় সে। কাক টা সেখানেই বসে থাকে, থাকে আমাদের সমাজ ব্যাবস্থা আগের মতই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now