বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইন দি হসপিটাল-০৩ (শেষ)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একটা চিরকুট পেল । অনেকদিন আগের লিখা । অস্পষ্ট হয়ে গেছে লেখাগুলো । শিশির পড়তে লাগলো চিরকুটটা । শেষ পর্ব. জোরে জোরে চিরকুটটা পড়তে লাগলো শিশির । তাতে লিখা : "আমি ডাঃ মাহাবুব মুনতাসির । এই রোগীটার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী । আমার ভূলের প্রায়শ্চিত্ত আমি নিজেই করবো । আমার মৃত্যুর জন্য কেউই দায়ী নয় ।" অপু বলল,"সুইসাইড নোট নাকি ?" শিশির বলল,"হতে পারে ।" হঠাৎ বাহির থেকে খুট করে একটা আওয়াজ আসলো । দৌড়ে ওরা বাহিরে আসলো । একটা বুড়ো লোক ওদেরকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলো । কিন্তু পারলো না । ধরে ফেলল অপু । জিজ্ঞাসা করলো,"আপনি কে ? এখানে কি করেন ?" লোকটা কাচুঁমাচু হয়ে বলল,"আমি এই গ্রামেই থাকি । এই হাসপাতালের কেয়ারটেকার ছিলাম ।" শিশির বলল,"তাহলে তো এই হাসপাতাল সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন ।" লোকটা মাথা দুলিয়ে হ্যা সম্মতি দিল । উঠানের এক কোণে গিয়ে বসলো ওরা । লোকটা বলল,"১০ কি ১২ বছর আগেই হাসপাতালটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । তার আগে হাসপাতালটা ভালোই চলতো । একদিন মাহাবুব স্যারের ভুল চিকিৎসায় একজন রোগী মারা যায় । তখন গ্রামবাসীরা ডাক্তারকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্তু তার আগেই মাহাবুব ডাক্তার আত্মহত্যা করেন । গ্রামবাসীরা ডাক্তার সাহেবের লাশটাকে কবর দিতে দিল না । হাসপাতালেই রেখে দিল । তারপর থেকেই হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেল । আর কেউ আসে না হাসপাতালে । শুরু হল ভূতের উপদ্রব ।" সবশুনে শিশির বলল,"মনে হয় ডা: মাহাবুব মুনতাসিরের লাশটাকে কবর দিয়ে দিলে ভুতের উপদ্রব বন্ধ হয়ে যাবে ।" লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলো,"আপনি কি জানেন লাশটা কোথায় ?" লোকটা বলল,"আসেন আমার সাথে ।" দুইতলার একটা রুম থেকে পাওয়া গেল ডা: মাহাবুব মুনতাসিরের কঙ্কাল । একজন হুজুর ডেকে কঙ্কালটাকে কবর দেওয়া হল । তারপর শিশির লোকটাকে বলল ,"আপনার কাছে কি ডাক্তারের কোন ছবি আছে ?" লোকটা বলল,"আমার কাছে নাই তবে স্যারের চেম্বার রুমে ওনার একটা ছবি আছে ।" লোকটা গিয়ে ছবিটা নিয়ে আসলো । ছবিটা দেখে ওদের চোখ তো কপালে । এই যে সেই লোকটা যে কালকে চাদর গায়ে দিয়ে এসে ওদেরকে সাবধান করেছিল । কয়েক মাস পরের কথা । হাসপাতালটাকে মেরামত করে নতুনভাবে সাজিয়ে শিশির আর অপু রোগীদের চিকিৎসা করা শুরু করেছে । এখন আর কোন ভুতের উপদ্রব নেই । হাসপাতাল ভালোই চলছিল । একদিন বিকালে একজন মুমূর্ষ রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসলো । লোকটাকে জরুরী ভিত্তিতে একটা ইনজেকশন দেওয়ার দরকার । কিন্তু হাসপাতালে এই ইনজেকশনটা নেই। আর ইনজেকশনটা খুব দ্রুত দিতে না পারলে লোকটাকে বাচাঁনো যাবে না । দুশ্চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল শিশিরের । হঠাৎ দেখলো ওর সামনেই পড়ে আছে ইনজেকশনটা । শিশির তো অবাক । কোথা থেকে এটা আসলো ? অপুকে ডাক দিল । অপুও অবাক হল ইনজেকশনটা দেখে । চারদিকে তাকাতে লাগলো ওরা । হঠাৎ দেখলো হাসপাতালের উঠানের এক কোণ দিয়ে প্রস্থান করছে চাদর গায়ে দেওয়া ডা : মাহাবুব মুনতাসির । সমাপ্ত...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইন দি হসপিটাল-০৩ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now