বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইমনের সাথে নিশির সম্পর্কটা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ইমনের সাথে নিশির সম্পর্কটা ঠিক ম্যাচ করেনা।শুধু আধুনিক নয় অত্যাধুনিক এই মেয়েটা কেন যে সেকেলে ছেলেটাকে এতটা ভালোবাসে!ওদের ভালোবাসা নিয়ে বন্ধুমহলে বেশ কৌতুহল নিশি বুজি ইমনের সাথে মজা নিচ্ছে।আজকাল ভালোবাসাগুলো সঙ্গায়িত হতে শুরু করেছে। যেমন নিশির বান্ধবী রিধিতা গর্ব করে বলছে "জানিস আমার বাবুটা না একেবারে আমার কথায় উঠে বসে।তাইতো ওই হাবাটাকে আমি এত্তগুলা লাভ করি"। নিতা বলছে "আমারটার সবকিছু জুড়েই আমি।আর আমার সবকিছু জুড়ে কতজন ওই বোকাটা বুঝতেও পারেনা"। এরকম ভালোবাসাময় সংলাপ প্রতিনিয়তই শুনে আসছে নিশি।আর ভাবে ইমনের কথা। ছেলেটা বড্ড বেশি সেকেলে।সীতা করে চুল আছড়ায়।মাথায় সরিষার তৈল দিয়ে ভরিয়ে রাখে।সাদাসিদে জামাকাপড় পরে।কথাবার্তা গুলোও সাদাসিদা।এ যুগে এমন ছেলে আছে! মাঝেমাঝে ইমনের প্রতি রাগ আসলেও কিছু বলেনা নিশি।ইমন অবশ্য বহুবার বলেছে "আমি ঠিক তোমার সাথে ম্যাচ করতে পারছিনা তাইনা নিশি? এই যেমন আমি সাদাসিদে।হাইটও তুমি আর আমি সমান।কেমন দেখায় না!" নিশি স্মিত হেসে বলে "পাগল একটা।আমি কখনো এসব নিয়ে কিছু বলেছি তোমায়?" আজ নিশির বড্ড বেশি ক্ষোভ ইমনের প্রতি।ওর বান্ধবী নিলার নতুন বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে ইমনকে আসতে বলেছে।নিশি ইমনকে হেসে হেসে বলেছিল "জান আজ একটা অনুরোধ করবো তোমাকে রাখতে হবে।আমার বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড রাহাতের সেইরকম স্মার্টনেস চলাফেরা।লক্ষীটি তুমি একটু ওর মতো হতে পারবা না!"।ইমন কিছুই বলেনি।বরং আসবো বলে এখনো আসছে না।তাইতো নিশির ক্ষোভটা। ওদের তিনজনের মাঝেই বেশ আমেজ।এরই মাঝে ইমন চলেও এলো।প্রথম পলকেই রাহাতকে চোখে পড়ল ওর।কাছে আসতেই ইমনকে দেখে রাহাত মাথা নিচু করে বসে রইল। পরিচয়পর্ব আর আড্ডা শেষে নিশি বারবার ইমনকে বলছে "কি পারবেনা লক্ষিটি রাহাতের মত চলতে? তুমি না হয় ওর মত হাতে ব্রেসলাইট,চোখে সানগ্লাসটা নাই পরলে।অন্য বিষয়গুলো ফলো কর। ইমন চুপ হয়ে আছে।ওর বুকের ভেতরটা টনটন করছে।যে ছেলেটা ম্যাচের মিলের টাকা দিতে পারেনা বলে না খেয়েও রয়েছে অনেক।বাসা ভাড়াটা কখনো ঠিকঠাক দিতে পারেনা।দুদিন পরপরই তার কাছে এসে বলে ভাই অত টাকা লাগবে।নয়তো আমি আর ম্যাচে থাকতে পারবো না।আপনি দিলে আমি আরো কয়টা দিন থাকতে পারতাম।তখন পকেটে যতটাকা থাকতো ওকে দিয়ে দিত।কোনদিন সে টাকাটা ফেরত পায়নি কিংবা আশাও করেনি।সে ছেলেটা আজ স্মার্ট রাহাত! নিশি আমাকে বলছে এই ছেলেকে ফলো করতে! টপটপ করে ইমনের চোখ থেকে পানি ঝরতে লাগল।নিশি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ইমনের দিকে।ইমন আস্তে করে বলছে "গত মাসে তোমার জন্মদিনে আমি যাইনি কেন জান?তোমাকে উপহার দেব বলে যে টাকাটা জমিয়েছিলাম সেটা একটা ছোট ভাইকে দিয়ে দিয়েছি।কারন টাকাটা না হলে সে আর ম্যাচে থাকতে পারবে না।সে ছোট ভাইটা কে জানো? এই রাহাত! অজান্তের নিশিরও চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।কি ভুলটাই না সে করেছে।উপলদ্ধি করছে কতটা ছোট করে ফেলেছে ভালোবাসার মানুষটিকে।বুঝতে পেরেছে স্মার্টনেসটা এতান্তই অভ্যন্তরীন,যার সবটাই আছে ইমনের কাছে।হাতে বালা পরলে,চুলে জেল মাখলে কিংবা কানে দুল পরা কখনো স্মার্টনেস নয়।এসব কিছু চন্নছাড়া যে কেউও পরতে পারে! নিশি ইমনের চোখের জল মুছে দিচ্ছে আর কপারে চুমু খেয়ে বলছে "ঠিক যেভাবে তুমি এখন চলছো এভাবে সারাটি জীবন চলবে।কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবেনা নিশি।এই অত্যাধুনিক নিশিটা পেয়ে গেছে প্রকৃত স্মার্টনেসের ছোঁয়া।কখনো কি তোমায় ছেড়ে থাকা যায় বলো"। [] Mostafa Kamal Riad []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইমনের সাথে নিশির সম্পর্কটা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now