বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইলিশ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ইলিশ ------- নিরূপম ইখতিয়ার মতিন মিয়া ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছে। প্রায় একবছর পর ইলিশ কিনতে পেরে তার আনন্দ সীমা ছাড়িয়েছে।রাস্তায় চলার সময় অন্যদিন গুলোতে যখন তার সবকিছুই অসহ্য লাগে,আজ এর এর ছিটেফোঁটাও প্রকাশ পাচ্ছে না।তারপাশ দিয়ে বিকট শব্দে যখন একটা রোলার চলে গেল,তখন মনে মনে সে বলল,"বাহ!বেশ জাম্বো সাইজের মেশিন তো।এর ওজন তাও আনুমানিক কত হতে পারে???পিচ ঢালাই দিয়ে পাথরের মত এরকম শক্ত রাস্তা বানানো তো মুখের কথা না।"মনে ভাবা প্রশ্ন গুলো গাড়িটার ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হল মতিন আলির।কিন্তু ততক্ষনে সেটি অনেক দূর পৌছে গেছে।কিছুদূর হাঁটার পর রাস্তায় বিকলাঙ্গ এক ভিক্ষুককেও দেখেও তার মায়া হল।অন্যদিন হলে তিনি বলতেন,"সব ব্যাটার সহজেই টাকা হাতানোর ধান্ধা।বোটা ব্যবসা করে খেতে পারিস না?"কিন্তু আজ কি মনে করে দুইটা পয়সা ছুড়ে দিয়ে বললেন,"আহারে বেচারা!" নিজেকে একটু দ্বিধাগ্রস্থ মনে হচ্ছে মতিন আলির।আজকের ইলিশটা কোন ভাবে রান্না করা হবে?ঝোল ঝোল করে?নাকি ভাজা ভাজা?পোলাও রাঁধতে পারলে অবশ্য ভাজা ইলিশেই মানাত।আর ঝন্টু এবং রুনু থাকলেও ভাজা ইলিশ চলত।কিন্তু একে তার পকেট ফাঁকা,দেনা করে পোলাউয়ের চাল কিনলে মাস শেষে ফকিরের মত অবস্থা হবে।অন্যদিকে রুনু আর ঝন্টু আর নেই।এসব যুক্তি দাঁড় করিয়ে মতিন আলি ভাজা ইলিশকে বাদ দিল।"ঝোল ঝোল ইলিশ করলেই বেশি ভাল হবে।গরম ধোয়া উঠা ভাতের সাথে ইলিশের ঝোলের তরকারি।ওহ!!!'মতিন মিয়া ভাবছে আর হাঁটছে।আর ঝোল ইলিশেই ডাবল খাওয়া যাবে,একে তো ইলিশ মাছের অতুলনীয় স্বাদ অন্য দিকে ঝোলেরও অন্যরকম একটা মজা।তাই ঝোল ঝোল করে ইলিশ মাছ রান্নাকেই তিনি বেছে নিল। ইলিশই মতিন আলির সবচেয়ে পছন্দের মাছ।যদি সে বেহেশতে যেতে পারে,তবে প্রতিদিন সে ইলিশ খাবে বলে ঠিক করে রেখেছে।এই ভাবনা মনে পড়তেই আলতো ভাবে দাঁতে জিভ কাটল সে।তারমত পাপী মানুষ যাবে বেহেশতে!আজকেও ফজরের নামাজ বাদ পড়েছে।মাথায় শয়তান বাসা বেধেছে।নিজেকেই উপহাস করলে সে। "কি সুন্দর দিন।"অস্পষ্ট ভাবে উচ্চারন করে দ্রুত বেগে পা বাড়ানো শুরু করল সে।বাড়ি ফিরতে আর মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। ....... দুই মতিন মিয়া বড়সড় হৈ চৈ ফেলে বাড়িতে ঢুকল।রেল লাইন বস্তির পার হয়ে আধাভাঙা একতালা টিনশেড বাড়িটাই তার।ঢোকার সাথে সাথেই স্ত্রী আসমা বানুকে হাক ছেড়ে ডাকল সে,"দেখ গো কত্ত বড় ইলিশ এনেছি।"তার কথায় উল্লাসিত আনন্দ,"আজকাল তো এমন মাছ আর পাওয়াই যাই না,মেছেটা পরিচিত ছিল।বুঝতে পারলে?ইলিশ কিনতে চাই বলা মাত্রই সবচে টাটকা ইলিশটা আমার হাতে ধরিয়ে দিল।" আসমা বানু মতিন আলির কথা শুনে মুচকি মুচকি হাসছে।অনেক দিন পর এই রাগু মানুষটাকে এত আনন্দিত দেখে তার নিজেরই অনেক আনন্দ হচ্ছে।লোকটা যেমন তুচ্ছ কারনেই রেগে যায়,সেরকম তুচ্ছ কারনেই অনেক আনন্দ পায় আহারে বেচারা!কতই না প্রিয় ইলিশ মাছ তার।রেহানা বানু পলক না ফেলেই মতিন মিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকল। "আসমা,দেরি না করে মাছটা কেটে মেটে ঝোল ঝোল করে রান্না করে ফেল তো।আহ কত্ত দিন পর ইলিশ খাব বল তো!"মতিন আলি আসমা বানুকে মাছ টা ধরিয়ে দিয়ে বলতে থাকল,"আর শোনো কাদেরও আমাদের সাথে খাবে।বেচারাও আমদের মত।পাঁচ বছরেও ভাল খাবার খায় নি বলে মনে হয়।ইলিশ নিয়ে বাড়ি ঢোকার সময় দেখি হারামযাদা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল।ইলিশ যখন খাবই আরেকজনকে না হয় খাওয়ালামই।আবার রাগ কোরো না তুমি। আসমা বানু ঝটপট বলে ফেলল"রাগ করব কেন?তুমি গোসল্টা সেরে নাও।আমি রান্না শুরু করি।" নিশ্চিত মনে মতিন মিয়া গোসল শুরু করল।কিছুক্ষন মাথায় পানি ঢালার পর উচ্চস্বরে গানও ধরলো,"খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়"।দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করা আর গোসলের সময় উচ্চস্বরে গান গাওয়া মতিন মিয়ার পুরোনো দিনের অভ্যাস।গান গাইতে না পারলে গোসল করে তার কোনো আনন্দ লাগে না।গানের মাঝে মাঝে শিষও বাজাতে শুরু করল সে।কিছুক্ষন পর আবার পূর্বের গানে ফিরে এসে গলায় জোর দিয়ে শুরু করল,"তারে ধরতে পারলে মনোবেনি দিতাম পাখির পায়,ক্যামনে আসে যায়।" এতক্ষনে রহিমা বানুর ইলিশ কাটা শেষ।ভালমত আইশ তুলে মাথা এবং লেজটা আলাদা করে মোট চারটা টুকরা করল সে।বেলা বেশি হওয়াই মাছটা নরম হতে শুরু করেছে। দেরি না করে লবন মশলা মাখিয়ে হাড়িতে তুলে চুলায় চড়ালো সে।খড়ির আগুন একটু কমিয়েও দিল এরপর।ইলিশ মাছ অল্প আঁচে রাধার নিয়ম।এই নিয়ম সে তার শাশুড়ির কাছে শিখেছে। চুলায় জ্বাল দিতে দিতে নিজের অজান্তেই কেমন যেন আনমনা হয়ে পড়ল সে ।উনুনের জলন্ত অগ্নিশিখার দিকেই তিনি তাকিয়ে থাকল।"এমন কেন হল?জীবনে এমন কি পাপ করেছিল সে? আল্লাহ ঝন্টু আর সালমা দুজনকেই কেন একসঙ্গে তুলে নিলেন?কিছু আঁকড়ে বেচে থাকার মত কিছুই কেন থাকল না তাদের?তার সাথে এখন জড়ো হয়েছে অভাব অনটন।কেনই বা সব ঝড় এক সাথে?কিছু।পেতে গেলে কিছু হারাতে হয়।এই ধারনাই তার মনে গেঁথে আছে।তাহলে কি তার বাবার বদদোয়াই ফলে গেন?মতিন সাহেবের সাথে এখানে পালিয়ে এসে বিয়ে করার পর সে বাবাকে চিঠি দিয়েছিল।উত্তরে তার বাবা শুধু একটা কথাই লিখেছিলেন,'জীবনেও সুখী হতে পারবি না তুই'।তাহলে কি সেই কথাই ফলে গেল?জানে না সে আবার কবে সন্তানের মুখ দেখবে।জানে না আবার কবে সব অভাব ঘুচে যাবে।ভাবতে ভাবতে ডান হাতের তালুর দিকেও চোখ বোলালো সে ।ছেলেবেলায় শখের বশে এক গনকে হাত দেখিয়েছিল। ডান হাতের তালু নিয়ে কিছুক্ষন নীরিক্ষা করে গনক বলেছিল মাগো এই তাবিজটা আগলে রখিস,শেষ বয়টে জটিল ফাঁড়া পার করতে হবে যে তোকে।তাহলে কি সেই গনকের করা ভবিষৎবাণী সত্যি হতে বসেছে?কে জানে! ফোনের রিংটোন বেজে ওঠাই তার চৈতন্য ফিরল।আসমা বানু মতিনকে মোবাইলটা দিতে উঠল।"কৈ গো?শিগগিরি বের হও। তোমার ফোন বাজছে।"চেচিয়ে চেচিয়ে বলল আসমা বানু। ........ তিন, গত এক বছরের প্রতিটা দিন ছিল এরকম।বড় সাহেবের কাছে ছুটি পেয়ে মতিন মিয়া কাঁচা বাজারে ঢুকবে।বিকেল বলে শাকের দাম কমে যায়।আর এই সুযোগটাই সে লুফে নেয়।নিস্তেজ শাকপাতা কিনে ফেলার পর একটি মাছে বাজারে ঢোকে।দেশের অর্থনীতি যে কতটা নিষ্ঠুর তা নিয়ে আফসোস করে নিজেকেই শান্তনা দেয় সে ।"বড় রুই নাকি ৩০০ টাকা কেজি!কি দিন আসলো"সে মাছ বিক্রেতার সামনে তাচ্ছিল্য করে আর সাথে সাথেই বলে,"এক পুয়া বাটা দে।দেখি দেখি দাড়ি পাল্লায় ঠিকঠাক ওজন কর।মারিং কাটিং ক্যান?জীবনে তো বড় হতে পারবি না।" মাছ নেয়া হলে পুরো মাছের বাজার ঘুরে ঘুরে দাম জেনে নেয়া তার অভ্যাস।বড় রুই, কাতলা,পাঙাশ, চিংডি সব মাছের দামই সে জেনে রাখার চেষ্টা করে। অবস্থাটা এমন যে,বাজারের সব মাছ বিক্রেতাই তাকে চিনে ফেলেছে।একবার এই দাম জানতে যেয়ে এক মাছ বিক্রেতা তাকে বলেই ফেলেছিল,"ভাই প্রতিদিন বিরক্ত কর‍্যেন না।কাস্টমার আছে।খালি খালি দাম জিজ্ঞেস করবেন না।কিনার তো মুরাদ নাই।যেদিন কিনবেন সেদিন দাম জিজ্ঞেস করতে আসবেন।"মতিন মিয়া রাগী চোখে তার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে মনে মনে গালি দিল,"শুয়োরের বাচ্চা,তোর ব্যবসা চুলোয় যাক।হারামযাদা। সাহস কত বড়!"মতিন মিয়া বেশিক্ষন রাগ করে থাকতে পারল না।দামী মাছ কেনার মুরাদ সত্যিই তার নেই।বড় সাহেব মানুষটা বড় ভাল হলেও টাকার বিষয়ে হাড় কিপটা ধরনের।তবে সামনে বছর থেকে বেতন সাড়ে চার হাজার করে দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।মতিন মিয়ার প্রস্তাব ছিল পাঁচ হাজার।কিন্তু বড় সাহেব মিষ্টি করে বলেছিলেন,"মতিন মিয়া,পাঁচ হাজার টাকাতে আমি আরেকটা বউ পালতে পারব ।হা হা হা।"বড় সাহেব মিষ্টি কথার মানুষ হলেও তার কথাগুলো ছুরির মত কাটে।আর মতিন মিয়ার কাজ যে খুব বেশি তাও কিন্তু না।শুঢু বড় সাহেবের মর্জি অনুযায়ী চা সিগারেট এনে দেয়া,আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের হিসাব করা যা তিনি আর বড় সাহেব ছাড়া আর কেও জানে না। রুনু আর ঝুন্টুর চিকিৎসা করাতে গিয়েই মতিন মিয়া পথের ফকিরের মত হয়েছে।এই বড় সাহেবই তার ইজ্জত রক্ষা করে চলেছেন।নাহলে রাস্তাই হাত পাততে হতো তাকে। আজ একটু অসুস্থ বলেই সকাল সকাল মতিন মিয়েকে ছুটি দিয়েছেন বড সাহেব।সাথে ধরিয়ে দিয়েছেন এই মাসের বেতন।আজকের দিনটাও বিগত দিনে গুলোর মত যেতে পারত।কিন্তু বড় সাহেব বেতনের সাথে আটশ টাকা বখশিশ দিয়েছেন মতি মিয়াকে।দুলালকে গত মাসে ধার নেয়া দুইশ টাকা ফেরত দিয়ে বাকি ছয়শ টাকা দিয়ে পৌনে এককেজি ওজনের মধ্যম মানের একটা ইলিশ কিনল সে। মতিন মিয়া কল রিসিভ করল।"মতিন চলে এস তাড়াতাড়ি বড় সাহেব হার্ট এটাক করেছেন তাকে হাসপাতালে নিতে হবে।"ওপার থেকে আওয়াজ এলো।মতিন চোখে মুখে আবছা বিরক্তি ফুটে উঠল।দুপুরে গরম ভাতের সাথে ইলিশের ঝোল খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে।পৃথীবিতে এই খাবারটাই তার সবচে প্রিয়।তারপরেও বড় কথা হল প্রায় এক বছর পর তিনি এই সবাদের খাবার খেতে চলেছেন।আর সেই কেন?বড় সাহেবের খেদমতগারিতো আরও অনেকেই আছে।এই কথা ভাবার পর তার বিরক্তি কিছুটা কমলো।কারন বড় সাহেবের পি এ হিসেবে পাঁচজন থাকলেও এই মতিনকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন তিনি।বিরক্তি লুকিয়ে হড়বড় করে সে বলল"আসছি আমি,তাড়াতাড়ি চলে আসছি।আপনারা একটু অপেক্ষা করেন।"মতিন মিয়া মোবাইল নামিয়ে রাখল।খুব তাড়াতাড়ি শার্ট প্যান্ট পরে রান্নাঘরে আসমা বানুর কাছে গেল। "এক্ষুনি তো এলে আবার কোথায় যাচ্ছ?"বিরক্তির স্বরে বলল আসমা বানু। "বড় সাহেবের অসুস্থ হয়ে গেছে । হাসপাতালে ভর্তি করেই তাড়াতাড়ি চলে আসব।খুব দ্রুত বলল মতিন মিয়া। "ভাত খেয়ে যাও।"আসমা বানুর এই কথার বিপরীতে মতিন মিয়া বলল,"তুমি খেয়ে নিও।আমি ক্ষিধা আরেকটু বাড়াই।তাহলে আরো বেশি খেতে পারব।হা হা হা।"হাসতে হাসতেই ঘর থেকে বেরুলো সে। আসমা বানু দাঁড়িয়ে থেকে মানুষটার চলে যাওয়া দেখতে লাগল।মনে মনে বলল"মানুষটা পারেও"। দরজার ছিটকানি আটকাবার সময় তার নাকে ইলিশের জিভে জল আনা গন্ধটা লাগল।এবার তাহলে রান্না শেষ।নিশ্চিন্ত হলেন সে।রান্নাঘরে ফিরে চুলা থেকে ইলিশের হাড়ি নামিয়ে মিটসেফে ডুকাল এরপর ।ছিটকানিতে হাত দিতেই তারেকের আওয়াজ শোনা গেল। "ভাবি,ভাবি দরজা খোলেন ভাবি।"দরজরার ওপাশে তারেকের হাক শোনা যাচ্ছে।ছেলেটাকে বড্ড ভালো লাগে তার।নিজের ছোট ভাইয়ের চেয়েও আপন মনে হয়।আসমা বানু উল্লাসিত হয়ে দরজা খুলতে গেলেন। "ভাই দিনে দিনে আরো ভাল হচ্ছে ভাবি।বলা নাই কওয়া নাই হঠাৎ করে আমাকে হিলিশের দাওয়াত দিয়ে দিল!আজকাল এরকম কয়জন মানুষ করে বলেন?"তারেক আসমা বানুকে কথা গুলো বলতেই সে বলল ,"তোমার ভাই না একটু বাইরে গেল তারেক।তুমি একটু বস।আমি গোসল সেরে এসে তোমাকে ভাত বেড়ে দিচ্ছি।তারেক পর পর দু বার আচ্ছা বলে কৃতজ্ঞতার ভাব দেখাল। ....... চার পপুলার হাসপাতালে আজ অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি ভিড়।বড় সাহেবকে ভরতি করাতে যেয়ে বেলা দুইটা বেজে গেল।তার ছেলে মেয়ে কেউ দেশে থাকে না।এই কারনে মতিন সাহেবদেরই সব সামলাতে হয়।বড় সাহেবকে যে রুমে রাখা হয়েছে,সেই ঘরের জানালা দিয়ে মতিন আলি উকি দিল,বড় সাহেব তাকে বড়ই ভালবাসেন। ঠিক একই সময় পাশের বাড়ির পোষা বিড়ালটা আসমা বানুর রান্না ঘরের ভাংগা জানালা দিয়ে উকি দিল।ইলিশের গন্ধই তাকে মিটসেফের কাছে টেনে নিয়ে গেল।যারা বড় সাহেবকে হাসপাতালে রাখতে এসেছিল,তারা সবাই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিল।মতিন মিয়া কিছুই খেল না।বাড়িতে আজ ইলিশ মাছের সালুন।ক্ষুধা না হয় আরও একটু বাড়ুক। আসমা বানু তখন গোসল সেরে বাড়ি থেকে প্রায় দশ গজ দূরের এক টিওবয়েল থেকে কলসিতে করে পানি আনতে গেছে।আর তারেক সাদা কালো টিভিটা চালু করে ঘুচিয়েই যাচ্ছে।টিভি দেখতে তার বড়ই ভাল লাগে। বিড়ালটা দুপায়ে দাঁড়িয়ে অন্য দু পা মিটসেফ ছোঁয়াল।দু পায়ে দাঁড়িয়ে অন্য একটা পা নিশ্চল রেখে অন্য পা দিয়ে মিটসেফের দরজাটা খোলার চেষ্টা করল সে।ছিটকানি আঁটা না থাকাই নিখুঁত ভাবে মিটসেফের একটা পাল্লা খুলে ফেলল সে।এরপর এক লাফে বিড়ালটা ইলিশে হাড়ি উলটে দিল।মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল ডাবল স্বাদের ঝোল ঝোল ইলিশ। ইলিশের মাথাটা বিড়ালের সামনেই এসে পড়ল। তারেক রান্নাঘরের হুটহাট আওয়াজ শুনেও কোনো পাত্তা দিল না।সালমান খান কারিনা কাপুড়ের একটা ছবি সে চ্যানেল পালটে খুজে পেয়েছে।দুনিয়ার ধ্বংস হওয়া শুরু হলেও এই সিনেমা শেষ হওয়ার আগে সে আর একফোঁটাও নড়বে না। বিড়ালটা এখন ইলিশের লেজ চাবাতে ব্যস্ত।বড়ই তৃপ্তি সহকারে কাঁটা চাবাচ্ছে সে।লেজের পরেই পেটিতে মুখ দিবে এরকম একটা ভাব তার মধ্যে দেখা গেল। কলসি কাখে আসমা বানু বাড়ি ফিরল।ঘরের সম্মুখেই কলসিটা রেখে তারেকের সাথে সেও যোগ দিল।মতিন মিয়ার জন্যই এখন অপেক্ষা।সে ফিরে এলেই বাৎসরিক স্পেশাল খানা শুরু হবে।ইলিশ দিয়ে ধোয়া ওঠা গরম ভাত খাওয়া হবে।যার স্বাদ মুখে লেগে থাকবে মৃত্যর আগ পর্যন্ত। ......... জমিয়ে রাখা ক্ষুধা আজ রেকর্ড ছাড়িয়েছে।হেটে বাড়ি ফেরার কারনে মতিন মিয়া আরো ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল।আসমা বানু তার হাতে একটা তাল পাখা তুলে দিয়ে মেয়েতে পাটি বিছালো ।জগে পানি ভরে পাটির সামনে রাখল। এখন রান্না ঘর থেকে প্লেট,ভাতের হাড়ি আর ইলিশ মাছের তরকারি আনার পালা।একপ্রকার আনন্দ নিয়েই সে রান্নাঘরে ঢুকল। নিজের চোখকে কেনজানি বিশ্বাস করতে পারল না সে।সব কথা গলা পর্যন্ত এসে থেমে গেল।মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকল সে। মতিন মিয়া আসমা বানুর দেরি দেখে রান্না ঘরে গেল।ঝোলে মাখা মেঝে,আর লেজের একটুকরো অংশ দেখে সেও বিমূঢ় হল।কি যেন সে বলতে চায়,নিয়তির উদ্দেশ্যে,সৃষ্টি কর্তার উদ্দেশ্যে।কিন্তু তার জিব যেন অবশ হয়ে পড়েছে।নিশ্চল হয়ে পড়েছে চিন্তাকেন্দ্র।শুধু গতিশীল তার অশ্রু।মতিন আলি উপরে তাকিয়ে চোখের পানি শুকানোর চেষ্টা করল।এই বয়সে এরকম কান্না মানায় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ইলিশ-মাগুরের প্রেম(লাভ স্টোরি)
→ ইলিশ মাছটা গেলো___
→ ইলিশ মাছ
→ ইলিশ কাহিনী | গোপাল ভাঁড়ের গল্প
→ ইলিশ
→ ইলিশ মাছ রহস্য
→ ডিজিটাল যুগের স্টাইলিশ্ ছেলেদের শব্দকল্পদ্রুম
→ ইলিশ কাহিনী |
→ ইলিশ মাছ রহস্য
→ « ফোনালাপঃ বৈশাখী ইলিশ ( না পড়লে মজার কাহিনী মিস) হাহাহা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now