বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইগো

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X - -কিরে এটা সাবিহা না,বেশ সুন্দর হয়েছে তো । -বাইক থামাতে বলছে কে? -আরে থাম তোর বাইক চালাচালি,ভাবিটাকে কতদিন পর দেখলাম। -নিশাদ বেশি হয়ে যাচ্ছে! -সরি রাহিদ! -হুম বাইক চালু দে । -সাবিহার দিক একটি বারের জন্য ও কি তাকাতে ইচ্ছে করছে না। -যে তোকে মূল্য দেয় নি,তাকে দেখার ও ইচ্ছে নেই ! -আমার জন্য তোর কলিজাকে ছেড়ে দিবি । -তুই ও তো আমার কলিজা ,তবে তার জন্য তোকে অপমান করবো নাকি। -তুই পারিস ও বটে! -আচ্ছা এবার চল - নিশাদ বাইক চালাতে লাগলো আর রাহিদ ও কিছু সেকেন্ড নিশ্চুপ থেকে সাবিহার দিক তাকালো,সাবিহাও তার দিক তাকিয়ে আছে, দূর থেকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো তার চোখে পানি কিন্তু রাহিদ সাবিহাকে যতটা ভালোবাসে তার থেকে কোন অংশে কম ভালোবাসে না তার বন্ধুকে। - রাহিদ ভাবতে থাকে সেই পুরোনো দিনগুলো, যখন সাবিহা তার জন্য এই জায়গাতেই অপেক্ষা করতো ঘন্টার পর ঘন্টা,কিন্তু কখনো মুখ থেকে বের হতো না কি কারনে দেরি করেছো, সর্বদা বলতো, "তোমার আসার অপেক্ষা আমার ভালোবাসা যেনো দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়।" রাহিদ ও ছোট্ট হাসি দিয়ে পাগলীটা বলে ভালোবাসার আড্ডাতে ঢুকে যেতো ঘন্টার পর ঘন্টা। - এভাবেই দুজনের পথ চলা, চারবছরের সম্পর্ক ছিলো তাদের, কখনো কখনো ব্রেকাপ হলে সাবিহা কেদেঁ একাকার হয়ে যেতো রাহিদের জন্য। আর সেই সাবিহার সাথে দুইবছর কোন কথা নেই, শুধু মাত্র নিশাদের জন্য। - কিছু সময়ের ভুল যে রাহিদের ইগো দুই বছর অব্দি নিয়ে আসবে সে কেউ জানতো না! - দুইবছর আগের সেই দিনটি যখন ভালোবাসার কাছে জয়ী হয়েছিলো ইগো নামক শব্দটা আর সে ইগোতে আজ দুজন দুদিক। - আজ রাতটা রাহিদের দুইটা বছর যেমন কেটেছে তেমনই কাটবে,হয়তো তার চেয়েও বেশি কষ্টে, হয়তো তামাক পাতা বেশি পুড়বে আজকের রাতটা। - সেই দিনটি ছিলো এক কালো রাত। -- রাহিদের বার্থডে ছিলো সেদিন,বিশেষ দিন তবে বিশেষ হলো আর কই, বিশেষ মানুষটাই তো আজ নেই! রাহিদ নিশাদ ভালো বন্ধু তাই সব কিছুর আগে দুজনের সব কথা দুজন জানবেই সেদিনও তেমনই হলো । তারা প্লান করেছিলো যখন সাবিহা আসবে, তখনই তারা সারপ্রাইজ দিবে তবে অন্যরকম । - সাবিহা ও সময় মত আসে কিন্তু রাহিদ নেই! সাবিহা বারবার নিশাদকে জিজ্ঞাসা করলেও নিশাদ বলে না, এভাবে অনেকক্ষন চলার পর নিশাদ বলে উঠে- - -রাহিদ আর নেই! -কি হয়েছে, নেই মানে! -সে বেচেঁ নেই! - এই কথাটা শোনার সাথে সাথেই সাবিহা অজ্ঞান হয়ে যায়, সাথে সাথে রাহিদ ও আসে তবে এতো কিছু হয়ে যাবে ভাবে নি একজনের কেউ ও। আধঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে রাহিদকে পাশে দেখে অনেক কিছু বলে, আর সে সময়ই নিশাদ কি যেনো একটা বলেছিলো। আর সাথে সাথেই তার গালেতে চড় মারে সাবিহা তবে ব্যাপারটা নিশাদ হেসে ফেলে দিতে চাইলেও ফেলে দেয় নি রাহিদ! - অনেকক্ষন ঝগড়া হয় তাদের, হয় সাথে ব্রেকাপ নামক শব্দটার আগমন। তবে এ যে শেষ কথা দুজনের কারোই জানা ছিলো না! - আজ দুইবছর পর আবার হঠাৎ দেখা, ইচ্ছে করছিলো তার, কথা বলতে কিন্তু ইগোর কাছে হেরে যায় সে! ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ বাসায় চলে আসে, হঠাৎ নিশাদ বলে উঠে, - -কিরে ভাবনা শেষ হলো । -কিসের ভাবনা! -আমাকে মিথ্যে বলে লাভ নেই। -হুম। -সাবিহা এখনো তোর জন্য অপেক্ষা করে! -তাতে আমি কি করবো? -তুই ও তো! -আমি এখন আর ভালবাসি না! এই বলে রাহিদ চলে আসে বাসায়! - শুরু হলো একটার পর একটার তামাক পাতা পোড়া, এভাবে সারারাত যাবে রাহিদের, কারণ তাকে ছাড়তে পারেনি তবে ছাড়ার অভিনয়টা সবার কাছে বুঝালেও শেষে হার মানে তামাক পাতার কাছে! দিন কাটতো যাকে দেখে, এখনো দিন কাটে তার ছবি দেখে! - এক ছাদে থাকার ইচ্ছেটা ইগো নামক শব্দটা নষ্ট করে দেয় ! এভাবেই চলতে থাকবে ইগো ,সাথে পুড়তে থাকে তামাক পাতা ,এ পাতা যেনো বলে দে শুধু তামাক পাতাই তার আপন আর কেউ নয় তার আপন। - হাজারো রিলেশন হার মানে এই ইগো নামক বিষাক্ত শব্দটার কাছে যে সাপের চেয়ে ও বেশি বিষাক্ত, মানুষকে ডিপ্রেশন নামক শব্দটার পূজারী করে। কেউ কেউ মেনে নেয়, কেউ কেউ পাতা তামাক পাতা ধরায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দুইগোয়েন্দা-
→ দুইগোয়েন্দা ২
→ ইগো
→ ★কইগো বাবুটা★
→ ইগো - পলাশ মাহবুব
→ ইগো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now