বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক দেশে এক রাজা ছিল, সেই রাজার ছিল তিন কন্যা।
রাজকীয় যুগের তিন রাজকন্যা।
বড় রাজকন্যা,
যার পুতুলের প্রতি অগাধ ভালবাসা, সে সারাদিন পুতুল
নিয়ে খেলা করত, পুতুলকেই তার সুখের
কথা বলত, সব সময় হাসত। তাকে সবাই ডাকত হাসির
রাণী। তার প্রেম ছিল পুতুল।
মেঝ রাজকন্যা,
যে নিজেকে ভাবত শ্রেষ্ঠ সুন্দরী, তাই সারাদিন
আয়নায় নিজেকে দেখত আর মুগ্ধ হত, সব সময়
খুশী থাকত। তাকে সবাই ডাকত খুশীর খনি। তার
প্রেম ছিল আয়না।
ছোট রাজকন্যা,
সে ছিল একটু আলাভোলা ধরনের, তার প্রেম
যে কিসে তা সে নিজেই হয়ত জানে, কিন্তু অন্য
কেউ জানে না। তাই তার ভিন্ন কোন নাম ছিল না।
রাজকন্যা আর রাজ রাজাদের রূপকথায়
পরী না আসলে মানায় না, তাই তাদের সাথেও একদিন
দেখা করতে আসল জীবন সঙ্গী খুঁজে পাবার
ইচ্ছেপরী। রাজকন্যারা তাদের মনের
ইচ্ছে পূরণের ঝুড়ি নিয়ে হাজির হল তাদের
সামনে।
রাজকন্যাগণ
তে পরী কে পেয়ে সেসেসেসেসেসেরাম
খুশী। অনেক
চিন্তা ভাবনা করে অবশেষে তারা তাদের মনের
ইচ্ছে গুলো পূরণের আশায় ব্যাক্ত করল পরীর
কাছে। ইচ্ছে গুলো ছিল,
বড় রাজকন্যা—
আমায় এনে দাও এমন একজন,
যে আমায় বাসবে ভাল পুতুলের মতন।
মেঝ রাজকন্যা—
করছি আমি এমন একজন কে পাওয়ার বায়না,
যে হবে আমার মনের, আমার প্রেমের আয়না।
বিপদে পড়ল ছোট রাজকন্যা, তার তো বড় আর
মেঝর মত এমন কোন প্রেম নেই,
যা সে উদাহরণ স্বরূপ চাইতে পারে। তাই সে চাইল,
ছোট রাজকন্যা—
আমার জন্য এনে দিও মনের মানুষ এমন একজন,
স্রষ্টা আমার জন্য যাকে করবেন যোগ্য
হিসেবে নির্বাচন।
ছোট রাজকন্যার কথায়, প্রথমে মুচকি হাসল
ইচ্ছেপরী, তার পর অট্টহাসি দিল বড় আর মেঝ।
পরী সবার থেকে বিদায় নেয়ার কয়েক দিনের
মাথায়,
বড় রাজকন্যার জন্য বড় এক রাজ্যের রাজপুত্রের
পক্ষ থেকে আসল প্রেমের প্রস্তাব।
মেঝ রাজকন্যার জন্যও আসল ভিন্ন এক
রাজপুত্রের প্রেমপত্র।
কিন্তু দিন যায়, ক্ষন যায়, ছোট রাজকন্যার জন্য
কেউ আসে না।
অন্যদিকে বড় মেঝর খুশী যেন আর ধরে না,
দেখতে দেখতে তাদের বিয়ে হয়ে যায়।
আইবুড়ো হয়ে বসে থাকে ছোট রাজকন্যা।
তাতে ছোট রাজকন্যার কোন কষ্ট নেই, কিন্তু
কষ্ট হয় তখনি যখন বড় আর মেঝ
তাকে নিয়ে ফোঁড়ন কাটে।
আইবুড়ো মেয়েকে তো আর
ঘরে বসিয়ে রাখা যায় না। তাই রাজা আর কোন
রাজপুত্রের অপেক্ষায় না থেকে সেই ছোট
রাজকন্যার জন্য পাত্রের খোঁজ শুরু করে দিলেন।
মন্ত্রী রাজার কান ভারি করে বুঝাতে সক্ষম হল
এক সৈনিক বহুদিন যাবত ছোট রাজকন্যাকে ভালবাসে।
কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা আর কোন কিছু
না ভেবে বিয়ে দিলেন সেই সৈনিকের সাথেই।
সামান্য এক সৈনিকের সাথে বিয়ে হওয়ায় বড় আর
মেঝও ছোটর বিয়েত তো আসলই না, এমন
কি কোন যোগাযোগও রাখল না ছোট
বোনের সাথে।
।
।
।
।
।
।
।
।
।
তারপর বয়ে গেল কয়েক বছর। রাজার অন্তিম
সময়ের খবর শুনে আবার তিন বোন একত্রিত হল
একসাথে।
তবে এ কি! হাসির রানী নিশ্চুপ, খুশীর
খনি হারিয়েছে তার রূপ। কিন্তু আলাভোলা ছোট
রাজকন্যার চেহারায় যেন সুখ স্পষ্ট। বড় মেঝর
হিংসেয় যেন গাঁ জ্বালা করে।
বহুবছর পর তিন বোন মিলে আবার ডাকল সেই
ইচ্ছেপরী কে। ইচ্ছেপরী আসা মাত্র মনের
ক্ষোভ নিয়ে হাজির হয়ে যায় বড় রাজকন্যা—
‘ এ কেমন জীবন সঙ্গী দিলে?
যে আমার কথা না শুনে শুধু নিজের কথাই বলে?’
ইচ্ছেপরী হেসে কয়,
পুতুলের কথা শুনবে কেউ, এমন কি কভু হয়??
বড় রাজকন্যা, আর বলার কিছু পায় না।
এরপর মেঝ রাজকন্যা—
‘এমন জীবন সঙ্গীতো কেউ চায় না,
প্রয়োজন ছাড়া যে আমার কাছে রয় না।’
‘ইচ্ছেপরী আবার হেসে বলে,
প্রয়োজন ছাড়া আয়নার সামনে গেলে যে সবাই
তারে পাগল বলে।’
অবশেষে ছোট রাজকন্যা—
‘ স্রষ্টার কৃপায় আমি আজ অনেক অনেক খুশী,
সে আমাকে প্রতিদিন বাসে ভাল গতকাল থেকেও
বেশী।’
‘ইচ্ছেপরী এবার অট্টহাসি দিয়ে কয়,
স্রষ্টার নির্বাচনতো কভু ভুল হবার নয়।’
রূপকথা হলেও গল্পটা, মিথ্যে নয়.............
..............।
আপনাদের, কি মনে হয় ??????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now