বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
~
একটা ছেলে একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতো।
কিন্তু কখন ও ভয়ে বলতো না মেয়েটাকে।
লুকিয়ে লুকিয়ে আড়াল থেকে প্রচণ্ড ভালোবাসতো ছেলেটা।
ছেলেটার নাম ছিলো জিশান আর মেয়েটার নাম ছিলো ফারিয়া
.
জিশান, ফারিয়ার থেকে ২ বছরের বড়।একজন ফাস্ট ইয়ারে পড়াশুনো করে আরেকজন সেকেন্ড ইয়ারে পড়াশুনো করে।জিশান যে কলেজে পড়ালেখা করতো সে কলজের রাস্তার মোড়ে তার বাবার ছোট একটা লাইব্রেরি দোকান ছিলো।যদিও ফারিয়ার বাবা তার বাবার থেকে অনেক পয়সাওয়ালা তারপরেও জিশান ফারিয়াকে অনেক ভালোবাসতো।
.
একদিন জিশান তার মনের সব কথা খুলে বলবে ফারিয়াকে, তাই তার ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেয় জিশান।কিন্তু ফারিয়া তার প্রোপাইল পিক দেখে আর এক্সেপ্ট করে নাই।তাকে ঝুলিয়ে রাখছে।তারপরেও জিশান বেহায়ার মত ফলোয়ার হয়ে তার লিস্টে ছিলো।
সবসবয় তার পিক ও হাতের লেখায় স্ট্যাটাস এ কমেন্ট করতো কিন্তু ফারিয়া কোনো রিপ্লাই দিতো না।
.
একদিন জিশান ফারিয়াকে মেসেজ করে।সে মেসেজ এ লিখা ছিলো...
→প্লিজ এক্সেপ্ট মাই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট।
.
কিন্তু ফারিয়া দেখেও সিন করে নাই।জিশান এর সাথে প্রায় কলেজ এন্ড লাইব্ররিতে দেখা হতো ফারিয়ার।জিশান ফারিয়ার দিকে তাকালে বুঝতে পারতো সে কোনো কারণে রেগে আছে তাই আর ভয়ে মনের কথাটুকু বলতে পারতো না।
.
কিছুদিন পরে ফারিয়া in an relationship
স্ট্যাটাস দেয় কলেজের একটা ছেলের সাথে ছেলেটার বাবা খুব বড়লোক ছিলো তার নাম ছিলো অারফিন। ফারিয়ার দেওয়া
in an relationship সে স্ট্যাটাস কমেন্ট করে জিশান।জিশান এর কমেন্ট ছিলো এমন-
→ congratulationsসুন্দর হোক তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবন।
সে কমেন্ট এর ও কোনো রিপ্লাই দেয় নাই ফারিয়া
.
ঠিক সাতমাস পরে অারফিন ফারিয়ার সাথে ব্রেকআপ করে নেয়।তাই অারফিন কলেজ এর বন্ধুদের মিলে ব্রেকআপ পাটি আয়োজন করে সেদিন।তার ঠিক দুইদিন পরে ফারিয়ার এক কাজিন এ ফারিয়াকে বাঁচানোর জন্য
o গ্রুপের রক্তের জন্য স্ট্যাটাস দেয়।তখন ফলোয়ার লিস্টে জিশান নামের ছেলেটা সে স্ট্যাটাস দেখে কমেন্ট করে.-
→যা রক্ত লাগে আমি দিবো।
এ প্রথম জিশান কমেন্ট এর রিপ্লাই আসে যদিও সে ফারিয়া ছিলো না,উনি ছিলো ফারিয়ার কাজিন।নিজের রক্তের সাথে মিল ছিলো না।জিশান জানতো তার বেস্টফ্রেন্ড রিপাত এর
রক্তের গ্রুপ o ছিলো।তাকে অনুরুদ্ধ করাতে সে
রক্ত দিতে রাজি হয়।
.
রক্ত দেওয়ার ঠিক দুইদিন পরে জিশান জানতে পারলো অারফিন এর সাথে ব্রেকআপ হওয়াতে রাগে ফারিয়া নিজের হাত ব্লেড দিয়ে অনেক যায়গা কেঁটে ফেলে তাই রক্তের প্রয়োজন ছিলো।জিশান ফারিয়ার কষ্টের ভাগ নিতে অনেক মেসেজ করে তবে ফারিয়া সিন করে নাই।জিশান রাতে মেসেজ দিতো সকালে আবার দেখতো মেসেজগু্লো কি সিন হয়েছে নাকি।যখন দেখতো সিন হয় নাই তখন সে ধরে নিতো ফারিয়া এখন ও অসুস্থ তাই ফেসবুকে অনলাইনে আসে নাই।ফারিয়া রক্ত দিবার কালিন একটা নাম্বার ছিলো সে নাম্বারে কল দিলে তার মামা ধরতো তাই আর ফারিয়ার কষ্টের ভাগটুকু নিতে পারে নাই
.
ফারিয়া যখন সুস্থ হওয়ার ঠিক একমাস পরে ফেসবুকে অনলাইনে আসে।যখন রক্তের পোস্টটা কমেন্টবক্স চেক করছে দেখছে সে লাইব্রেরি সে মধ্যবিত্ত পরিবারের সে ছেলেটির কমেন্ট ছিলো।এরপরে তার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে তার সব মেসেজগুলো সিন করে।ফারিয়া ধৈর্য এর সাথে মেসেজগু্লো পড়ছে, সেখানে মেসেজগুলো এমন ছিলো-
→তুমি কেমন আছো?
→বিশ্বাস করো তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি কিন্তু ভয়ে বলতে পারি নাই কখনও।
→আচ্ছা তুমি কি আমার ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করবে না?
→তুমি এটা ভেবো না আমি তোমার জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি তাই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করতে বলছি। আসলে তোমাকে আমার ভালো লাগে তাই তোমার লিস্টে থাকতে চাই আর কিছু না।
.
তখন ফারিয়া সব মেসেজগু্লো পড়ে অজান্তে চোখে অশ্রু চলে আসে।তখন ফারিয়া জিশানকে অনলাইনে দেখা মাত্র মেসেজ করে...
__সরি, মনে হয় আপনি অনেক কষ্ট পেয়েছেন।
_একটু কষ্ট থাকলেও এখন আর কষ্ট নাই।
_কেন?
_কারণ তুমি আমার সাথে মেসেজ করছো। আমার মেসেজ এর রিপ্লাই দিয়েছো তাই।
_ও আচ্ছা, আপনি কি আমাকে পছন্দ করতেন?
_হ্যাঁ, অনেক বেশি পছন্দ করতাম।
_এখন কাউকে ভালোবাসেন?
_না,
_কেন?
_কারণ তোমার মত তেমন কাউকে আমার ভালো লাগে নাই তাই।
_আমাকে কি এখনও ভালো লাগে নাকি আপনার।
_হ্যাঁ,
_আপনি আমাকে বিয়ে করবেন?
_আমি তোমাকে ভালোবাসি,তুমি চাইলে আমি তোমাকে বিয়েও করতে রাজি।
_তাহলে কালকে আমরা বিয়ে করবো।
_এত তাড়াতাড়ি কেন?
_তাহলে আপনি আমাকে ভালোবাসেন না?
_খুব ভালোবাসি আমি,আচ্ছা কালকে বিয়ে করবো আমরা।
.
ফারিয়া অারফিন এর সাথে ব্রেকআপ হওয়াতে রাগ করে জিশানকে বিয়ে করে নেয় যদিও বিয়েটা পালিয়ে করছে।বিয়ের দুইদিন পরে জিশান ফারিয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়।জিশান এর বাবা প্রথমে রাজি না থাকলেও পরে কিন্তু ঠিকে রাজি হয়েছে কারণ জিশান একমাত্র ছেলে ছিলো বাবার।
.
ফারিয়া এখন জিশানকে খুব ভালোবাসে কারণ
জিশানের ভালোবাসার অালোতে আলোকিত তার জীবন, ভুলে গেছে অতীতের সব কষ্টের কথা।কে জানতো সে অতীত ফারিয়াকে আবার নাড়া দিবে।
বিয়ের ১০দিন পরে ফারিয়া হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায় ডাক্তার নিয়ে আসে জিশান। ডাক্তার সব দেখে শুনে মুচকি হাসি দিয়ে জিশানের আম্মুকে বলে-
→আপনি দাদী হতে যাচ্ছেন, আপনার বউমা প্রেগন্যান্ট।আপনার বউমার প্রতি খেয়াল রাখবেন আপনার নাতীর বয়স ৩ মাস হতে চলছে।
.
এ বলে ডাক্তার চলে গেলো।জিশানের বাবা মা খুব চিন্তিত।বিয়ে হয়েছে মাত্র ১০দিন কিন্তু বউমার পেটে বাচ্চা বয়স ৩ মাস।মা,বাবা যখন চিন্তিত তখন জিশান মুচকি হাসি দিয়ে বলে-
→বাবা আসলে আমি বিয়ে করছি আরো ৩ মাস আগে কিন্তু ভয়ে বলতে পারে নাই তোমাকে , দয়াকরে আমাকে ক্ষমা করে দাও।
.
বাবা এ কথা শুনে আর কিছুই বলে নাই।
জিশানের বাবা যখন জিশানের রুম থেকে চলে যায় তখন ফারিয়া জিশানকে জড়িয়ে ধরে খু্ব কাঁদছিলো।
কাঁদতে কাঁদতে জিশানকে বলে-
_আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।আসলে আমি ভুল একজন মানুষের সাথে সম্পর্ক করছিলাম আগে।
_ক্ষমা চাইতে হবে না,তুমি এখন শুয়ে থাকো।যা হয়েছে সব ভুলে যাও।আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমি তোমার সম্মান রক্ষা করতে পারবো।
_তাহলে এ বাচ্চাটা কি নস্ট করে ফেলবো নাকি?
_কেন?তার কি দোষ।সে পৃথিবীতে আসলে আমার পরিচয় নিয়ে থাকবে।যাও এখন শুয়ে থাকো।
.
ফারিয়ার বাবার কানে যায় তার মেয়ে মা হতে যাচ্ছে।পেটের বাচ্চার বয়স ৩ মাস।ফারিয়ার বাবা বুঝতে আর দেরি করে নাই এটা কার বাচ্চা।ফারিয়ার বাবা তখন বুঝতে পারছে তারমেয়ে ভালো একজন ছেলেকে বিয়ে করছে।যে ছেলেটা তার সম্মান রক্ষা করতে পারবে তাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে পারবে।এজন্য ফারিয়ার বাবা পরে সবকিছু মেনে নেয়।
.
আপনি হয়তো এ লেখাটুকু পড়ে মন্তব্য করবেন-
→এ লেখাটুকু কোনো শিক্ষণীয় না।সব প্রেমের লুতুপতু ভরা গল্পটা।
আমি আপনাকে বলবো-
_আপনি আবার লেখাটুকু পড়েন। আবার যদি আপনি বলেন শিক্ষণীয় না। আমি আবার আপনাকে বলবো আরেকবার দয়াকরে লেখাটুকু পড়েন।তারপরেও যদি সেইম কথা বলেন।তাহলে আপনাকে ধন্যবাদ আপনি গল্পটার মানে কি বুঝেন নাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now