বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হঠাৎ ফিরে পাওয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ক্যাম্পাস এ চারপাশে রোমান্স চলছে, এর মাঝে একা একা নিজেকে বেশ বেমানান লাগছে। সুবোধ বালকের মত ওঠে চলে আসছিলাম। কিছুদুর আসতেই পেছন থেকে হাতে টান অনুভব করলাম। ফিরে চাইলাম,দেখলাম পিচ্চি মেয়ে।বেশ পরিপাটি ও সুন্দর। আমি আদর করে জানতে চাইলাম কি চাই বাবু ? উত্তরে সে বলে আব্বু তুমি আমাকে রেখে কোথায় যাচ্ছো ? এই মেয়ে বলে কি ?কে তোমার আব্বু ? তুমি আমার আব্বু ? তোমার কোথায় ও ভুল হচ্ছে বাবু ? আমি কেন তোমার আব্বু হতে যাবো,মিষ্টি হেঁসে বললাম আমি তো বিয়েই করিনি বাবু, তোমার আব্বু হবো কেমনে ? বিয়ে না করলে কি আব্বু হওয়া যায় না বুঝি ? . জটিল একটা প্রশ্ন, না ঠিক তা নয় বিয়ে না করেও আব্বু হওয়া যায়, তবে সমাজ সেই সন্তান কে বৈধতা দেয় না। তাহলে কি আমিও অবৈধ সন্তান ? আমি তোমাকে তাই বলেছি কখন ও ? কেন ও তুমি ই তো বললে তুমি বিয়ে করো নি, আর আমি জানি তুমি আবার আব্বু তাহলে তো আমি অবৈধ সন্তান ই, তাই না ? বাবু তুমি আমার এই কথা বিশ্বাস করছো আমি বিয়ে করিনি আর এই কথা কেন ও বিশ্বাস করতে পারছো না আমি তোমার আব্বু নয় ? কেননা আমার আম্মু বলেছে তুমিই আমার আব্বু ! ছোট্ট বাচ্চার সাথে কথা কাটাকাটির কোন মানে হয় না, তাকে কোলে নিয়ে বললাম, তোমার আম্মু কোথায় বাবু ? মেয়েটা আমার কোলে ওঠে কপালে চুমু দিয়ে শক্ত করে গলাটা জড়িয়ে ধরে আছে। ছোট্ট বাচ্চা আমার ও খুব প্রিয়, আমি ও বাঁধা দিলাম না। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম বাচ্চার চোখের জলে আমার শার্ট ভিজে যাচ্ছে । আমি বাচ্চার মুখটা সামনে নিয়ে বললাম, কি ব্যাপার বাবু কাঁদছো কেন ও ? কি হয়েছে আমাকে বলো ? আমি না তোমার আব্বু ? মেয়েটা এবার কাঁদতে কাঁদতে বললো জানো চাচু, আমরা পাঁচ বোন,আমাদের ধন দৌলত এর ও কোন কমতি নেই। আমার আব্বুর অনেক ইচ্ছা ছিল আমি ছেলে হবো। কিন্তু আমি ও মেয়ে হওয়ায় আব্বু আম্মুর উপর অনেক রাগ করতো,আর আমার বড় আপুদের ও আম্মার উপর প্রচুর নির্যাতন করতো, আর আমি তো বুঝি ই নি আব্বুর আদর কি জিনিস ! তিনি আমাকে কখনও কোলে নিয়ে আদর করেন নি। আমি মেয়েটাকে বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম, বাবা -মা র ভালোবাসা একটা সন্তানের জন্মগত অধিকার। সে কেন ও এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে,আপনার তো কোন এখতিয়ার নেই তাকে তার হক/ অধিকার যেটাই বলি না কেন ও তা থেকে তাকে বঞ্চিত করার। আর একটা সন্তান ছেলে না মেয়ে ছেলে হবে তার জন্য দায়ী কে আপনি, আপনার স্ত্রী নয় ! তবে সে কেন ও নির্যাতন ভোগ করবে, সে কেন ও অকালে প্রাণ হারাবে ? . আমার তো মনে হয় তার মত নির্বোধ ব্যাক্তি আর একটাও নেই যে কিনা ভুলে গেছে মহামানবের সেই বিখ্যাত উক্তি, " আপনি একটা কন্যা সন্তান এর বাবা হলেন তো আপনি একটা জান্নাতের মালিক হলেন " কন্যা সন্তান কে ভালো ভাবে মানুষ করেন আপনার জান্নাত আপনি পাবেন। আর এখন যে অবস্থা মেয়েরা তো কখনোই সমাজের বোঝা হতেই পারে না, বোঝা যদি হই তা হচ্ছি আমরা ছেলেরা।মেয়েরা শিক্ষা থেকে শুরু করে চাকুরী ,চিকিৎসাক্ষেত্র, ঘর সামলানো সব দিক থেকেই ছেলেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। . মেয়েটাকে বললাম বাবু তোমার আম্মা কোথায়, চলো ?মেয়েটা প্রথমে নিয়ে যেতে চাইলো না অনেক কষ্টে রাজি করালাম। একটা শর্তে মেয়েটা যেতে রাজি হলো, কোন অবস্থাতেই আমি যেন তাকে ছেড়ে চলে না আসি। . মেয়েটাকে আমাকে সাথে নিয়ে গিয়ে কয়েকটা করবের কাছে গেল। কবরগুলো ছিল তার বাবার রাজপ্রাসাদ এর ভেতরে। পাঁচটা কবর দেখে আমার বুঝতে বাঁকী রইলো না এখানে ঘুমিয়ে আছে তার মা আর চার বোন।কিছুদিন আগে পত্রিকায় নিউজ পরেছিলাম স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মা ও মেয়ে সহ পাঁচ জনের আত্মহনন। এখন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে কষ্টো হচ্ছে।এটাই কি জীবনের মানে,এই কারণেই কি মেয়ের বিয়ে দিয়ে মেয়ের বাবা-মা সুখি হতে চেয়েছিল ? মেয়েটাকে সুখি দেখতে চেয়েছিল ? . ফিরে আসার সময় মেয়েটার বাবা সামনে হাজির। মেয়েটা তার বাবাকে ভয় পেয়ে আমার বুকের মাঝে মুখটা লুকিয়ে ফেললো। দু জন দেহ রক্ষী আমার কাছ থেকে মেয়েটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটা দু হাত দিয়ে আমার শার্ট টেনে ধরে আছে , দেহ রক্ষীদের টানাটানির কারণে কোমল হাতদুটো আর টিকে থাকতে পারলো না, শার্ট থেকে হাতটা সরে গেল, দেহ রক্ষীরা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, মেয়েটা হাত পা এদিক ওদিক ছোড়াছুড়ি করছে,আমাকে নিয়ে যাও,আমাকে নিয়ে যাও বলে মেয়েটা আহাজারি শুরু করে দিল। মেয়েটার আহাজারি তে ভারি হয়ে আসছে বাতাস। মেয়েটার অবস্থা দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলাম না,আর সেই সময় এমন পরিস্থিতিও ছিল না যে মেয়েটাকে সেখান থেকে নিয়ে চলে আসবো। কোন অধিকার এ নিয়ে আসবো ? মেয়েটা সাথে আমার রক্তের সম্পর্কটাই বা কি ? যদি রক্তের সম্পর্ক না থাকে আর আমি মেয়েটার বাবা হই তাহলে সমাজ কি আমাদের বাবা-মেয়ে হিসেবে বৈধতা দেবে ? বৈধতা যদি নাও দেয় তবু ও অবৈধ্য বলতে পারবে না। . ফিরে আসার পূর্বে মেয়েটার জন্য পাঁচ মিনিট, মেয়েটার বাবার জন্য পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নিলাম।আলাদাভাবে দু জনের সাথেই কথা বললাম।চলেও আসলাম। . তারপর অতীত হয়েছে কতদিন..... ভুলেই গিয়েছিলাম মেয়েটার কথা। . কাষ্টমার অফিসার হিসেবে পার্সপোর্ট চেক করছিলাম। একটা মেয়ে এসে তার পার্সপোর্ট চাইলো। পার্সপোর্ট এ মেয়েটার বাবার নাম আর মেয়েটার নাম দেখে মেয়েটার হাতে পার্সপোর্ট তুলে দিলাম। মেয়েটার বাবার নাম ও মেয়েটার বাসস্থান দেখে বুঝতে বাকী রইলো না মেয়েটা কে ? মেয়েটাকে আমার পরিচয় না দিয়েই জানতে চাইলাম, কেমন আছো মা ? তোমার বাবা......? মেয়েটা আমাকে আর কোন কথা বলার সুযোগ ই দিল না। আমি বুঝতেও পারি নি মেয়েটা আমাকে এত সহজে চিনতে পারবে। মনে হলো মেয়েটা মনে মনে হয়তো এতদিন তার এই কিছু সময়ের বাবার কন্ঠটাই খুজে বেরাচ্ছিল। . মেয়েটা সর্বশেষ আমাকে চাচু বলে সম্বোধন করেছিল তবে আজ আর চাচু নয় বললো আব্বু তোমার সাথে অনেক কথা আছে। এখানেই বলো মা ? না,এখানে নয়,বাসায় যেতে যেতে বলবো ? জানো আব্বু, তুমি যে দিন আমাকে এখানে একা একা রেখে গিয়েছিলে সেদিন তোমার উপর ভীষণ রাগ হয়েছিল। মনে মনে তোমাকে গালিও দিয়েছি অনেক। তুমি কেন ও যে এটা শুনবে সেই আমাকে গালি দেবে। আমাকে ক্ষমা করে দাও আব্বু, না বুঝে তোমার উপর অনেক রাগ করেছিলাম। পাগলী মেয়ে আমার, বাবার কাছে মেয়ে কখন ও অন্যায়ই করে না, ক্ষমা তো পরের বিষয়। গাড়ী করে বাড়ি আসলাম,সেই রাস্তা, সেই ঘর, সেই রাজপ্রাসাদ, কেবল কবরের পরিমান একটা বেড়েছে। জানো আব্বু,বাবা মারা যাবার আগে তোমার সাথে অনেক বার দেখা করতে চেয়েছিল,তোমাকে অনেক খুজেছি ও, পাই নি। তোমার সেদিনের সেই পাঁচ মিনিটের কথা শুনে আমার বাবা তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন।সর্বশেষ তোমার কাছে ক্ষমা ও চেয়ে গিয়েছেন তিনি । তিনি পুত্র সন্তানের জন্য আর দ্বিতীয় বিয়েও করেন নি আর আমাকেও তার আদর থেকে বঞ্চিত করেন নি। . দেখো মা, ভুল আমরা কম বেশি সবাই করি তারপরও ভুল বুঝতে পেরে অন্যায় ছেড়ে ন্যায়ের পথে ফিরে আসাটাই মহত্বের লক্ষণ। . কষ্টো গুলোকে ছুড়ে ফেলে পাড়ি জমাতে নতুন শহরে মেয়েটা চোখে জল নিয়েই পুনরায় আসলো বিমানবন্দরে । উঠিয়ে দিলাম বিমানে। যাক উড়ে যাক দুঃখ গুলো সুখটুকু আসুক ফিরে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হঠাৎ ফিরে পাওয়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now