বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকে আমার কলেজের ভর্তির লাস্ট ডেইট।
তাই আমার ফ্রেন্ডকে কল দিলাম,
-কইরে তুই।
-আমি আসতেছি তুই-তোর বাসার সামনে দাড়া।
-ওকে! তাহলে তুই আয়।
-তার পরে রাসেল আসলো, একসাথে কলেজে গেলাম ভর্তি হলাম।
-কলেজ থেকে বাইরে আসলাম,
-হঠাৎ করে রাসেলের কল আসলো, সে চলে গেল।
.
-আমি একা একা পথে হাটছি,
-সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা সুন্দরী -মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে যাই।
-পাশে একটা ম্যানহোল ছিলো।তার দিকে তাকিয়ে হাটতে হাটতে ম্যানহোলে পড়ে যাই।
ম্যানহোল থেকে উঠে দেখি সে মেয়েটি নাই।
.
সারা শরীর ময়লায় ভরে গিয়েছে।
বাসায় যাই,আম্মু দেখে বলে কিরে কি হলো তোর,আম্মু কিছু নাহ পড়ে গেছি।
ওয়াশরুমে যাই, ফ্রেশ হই।
সন্ধায় কয়েকটা ফ্রেন্ড কে কল দিলাম
আসার জন্য। আমার বাসা আড্ডা দিবো।
তারা সবাই আসলো, অনেক মজা হলো।
সবাই চলে গেলো।
আমি ডিনারটা শেষ করে ঘুমাবো,
তখনি ওই মেয়েটার কথা মনে পড়লো।
সারাটা রাত তার কথা মনে করে আর ঘুম হলো না।
.
-পরের দিন,
-রাসেলকে কল দিলাম, দোস্ত কইরে তুই?
-আমি বাসায় আছি ।
-ওকে তুই থাক তাহলে আমি আসছি তোর বাসায়।
-আচ্ছা আয়।
-আমি কলটা কেটে দিলাম।
-তার বাসায় রওয়ানা হলাম,
-হঠাৎ করে দেখি রাসেলের বাসার সামনে -ওই মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।
-আমি তাকে দেখে ভিতরে গেলাম,
-আর রাসেলকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-দোস্ত ওই মেয়েটা কে রে?
-কোন মেয়েরে?
-আরে তোর বাসার সামনে যে মেয়েটাকে দেখছি।
-ওই মেয়েটা আমার ছোট বোনের ক্লাসমেট।
-ও তাই?
-বাট কেন দোস্ত? ওই মেয়েটাকে দিয়ে তুই কি করবি বল?
-আরে কিছু না রে, এমনি বললাম।
-বাসার সামনে দেখছি তো তাই।
-আড্ডা দিলাম তার পরে,
বাসায় আবার রওয়ানা হলাম।
-কিন্তু সেই রাতটা ও আমি তাকে স্বপ্নে দেখি,
-সেই রাতটাও ঘুম হয়নি।
-এভাবে অনেক দিন কেটে যায়।
.
.
একদিন রাসেলের বোনকে বললাম,
-এই শুনতো,
-কি ভাইয়া?
-তোর সাথে যে মেয়েটাকে দেখি সে কে রে?
-আমার সাথে পড়ে, নাম নিঝুম।
-কেন ভাইয়া?
-তুই ভাইয়াকে একটা হেল্প করবি?
-কি? বলেন ভাইয়া!
-নিঝুমের নাম্বারটা আমাকে দিতে পারবি?
-কেন ভাইয়া? কি করবেন?
-আরে আছে কি না বল..?
-আছে, কিন্তু আমার কথা বলতে পারবেন না প্রমিস করেন?
-ওকে দে!
-নাম্বারটা নিয়ে নিলাম,
-রাতে কল দিবো।
-কিন্তু অনেক ভয় করছে
-সাহস পাচ্ছি না।
-সাত-পাঁচ না ভেবে কল দেই।
-প্রথম বার দেই রিসিভ করে না।
-পরের বার দেই রিসিভ করে বললো,
-আসসালামু আলাইকুম।
-কে বলছেন?
-আমি সালামের উত্তর নেই।
-আমাকে চিনবে না তুমি।
-আপনি কে পরিচয় দিলেতো চিনবো।
-তার পরে আমি কলটা কেটে দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়ি।
.
সকাল বেলা রাসেল আমায় কল দেয়।
আমি ওর কলটা রিসিভ করি।ও বলে,
কিরে?
-হুম, কি?
-এখনো ঘুমে নাকি?
-হ্যাঁ,কেনো?
-আরে বেটা আমার বাসায় আয়, কাজ আছে।
-ওকে,আগে ফ্রেশ হয়ে নেই।
-ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম।
-রাসেলের বাসায় গেলাম।
-কিরে? বল ডাকলি কেন?
-আরে বেটা এমনি। একা ভালো লাগছিল না তাই তোকে কল দিলাম।
-ও,আচ্ছা!
-তো কি অবস্থা তোর?
-এইতো চলছে তোর?
-তোর মতই আছি।
-দোস্ত?
-কি? বল।
-একটা কথা শুনছি।এটা কি সত্যি নাকি?
-কি শুনলি বল?
-তুই নাকি নিঝুমের নাম্বার নিছস?
-হুম,তোকে কে বললো?
-কেউ বলেনি, বাট দেখলাম আমার
বোনের সাথে নিঝুম কথা বলছিল,
যে কাল রাতে নাকি তাকে একটা ছেলে কল দিয়েছিল।
-নিঝুম আমার বোনকে জিজ্ঞাসা করছিল -যে, এই নাম্বারটা চিনে কি না?
-নাম্বারটা যখন মুখে বলে,
তখনি আমি বুঝতে পারছি এটা তোর নাম্বার।
তাই তোকে কল দিয়ে আসতে বলছি।
-ওহ! এই ব্যাপার?
-হুম, তো কত দূর মামা?
-কিসের কত দূর?
-এই যে চলছে, নাম্বার,
কল দেওয়া এগুলা?
.
দোস্ত তুই একটা হেল্প করবি।
-কি, বল?
নিঝুমের সাথে আমার রিলেশনটা করিয়ে দিবি।
-আচ্ছা দেখি কি করা যায়।
-ওকে,ঠিক আছে
-এই বলে আমি বাসায় রওনা হই।
তার চার- পাঁচ দিন পরে আমি রাসেলের,
বোনের মাধ্যেমে নিঝুমকে প্রপোজ করি।
সে রাজি হয় নাহ।
তার পিছনে অনেক ঘুরেছি কিন্তু,
সে কোন মতেই রাজি হয় নাহ।
এইভাবে আরো অনেকটা দিন কেটে যায়।
একদিন হঠাৎ অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসল।
আমি কলটা রিসিভ করি।
আসসালামু আলাইকুম
আমি সালামের উত্তর নেই।
কেমন আছেন আপনি..?
জ্বি ভালো..?তুমি
আমিও ভালো..আমাকে চিনতে পারছেন।
-না তো কে তুমি..?
-বলতে পারেন নাহ.?
-না তো কে তুমি পরিচয় দাও..?
-আমি নিঝুম.?
-নিঝুম-কেমন আস!
-হুম, ভালো।
কি মনে করে কল দিয়েছ।
কেন আমি কি কল দিতে পারি নাহ।
-সেটা বলিনি।
-তাহলে।
-আচ্ছা নাহ কিছু নাহ?
-ওকে,
-আজকে আমি আপনাকে একটা কথা
বলবো।
-হুম? বলো কি বলবা!
-আমি আপনাকে ভালবাসি!
-কি বললে?
-কেন শুনতে পাননি!
-না আবার বল
-আমি আপনাকে ভালবাসি
.
.
এটা শুনে, আমার মনে হলো
আমি কি কল্পনায় কথা বলছি নাকি।
তুমি কি সত্যি আমাকে ভালবাসো।
হুম,ভালবাসি..?
তাহলে এত দিন এমন করছ কেন
আমি আপনাকে পরিক্ষা করেছি।
তো আমি কি পরিক্ষা পাশ হয়েছি,
হুম,পাশ হয়েছেন।
এইভাবে আমাদের প্রতিদিন কথা হয়।
আমাদের ভালবাসা অনেক গভীর হয়ে যায়।
একদিন নিঝুম আমাকে কল দিয়ে বলে।
কই তুমি
এই তো বাসায় আছি কেন কোনো প্রবলেম হয়েছে।
না কোন প্রবলেম হয়নি, তোমার সাথে দেখা করবো তুমি আসতে পারবা।
হুম, কই তুমি এখন।
আমি নতুন ব্রিজের নিচে আছি।
ওকে, তুমি থাকো আমি আসতেছি,
আমি ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি যাই।
.
আমি যখন নতুন ব্রিজের নিচে যাই, সেখানে তখন অনেক মানুষের বিড় ছিল। কিন্তু ওটা আমি তেমন একটা গুরুত্ব দেইনি। কারণ এগুলা প্রতিদিনের ব্যপার কিছু না কিছু হয়, কিন্তু এটাই যে আমার জীবনের খারাপ একটা মুহূর্ত হবে তা আমার কল্পনায় ও ছিল না।
যাই হোক আমি ওসবে মাথা না ঘামিয়ে নিঝুমের কথা ভাবতে লাগলাম, আর ওকে কল করে যাচ্ছিলাম।
কিন্তু ওর ফোনটা সুইচ অফ দেখাচ্ছিল।
তখন একটু চিন্তা হচ্ছিল যে রাস্তায় কোন সমস্যা হল নাত।
অন্যদিকে রাস্তার পাশে বিড়টা বাড়ছে বই কমছে না। তাই কৌতুহল ব'স'ত গেলাম ওখানে, কি হচ্ছে তা দেখতে!
তারপর যা দেখলাম নিজেকে আর দরে রাখতে পারলাম না, ঙান হারিয়ে ফেলাম।
যখন ঙান ফিরে তখন রাস্তার এক পাশে পরে আছি।
তখন কেউ একজনের কাছে জানতে চাইলাম যেই মেয়েটি এখানে এক্সিডেন্ট হয়েছিল সেই মেয়েটি কোথায়?
পরক্ষণে জানতে পারি সেই মেয়েটি মারা গিয়েছে আর তাকে পুলিশ নিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু তাহসিন মানতেই পারছে না, যে তার নিঝুম আর নেই। যখন পোস্টমডেমের পর নিঝুমের লাশটা তার সামনে আসল, তার দু'পায়ের মাটি সরে গেল। তবুও সে মানতে নারাজ যে তার নিঝুম আর নেই।
ভালবাসাটা এমনি বাস্তবিক কোন কিছুই মানে না।
সেদিনের পর থেকেই ওই জায়গাটায় গিয়ে বসে থাকে সে তার নিঝুমের আসায়
সে আসবে আর তাকে ভালবসি বলবে। সেই শব্দটা সে শুনবে।
কারণ তার বিশ্বাস তার নিঝুম তার সাথে দেখা করতে আসবে।
.
গল্পটা এমন না হলেও পারত,আসলে ভালবাসা এমনি প্রিয় মানুষটা হরিয়ে যাওয়া কেউ মানতে পারে না। তাহসিন পারে নি। তাহসিনের এখন একটি কাজ এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে ওই জায়গায় নিঝুমের পথ চেয়ে বসে থাকা যদিও সে আসবে না।
আশাহীন বাস্তবতা আজ তাহসিনকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
ভালবাসাটা তো এমন না ভালবাসা তো একটা গাছ মিলে দুজন হওয়া। ভালবাসা তো দুজন মিলে একটা হওয়া।
.
কিন্তু আজ যেন বাস্তবিক অনিষ্টকর ভাবেই তাড়া করে বেড়ায় তাহসিনকে, শুধু একটি বার দেখার স্বাদ আর কিছু তৃপ্তি।
আসলে পৃথিবীতে কিছু কিছু ভালবাসা পূরণ্য হয় না,
আজও ভালবাসার কাঙ্গাল নতুন ব্রিজের নিচে বসে থাকে সেই তাহসিন?
.
.
.
অসমাপ্তহীন_______সমাপ্ত? দেখা
=====================
.
.
আজকে আমার কলেজের ভর্তির লাস্ট ডেইট।
তাই আমার ফ্রেন্ডকে কল দিলাম,
-কইরে তুই।
-আমি আসতেছি তুই-তোর বাসার সামনে দাড়া।
-ওকে! তাহলে তুই আয়।
-তার পরে রাসেল আসলো, একসাথে কলেজে গেলাম ভর্তি হলাম।
-কলেজ থেকে বাইরে আসলাম,
-হঠাৎ করে রাসেলের কল আসলো, সে চলে গেল।
.
-আমি একা একা পথে হাটছি,
-সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি একটা সুন্দরী -মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে যাই।
-পাশে একটা ম্যানহোল ছিলো।তার দিকে তাকিয়ে হাটতে হাটতে ম্যানহোলে পড়ে যাই।
ম্যানহোল থেকে উঠে দেখি সে মেয়েটি নাই।
.
সারা শরীর ময়লায় ভরে গিয়েছে।
বাসায় যাই,আম্মু দেখে বলে কিরে কি হলো তোর,আম্মু কিছু নাহ পড়ে গেছি।
ওয়াশরুমে যাই, ফ্রেশ হই।
সন্ধায় কয়েকটা ফ্রেন্ড কে কল দিলাম
আসার জন্য। আমার বাসা আড্ডা দিবো।
তারা সবাই আসলো, অনেক মজা হলো।
সবাই চলে গেলো।
আমি ডিনারটা শেষ করে ঘুমাবো,
তখনি ওই মেয়েটার কথা মনে পড়লো।
সারাটা রাত তার কথা মনে করে আর ঘুম হলো না।
.
-পরের দিন,
-রাসেলকে কল দিলাম, দোস্ত কইরে তুই?
-আমি বাসায় আছি ।
-ওকে তুই থাক তাহলে আমি আসছি তোর বাসায়।
-আচ্ছা আয়।
-আমি কলটা কেটে দিলাম।
-তার বাসায় রওয়ানা হলাম,
-হঠাৎ করে দেখি রাসেলের বাসার সামনে -ওই মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।
-আমি তাকে দেখে ভিতরে গেলাম,
-আর রাসেলকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-দোস্ত ওই মেয়েটা কে রে?
-কোন মেয়েরে?
-আরে তোর বাসার সামনে যে মেয়েটাকে দেখছি।
-ওই মেয়েটা আমার ছোট বোনের ক্লাসমেট।
-ও তাই?
-বাট কেন দোস্ত? ওই মেয়েটাকে দিয়ে তুই কি করবি বল?
-আরে কিছু না রে, এমনি বললাম।
-বাসার সামনে দেখছি তো তাই।
-আড্ডা দিলাম তার পরে,
বাসায় আবার রওয়ানা হলাম।
-কিন্তু সেই রাতটা ও আমি তাকে স্বপ্নে দেখি,
-সেই রাতটাও ঘুম হয়নি।
-এভাবে অনেক দিন কেটে যায়।
.
.
একদিন রাসেলের বোনকে বললাম,
-এই শুনতো,
-কি ভাইয়া?
-তোর সাথে যে মেয়েটাকে দেখি সে কে রে?
-আমার সাথে পড়ে, নাম নিঝুম।
-কেন ভাইয়া?
-তুই ভাইয়াকে একটা হেল্প করবি?
-কি? বলেন ভাইয়া!
-নিঝুমের নাম্বারটা আমাকে দিতে পারবি?
-কেন ভাইয়া? কি করবেন?
-আরে আছে কি না বল..?
-আছে, কিন্তু আমার কথা বলতে পারবেন না প্রমিস করেন?
-ওকে দে!
-নাম্বারটা নিয়ে নিলাম,
-রাতে কল দিবো।
-কিন্তু অনেক ভয় করছে
-সাহস পাচ্ছি না।
-সাত-পাঁচ না ভেবে কল দেই।
-প্রথম বার দেই রিসিভ করে না।
-পরের বার দেই রিসিভ করে বললো,
-আসসালামু আলাইকুম।
-কে বলছেন?
-আমি সালামের উত্তর নেই।
-আমাকে চিনবে না তুমি।
-আপনি কে পরিচয় দিলেতো চিনবো।
-তার পরে আমি কলটা কেটে দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়ি।
.
সকাল বেলা রাসেল আমায় কল দেয়।
আমি ওর কলটা রিসিভ করি।ও বলে,
কিরে?
-হুম, কি?
-এখনো ঘুমে নাকি?
-হ্যাঁ,কেনো?
-আরে বেটা আমার বাসায় আয়, কাজ আছে।
-ওকে,আগে ফ্রেশ হয়ে নেই।
-ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম।
-রাসেলের বাসায় গেলাম।
-কিরে? বল ডাকলি কেন?
-আরে বেটা এমনি। একা ভালো লাগছিল না তাই তোকে কল দিলাম।
-ও,আচ্ছা!
-তো কি অবস্থা তোর?
-এইতো চলছে তোর?
-তোর মতই আছি।
-দোস্ত?
-কি? বল।
-একটা কথা শুনছি।এটা কি সত্যি নাকি?
-কি শুনলি বল?
-তুই নাকি নিঝুমের নাম্বার নিছস?
-হুম,তোকে কে বললো?
-কেউ বলেনি, বাট দেখলাম আমার
বোনের সাথে নিঝুম কথা বলছিল,
যে কাল রাতে নাকি তাকে একটা ছেলে কল দিয়েছিল।
-নিঝুম আমার বোনকে জিজ্ঞাসা করছিল -যে, এই নাম্বারটা চিনে কি না?
-নাম্বারটা যখন মুখে বলে,
তখনি আমি বুঝতে পারছি এটা তোর নাম্বার।
তাই তোকে কল দিয়ে আসতে বলছি।
-ওহ! এই ব্যাপার?
-হুম, তো কত দূর মামা?
-কিসের কত দূর?
-এই যে চলছে, নাম্বার,
কল দেওয়া এগুলা?
.
দোস্ত তুই একটা হেল্প করবি।
-কি, বল?
নিঝুমের সাথে আমার রিলেশনটা করিয়ে দিবি।
-আচ্ছা দেখি কি করা যায়।
-ওকে,ঠিক আছে
-এই বলে আমি বাসায় রওনা হই।
তার চার- পাঁচ দিন পরে আমি রাসেলের,
বোনের মাধ্যেমে নিঝুমকে প্রপোজ করি।
সে রাজি হয় নাহ।
তার পিছনে অনেক ঘুরেছি কিন্তু,
সে কোন মতেই রাজি হয় নাহ।
এইভাবে আরো অনেকটা দিন কেটে যায়।
একদিন হঠাৎ অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসল।
আমি কলটা রিসিভ করি।
আসসালামু আলাইকুম
আমি সালামের উত্তর নেই।
কেমন আছেন আপনি..?
জ্বি ভালো..?তুমি
আমিও ভালো..আমাকে চিনতে পারছেন।
-না তো কে তুমি..?
-বলতে পারেন নাহ.?
-না তো কে তুমি পরিচয় দাও..?
-আমি নিঝুম.?
-নিঝুম-কেমন আস!
-হুম, ভালো।
কি মনে করে কল দিয়েছ।
কেন আমি কি কল দিতে পারি নাহ।
-সেটা বলিনি।
-তাহলে।
-আচ্ছা নাহ কিছু নাহ?
-ওকে,
-আজকে আমি আপনাকে একটা কথা
বলবো।
-হুম? বলো কি বলবা!
-আমি আপনাকে ভালবাসি!
-কি বললে?
-কেন শুনতে পাননি!
-না আবার বল
-আমি আপনাকে ভালবাসি
.
.
এটা শুনে, আমার মনে হলো
আমি কি কল্পনায় কথা বলছি নাকি।
তুমি কি সত্যি আমাকে ভালবাসো।
হুম,ভালবাসি..?
তাহলে এত দিন এমন করছ কেন
আমি আপনাকে পরিক্ষা করেছি।
তো আমি কি পরিক্ষা পাশ হয়েছি,
হুম,পাশ হয়েছেন।
এইভাবে আমাদের প্রতিদিন কথা হয়।
আমাদের ভালবাসা অনেক গভীর হয়ে যায়।
একদিন নিঝুম আমাকে কল দিয়ে বলে।
কই তুমি
এই তো বাসায় আছি কেন কোনো প্রবলেম হয়েছে।
না কোন প্রবলেম হয়নি, তোমার সাথে দেখা করবো তুমি আসতে পারবা।
হুম, কই তুমি এখন।
আমি নতুন ব্রিজের নিচে আছি।
ওকে, তুমি থাকো আমি আসতেছি,
আমি ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি যাই।
.
আমি যখন নতুন ব্রিজের নিচে যাই, সেখানে তখন অনেক মানুষের বিড় ছিল। কিন্তু ওটা আমি তেমন একটা গুরুত্ব দেইনি। কারণ এগুলা প্রতিদিনের ব্যপার কিছু না কিছু হয়, কিন্তু এটাই যে আমার জীবনের খারাপ একটা মুহূর্ত হবে তা আমার কল্পনায় ও ছিল না।
যাই হোক আমি ওসবে মাথা না ঘামিয়ে নিঝুমের কথা ভাবতে লাগলাম, আর ওকে কল করে যাচ্ছিলাম।
কিন্তু ওর ফোনটা সুইচ অফ দেখাচ্ছিল।
তখন একটু চিন্তা হচ্ছিল যে রাস্তায় কোন সমস্যা হল নাত।
অন্যদিকে রাস্তার পাশে বিড়টা বাড়ছে বই কমছে না। তাই কৌতুহল ব'স'ত গেলাম ওখানে, কি হচ্ছে তা দেখতে!
তারপর যা দেখলাম নিজেকে আর দরে রাখতে পারলাম না, ঙান হারিয়ে ফেলাম।
যখন ঙান ফিরে তখন রাস্তার এক পাশে পরে আছি।
তখন কেউ একজনের কাছে জানতে চাইলাম যেই মেয়েটি এখানে এক্সিডেন্ট হয়েছিল সেই মেয়েটি কোথায়?
পরক্ষণে জানতে পারি সেই মেয়েটি মারা গিয়েছে আর তাকে পুলিশ নিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু তাহসিন মানতেই পারছে না, যে তার নিঝুম আর নেই। যখন পোস্টমডেমের পর নিঝুমের লাশটা তার সামনে আসল, তার দু'পায়ের মাটি সরে গেল। তবুও সে মানতে নারাজ যে তার নিঝুম আর নেই।
ভালবাসাটা এমনি বাস্তবিক কোন কিছুই মানে না।
সেদিনের পর থেকেই ওই জায়গাটায় গিয়ে বসে থাকে সে তার নিঝুমের আসায়
সে আসবে আর তাকে ভালবসি বলবে। সেই শব্দটা সে শুনবে।
কারণ তার বিশ্বাস তার নিঝুম তার সাথে দেখা করতে আসবে।
.
গল্পটা এমন না হলেও পারত,আসলে ভালবাসা এমনি প্রিয় মানুষটা হরিয়ে যাওয়া কেউ মানতে পারে না। তাহসিন পারে নি। তাহসিনের এখন একটি কাজ এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে ওই জায়গায় নিঝুমের পথ চেয়ে বসে থাকা যদিও সে আসবে না।
আশাহীন বাস্তবতা আজ তাহসিনকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
ভালবাসাটা তো এমন না ভালবাসা তো একটা গাছ মিলে দুজন হওয়া। ভালবাসা তো দুজন মিলে একটা হওয়া।
.
কিন্তু আজ যেন বাস্তবিক অনিষ্টকর ভাবেই তাড়া করে বেড়ায় তাহসিনকে, শুধু একটি বার দেখার স্বাদ আর কিছু তৃপ্তি।
আসলে পৃথিবীতে কিছু কিছু ভালবাসা পূরণ্য হয় না,
আজও ভালবাসার কাঙ্গাল নতুন ব্রিজের নিচে বসে থাকে সেই তাহসিন?
.........সমাপ্ত.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now