বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হটাৎ সে এক গার্মেন্টসএর মেয়ের প্রেমে পড়লো

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X মোবাইলে কথা বলতে বলতে ফুটপাতদিয়ে হাঁটছিলাম। হটাৎ শার্টধরে কে জানি টান দিলো।দেখি এক ছোট্ট মেয়ে। ৪-৫ বছরবয়স হবে। বেশি ফর্সা না,তবে মায়া লাগার জন্য যথেষ্টমায়াকারা চেহারা।- স্যার, কয়ডা টাহা দিবেন?সারাদিন কিছু খাই নাই!একটা ছোট শিশুরাস্তা আগলে বলবে কিছু টাকা দেন,সারাদিন কিছু খাই নাই, আরতাকে অবহেলা করে চলে যাবো এমনক্ষমতা আমার নাই!- সারাদিন কিছু খাও নাই কেন?- আমার মায়ের অসুখ। কামে যায়নাই। ঘরে খাওয়ার কিচ্ছু নাই!- তোমার বাবা কোথায়??- বাবা অনেক আগেই চইল্লা গেছে!- তোমার বাসা কোথায়?- এই রাস্তার ওইপাড়ের বস্তিতে!- আমাকে নিয়ে চলো!!এবার মেয়েটি অবাক হলো।হয়তো আমার কথাটি বিশ্বাসকরতে পারছে না। জেনে নিলামমেয়েটার নাম মিলি। আমি এখনমিলির সাথে তাদের বাসায় যাচ্ছি।ফোনটা বেজে উঠলো।- হ্যালো!- তুমি কোথায়??-আমি একটা জরুরি কাজে আটকা পড়েছি।- মানে!? আজ না আমাদেরদেখা করার কথা! আমি ১৫ মিনিটধরে বসে আছি!!- বললামতো একটা কাজে আটকে গেছি।আমার এক ঘন্টা লাগবে।- এই এক ঘন্টা আমি বসে থাকবো??- এটা তোমার ইচ্ছা।- কখনো না। তুমি আমাকে আরফোন দিবে না।বিকট শব্দে লাইন কেটে গেল!সাদিয়া কি মোবাইল আছাড়মারলো নাকি!! এটা অবশ্য নতুনঘটনা না। মোবাইল আছাড় মারা তাররুটিন কর্ম।মিলিদের বাড়ি দেখে অবাকই হলাম!কুড়ে ঘরের মতো ছোট্ট একটি ঘর।বিছানায় এক অতিশয় রুগ্নমহিলা শুয়ে আছেন। কথা বলার জন্যএগিয়ে গেলাম।- কেমন আছেন??- ভালা না! তুমি কে গো বাজান?- আমি স্বাধীন। আপনার মেয়েরসাথে রাস্তায় দেখা হলো। তাইদেখতে আসলাম। মেয়েকে ভিক্ষারজন্য নামিয়েছেন কেন??মহিলাটি যা বললো তার সারমর্মহলো, মিলিরবাবা ছিলো রিকশাচালক।সে থাকা অবস্থায় সংসার ভালইচলছিলো। হটাৎ সে এক গার্মেন্টসএর মেয়ের প্রেমে পড়লো। তারপরযা হবার তাই হলো, মিলিদেরছেড়ে নতুন সংসার সাজিয়েছে।মিলির মা একটা বাসায় কাজনিয়েছিলো। শরীর খারাপ থাকায়কয়দিন ধরে যেতে পারছে না।মন খারাপ করার মতই ঘটনা। ওদেরজন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগলো।পকেটে ৩ হাজারটাকা ছিলো তা মিলির মায়েরহাতে দিয়ে বললাম, আপনারচিকিৎসা করাবেন।মহিলাটি কিছু বলতে পারলো না!হয়তো তারসারা জীবনে সে অতটা অবাক হয়নি!ইট পাথরের ঢাকা শহরে এমন আচরণপেলে অবাক না হওয়াই অস্বাভাবিক!আমি ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম।টাকাটা সাদিয়ার জন্য বরাদ্দ ছিলো।তার সাথে মাসে একবার দেখা করি।তাতেই কষ্ট হয়ে যায়।কারণ, সাধারণ রেস্টুরেন্টে বসলেইতিন হাজারের মতো বিল চলে আসে!এই মাসে আর তার সাথে দেখা হবেনা।আমার আফসোস করার কথা কিন্তুআফসোস হচ্ছে না! কেন?!মিলির ডাকে ভাবনার রাজ্যথেকে ফিরে আসলাম।- মামা!- হুম!- আপনে অনেক ভালো।- তাই?- হা। মামা আপনে কি আবারআইবেন??- দেখি, তুমি কি আমার জন্যঅপেক্ষা করবে??- জী মামা।মেয়েটি বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে আমারদিকে তাকিয়ে আছে। কারণ,সে বুঝতে পারছে না, আমি আবারআসবো কিনা!কিন্তু আমি জানি আমি আবারআসবো... বারবার আসবো। ভালকাজের তৃপ্তি কোনদিন শেষ হয়না।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হটাৎ সে এক গার্মেন্টসএর মেয়ের প্রেমে পড়লো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now