বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাঝ রাতে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমি বিরক্ত ভাব নিয়ে দরজা খুললাম। দরজা খুলেই বিস্মিত কণ্ঠে বললাম- আরে তুই? এতো রাতে? আকাশ একগাল হেসে বললো- দোস্ত অনেকদিন তোকে দেখি না।তোকে দেখতে ইচ্ছে হলো তাইচলে আসলাম। আজ রাতটা তোর সাথেই কাটাবো। আকাশ আমার ছোট কালের বন্ধু। আমরা একই সাথে বড়হয়েছি। আমার বাসাথেকে ওর বাসা প্রায় দু-কিলোমিটার দূরে। অনেকদিন তার সাথে বিভিন্ন ব্যস্ততার জন্য দেখাকরতে পারি নাই। প্রায় এক মাস হতে যাচ্ছে। আমার সাথে শুধু মাত্র দেখা করবার জন্য এতো রাতে সে চলে আসবে বাসায় তা ভাবতেই পারছি না। এই না হলে বন্ধুত্ব। তুই কি বাহিরেইদাড়িয়ে থাকবি? ভিতরে আস? গল্পকরি দুই বন্ধু মিলে সারারাত।নারে দোস্ত ঘরে বসবো না। চলবাহির থেকে ঘুরে আসি। আমিঅবাক হয়ে বললাম- সে কিরে! এতো রাতে কোথায় যাবি? আর তুইএতো সাহসী হলী কবে থেকে? কিছুদিন আগেওনা সন্ধ্যার পর তুই ভূতের ভয়ে বাসার বাহির হতি না? এখন কি আর সেই দিন আছে!
চল বাহিরে চল। আকাশ একগাল হেসে উত্তর দিলো। আকাশে কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে তাই নারে আকাশ? হু আচ্ছা তোর হয়েছি কি বলতো? আসবার পর থেকেই এতোচুপচাপ কেন? আকাশ মৃদু হেসে বললো- না এমনিতেই। এখন থেকে ভাবছিএকাই থাকবো। সন্ধ্যার সময়ডিসিশন নিয়েছিলাম। সারারাত ছিলামও একা। কিন্তু এখন খুববেশি ভয় করছিলো তাই তোকে ডেকে নিয়ে আসলাম। আমি আবারো অবাক হয়ে বললাম- একা ছিলি, ভয় করছিলো এগুলোর মানে কি? তুই সারারাত কোথায় ছিলি? বাড়ির বাহিরে। কেন? বাসা থেকে কি তোকে বেরকরে দিয়েছে? নারে বাহির করেনাই। আর বাহির করবে কেন? আমি নিজেই বের হয়ে এসেছি। কেন? আকাশ আমার হাত ধরেবললো- দোস্ত আমার বাসায় একটু যাবি? আম্মু আমার জন্য খুবকাঁদছে। আম্মুকে একটু বলে দিয়ে আসবি আমি ভালো আছি। খুব ভালো আছি। আমার জন্য যেন কান্নাকাটি না করে। আমি অবাক হয়ে বললাম- আমিতো তোরকথাবার্তা কিছুই বুঝতেছি না। কি সব বলছিস? বাসা থেকে কেন বের হয়ে এসেছিস। কি হয়েছে? চল তোকে বাসায়দিয়ে আসি?নারে দোস্ত আজকে আর বাসায় যাবো না। পরে আরেকদিন বাসায়যাবো। তুই একটু যাবি দোস্ত।আম্মু খুব কান্নাকাটি করছে।বলেই আকাশ আমাকেজরিয়ে ধরে কাদা শুরু করলো। এখন রাত সারে তিনটা। আমি আকাশেরবাসার সামনে দাড়িয়ে আছি। আকাশকে কিছুতেই আনা যায় নি। ওকে বলেছিলাম তুইগিয়ে আমার রুমে বসআমি খালাম্মাকে বলে দিয়ে আসছি আমার কাছে আছিস এবং ভালো আছিস। সে তাও করে নাই। রাস্তায়ই দারিয়ে আছে। আমি খালাম্মার সাথে কথা বলে বাহির হবার পর নাকি আমার সাথে আমার বাসায় যাবে।কি ঘটেছে কিছুই বুঝছি না। আকাশেরকান্নারজন্য বাধ্য হয়েই এতো রাতেআকাশের বাসায় আমার আসতে হয়েছে। আমি নিথর পাথর হয়ে দাড়িয়ে আছি।
খালাম্মা আমাকে জরিয়ে ধরে অঝর ধারায় কাঁদছেন। আমি খালাম্মাকেকি ভাবে শান্তনা দিবো বুঝতে পারছিনা। আমার কাছে সবকিছুএলোমেলো মনে হচ্ছে। পুরো বাড়ি জুড়েই কান্নার শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে। বাড়িতে অনেক মানুষ। পুলিশএসে আকাশের লাশ নিয়ে যাচ্ছে।আজ সন্ধ্যায় আকাশ তাররুমে গলায় ফাঁস আটকিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমার আস্তে আস্তে বোধশক্তি লোপ পাচ্ছে। এ আমি কি শুনছি।
আমি তাহলে এতক্ষণ কারসাথে ছিলাম? আকাশই তো তারবাসায় আমাকে আসতে বললো।আকাশের লাশটি পুলিশেরগাড়িতে তোলা হচ্ছে। শেষবারের মতো আকাশকে দেখলাম আমি। আমার সমস্ত পৃথিবী দুলেউঠলো। মনে হচ্ছে সবকিছুদুলছে। চোখ এর সামনে থেকে সবাইআস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। আমি আসতে আসতে অন্ধকার একটা জগতে হারিয়ে যাচ্ছি। দূরে কে যেন কান্না করছে। তার মাঝে কে যেন বলছে- আম্মুকে বলিস, আমি ভালো আছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now