বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হোটেল

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X হোটেল তাজিমুল ইসলাম সোহাগ . "এখানে রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা আছে?" চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিতে দিতে প্রশ্ন করলো মুহিব। . - না। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে টেবিল পরিষ্কার করতে করতে জবাব দিলো বিশ বাইশ বছর বয়েসী ওয়েটারটা। . "আচ্ছা, হোটেলটা তো দেখছি তিনতলা। থাকার মত রুম তো থাকার কথা।" . ওয়েটারটা কোন কথা না বলে মুহিবের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর কোন কথা না বলে চুপচাপ চলে গেলো। . বিল দিতে মুহিব কাউন্টারের দিকে হাঁটা দিলো। রাত প্রায় পৌনে একটা। ওর পৌঁছে যাবার কথা দশটার আগেই। পথে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ায় এলাকার লোকজন ঘন্টা তিনেক রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিলো। . হোটেলটায় তেমন কাস্টোমার নেই। এত রাতে অবশ্য থাকার কথাও নয়। কাউন্টারে যে মেয়েটা বসে আছে, দেখে বেশ চটপটে বলে মনে হলো। মুখে একটা হাসি লেগে আছে। . "আপনার এইট্টি টাকা হয়েছে স্যার।" . - বলেন কি? এত সস্তা? মাংস দিয়ে চার চারটে পরোটা খেলাম, তার সাথে এত সুন্দর এক কাপ চা। তারপরও বিল মাত্র আশি টাকা? কোথাও ভুল হচ্ছে না তো? . "নো স্যার। এইট্টি টাকা।" . - আপনার মাংসের স্বাদটা কিন্তু চমৎকার। মুহিব একটু খাতির জমানোর চেষ্টা করে। . "থ্যাংক ইউ, স্যার।" . - আচ্ছা, আপনাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা নেই? মানে উপরে রুম টুম নেই? . "নো স্যার, এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা নেই।" . - প্লিজ, দেখুন না একটা ব্যবস্থা করা যায় কি না। আমি অন্য রুটের একটা বাসে উঠেছিলাম, তাই বাসটা আমাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে গেছে। আশেপাশে কোথাও কিছু দেখছি না। শুনেছি বাজারটাও নাকি এখান থেকে দু'মাইল দূরে। এত রাতে কিভাবে যাবো বুঝতে পারছি না। . "আপনি একান্তই থাকতে চাইলে শুধু আজ রাতটা থেকে যেতে পারেন।" . - ওফ, থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। মুহিব হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। . "তবে একটা শর্ত আছে স্যার, আপনাকে সূর্যোদয়ের আগেই রুম ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে হবে।" . - কেন, আমি যদি দু'দিনের জন্য থাকতে চাই? . "এখানে দু'দিন থাকার কোন ব্যবস্থা নেই।" রোবটের মত কণ্ঠস্বরে মেয়েটা জবাব দিলো। . . মুহিবকে যে রুমটা দেয়া হয়েছে, সেটা ভালোই বলা যায়। মফস্বলে এর চাইতে ভালো রুম আশা করাটা বোকামী। বাস জার্নিতে শরীরটা খুব ক্লান্ত ছিলো, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটা ধপ করে মাটিতে রেখে বিছানায় শুতে না শুতেই ঘুমিয়ে পড়লো মুহিব। . দুঃস্বপ্ন দেখছিলো মুহিব। কে যেন ব্যথায় গোঙাচ্ছিলো, বার বার ছেড়ে দিতে বলছিলো। এর মধ্যেই দরজায় দুম দুম বাড়ির শব্দে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো মুহিবের। বালিশের পাশে খুলে রাখা হাত ঘড়িটায় সময় দেখলো, সাড়ে চারটা। কে এলো এই সময়ে? . চোখ ডলতে ডলতে গিয়ে দরজা খুলে দিলো মুহিব। দরজার বাইরে কাউন্টারের মেয়েটা আর সেই ওয়েটারটা দাঁড়িয়ে। . "চলুন, আপনাকে রুম ছেড়ে দিতে হবে।" . - এখন? এই রাত দূপুরে? . "এখন রাত দূপুর নয়। একটু পরেই ভোরের আলো ফুটে উঠবে। রুম দেবার আগে আপনাকে বলে দেয়া হয়েছিলো।" . - আচ্ছা ঠিক আছে, আপনারা যান, আমি টয়লেট থেকে ফ্রেশ হয়ে আসছি। . "আর এক মূহুর্তও সময় দেয়া যাবে না আপনাকে।" . মেয়েটা চোখ দিয়ে ইশারা করতেই ওয়েটারটা রুমে ঢুকে মুহিবের ব্যাগটা নিয়ে আসলো। তারপর দু'জনে মিলে প্রায় গলা ধাক্কা দিয়েই মুহিবকে হোটেলের বাইরে রেখে আসলো। . রাতের হাসিখুশি মেয়েটার সাথে এখনকার মেয়েটার আচরণ যেন ঠিক মেলাতে পারছে না মুহিব। মেজাজটা পুরো খিঁচড়ে আছে। ঘুমটাও ঠিকমত হলো না। . আশেপাশে কোন রিকশা, ভ্যান, অটো বা লেগুনা টাইপ কিছুই চোখে পড়ছে না। মুহিব ঘুম ঘুম চোখে হাঁটা দিলো। দূরে কোথাও থেকে আযানের সুর ভেসে আসছে। তারমানে আশেপাশে কোথাও মসজিদ আছে। মসজিদে গেলে অন্তত হাতমুখটা ধুয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে। . আযানের সুর ফলো করে আর কিছুদূর গিয়ে মসজিদটা দেখতে পেলো মুহিব। মসজিদে ঢুকেই প্রথমে অযুখানার দিকে চলে গেলো মুখে একটু পানি ছিটিয়ে ঘুম ঘুম ভাবটা কাটানোর জন্য। প্রথমবার মুখে পানির ছিটা দিতে গিয়েই খেয়াল হলো, হাতের ঘড়িটা হোটেলের বিছানায় ফেলে এসেছে। তাছাড়া ওখানে যে রাত কাটালো, সেটার জন্য আলাদা কোন টাকাও দেয়া হয়নি। . হাত মুখ ধুয়ে উঠে দাঁড়ালো মুহিব। ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। হোটেলটায় গিয়ে হাতঘড়িটা ফেরৎ নিয়ে আসবে, আর এর মধ্যে যদি ওদের সকালের ব্রেকফাস্ট তৈরী হয়ে থাকে তাহলে ব্রেকফাস্টটাও সেরে আসবে। ওদের মাংস রান্নাটা সত্যিই দারুন। মুহিব সাধারণতঃ রেড মিট এভোয়েড করে। কিন্তু ওদের মেনুতে সবজি বা ডাল জাতীয় কিছু ছিলো না। . . মুহিব হতভম্ব হয়ে জায়গাটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘন্টাখানেক আগেও যেখানে তিনতলা একটা হোটেল দেখে গিয়েছে, এখন সেখানে কিছুই নেই। ভোজবাজির মত অদৃশ্য হয়ে গেছে। এটা কিভাবে সম্ভব? এইটুকু সময়ের মধ্যে এতবড় একটা বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব না, আর ভেঙ্গে ফেলা হলেও ধ্বংসাবশেষ তো থাকার কথা। . পেছনে একটা রিকশার বেল শোনা গেলো। . "স্যার, যাইবেন নাকি?" . - এই...এই... শোনো, এ.এখানে একটা হোটেল ছিলো না? . "জে না স্যার, এইখানে কোন হোডেল নাই। বাজারে ভিত্রে আছে। চলেন আপনেরে নিয়া যাই।" . - আরে না, না। এখানেই ছিলো। কাল রাতেই আমি ওখানে ছিলাম। এখন এসে দেখি নেই। . রিকশাওয়ালার চেহারায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ দেখা গেলো। . "স্যার আপনে রিকশায় উডেন। পড়ে আপনেরে সব খুইল্যা কইতেছি।" . রিকশা কিছুদূর এগোনোর পড়ে রিকশাওয়ালার মুখ খুললো; . "স্যার, আপনে কি শুদু রাইতে থাকছেন, নাকি কিছু খাইছিলেনও?" . - পরোটা আর মাংস খেয়েছিলাম। . "স্যার, রাইতে আশেপাশে কোন মানুষজন, রিকশা গাড়ি ঘোড়া দেখছিলেন?" . - না দেখিনি, সেজন্যই তো হোটেলটায় ঢুকেছিলাম। . "দেখবেন ক্যামনে? রাইতের বেলা এই পথে কেউ চলাচল করে না। ঘুরান্তি একটা রাস্তা আছে, হেইডা দিয়া যায়।" . - কেন? . "আপনে যেই হোডেলে উডছিলেন, ওইডা ভূতের হোডেল। ওই হোডেলে একবার কেউ গেলে আর ফিরৎ আহে না। কাইট্টা কুইট্টা রাইন্দা ফালায়। আপনে যে জান নিয়া ফিরৎ আইছেন, আল্লাহ্ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। আর ওই হোডেলে রাইতে যে পরোটা দিয়া মাংস খাইছেন, ওই গুলান মানুষের মাংস।" . মুহিবের মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। এজন্যই মাংসের টেস্টটা অন্যরকম লাগছিলো। . - এই তুমি রিকশা থামাও... বলতে বলতেই মুহিব হড় হড় করে রিকশার মধ্যে কাল রাতের খাবারগুলো সব বমি করে দিলো। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিলেটি হোটেল
→ তিন তারা হোটেল
→ হোটেল
→ হোটেল ব্যানারদিয়া
→ "নান্টু যাচ্ছে হোটেলে"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now