বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"হলুদ হিমু এবং মায়াবতী নীল রূপার গল্প" . ঘড়ির কাঁটায় ৩টা ২০ । দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে চলেছে । সিলিং ফ্যানটার দিকে একমনে উর্ধ্বদৃষ্ঠে চেয়ে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে হুয়ামুন স্যারের সৃষ্টি করা অদ্ভূত জীব হিমু । হিমু আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাস করেছিল কিন্তু এখন ওর পেটের ভিতর ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করছে । তাই অগত্যা উপবাস ভঙ্গ করতে হিমু তার হলুদ চাদরটা গায়ে জড়িয়ে রওনা দিল মজনু মিয়ার ভাত এবং মাছের হোটেলের উদ্দশ্যে । পাঞ্জাবীর পকেটে হাতড়িয়ে দেখল সেখানে ৩৫টাকা আছে । ৩০ টাকা দিয়েই ভরপেট মাছের ঝোল এবং ভাত খাওয়া হয়ে যাবে হিমুর । বাকি ৫টা দিয়ে রূপাকে একটা ফোন করতে হবে । হিমুর কাছে এখন উপবাস ভঙ্গ করার চেয়ে রূপাকে ফোন করা জরুরী মনে হল । তরঙ্গিনী স্টোরে পৌঁছে হিমু ফোন করল রূপাদের বাসায় । রিঙ হচ্ছে কিন্তু কেউ ফোন তুলছে না । তৃতীয়বার ফোন দিতেই হিমু এক নারী কন্ঠের আওয়াজ শুনতে পেল । হিমু কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল । ভাগ্যিস রূপার বাবা ফোনটা রিসিভ করে নি ! . -হ্যালো, কে বলেছেন ? - রূপা , আমি হিমু । - হিমু তুমি ! এতদিন পরে । তোমাকে কতগুলা চিঠি পাঠিয়েছি একটারও জবাব দাও নি । সেদিন বলেছিলে তুমি নাকি অসুস্হ । এখন কেমন আছ ? - খুব বেশী ভালো না ! -বাইরে বের হয়েছ কেন ? -আরে বাবা খেতে যাচ্ছি ! খিদে লেগেছে । -হোটেলে খাবা ? -আর কোথায় খাবো ? - নিশ্চয়ই ওই পঁচা মজনু মিয়ার হোটেলে ? - হুম । -তুমি আমাদের বাসায় আস ! -কি ? এখন তোমাদের বাসায় যাবো কেন ? -তোমাকে আসতে বলছি আস ! একটা রিক্সা নাও ! ১০ মিনিটের ভিতর চলে আসবা ! এখনই আসবা ! -কিন্তু রূপা ! -কোন কথা শুনতে চাই না ! তুমি এখনই আসবা ! না আসলে কিন্তু খবর আছে ! টুট টুট টুট... . রূপা ফোনটা রেখে দিয়েছে । হিমু কি করবো ঠিক বুঝতে পারছে না । অনেক চিন্তাভাবনার পরে হিমু অতঃপর যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিল । তাছাড়া অনেকদিন রূপার সাথে দেখা হয় না । এই সুযোগে সেটাও হয়ে যাবে । হিমু রূপাদের বাসার উদ্দশ্যে রওনা দিল । . একবার কলিংবেল বাজানোর পরপরই রূপা দরজা খুলে দিল ! মনে হচ্ছিলো যে হিমুর জন্যই অপেক্ষা করছিল ! হিমুকে দেখেই রূপার মুখটা একরাশ হাসিতে ভরে গেল । রূপা হিমুর হাত ধরে টানতে টানতে ডাইনিং এর দিকে নিয়ে যেতে যেতে বলল, -চল তোমার খিদে লেগেছে । আগে খেতে দেই ! -হুম ! কি রান্না হয়েছে আজকে ? -খুব বেশি কিছু না ! আগে জানলে ভাল কিছু রান্না করতাম ! . হিমু দেখল খাবার টেবিলের আয়োজন একেবারে খারাপ না ! বিশেষ করে চিংড়ি মাছের মালাইকারী টা বেশ দেখা যাচ্ছে । হিমু হাসি মুখে ভাত মুখে দেয় ! ভাত মুখে নিয়ে রূপার দিকে তাকিয়ে দেখে ও হিমুর দিকে অদ্ভুদ চোখে তাকিয়ে আছে । হিমুকে সামনে বসিয়ে এর আগেও ও যতবার খাইয়েছে ততবারই ওর চোখে এমন একটা চাপা আনন্দ দেখেছে হিমু ! অদ্ভুদ মায়া নিয়ে মেয়েটা ওর খাওয়া দেখছে ! হঠাৎই হিমুর চোখে পানি চলে আসতে চাইলো । তাড়াতাড়ি করে পানি মুখে দিল হিমু ! . রূপা ব্যস্ত হয়ে বলল, -কি হল ? -এতো ঝাল কেন ? -ঝাল ? কই দেখি ? রূপা খানিকটা অবাক হয়ে হিমুর প্লেট থেকে মাছের কিছু অংশ মুখ নিল ! -কই ঝাল ? -ঝাল না ? দেখ ঝালের জ্বালায় আমার চোখে পানি চলে এসেছে ! -তাই না ! ঢং ! পানি খাও ! . হিমু আবার খাওয়া শুরু করলে রূপা বলল - আরেকটা মাছ দেই ? -না থাক ! তুমি খেয়েছো তো ? -আমার খাওয়া নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ! আপনি খান ! . হিমু চুপ করে খেতে লাগল । মাঝে মাঝে হিমু রূপার দিকে তাকিয়ে দেখল ও আবার সেই অদ্ভুদ মায়ার চোখে ওর খাওয়া দেখছে ! হিমুর মনটা হঠাত্ই কেন জানি ভাল হয়ে যায় ! নীরবতা ভেঙ্গে রূপা আবার বলল , - জানো আজ পূর্ণিমা । রাতের আকাশে আজ অজস্র তারার মেলায় জোত্স্নারা খেলা করবে । - তাই নাকি ? - হুম । তুমি রাতে আবার আসবে ? তাহলে তুমি আমি দুজনে মিলে জোত্স্না দেখতাম । - আচ্ছা আসব । - সত্যি ? - হুম । . রূপার মনটা এক অদ্ভূত ভালো লাগা দিয়ে ভরে গেল । হিমু বলল, -আচ্ছা তোমার কি কোনো নীল রঙের শাড়ি আছে? -কেন বল তো? -যদি থাকে তাহলে, নীল রঙের শাড়ি পরে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকবা । আমি এলেই গেট খুলে দেবে। -আচ্ছা... . হিমুর খাওয়া শেষ হতে না হতেই রূপা তোয়ালে নিয়ে এসে হাজির ! হিমু চলে যাওয়ার আগে রূপা হিমুকে একটা নীল খামে ভরা চিঠি দিল । . হিমু নগরীর পিচ ঢালা পথ ধরে হাঁটছে । রূপার দেয়া চিঠিটা এখনও হিমুর পাঞ্জাবীর পকেটেই রয়েছে । চিঠিটা এখন হিমুর পড়তে ইচ্ছা করছে না । প্রিয় মানুষগুলোর চিঠি পড়ার জন্য প্রিয় মূহুর্তের প্রয়োছন । আর হিমুর কাছে সেই সময়টা মাঝরাত । যখন কোলাহলপূর্ণ নগরীটা শান্ত এবং নিরব হয়ে যায় । হিমুর মনে হল বাদলকে একটা কল করা দরকার । অনেক দিন ওর কোনো খোঁজ নেয় নি হিমু । তাই মেসে ফিরার আগে একবার তরঙ্গিনী স্টোরে যাওয়া দরকার । . রাত ১১টা । আকাশ ভেঙ্গে জোত্স্না নেমেছে । হিমু মেসে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে । রূপাদের বাসায় গেল না । আবারও মাসখানেক এর জন্য ডুব দিল । কেননা ভালোবাসার মানুষটির খুব কাছে যেতে নেই । তাতে ভালোবাসা বাড়ে না বরং কমে । . অন্যদিকে বাসার গেটের কাছে নীল শাড়ি পড়ে হিমুর জন্য অপেক্ষা করছে রূপা । রূপা জানে হিমু কথনোই আসবে না । তবু রূপার মত মায়াবতী মেয়েরা হিমুদের জন্য আজীবন অপেক্ষা করে... .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now