বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হযরত আবুজর গেফারী (রাঃ) একজন বিখ্যাত সাহাবীছিলেন। তিনি সেকালে জবরদস্ত বুজুর্গ এবং আলেমহিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। হযরত আলী (রাঃ)বলেন, তিনি এমন এলেম হাসিল করেছিলেন যা অন্য কেউহাসিল করতে অক্ষম। অথচ তিনি সেই এলেমের হেফাজতও করেছিলেন ।হযরত আবু জর গেফারী (রাঃ) যখন হুজুরে পাক (সাঃ) এরনবুওতের প্রথম খবর জানতে পেলেন তখন প্রকৃত তথ্যসংগ্রহের জন্য তিনি তাঁর ভাইকে মক্কায় পাঠিয়েদিলেন। মক্কা শরীফ এসে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেভাইয়ের নিকট গিয়ে রিপোর্ট দিলেন যে, আমি তাঁকেসত্চরিত্র ও সদ্ববহ্যারের জন্য লোকজনকে উপদেশ দিতেদেখিছি। এবং তাঁর নিকট এমন কিছু কালাম শ্রবণ করেছিযা কবিতাও নয় আবার জ্যোতিষীর উক্তিও নয়। আবু জর(রাঃ) এই সংক্ষিপ্ত রিপোর্টে সন্তুষ্ট হতে না পেরেস্বয়ং তিনি নিজেই মক্কা শরীফ রওয়ান হয়ে সোজাহারাম শরীফে উপনীত হলেন। তিনি হুজুরে পাক (সাঃ)কে চিনতেন না, সন্ধা পর্যন্ত তিনি ঐ অবস্থায় কাটিয়েদিলেন।সন্ধা বেলায় হযরত আলী (রাঃ) নিরাশ্রয়বিদেশী মেহমানকে সঙ্গে করে আপন গৃহে নিয়ে গেলেন।যেহেতু গরীব মুসাফির এবং অনাথদের সেবা করা তাদেরস্বভাবজাত অভ্যাস ছিল। হযরত আলী (রাঃ) লোকটিরমেহমানদারী করলেন। কিন্তু সে কে, কেনই বা মক্কাশরীফে এসেছে এবং এইসব প্রশ্ন কিছুই তাঁকে করলেন না।তৃতীয় দিন হযরত আলী (রাঃ) তাঁকে আবার বাড়ি নিয়েগেলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাই তুমি কি কাজেমক্কা শরীফে এসেছ? হযরত আবু জর (রাঃ) প্রথমে কছমদিয়ে বললেন, ভাই সত্যকে গোপন না করলে আমি বলতেপারি। অতঃপর আলী (রাঃ) এর নিকট নিজের মক্কাআগমনে উদ্দশ্য বর্ননা করলেন। সবশুনে আলী (রাঃ)বললেন, তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ নবী। সকাল বেলাআমি তোমাকে হুজুর পাক (সাঃ) এর দরবারে নিয়ে যাব।কিন্তু চারিদিকে শত্রুতার আগুন জলছে। তুমি আমার পিছনপিছন চলবে। ইতিমধ্যে শত্রু কারও সাথে দেখা হলে আমিপ্রসাব করবার অথবা জুতা ঠিক করার ভান করবার ভানকরে বসে পড়ব। তুমি কিন্তু আমার অপেক্ষা না করেচলতে থাকবে।যা হোক ভোর বেলায় তিনি (আবু জাফর (রাঃ)) আলী(রাঃ) এর সাথে হুজুরে পাক (সাঃ) এর দরবারে গিয়েউপস্থিত হলেন এবং এর কিছুক্ষণ পরেই ইসলাম গ্রহণ করেআলোর পথের অনুসারী হলেন। দয়ার সাগর হুজুরে আকরাম(সাঃ) হযরত আবুজর (রাঃ) মসিবতে পড়বেন ভেবেফরমাইলেন ,আপাততঃ তুমি তোমার ইসলাম গ্রহণ প্রকাশকরোনা , বরঃ চুপে চুপে তুমি তোমার নিজের দেশে চলেযাও। যখন আমরা জয়লাভ করব তখন তুমি চলে আসবে।তিনি বললেন, ইয়া রাসূল (সাঃ)! যেই আল্লাহর কুদরতিহাতে আমার জীবন আমি তাঁর কসম খেয়ে বলছি, বে-ঈমান কাফেরদের সামনে আমি কালেমায়ে শাহাদাতপড়ব। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মসজিদে হারামে গিয়েউচ্চস্বরে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে লাগলেন।এই কালেমা পড়িবা মাত্র চারদিক হতে কাফেরগণ জড় হইতাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং বেদম মারপিট করলেন যে,তিনি প্রায় মরণাপন্ন হয়ে গেলেন। হুজুর পাক (সাঃ) এরচাচা আব্বাস (রাঃ) যিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেন নাই,তিনি আবু জর (রাঃ) কে রক্ষা করবার জন্য তাঁর উপরহাতছানি দিয়ে শুয়ে পড়লেন।হুজুরে পাক (সাঃ) এর চাচা আব্বাস (রাঃ) যিনি তখনওইসলাম গ্রহণ করেন নি, তিনি আবু জর (রাঃ) কে রক্ষাকরবার জন্য তাঁর উপর শুয়ে পড়লেন এবং বললেন, তোমরাওনার উপর কি জুলুম করতেছ? এই ব্যাক্তি গেফার বংশেরলোক যা সিরিয়া যাওয়ার পথে অবস্থিত। এই ব্যাক্তিমৃত্যু মুখে পতিত হলে এর বংশের লোকেরা তোমাদেরসিরিয়া যাওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ করে দিবে যার ফলেতোমাদের সিরিয়ার সকল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।এতে কাফেরদের চৈতন্য হল। যেহেতু একমাত্র সিরিয়ারব্যবসা তাদের যাবতীয় প্রয়োজন মিটতো। তাই বাধ্য হয়েতারা তাঁকে ছেড়ে দিল। পরদিন আবার হযরত আবু জর(রাঃ) পূর্বের স্থানে গিয়ে সজোরে কালে পড়তেলাগলেন, আজও কাফেরগণ সববেত হয়ে তাঁর উপরঅমানুষিক অত্যাচার করল। অবশেষে হযরত আব্বাস (রাঃ)এর হস্ত্ক্ষেপে তিনি রক্ষা পেলেন।ফায়েদাঃ হুজুর আকরাম (সাঃ) এর আদেশের বিরুদ্ধচারণসাহাবীদের সম্পর্কে কল্পনা করাও চলেনা। কিন্তু তবুওকেন হযরত আবু জর (রাঃ) হুজুরে পাক (সাঃ) এর আদেশঅমান্য করে প্রকাশ্যে কালেমা ঘোষণা করলেন? তারউত্তর এই যে ,হযরত আবু জর (রাঃ) মনে করেছিলেন, হুজুর(সাঃ) তাঁর ঈপর দয়া পরবশ হয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন।অর্থ্যাৎ ইসলাম গ্রহণ প্রকাশ করলে তিনি যেমহাবিপদের সম্মুখীন হবেন তা তিনি সহ্য করেছিলেন,তিনি কেন তাঁর অনুসরনে সেই নির্যাতন ভোগের পথবেছে নেবেন না?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now