বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাত্ করে অনিক সাহেবের নিজের ছোটকালের কথা মনে পড়ে হাসি পাচ্ছে।যখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তেন তখন তো একবার স্কুলের টয়লেটে ঘুমিয়ে পড়েছিল।বাবা-মা,শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাইতো তাকে খুঁজতে খুঁজতে হতাশ।
শেষ-মেষ রাতে সবাই এসে স্কুলে খোঁজা শুরু করলেন আর টয়লটে ঘুমন্ত ছোট্ট অনিক সাহেবকে পেল।মজার ব্যাপার হচ্ছে অনিক সাহেবের এতই ঘুম ছিল যে,সে টেরই পায়নি কখন রাত হল।
অনিক সাহেব বড় হলেন,বিয়ে করলেন,বাবা হলেন,অন্য মেয়ের শ্বশুর হলেন কিন্তু তার গভীর ঘুম সেই আগের জায়গাতেই রয়ে গেল।ছোট্ট মুচকী হাসির সাথে এইসব ভাবতে ভাবতে তিনি আবার গভীর ঘুমে চলে গেলেন। . . বাসায় থাকেন অনিক সাহেব,তার ছেলে ও ছেলের বৌ।অনিক সাহেবের ঘুম কেউই পছন্দ করে না শুধু মাত্র তার স্ত্রী ছাড়া।
কিন্তু সেই মানুষটিও যে এখন আর দুনিয়াতে নেই। অনিক সাহেবের ছেলে সরকারী চাকরী করে।আর ছেলের বৌ বেসরকারী।অনিক সাহেব ও একটা বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরী করতেন কিন্তু ঘুমের কারণে সেই চাকরীটা ও যায়।তার চাকরী যাওয়ার ব্যাপারটা ও মজার। সেদিন তিনি ভালোভাবেই অফিসে গিয়েছিলেন।আর ঐ দিন অফিসে বিদেশী কোম্পানী থেকে কিছু ইনভেস্টার এসেছিল।
অনিক সাহেবের বস তাদের সাথে একটি কনফারেন্স করার জন্য ঠিক করলেন।অনিক সাহেব যদি সেই কনফারেন্স টেবিলে নাক ডেকে ঘুমান তাহলে তো অনিক সাহেবকে চাকরীতে রাখাটা তার বসের জন্য খুবই বিপত্তিজনক হয়ে যাবে।তাই অনিক সাহেবের ঘুমের কথা চিন্তা করে তাকে চাকরী থেকেই বের করে দিলেন।বস তাকে শেষ কথা বলেছিলেন “অনিক সাহেব বাসায় গিয়ে আরামে ঘুমান টেবিলে ঘুমিয়ে কষ্ট করার কোন প্রয়োজন নেই”। . .
ছেলের বউয়ের মুখে এসব কথা শুনতে অনিক সাহেবের অসহ্য লাগছে।কিন্তু কথা তো শুনতেই হবে।কারণ আজ ও অনিক সাহেবের ঘুমের জন্য আরেকটা সমস্যা বেঁধে যায়।সমস্যাটা হল যে অনিক সাহেব বাথরুমের কল বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন।আর ছেলের বউ ঘরে এসে দেখে যে অনিক সাহেব খাঁটে নিরাপদে ঠিকই ঘুমাচ্ছেন কিন্তু ঘরের সকল জিনিসপত্র ১১নং বিপদ সংকেতের কবলে।
অনিক সাহেব ছেলের বউয়ের কথা শুনতে শুনতে তার চোখটা লেগে আসে।কিন্তু তিনি আবার সজাগ হয়ে যান কারণ এখন ঘুমালে যে অনিক সাহেবের কপালে মঙ্গল বারে ও শনি এসে পড়বে।অনিক ভাবে চোখ বন্ধ করে ভাবে যে তিনি কুমিল্লা তার গ্রামের বাড়ি চলে যাবেন। . . কুমিল্লার বাসে অনিক সাহেব।কুমিল্লা যে তিনি নামতে পারবেন না সে তো জানা কথা।।
হঠাত্ করে তার চোখ খুলল দেখল সামনে হেলপার,ড্রাইভার ও দুই তিনজন দাড়িয়ে আছে।অনিক সাহেব প্রশ্ন করলো “এটা কোন জায়গা?” একজন বললো “কক্সবাজার” হেলপার বললো “আংকেলের না কুমিল্লা নামার কথা ছিল?”
অনিক সাহেব হতাশার সাথে প্রশ্ন করলেন “এখন কী হবে?” ড্রাইভার রহস্যময় হাসীর সাথে বললো “কিছুই হবে না শুধুমাত্র আমরা আপনাকে অপহরণ করে কিছু টাকা উপার্জন করবো,হা হা” এইবার অনিক সাহেবের আর ঘুম আসল না কিন্তু অপহরণকারীরা একটা ভারী বস্তু দিয়ে অনিক সাহেবের মাথায় বারী দিয়ে ঘুম পড়িয়ে দিলেন। . .
পরদিন ভোরে চোখ খোলার পর অনিক সাহেব তার অবস্থান আবিষ্কার করলেন একটা টুলের উপর হাত পাঁ বাধা।অপহরণকারীরা তাকে এসে বলল “কিরে বুইড়া সারাদিন খালি ঘুমাইবি না তোর বাড়ির ফোন টোনের নাম্বারটা দিবি?” অনিক সাহেব বললেন “ভাই আমার হাত পা আগে খুলেন সব কইতাছি আর ভয় পায়েন না পালামু না” তারা অনিক সাহেবের হাত পা খুলে দিলো।আর অনিক সাহেবের বাসার ফোন নাম্বার চাইলো কিন্তু অনিক সাহেব ভুল নাম্বার দিলো কারণ তার নিজের ও বাসায় যাওয়ার কোন ইচ্ছা নাই।
আর ও কিছু ভুল নাম্বারে অযথা টাকা খরচ করার পর তারা অতিষ্ট হয়ে গেল।কিন্তু অনিক সাহেবের বয়স বেশী বলে মারল না।তারা তখন গাড়ী চালাতে যাবে তাই অনিক সাহেবকে বলল “রাতে এসে যেন তারা নাম্বার পায়” অনিক সাহেবের উপর চোখ রাখার জন্য একজনকে রেখে গেল।সে ও বাইরে দিয়ে গেট আটকিয়ে চলে গেল।একঘুমের পর দুপুরে গেট দিয়ে সেই লোক খাবার হাতে প্রবেশ করলো।তারা অনিক সাহেবকে যথেষ্ট সম্মান করে তাই ভালো খাবারই নিয়ে এলো।
অনিক সাহেব মনে মনে ভাবলেন এতো ভাল খাবার তো তিনি বাসায় ও পান না।রাতে ও ঠিক একই কাহিনী ঘটল আর খাওয়ার পর তিনি আরামের ঘুম দিল।হেলপার ও ড্রাইভার রাতে এসে অনিক সাহেবকে ডাক দিলো কিন্তু তার গভীর ঘুমের সামনে তারা ও পরাজিত হলো এবং ঘুমিয়ে পড়লো।ভোরে অনিক সাহেব তার ছেলের নাম্বার দিলো কিন্তু সেটা বন্ধ ছিলো।আজ ও তারা চলে গেল।আগের দিনের মতো আজকের দিনটা ও অনিক সাহেবের অনেক ভালো কাটলো।রাতে তারা এসে বলল “এই বুইড়ারে দিয়া কোন কাম অইবো না দুইদিনে কত টাকা নষ্ট করাইয়া লাইছে”।
অবশেষে অপহরণকারীরা ও তার ছেলের বউ আর ছেলের মতো অনিক সাহেবের উপর অতিষ্ট হয়ে পড়লো।তারা ঠিক করলো অনিক সাহেবকে মেরে ফেলবে আর মায়া করা যাবে না।কে যেন হাতে ছুঁড়ি নিয়ে অনিক সাহেবের সামনে আসলো।অনিক সাহেব বললো “আমাকে মেরো না দয়া করে ছেড়ে দাও” :আব্বা আবার আপনার কী হইলো? :ছেড়ে দাও আমাকে ছেড়ে দাও। :আব্বা আপনে ও আজিব!পুরা ঘর পানিতে ভাসাইয়া ফালাইছেন।দুই তিনটা বকা কিনা দিছি সেইটা শুনতে গিয়া ও ঘুমাইয়া পড়লেন।আর আমি আপনারে মারমু কে? চোখ খোলার পর দেখলেন তার ছেলের বউ ছুঁড়ি হাতে দাড়িয়ে আছে।সম্ভবত কিছু কাটছিলো।
আস্তে আস্তে অনিক সাহেব বুঝলেন যে সবই স্বপ্ন ছিলো।তিনি দীর্ঘশ্বাসের সাথে বলল “বাঁচা গেল” আবার তার ছেলের বউ বলল “ভবিষ্যতে এইরকম কাজ করলে আর বাঁচবেন না,যান বাজারে যান” অনিক সাহেব বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে চলে গেলেন। :এই সেই যে বাবাকে বাজারে পাঠালাম আর তো এলো না? :চলো খুঁজে আসি। অনিক সাহেবের ছেলে আর ছেলের বউ চাঁয়ের দোকানে ঘুমন্ত অনিক সাহেবকে খুঁজে বের করলো।আর দীর্ঘশ্বাসের সাথে দুজনের মুখে একই কথা আসলো “হায়রে ঘুম!”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now