বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২০১২সালে আমি ফেসবুক চালানো
শিখি,,,,, তখন ফেসবুক নিয়ে তেমন ধারনা
ছিলো না,,, শুধু ফেসবুকে ঢুকতাম আর
ফটো আপ্লোড করতাম,,,, আর হ্যা আসল
কথা হলো গিয়ে তখন মেয়ে আইডি
দেখলেই মেসেজ দিতাম, তখন ফেইক
আইডি নামক একটা জিনিশ ফেসবুকে
আছে সেটা জানতাম না,,,,,যাকেই
পেতাম তাকেই দিতাম।।।।।
এখন আসি ২০১৫....
২০১৫ তে এসে সব কিছুই শিখে
ফেলেছি......
এখন আমি আর কোনো মেয়েকে নিজ
থেকে মেসেজ দেই না যে দেয় তার
সাথেই চ্যাটিং করি,,,,,,
যাই হোক এখন আসি আসল কাহিনীতে,,,,
২০১৭ সাল প্রায় ২ মাস ধরে একটা
মেয়ের সাথে
চ্যাটিং করতাম।মেয়েটা ঢাকঢোঁল
বাজিয়ে লিষ্টে এসেছিল।কোন ফটো বা
স্ট্যাটাস পোস্ট করলেই প্রথমেই ওর
লাইক কমেন্ট পেতাম , ,, ,, আইডি দেখে
ফেইক আইডিই মনে হয়েছিলো ।তার পরে
ও লিষ্টে রেখেছিলাম ।হাজার হোক
মেয়ে
নামের আইডিতো! আর ভালোই লাগতো
কোন মেয়ে লাইক আর ভালো ভালো
কমেন্ট করলে!
মেয়েটি প্রায়ই আমাকে নক করত।
যেহেতু আইডিটা ফেইক মনে
করেছিলাম সেহেতু চ্যাটিংয়ের ধরণটা
হাই,হ্যালো, হুম এর মধ্যে সীমাবদ্ধ
রেখেছিলাম।তাছাড়া আমার এখন
রিয়েল
মেয়েদের সাথেও চ্যাটিং করতে ভালো
লাগেনা কেমন জানি বিরক্তিকর একটা
ব্যাপার !
আর হ্যা মেয়েটি আইডির নাম ছিলো
# Angel_Fariha
যাইহোক মেয়েটির মেসেজ আসলো
একদিন ,,,,,,
চিন্তা করলাম আজ ওর সাথে ফাইনাল
কথা হবেই সে ছেলে না মেয়ে জিজ্ঞেস
করবোই আজ.....
কিছুক্ষণ কথা হলো
তারপর আমি আর কোন কথা না বাড়িয়েই
জিজ্ঞেস করলাম,আপনি ছেলে না
মেয়ে।
কথা টি জিজ্ঞেস করার কারণে
মেয়েটি টাস টাস করে চার-
পাঁচটা সেলফি পাঠিয়ে দিলো ।
ক্রাশ খাওয়ার মতো একটা মেয়ে।এইজটা
হাইজ
১৮-১৯হতে পারে।এর বেশী নয়।
কিউট একটা মেয়ে।চুচালো
নাক,চোখ দুটো টানাটানা কাজল দেয়া
মায়াবতী গোলগাল চেহারায় মেয়েটার
মধ্যে একধরণের আকর্ষিত করার ক্ষমতা
আছে।
এরপর ফটো দেখার পর সন্দেহ টা চলে
গেলো,,,আমিও চ্যাটিং এর পরিমাণ টা
বাড়িয়ে দিলাম এখন সে নক না করলেও
আমি করতাম ।চ্যাটিং করে জানতে
পারলাম,মেয়েটা আমাদের কাছাকাছি
যায়গায় থাকে।
ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ে।এক পর্যায়ে
আমাদের চ্যটিং অনেক গভীরে পৌছে
যায় এবং
ধরণও পাল্টে যায়।
দীর্ঘ দুমাস রসভর্তি চ্যাট
করার পর দেখা করার চাপ দিলাম। কিন্তু
কোনো এক কারণে মেয়েটা দেখা করার
বিষয়টি এ্যাভোয়েড করত।পরে আমার
চাপাচাপিতে দেখা করতে রাজি হলো।
যাওয়ার সময়ে হাই লেভেলের
সাজগোজ করে দেখা করতে গেলাম।
মনে সেই কনফিউশন।মেয়েটি আমার মত
ছেলেকে লাইক করবেতো(!)অনেক
সাধনার ফসল।এর আগে ও ৪-৫ জন
সুনয়না ফচকে গেছে। এটাকে ফচকানো
যাবেনা। তাই এই হাই ল্যাভেলের
সাজগোজের
আয়োজন।সাথে ছুটো আব্বুর ডিস্কবার
মটরসাইকেল,,, যেভাবেই হোক আজ
নিজেকে স্মার্ট
হিসেবে প্রেজেন্ট করতেই হবে!!
আজকাল ও ভার স্মার্টের অনেক কদর(!)
যাই হোক যথাসময়ে নির্দিষ্ট স্থানে
দেখা করার
জন্য ওয়াইট করছিলাম ।যে টাইম ফিক্সড্
করা
হয়েছিলো তা হতে এক ঘন্টা বেশী পার
হয়ে গেছে।এখনো দেখা নেই।কথা ছিল
গোলাপি কালারের শাড়ি পড়ে আসবে।
তাই প্রচন্ড আক্রশ আর বিরক্তি নিয়ে
বসে আছি।
পাক্কা একঘন্টার পর কাংখিত সেই
মেয়েটির দেখা।
ভাবলাম এই মহিলা হয়তো মেয়েটির
পিসি বা খালা জাতীয় কিছু হবে।বাট
নাহ্! আমার সেই সুনয়না।ভুতের মতো
চোখ,ভাঙ্গা গাল।মুখে বয়সের চাপটা
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।।।।।।বয়সটা
৩০ আপ হবে।
যাইহোক ভাবলাম এসেছি যখন তার এই
ফ্রটের
কাহিনাটা জানা দরকার।কৌতুহল
নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
-- ম্যাম,এত লেট করলেন কেন? রাস্তায়
প্রবেলেম ট্রবেলেম হয়নিতো?
মেয়েটি পোকলা দাঁত বের করে বলল ,
-- নাহ্ হয়নি।বের হতে একটু সময় লেগেছে
আরকি।
মুখ হতে একধরনের দুর্গন্ধ সরাসরি আমার
নাকে এসে লাগল।বুঝলাম হারামীটা
কত কাচরা টাইপের।
-- ম্যাম ওই পিকচারটা কি আপনার ছিল
যা আমাকে সেন্ড করেছেন?
বেচারি থাকুমুকু হয়ে বলল,,,,,
-- নাহ্! আসলে ওটা আমার ছোট বোনের
পিক সেন্ড করেছিলাম।
-- তাহলে সে আসেনি কেন?
-- সে আসবে কেন? আসার কথাতো
আমার! কেন আমাকে আপনার ভালো
লাগনি........?
-কি যে বলেন না আপনাকে অনেক ভালো
লেগেছে,,,,,
মেয়েটিকে বললাম আপনি একটু বসেন
আমি ১ নাম্বার টা সেরে আসি,,,,
মেয়েটি পোকলা দাত বেড় করে হে হে
করে হাস্তে লাগলো,,,,
তখন মনে হয়েছিলো থাপ্পড় দিয়া সব
দাত ফালাইয়া দেই।।।।।
যাইহোক মেয়েটার সাথে আর কথা না
বলে ১ নাম্বারের বাহানা করে
তাড়াতাড়ি ছটকে পড়লাম।
তারপর আর কি আমি আরো একবার
রিয়েলাইজ করলাম।।।।।
" অভাগা যে দিকে যায়,সাগরও
শুকিয়ে যায়।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now