বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমরা প্রাচীন গল্পে জন্তু-জানোয়ার, পশুপাখিগুলোর ভূমিকা এবং তাদের ব্যবহারের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছিলাম। এইসব গল্প যারা আবিষ্কার করেছেন তাঁরা মনে করেন গল্পগুলোকে কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। যেমন আঙ্গিকগত দিক থেকে, গল্পগুলোর চরিত্র এবং তাদের কর্মকাণ্ডের দিক থেকে, গল্পগুলোর ঘটনাপঞ্জি এবং এগুলোর বিষয়বস্তু ইত্যাদি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাচীন এই গল্পগুলোকে বিচার বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। সাহিত্যপ্রেমি বন্ধুরা আশা করি এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন-এ প্রত্যাশা রইলো। এবারে আমরা ‘হাতীর দল এবং খরগোশে’র কাহিনীকে উপজীব্য করে বর্ণিত একটি গল্প শুনবো। আশা করি গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে।
সেই প্রাচীন কালের কথা। পৃথিবীর দূর কোনো প্রান্তে একটা পানির উৎস বা ঝর্ণা প্রবাহ ছিল। পানিভর্তি ওই প্রবাহের পাশেই পরম আনন্দে সুখে শান্তিতে বাস করতো এক দল হাতী। এই যে ঝর্ণাধারার পানির প্রবাহ এই পানির মূল উৎস হলো বৃষ্টি। যতো বৃষ্টি বেশি হতো ততো বেশি বরফ জমতো। আর সেই বরফ গলা পানি থেকেই ঝর্ণাপ্রবাহের সৃষ্টি হতো। কিন্তু এক বছর তেমন একটা বৃষ্টি হলো না। বৃষ্টি না হবার ফলে ঝর্ণাধারার পানি কমতে কমতে একেবারে শুকিয়ে গেল। হাতীগুলো পড়ে গেল মহা দুশ্চিন্তায়। তারা এখন পানি খাবে কোত্থেকে। হাতীদের রাজা আদেশ দিলো পানিময় আরেকটি উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বেড়াতে। হাতীর দল খুঁজতে বেরিয়ে গেল এবং একটি সুন্দর জায়গাও বের করে ফেললো-পানিভর্তি ঝর্ণাধারার তীরে। সবাই সেখানে চলে গেল।
ঝর্ণাধারাটি ছিল ঠাণ্ডা পানির। চমৎকার ওই ঝর্ণাপ্রবাহের তীরে বাস করতো একদল খরগোশ। পানির পিপাসায় ক্লান্ত শ্রান্ত হাতীরা যখন ঝর্ণাধারাটি দেখতে পেলো পানি খাবার জন্যে ব্যতিব্যস্ত হয়ে দৌড়ে গেল নালাটির দিকে। খরগোশের দিকে তাকানোরও ফুরসৎ হলো না তাদের। এদিকে বিশালদেহী হাতীর মস্ত ভারি পায়ের নীচে পিষ্ট হয়ে মারা পড়লো বেশ কিছু বাচ্চা খরগোশ। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে খরগোশগুলো তাদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে পালিয়ে গেল। হাতীগুলো প্রতিদিনই পানি খেতে আসতো এই ঝর্ণাপ্রবাহেন কাছে। খরগোশেরা তাই ভীষণ বিরক্ত এবং অসন্তুষ্ট ছিল হাতীদের ওপর।
বিশেষ করে হাতীদের কারণে তারা তাদের সুখ শান্তি হারিয়েছে, হারিয়েছে তাদের স্বাধীন জীবন যাপন, হারিয়েছে নিশ্চিন্তমনে পানি খাবার প্রশান্ত পরিবেশ। যখনি তারা পানি খেতে ঝর্ণাধারার কাছে যাবার চেষ্টা করতো, দেখতো সেখানে ঘুরঘুর করছে প্রকাণ্ড কটা হাতী। তারা তাই পানির কাছে যেতে ভয় পেতো। তাছাড়া হাতীগুলো পানি খেতে গিয়ে পুরো পানিকেই ঘোলা করে ফেলতো, দূষিত করে ফেলতো। খরগোশেরা মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। কী করা যায় ভাবতে শুরু করলো। পরষ্পরে আলাপ আলোচনা, শলা পরামর্শ করতে লাগলো। একটি খরগোশ ছিল বেশ বয়স্ক এবং চালাক চতুর। সে বলে উঠলো: ‘আমি একটা উপায় খুঁজে বের করেছি। অচিরেই এমন একটা কাজ করবো যে হাতীগুলো আর এই ঝর্ণাধারা ধারেকাছেও আসবে না’।
খরগোশেরা তো অবাক হয়ে জানতে চাইলো: কীভাবে? তোমার মতো একটা দুর্বল হাতী কীইবা করতে পারে? তুমি কি পারবে ওই মস্তবড়ো এবং শক্তিমান হাতীগুলোর সাথে লড়ে তাদেরকে পরাজিত করে এখান থেকে তাড়িয়ে দিতে? বৃদ্ধ এবং চালাক খরগোশ কিছুই বললো না। একরাশ বিস্ময় আর রহস্যের আবরণে ঢেকে রাখলো খরগোশদের কৌতূহলী মন।
সেই রাত ছিল চতুর্দশীর রাত। তার মানে পূর্ণিমার রাত। আকাশের চাঁদ একেবারে পুরো গোল, জ্বলজ্বলে। বৃদ্ধ এবং চালাক খরগোশটি রাতে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চীৎকার করে উঠলো। খরগোশের চীৎকার হাতীগুলোর কানে গিয়ে পৌঁছলো। তারা পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকিয়ে দেখতে চেষ্টা করলো ব্যাপারটা কী। হাতীগুলোকে জড়ের হতে দেখে খরগোশ বললো: “হে হাতীর দল! সতর্কতার সাথে শোনো! আমি হলাম চাঁদের দূত! চাঁদের পক্ষ থেকে আমি এসেছি তোমাদের সাথে কথা বলতে। চাঁদ বলেছে তোমরা এমন এক ঝর্ণার পাশে এসে অবস্থান নিয়েছো যা আসলে চাঁদের জন্যে নির্দিষ্ট। তোমরা যদি আরো কিছুদিন এখানে থাকো তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই ঝর্ণার পানি শেষ হয়ে যাবে। তাই চাঁদ চাচ্ছে তোমরা যতো দ্রুত সম্ভব এখান থেকে চলে যাও। চাঁদ তোমাদের ওপর ভীষণ বিরক্ত”।
হাতীদের সর্দার বললো: চাঁদ বিরক্ত! তা কী করে হয়! আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
খরগোশ বললো: ঠিক আছে। বিশ্বাস না হলে চলো তুমি নিজেই দেখো!
হাতী এ কথা শুনে কৌতূহলী হয়ে উঠলো এবং খরগোশের সাথে এগিয়ে যেতে লাগলো চাঁদের বিরক্তির ব্যাপারটা দেখার জন্যে। যেতে যেতে তারা ঝর্ণাপ্রবাহের কাছে গিয়ে পৌঁছলো। পূর্নিমার পূর্ণ চাঁদের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো পানির ভেতর।
খরগোশ হাতীকে বললো: ‘এখন যদি তুমি চাঁদের বিরক্তি দেখতে চাও তাহলে তোমরা শুঁড়টাকে ওই পানির ভেতরে দাও’।
হাতী তার শুঁড়টাকে পানিতে ঢোকাতেই পানিতে ঢেউ উঠলো এবং চাঁদের প্রতিচ্ছবিটা এঁকেবেঁকে দুলতে শুরু করলো। হাতী ওই দৃশ্য দেখে ভাবলো সত্যিই চাঁদ রেগে গেছে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে কাঁপতে শুরু করেছে। সে খরগোশকে বললো: “ঠিকই বলেছো তুমি। আমাদের উচিত যতো দ্রুত সম্ভব এখান থেকে চলে যাওয়া। আশা করি একটা ভালো জায়গা আমরা পেয়ে যাবো। আমি যাই, হাতীদেরকে বলবো আজ রাতেই এখান থেকে চলে যেতে”।
সত্যি সত্যিই হাতী তার সঙ্গীদের কাছে গিয়ে বললো: শোনো তোমরা! খরগোশ ঠিকই বলেছে। আমাদের পানি খাওয়া কিংবা পানি দূষণ করার কারণে চাঁদ হাতীদের ওপরে খুবই অসন্তুষ্ট। তাই আমাদের উচিত আজই এই স্থান ত্যাগ করে অন্য কোনো স্থানে চলে যাওয়া। নৈলে এখানকার পানিও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে।
হাতীর সর্দার কথায় সব হাতীই ঝর্ণার তীর ছেড়ে চলে গেল অন্য কোনো স্থানে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now