বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- অামি তোমাকে
ভালবাসি..
তাহলে অামার সাথে
এখন এত খারাপ
ব্যবহার কর কেন? (পরী)
-- কি বললা খারাপ
ব্যবহার করি? ভাল না
লাগলে ব্রেকঅাপ করে
ফেল। (অামি)
-- সরি
-- কিসের সরি।সব
কিছুতেই তোমার সরি।
রিলেশনই রাখবনা
তোমার সাথে।
-- প্লিজ এমনটা
করিওনা।
-- চুপ থাকো।
-- অামি তো তোমার
সাথে রিলেশন করতে
চাইনি।তুমিই তো
অামাকে নানান কথা
বলে তোমার প্রতি
মায়া সৃষ্টি
করছ..তাহলে এখন তুমিই
অামার সাথে এত
খারাপ ব্যবহার কেন
কর?
-- বলছিনা চুপ
থাকো...এত প্যাচাল
ভাল্লাগেনা।
-- বাহ..!! অাগে অামার
সাথে একটু কথা বলার
জন্য কত কিছু করতা।অার
এখন অামার কথাই
শুনতে ইচ্ছে করেনা।
-- ধুর ফোন রাখলাম
বাই।
বলেই কলটা কেটে
দিলাম।অার বন্ধ করে
দিলাম। ধুর অার
ভাল্লাগেনা ওরে ,সহ্য
হয়না। কেন যে এত
প্যারা দেয়..!! যাক
শান্তিতে একটা ঘুম
দেওয়া যাবে।
.
সকালে ঘুম ভাঙার পর
ফোনটা অন করলাম।
অবশ্য সারারাত চার্জে
বসিয়ে রাখছিলাম।
ফোন অন করার সাথে
সাথেই পাখির
কিচিরমিচির মত শব্দ
করে এত্তগুলো মেসেজ
অাসল।দেখলাম 51 টা
মেসেজ..!! সবগুলাতেই
সরি অাছে। অার
একেকটা মেসেজ যেন
একেকটা রচনা।অামি
সারমর্মের মত Its Ok
বলে রিপ্লে করলাম।
দেখি সাথে সাথেই
ফোন দিছে।ফোন দিয়েই
মেয়েটা কান্নাকাটি
শুরু করছে। অাচ্ছা মাত্র
ঘুম থেকে উঠলাম।এর
মাঝেই কেউ ফোন দিয়ে
কান্নাকাটি শুরু করলে
কি ভাল লাগে??
মেজাজটা খুব খারাপ
হয়ে গেল।
-- তুমি এই নেকামি
করার জন্য ফোন দিছ?
-- তুমি জানো অামি অাজ
সারারাত ঘুমায়নি।
-- তো অামি কি তোমাকে
নিষেধ করছিলাম?
-- না কিন্তু তুমি রাগ
করে ফোন কেটে দিলা।
অামি কিভাবে ঘুমাই
বল?
-- জানিনা...সকালে না
খেলে খেয়ে নিয়
রাখছি
-- খেয়ে নিয় মানে কি?
বল যে খেয়ে অাসো..পরে
কথা বলছি।
-- অাজব তো..!! তোমার
কাছ থেকে অামার কথা
শিখতে হবে?? ধুর
তোমার সাথে অামার
রিলেশন করাটাই ভুল
হয়েছে,সবকিছুতেই
তোমার ভুল ধরতেই হবে।
-- অাচ্ছা অাচ্ছা সরি।
অামি খেয়ে নিব।তুমিও
খেয়ে নিয়।
-- যা ইচ্ছে হয় কইর
বাই।
.
এই মেয়েতো খুব অাজব।
শান্তিতে ঘুমাতে
দিবেনা।অাবার ঘুম
থেকে উঠলেও বকবক শুরু
করবে।কেন যে এইডার
সাথে রিলেশন
করছিলাম।অন্য কেউ
হলে কবেই চলে যেত.....
.
সারাদিন বন্ধু-
বান্ধবের সাথে মজা
করেই কাটিয়ে দিলাম।
ও অনেকবার ফোন
দিছিল কিন্তু রিসিভ
করিনি।বন্ধুরা যখন
বলছিল কি রে এত ফোন
দিতেছে কে? তখন
বলছিলাম অার
বলিসনা...একদম
তেজপাতা করে দিছে
জীবনটাকে,বলেই সবাই
হো হো করে হেসে
উঠলাম।
রাত্রে বাসায় ফিরে
নিজেই ফোন দিলাম।
-- হ্যালো।
-- এই কোথায় ছিলা
সারাদিন?
-- কোথায় ছিলাম
মানে !!
-- জানতে পারিনা কি?
-- জানতে পারো ,কিন্তু
যেভাবে বলছ মনেহয়
অামাকে সন্দেহ কর।
-- না না সন্দেহ না।
-- তাহলে ফোন
দিলাম..জিজ্ঞাস
করবা,কেমন অাছি কি
করি..তা না উল্টা বলছ
সারাদিন কই ছিলাম।
অাসলে কি জানো তুমি
অামায় বিশ্বাস'ই
করনা।রাত্রে খেয়ে
নিয়..ভাবছি অনেক্ষণ
কথা বলব তা না দিলা
মনটাকে খারাপ
করে..তারাতারি ঘুমাই
পইড়।শুভরাত্রি।
-- হ্যালো হ্যালো শোন
-- কি বলবা বল?
-- একটা কথা বলি তুমি
রাগ করবা না তো?
-- বল কি বলবা?
-- অাজ না একটা ছেলে
অামাকে কল
দিছিল..অামি নাম্বার
চিনিনা তাই রিসিভ
করছিলাম...ছেলেট
া নাকি অামায় পছন্দ
করে.পরে অামি ফোন
কেটে দিছি..নাম্বারও
ব্ল্যাকলিষ্টে রেখে
দিছি হিহিহিহি
-- এত হাসার কি হল..!! ও
এক ছেলে পছন্দ
করে,অাবার ফোনও
দিছে কারণে মন
খুশিতে নেচে উঠছে
তাইনা?? ছি: অন্য একটা
ছেলের জন্য অামার
কোন খোজ নিলানা
অাজ।
-- তোমায় অনেকবার
ফোন দিছিলাম তো..
ধুর ফোনটাই কেটে
দিলাম।
.
মেয়েটাকে কষ্ট দিলে
মুখে একটা রহসম্যয়
হাসি ফুটে উঠে সবসময়
ঝগড়ার সময় ওকেই দোষ
দেই।অার ও এতে
নিজেকে অপরাধী মনে
করে।অার কখনো অামার
সাথে রাগ করলে
ইমোশোনালি ব্ল্যাক
মেইল করে বিভিন্ন
কথা বলি।
তখন উল্টা নিজেই
অামায় সরি বলে।
অর্থাৎ দোষ ওর
থাকলেও ওকেই সরি
বলতে হবে,অামার দোষ
থাকলেও ওকেই সরি
বলতে হবে।
তো এভাবেই চলছিল।
সবসময় ওকে ঝাড়ির
উপর রাখতাম। অন্য কোন
রাগও ওর উপর প্রয়োগ
করতাম।কিন্তু মেয়েটা
মৃদু হাসিতেই সব মেনে
নিত।ইদানিং সময়
নামক জিনিসটাকে ওকে
একদমই দেয়া হয়না।
.
.
হঠাৎ একদিন ও বলল ওর
নাকি বিয়ে ঠিক হইছে।
এইটা শুনে অামার এত্ত
খুশি লাগছিল।যা বলে
বুঝানো সম্ভব না ।
বন্ধুদের সাথে পার্টিও
দিছি।
মনে হচ্ছিল বাঁচলাম।
কিন্তু শেষ দোষটাও
ওকেই দিব।
তাই অারো কিছু
ইমোশোনালী কথা
বলতে থাকলাম।
-- কি !! তুমি বিয়ে করে
নিবা।অামার কি হবে..!!
অাসলে মেয়েরা এমনই
হয়, ভালভাসে একজনকে
অার বিয়ে করে
অারেকজনকে।তোমাক
ে এত ভালবাসার এই
প্রতিদান দিলা...
অাসলে সব মেয়েরাই
এক।
-- অামি কি করব বুঝতে
পারছিনা..তুমি প্লিজ
কিছু কর।তুমি প্লিজ
তোমার মা-বাবাকে
অামার বাসায়
পাঠাও..... উনারা কিছু
একটা করবেন।অামি
তোমাকে ছাড়া থাকতে
পারবনা।
-- অামি কিছু
জানিনা..অামি তোমাকে
বিশ্বাস করছিলাম।তুমি
শেষপর্যন্ত অামার
থেকে চলে যাচ্ছ।
-- প্লিজ এমন করে
বলিওনা।
-- তো কেমন করে বলব!!
কেন যে তোমাকে এত
ভালবাসছিলাম...!!
নিজের কাছেই লজ্জা
লাগছে।কাকে
ভালবাসছি অামি?
একটা স্বার্থপর কে?
-- (মেয়েটা কাদছে)
অার অামি তো মনে মনে
হাসছি।
.
এভাবেই অারো
কয়েকদিন চলে গেল।
অাজ মেয়েটার বিয়ে।
ওর বিয়ে হওয়াতে
অামিই মনেহয় সবচেয়ে
খুশি হয়েছি।
বিকাল 5টার দিকে
একটা ফোন
অাসল..রিসিভ করার পর।
-- খুব ইচ্ছে ছিল।
তোমাকে নিয়ে বাকীটা
জীবন কাটিয়ে দিব।
কিন্তু তা অার হলনা।
অাচ্ছা তুমি কি একটা
সত্যি কথা বলবা? তুমি
কি অামায় সত্যিই
ভালবাসছিলা ?
-- হ্যাঁ ( জানিনা এটা
সত্য নাকি মিথ্যা)
-- তুমি প্লিজ ঠিকমত
খাওয়া-দাওয়া করিও।
অামি তো তোমার অার
খোজ নিতে পারবনা।
রাত করে বাসায়
ফিরনা কেমন? খুব তো
বলতা অামি তোমাকে
প্যারা দেই।অাজ থেকে
অার দিবনা...প্লিজ ভাল
থেকো।নিজের যত্ন
নিয়....তোমাকে চিরতরে
মুক্ত করে দিলাম....
বরপক্ষ চলে অাসছে।
অার কথা বলতে
পারবনা।তুমি অামায়
কিছু বলবানা?
-- হ্যাঁ ভাল থেকো
অার কিছু বলার অাগেই
দেখলাম মেয়েটা ফোন
কেটে দিছে।
এই প্রথম ওর জন্য বুকের
মাঝে চিনচিন ব্যাথা
অনুভব হচ্ছিল।
তারপরও মনকে শান্তনা
দিচ্ছিলাম।যাক ভালই
হল হাফ ছেড়ে বাঁচলাম
।
অাজ রাত্রে অার
বাইরে গেলাম না।
মনের অজান্তেই ফোনটা
বন্ধ করে চার্জে দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে ঘুম ভাঙার পর...
যখন ফোন অন
করলাম..অাজ অার
পাখির কিচিরমিচির
শব্দের মত কোন মেসেজ
অাসলনা।
তখন খুব রাগ হল।
ভাবলাম ওকে ফোন
দিয়ে কয়েকটা ঝাড়ি
দেই।পরক্ষণেই মনে হল
ও তো অার নেই।মেসেজ
দিবে কে? অামিই বা
কাকে ঝাড়ি দিব...!!
কেমন যেন অদ্ভুত এক
শূন্যতা অনুভব করতে
লাগলাম।মনটা ডুকরে
কেদে উঠল।
.
যখন দাত ব্রাশ করে মুখ
ধুইতে গেলাম।দেখলাম
চোখ গুলো কেমন ভিজে
যাচ্ছে...
ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের
হলাম।
সারাটাদিন কোনভাবে
কাটাইলাম।অাজ
সারাদিন একবারও ওর
ফোন কেটে দিতে হয়নি।
কারণ ফোনই তো
অাসেনি।কাটব
কিভাবে..!!
বাসায় ফিরে কেন
জানি ওকে অারো
বেশি মিস করতে
লাগলাম।
না অাজ কোন মেসেজ/
ফোন অাসেনি।
অনেক কষ্টে ঘুমাইলাম।
পরদিন সকালেও সেইম
ঘটনা ঘটল।
অাজ ওকে অারো বেশি
মিস করতে লাগলাম।
সময় যতই যাচ্ছে..ততই
ওর কথা তত বেশি মনে
হতে লাগল।
একটা সময় ঘরের দড়জা
বন্ধ করে পাগলের মত
কাদতে লাগলাম।
অামার মন শুধু বলছিল...
'' এর জন্য তুই'ই দায়ি
যখন ভালবাসা
পেয়েছিলি।তখন তো
সেটা অবহেলা
করেছিলি..অাজ তবে
কেন কান্না
করতেছিস!!''
.
ঠিকই তো..
প্রথমে অামিই ওর
পিছে পিছে কত ঘুরতাম।
ও অামাকে পাত্তাই
দিতনা।কত কি বলে ওরে
রাজি করাইছি.. কখনো
কষ্ট দিবনা তোমায়/
সারাজীবন ভালবেসে
যাব/অামি সব
ছেলেদের মত না/
কখনোই তোমার চোখে
পানি অাসতে দিবনা/
খুব ভালবাসব
তোমায়...এরকম কত কি
বলতাম....
.
অার ভালবাসা পাওয়ার
পর কতই না অবহেলা
করেছি।
ও অাগে অামাকে
প্রায়ই বলত। ''
ভালবাসা হারিয়ে
গেলেই বুঝা যায় তা কি
ছিল'' কিন্তু তখন
কথাটার মানে বুঝতাম
না।এখন বলি..যদি
একটাবারও বুঝতে
পারতাম...ভালবাস
া হারানোর পর অামার
এত কষ্ট হবে..তাহলে
কখনোই তা হারিয়ে
যেতে দিতাম না।
.
এখন মাঝে মাঝে খুব
কান্না করে বলতে
ইচ্ছে করে..
* একবার ফিরে অায়
প্লিজ
* কখনোই কষ্ট দিবনা
তোকে
* তুই রাগলে যেভাবেই
পারি রাগ ভাঙাব।
* কোন মিথ্যে বলবনা।
* খুব ভালবাসব তোকে
* কখনোই অার অবহেলা
করবনা।
* প্লিজ ফিরে অায়..
* তোর সাথে যে খুব মন
খুলে কথা বলতে ইচ্ছে
করে।
এরকম অনেক না বলা
কথাই রয়েছে ওর জন্য।
কিন্তু ও অার ফিরে
অাসবেনা। অামার এত
কিছুর জন্য তো অামিই
দায়ি।
.
.
>> ভালবাসার জন্য
একসময় সবাই পাগল
থাকি..কিন্তু যখন
অামরা সত্যিকারের
ভালবাসা পেয়ে
যাই,তখন সেটাকে অার
মূল্য দেইনা
অবহেলায়ই তা হারিয়ে
ফেলি।হারানোর পরই
বুঝা যা তা কি
ছিল...কতটা কষ্টের........
ভেবে দেখুন তো..
অাপনি চাইলেই
বাড়ি,গাড়ি সব করতে
পারবেন।টাকার
জন্য,রুপের জন্য
অনেকেই অাপনাকে
ভালবাসবে।কিন্তু
সত্যিকারের ভালবাসা
পাবেন কি? না পাবেন
না..তাই কেউ যদি
সত্যিকারের ভালবাসা
পেয়ে থাকুন..প্লিজ তা
হারিয়ে যেতে দিয়েন
না। এখন হয়তো তা
অাপনার কাছে বিরক্ত
লাগতে পারে কিন্তু
যখন সেটা হারিয়ে
যাবে..বুঝতে পারবেন
কি হারিয়েছেন জীবন
থেকে। একসময় খুব
কাদবেন।কিন্তু অার
ফিরে পাবেন না.............
..তাই ভালবাসাকে
হারিয়ে যেতে না
দিয়ে ভালবেসে
ভালবাসাকে ধরে রাখুন
..........>
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now