বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হারানো সুর। (সুমু)
.
লিখাঃ Al Farabee (ক্যাপ্টেন ফারাবী)
.
---- ইরি, বলতে পারো,
আমার চোখে জল কেনো?
---- আমি সরি।
---- আমার বুকে কষ্ট কেনো?
---- আমি সরি।
---- আমার মুখে নষ্টের মানচিত্র ভাসে কেনো?
---- সরি ফারাবী।
---- কিসের সরি ইরি?
কেনো সরি?
---- তোমাকে নষ্ট করার জন্য।
---- আমি তো নষ্ট হতে চাইনি রে,
কেনো করলে?
---- কিছু বলার নেই।
---- গুড, ভেরী গুড।
---- জীবনটাকে নতুন করে সাজাও।
---- কার জীবন?
---- তোমার জীবন।
---- এখনো আছে বলে মনে হয়?
---- (নিশ্চুপ)
---- নড়াচড়া করলেই বুঝি জীবন থাকে ইরি?
---- ( নিশ্চুপ)
---- বলো ইরি,
চুপ করে থেকো না।
কেনো এমনটা করলে?
কি পাপ ছিলো আমার?
কি ক্ষতি করেছি তোমার আমি?
কেনো এতোটা নির্দয়ভাবে আমাকে তুমি কুচি কুচি করেছো?
উত্তর দাও,উত্তর চাই.....
.
ইরি আমার সামনে থেকে উঠে চলে গেলো।
হাটার ভঙ্গিটা চমৎকার।
তবে আজকের হাটার গতিটা শ্লথ।
একটিবারের জন্যেও ইরি পেছন ফিরলো না।
অথচ আমি জলভরা চোখে তার চলে যাওয়া দেখছিলাম।
যদি সে পেছনে ফিরে তাকাতো,
তাহলে দেখতে পেতো,
কতটা ভালোবাসা নিয়ে আমি আজও তার
পানে চেয়ে আছি।
না,সে ফিরেনি।
ফিরে তাকায় নি।
একবারের জন্যেও দেখেনি।
ইরি চলে যায় উত্তর দিকে,
উত্তরহীন মুখে।
আমি বসে আছি পথের প্রান্তে,
নিশ্চুপ নতমুখে।
.
একদিন ফেবুতে গল্প লিখতেছিলাম।
তারমাঝেই একটা রিকু এলো।
"ইরিত্রা ইরি" নামে।
এবাউট ভালো করে দেখলাম।
একসেপ্ট করিনি।
পরপর ২৭ টা ম্যাসেজ করলো মেয়েটা।
তারপর একসেপ্ট করলাম।
মেয়েটা মেডিকেলে পড়ে।
টুকটাক চ্যাটিং হয়।
সময় পাইনা তেমন একটা।
নিয়মিত ফ্লাইট করতে হয়।
এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার পর ফেবুতে ঢুকতাম।
অগুনতি ম্যাসেজ জমা হতো ইনবক্সে ইরির।
আমি হাঁসতাম।
এতো টেক্সট কিভাবে করে মানুষ?!
রিপ্লে করতাম, রিপ্লে দিতো।
মোটামুটি ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো।
একদিন সানফ্রান্সিসকো হতে মন্টানা যাবার সময় বোয়িংয়ের ডান পাখার প্রথম প্রপেলার এ পাখি ঢুকে পরে।
বাধ্য হয়ে জরুরী অবতরন করি ওজিয়ানা এয়ারপোর্টে।
বিমানের প্রপেলারের ব্লেড বাঁকা হয়ে গেছে।
ঠিক করছেন এ্যারোন্যাটিকেল ইঞ্জিনিয়ারের দল।
সময় লাগবে।
আমি লগ ইন করে ফেবুতে পোস্ট করলাম ঘটনাটা।
সাথে সাথে ইরির ম্যাসেজ।
.
---- আছো? (ইরি)
---- আছি।(আমি)
---- মরার শখ জাগছে?
---- মানে?
---- তুমি হারাতে পারোনা।
---- আমি হারালে কার কি?
---- আই লাভ ইউ।
---- মাথা ঠিকাচ্ছে?
---- হ্যাঁ।
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।
---- পাগলামী বন্ধ করো।
জীবন কারো জন্য থেমে থাকবে না।
----- আমার জীবন তোমার জন্য থেমে থাকবে।
---- আবেগ তাড়াও।
---- না।
---- আমাকে উঠতে হবে।
---- না,উঠবে না।
---- প্রপেলার ঠিক হয়েছে।
মন্টানা যেতে হবে এখন।
---- খবরদার তুমি ককপিটে বসবে না।
---- আজিব! বিমান কে চালাবে?
---- কো-পাইলট।
---- তুমি আসলেই পাগল!
কো-পাইলট একা বিমান উড়িয়ে মন্টানা নেবে?
---- তুমি যেও না,
তোমাকে হারাতে চাই না আমি।
---- আমি রাখছি,
টা টা।
---- লাভিউ।
.
ককপিটে বসে আছি।
অটোপাইলট মুড অন করা।
মেঘ কেটে কেটে বিমান এগিয়ে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে।
সিটে গা এলিয়ে দিলাম।
বিকেল হয়ে আসছে।
মাথায় ঘুরছে ইরির কথাগুলো।
মেয়েটা কি আসলেই কোনো পাগলামী করবে নাকি?
কি করতে পারি আমি?
ঝোকের বসে যদি কোনো পাগলামী করে বসে,
তাহলে দায়ভার কে নেবে?
কি যে দিনকাল এলো!
কাউকে বিশ্বাস নেই।
সবগুলো একেকটা আবেগের ডিব্বা।
টেনশনে ঘুম পাচ্ছে আমার।
সবার টেনশনে ঘুম হারাম হয়,
আমার ঘুম আসে।
আমি কি উল্টো?
নাকি প্রকৃতি আমাকে উল্টো বানালো?
বুঝতে পারিনা স্রষ্টার খেল!
চোখে লেগে আসছে।
ঝিমঝিম করছে মাথা।
কো-পাইলট ইন্নিয়া তারেস্তোম সরু চোখে তাকাচ্ছে আমার দিকে।
তার দৃষ্টি কেমন কেমন জানি লাগছে।
হঠাৎ করেই অটোভোকালের তারস্বরে চিৎকার!
চীফ!
নিচে একটা সেসনা।
বিমানের নাক উঁচু করো।
কো-পাইলট ভড়কে গেলো।
আমি তড়িঘড়ি করে বিমানের নাক উঁচু করলাম।
হালকা একটা ঝাকুনি খেলো বিমান।
কো-পাইলট টাকে কাঁচা খেতে ইচ্ছে করছে।
এটাকে সিপিএল সার্টিফিকেট কি করে দিলো ভার্সিটি?
উফ্ , অসহ্য লাগছে সবকিছু।
একটু ঘুম দরকার,
শান্তির ঘুম!
.
আজ একটু লম্বা সময় ছুটি।
১৭ ঘন্টা ফ্লাইট নেই।
ঘুম দিয়েছি একটা চরম।
ঘুম হতে উঠে ফ্রেশ হয়ে অনলাইনে এলাম।
কিছু এয়ারমেইলের রিপ্লে দিলাম।
ইরি একের পর এক টেক্সট করে যাচ্ছে।
রিপ্লে করলাম।
মেয়েটার পাগলামী বেড়েই যাচ্ছে।
কিছু তো বলতেই হবে।
.
---- ইরি,তোমার প্রবলেম কি?
---- তুমি।
---- আমি কি করলাম?
---- তুমি আমার হয়ে যাও।
---- যদি না হই?
---- পাগল হয়ে যাবো।
---- I'm not পারফেক্ট for. প্রেম পিরিত।
---- আমি পারফেক্ট করে নেবো।
---- বোঝার চেষ্টা করো,
আমি আর সব পেশাজীবীর মতো নই।
---- তাতে কি?
তোমাকে আমার চাই।
---- আমার চেয়ে ভালো কাউকে পাবে।
---- কিন্ত তুমি তো আর নও।
কেনো বোঝোনা?
কত ভালোবাসি তোমাকে?
---- রিয়েলি?
---- হুম
.
অবশেষে সায় দিলাম।
নিজেকে কেমন জানি অসহায়
লাগছে।
এতোদিন তো ভালো ছি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now