বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা কইলে না। তারপর চন্দ্রবাবু আবার ঘটনার সূত্র ধরে বললেন, এইবারে এর পরের কথা। আগে আমার নিজের বক্তব্যই বলি। প্রায় একযুগ আগে চারুশীলা দেবী নামে এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমার কিছু ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তারই কাছ থেকে এক আমন্ত্রণলিপি পেয়ে আমি এখানে এসেছি। এখন আমি বেশ আন্দাজ করতে পারছি যে ওই রকম কোনো আমন্ত্রণ-লিপি বা কোনো ওজর দেখিয়ে আপনাদেরও সবাইকে এই দ্বীপে ভুলিয়ে আনা হয়েছে। যার কথায় আজ আমরা এই ফাঁদে পা দিয়েছি, নিশ্চয়ই সে আমাদের পূর্ব-জীবনের সঙ্গে পরিচিত। সেই জন্যেই সে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস করেছে।
মেজর সেন ক্রুদ্ধস্বরে বললেন, মিথ্যা অভিযোগ—যাকে বলে একেবারে বাজে ধাপ্পা!
স্বপ্না বললে, এসব অভিযোগের কোনো মানেই হয় না।
নিত্যানন্দ প্রায় অবরুদ্ধ কষ্ঠে বললে, মিথ্যা কথা—রবিশ মিথ্যা কথা! আমরা কেউই নিশ্চয়ই কোনো অপকর্ম করিনি।
মনোতোষ গজরাতে গজরাতে বললে, যে এইসব অভিযোগ করেছে, সেই মিত্থুকটা কী বলতে চায় আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
চন্দ্রবাবু হাত তুলে সবাইকে শান্ত হবার জন্যে ইঙ্গিত করলেন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন, আমি যা বলতে চাই, তা হচ্ছে এই। আমাদের অজানা বন্ধু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, আমি নাকি বরেন্দ্রনাথ বসুর মৃত্যুর জন্যে দায়ী। আমি তখন হাইকোর্টের জজ ছিলুম। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আমার কোর্টে বরেন্দ্রনাথ বসুকে বিচারের জন্যে আনা হয় — সে অভিযুক্ত হয়েছিল কোনো স্ত্রীলোককে হত্যা করার জন্যে। তার পক্ষে ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্যারিস্টার, তিনি এমন সুকৌশলে তার পক্ষ সমর্থন করলেন যে জুরিরা প্রথমটা সায় দিলেন তার কথাতেই। কিন্তু প্রমাণাদি দেখে আমি বেশ বুঝতে পারলুম, বরেনই হচ্ছে অপরাধী। জুরিদের শুনিয়ে সেই সব কথা আমি যখন বললুম, তারা তখন আমার কথারই সমর্থন করলেন, দোষী বলেই সাব্যস্ত হল বরেন বসু। আমি দিলুম তাকে মৃত্যুদণ্ড। সে পরে আপিল করেছিল, কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। বরেন বসুর ফাঁসি হয়। আমার সম্বন্ধে এইটুকুই বলতে পারি— আমার পক্ষে গোপন করবার কিছুই নেই। আমি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি এক হত্যাকারীকেই।
ডাক্তার বোসেরও মনে পড়ে গেল আগেকার কথা। বরেন বসুর মামলা। বিচারকের রায় শুনে সকলেই অবাক হয়ে গিয়েছিল। রায় দেবার আগে বরেনের পক্ষের ব্যরিস্টার তাঁর কাছে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল, আসামি নিশ্চয়ই খালাস পাবে। কিন্তু তার প্রাণদণ্ডের হুকুম হবার পর সে বলে, আসামির উপরে জজের কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ আছে। আইনে জজ চন্দ্রকান্ত একজন পাকা লোক, এ বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই। তিনি অবিচার করেননি বটে, কিন্তু বিচার করেছিলেন নিতান্ত নির্দয়ভাবে, সেইজন্যেই আসামি মুক্তি পেলে না।
ডাক্তার বোস জিজ্ঞাসা করলেন, চন্দ্রবাবু, ওই মামলার আগে আপনি বরেন বসুকে চিনতেন?
চন্দ্রবাবুর সরীসৃপের মতো ক্রুর দৃষ্টি ডাক্তারের মুখের উপর স্থির হয়ে রইল এক কি দুই সেকেন্ডের জন্যে। তারপর তিনি বললেন, না, আগে আমি তাকে চিনতুম না।
ডাক্তার নিজের মনে মনে বললেন, লোকটা যে মিছে কথা বলছে, ওর মুখ দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে।
স্বপ্না কম্পিত স্বরে বললে, আমারও কিছু বক্তব্য আছে। নীরেন্দ্রনারায়ণ নামে একটি নয়-দশ বছরের বালককে লালন-পালন করবার ভার ছিল আমার উপরে। একদিন তাকে নিয়ে পুরীর সমুদ্রে আমি স্নান করতে নেমেছিলুম। সেই সময়ে আমার অজান্তেই হঠাৎই সে সাঁতার কাটতে কাটতে খানিক দূর এগিয়ে যায়। পরে তাকে দেখতে পেয়ে আমিও সাঁতার কেটে তাকে ধরবার চেষ্টা করেছিলুম বটে, কিন্তু তার নাগাল ধরতে পারিনি। নীরেন ডুবে যায়। আমার কোনোই দোষ ছিল না। করোনারও তা স্বীকার করেছিলেন। তার বাবা কুমার নরেন্দ্রনারায়ণও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে এতদিন পরে আমার বিরুদ্ধে এই ভয়ানক অভিযোগ আনা হয়েছে কেন? এ অন্যায়—অত্যন্ত অন্যায়? বলতে বলতে তার দুই চক্ষু পূর্ণ হয়ে উঠল অশ্রুজলে।
মেজর সেন তার পিঠ চাপড়ে সাত্ত্বনা দেবার চেষ্টা করে বললেন, কাতর হবেন না স্বপ্না দেবী! নিশ্চয় এ অভিযোগ মিথ্যা। পাগল ছাড়া আর কেউ এমন কথা বলতে পারে না। সোজা ব্যাপারকে উলটে সে দেখবার চেষ্টা করেছে বিকৃতভাবে।
সঙ্গে সুরেনের আলাপ ছিল বটে। সে ছিল আমার স্ত্রীর দূর-সম্পৰ্কীয় ভাই। কিন্তু কেন জানি না, আমাকে সে দু-চক্ষে দেখতে পারত না—অবশ্য এটা আমি জানতে পেরেছিলুম পরে। আমার স্ত্রীকে সে দীর্ঘকাল ধরে গোপনে আমার বিরুদ্ধে এমন উত্তেজিত করে তুলেছিল যে, অবশেষে স্ত্রীর সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার কিছুদিন পরেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আরম্ভ হয়, আমাকেও যেতে হয় উত্তর-আফ্রিকার রণক্ষেত্রে। সুরেন ছিল আমার অধীনে এক লেফটেন্যান্ট। একদিন খবর পাই, একদল ইতালীয় সৈন্য অতর্কিত আমাদের আক্রমণ করবার জন্যে কোনো এক জায়গায় লুকিয়ে আছে। কয়েকজন সেপাইয়ের সঙ্গে সুরেনকে সেই খোঁজ নেবার জন্যে পাঠিয়ে দিই। তারপর সে মারা পড়ে। এ হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের সাধারণ ঘটনা, এর জন্যে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।
এইবারে কথা কইলে অমলেন্দু। তার চক্ষে কৌতুকের ইঙ্গিত। সে বললে, যে তামিল লোকগুলোর মৃত্যুর জন্যে আমাকে দায়ী করা হয়েছে—
মনোতোষ শুধোলে, তামিল লোকগুলো মানে?
অমুলেন্দু হাসিমুখেই বললে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ একেবারে মিথ্যা নয়। সিংহলের বিজন অরণ্যে একবার আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সর্বসমেত দলে আমরা ছিলুম বাইশজন লোক—আমি ছাড়া আর সবাই জাতে তামিল। হয়তো সেই নিবিড় অরণ্যে পথ হারিয়ে আমিও মারা পড়তুম, কারণ আমাদের সঙ্গে যে খাবার ছিল, বাইশ জন লোক মিলে খেলে তা ফুরিয়ে যেত তিন দিনেই। কাজেই লুকিয়ে সেই খাবারগুলো নিয়ে এক রাত্রে আমি সেখান থেকে সরে পড়লুম।
অমলেন্দু কিছুমাত্র অপ্রতিভ না হয়েই বললে, লোকালয়ে বসে আমার এই আচরণকে খুব সঙ্গত বলে মনে হবে না বটে। কিন্তু উপায় কী? আত্মরক্ষার চেষ্টা হচ্ছে জীবের স্বাভাবিক ধর্ম পথ হারিয়ে সেই অপ্রচুর খোরাক নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে থাকলে আমাদের সকলকেই মারা পড়তে হত নিশ্চয়ই! কিন্তু পালিয়ে এসেছি বলে বেঁচে গিয়েছি আমি—বাকি সবাই হয়তো সত্য সত্যই মারা পড়েছে।
মনোতোষ বললে, তাহলে আমার কথাও শুনুন। সুকুমার আর তার বোন অতসীকে দুর্ভাগ্যক্রমে একদিন আমার মোটরগাড়ির তলায় পড়ে মারা পড়তে হয়েছিল।
চন্দ্রবাবু নীরস কণ্ঠে বললেন, দুর্ভাগ্যটা কার—আপনার, না তাদের?
—আমারও, তাদেরও; কিন্তু এ হচ্ছে আকস্মিক দুর্ঘটনা। অবশ্য এই দুর্ঘটনার ফলে আমার গাড়ি চালাবার লাইসেন্স এক বছরের জন্য বাতিল করা হয়েছিল বটে।
নিত্যানন্দ বাধো বাধো গলায় বললে, আমি কি দু-একটা কথা বলতে পারি?
চন্দ্রবাবু বললেন, নিশ্চয়ই বলতে পারো।
নিত্যানন্দ বললে, আমাকে আর আমার স্ত্রীকে দায়ী করা হয়েছে নিস্তারিণী দেবীর মৃত্যুর জন্যে। নিস্তরিণী দেবীর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর, আত্মীয়স্বজন বলতে তাঁর কেউ ছিল না। তার পরিচর্যার ভার ছিল আমাদের দুজনেরই উপরে। তার স্বাস্থ্য একেবারেই ভালো ছিল না, তিনি বাস করতেন তার মফস্সলের বাড়িতে। এক রাত্রে হঠাৎ তার ভীষণ জ্বর হয়—জ্বরের মাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। সে-এক বিষম দুর্যোগের রাত, প্রবল ঝড়ের সঙ্গে এসেছিল প্রচণ্ড বন্যা। সে গ্রামে ডাক্তার ছিল না, ডাক্তার থাকতেন ভিন্ন গ্রামে, প্রায় আট মাইল দূরে। তবুও আমি সেই ঝড়-বৃষ্টি-বন্যার ভিতরেই পায়ে হেঁটে ডাক্তারের বাড়ি যাবার জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করি, কিন্তু আমার চেষ্টা সফল হয়নি। নিস্তারিণী দেবী মারা যান শেষ রাত্রে।
মহেন্দ্র কতকটা ব্যঙ্গভরা কণ্ঠে বলল, নিস্তারিণী দেবী পরলোকে যান, ইহলোকে ফেলে অল্পবিস্তর সম্পত্তি, কী বলো নিত্যানন্দ?
নিত্যানন্দ বললে, নিস্তারিণী দেবী বেঁচে থাকতেই আমাদের তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করে গিয়েছিলেন। এ জন্যে কেউ কোনোই অভিযোগ করতে পারে না। পুলিশও অভিযোগ করেনি।
অমলেন্দু বললে, মহেন্দ্রবাবু, অভিযুক্তদের তালিকায় আপনার নামও আছে।
মহেন্দ্র বললেন, হ্যাঁ, জানি, আমার জন্যেই নাকি জ্যোতির্ময় মারা পড়েছে। জ্যোতির্ময় ছিল একদল ডাকাতের দলপতি। সদলবলে সে এক ব্যাঙ্কের ওপর গিয়ে হানা দেয়। তারই রিভলভারের গুলিতে মারা পড়ে ব্যাঙ্কের দারোয়ান, কিন্তু পালাবার আগেই পুলিশের হাতে সে ধরা পড়ে। তখন আমি গোয়েন্দাবিভাগে, এই মামলাটা পড়ে আমার হাতেই। তদন্ত করে আমি যে রিপোর্ট দিই, সেই অনুসারেই জ্যোর্তিময়ের হয় মৃত্যুদণ্ড। আমি নিজের কর্তব্যপালন ছাড়া আর কিছুই করিনি।
অমলেন্দু খিলখিল করে হেসে উঠে বললে, ওঃ, এখানে আমি ছাড়া আর সকলেই কী কর্তব্যপরায়ণ! তারপর ডাক্তারবাবু, এখনও আপনার কথা শোনা হয়নি। কর্তব্যপালন করতে গিয়ে আপনিও কি কোনোদিন বেহিসেবি কাজ করে ফেলেননি? লতিকা রায়চৌধুরি মারা পড়েছেন কেন?
ডাক্তার কিছুমাত্র অপ্রস্তুত হলেন না, বেশ শান্তস্বরেই বললেন, ‘ভালো করে আমার কিছুই মনে পড়ছে না। অভিযোক্তার মতে, ঘটনাটা ঘটেছিল বিশ বৎসর আগে। লতিকা দেবী কে? জীবনে শতশত রোগী দেখেছি, এতদিন পরে লতিকা দেবীকে আমি স্মরণ করতে পারছি না। আমি হচ্ছি সার্জন, খুব সম্ভব অস্ত্রোপচারের ফলে লতিকা নামে কোনো নারী মারা পড়ে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসককে দায়ী করাই হচ্ছে সাধারণ লোকের স্বভাব। এ ছাড়া আমার আর কিছুই বলবার নেই।
কিন্তু তিনি নেজর মনে মনে বললেন লতিকার নাম এ জীবনে আমি ভুলতে পারব না। তখন মদ্যপান করতুম। সেদিন অস্ত্রোপচারের সময়ে আমি ছিলুম বেহেড মাতাল। আমার হাত এত কাঁপছিল যে, ভালো করে ছুরিই ধরতে পারছিলুম না। হয়তো আমার দোষেই লতিকা মারা পড়েছে। কিন্তু বিশ বৎসর আগেকার সেই দুঃস্বপ্ন, আজ এতদিন পরে আবার আমার সামনে টেনে আনতে চেয়েছে কে?
প্রত্যেকেরই বক্তব্য শেষ হল, কেবল সৌদামিনী দেবী ছাড়া। সকলে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাতে লাগল তার মুখের দিকে।
সৌদামিনী দুই ভুরু কুঁচকে বললেন, আপনারা কি আমার মুখ থেকেও কিছু শুনতে চাইছেন? আমার কোনো বক্তব্যই নেই।
চন্দ্রবাবু বললেন, কোনো বক্তব্যই নেই?
—কিছু না।
—আপনি কি এর পরে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন?
—আমি কোনো পক্ষই সমর্থন করব না। আমি যখনই যা করেছি, নিজের বিবেক-বুদ্ধি অনুসারেই করেছি। আমার মনে কোনো পাপ নেই। সৌদামিনীর ওষ্ঠ ও অধর দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হল পরস্পরের সঙ্গে।
চন্দ্রবাবু দু-তিন বার কেশে নিজের কণ্ঠকে আবার পরিষ্কার করে নিলেন। তারপর বলেন, আপাতত, আমাদের তদন্ত এইখানেই শেষ হল। নিত্যানন্দ, এই দ্বীপে আমরা ছাড়া আর কেউ আছে?
—কেউ না, একেবারেই কেউ না।
চন্দ্রবাবু গলা আর-একটু তুলে বলেন, কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কী জন্যে আমাদের এখানে আমন্ত্রণ করে এনেছে, তা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে তার মস্তিষ্ক যে বিকৃত, এ-বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই! হয়তো সে হচ্ছে অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি। আমার মত হচ্ছে, অবিলম্বেই এই দ্বীপ ত্যাগ করা উচিত। আজ রাত্রেই।
নিত্যানন্দ বললে, কিন্তু হুজুর, কীসে করে যাবেন? সেই মোটরলাঞ্চ আর বোট দুখানাই এখান থেকে চলে গিয়েছে। শুনেছি, ইব্রাহিম কালকেই আবার এই দ্বীপের মালিককে নিয়ে ফিরে আসবে।
—তাহলে আমাদের কাল পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে।
মনোতোষ ছাড়া আর-সকলেই সায় দিলে এই প্রস্তাবে। মনোতোষ বললে, সেটা হবে কাপুরুষের কাজ। এখান থেকে চলে যাবার আগে সমস্ত রহস্যটা আমি তলিয়ে বুঝতে চাই। ব্যাপারটা হয়ে উঠেছে ঠিক যেন ডিটেকটিভ গল্পের মতো অত্যন্ত রোমাঞ্চকর!
চন্দ্রবাবু তিক্তস্বরে বললেন, আমার এই বয়সে রোমাঞ্চকর কিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে আমি রাজি নই।
মনোতোষ উঠে দাঁড়িয়ে উৎফুল্ল কষ্ঠে বললে, আপনি হচ্ছেন বৃদ্ধ, আমি হচ্ছি যুবক, আমি চাই জীবন—রোমাঞ্চকর ঘটনাচঞ্চল বেগবান জীবন!
তারপর সে এগিয়ে গেল জানালার সামনের টেবিলটার দিকে। একটি গেলাসে ঢালা ছিল খানিকটা লেমোনেড। মনোতোষ গেলাসটা তুলে নিয়ে উর্ধ্বমুখে এক নিশ্বাসে সমস্ত জলটাই পান করে ফেললে। সঙ্গে সঙ্গে আচম্বিতে তার দম যেন বন্ধ হয়ে গেল, সমস্ত মুখখানা হয়ে উঠল রক্তবর্ণ। সে জোর করে নিশ্বাস টানবার চেষ্টা করলে এবং পরমুহুর্তেই তার দেহ আর হাতের গেলাসটা মাটির উপরে আছড়ে পড়ল সশব্দে।
(চলবে)
-----------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now