বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হানিমনে যেমন হয়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X ইফতারি কইরা বাজারে গেলাম। খেলা দেইখা বাড়িতে আসবার সময় বিশ টাকা দিয়া একটা চকলেট কিনলাম। যতন কইরা প্যান্টের পকেটে রাইখা দিলাম। বাড়িতে আইসা প্যান্ট খুইলা লুঙ্গী পরলাম। আম্মায় খাবার রেডি কইরা রাখছিল তা খাইলাম। খাওয়ার পর মনে হইল চকলেট খাই। তারপর চকলেট হাতে লইয়া শুইয়া পরলাম। শুয়ার পরে লাগছে কাহিল। কে বিদেশী। রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাইড়া শরীরটা ছাড়লাম বিছানায় কানে হ্যাডফোন। চকলেটের দিকে নজর গেল। ভাবলাম আরেকটু পরে খাই। কিছুক্ষণ পর দেখি দুইটা পঁয়তাল্লিশ বাজে আম্মারে ডাক দিলাম। মাছের ভাজি রান্না করল। সেহরী খাইলাম। সেহরী খাইয়া আবার শুইলাম। ভাবলাম আযান দেয়ার আগে চকলেটটা খাই। কিছুক্ষণ পর দেখলাম দশটা সতেরো বাজে। এখন আর খাইতে পারতেছিনা রোজা থাকার কারণে । দিলাম আবার ঘুম। তারপর উইঠা দেখি চকলেট নাই। ছোট ভাই খাইয়া ফালাইছে। বেশি যতন কইরা কোন কিছু রাখলে তা অন্যের পেটে যায়। বেশী আদর কইরা কাউরে রাখলে পরে সে অন্যের হয়ে যায়। বেশী ভালবাসলে পরে সে অন্যের ঘরে যায়। দূপুর দুইটা বাজে। পোলাপান পুকুরে ডুবাইতাছে। আমারও ইচ্ছা হইল ডুবাইতে। ছোট বেলায় খুব ডুবাইতাম। এখন দুই ডুব দিলেই কান দিয়ে পানি যায় নাক দিয়ে পানি যায়। পূকুরে নাইমা ডুবাইলাম আধঘণ্টা। আম্মায় হেব্বি বকা দিছে। আমি আবার আম্মার বকা কানে নেইনা সারাদিনিই বকে কানে নিলে আমি কবেই বয়ড়া হইয়া যাইতাম। ঘরে ঢুইকা আমার একটা মাত্র জানের দিখে তাকাইলাম। জান মানে আমার ফোন। আব্বায় দিছিল। আমি আদর কইরা অনেক নামে ডাকি। আমার সুঃখে দুঃখে আমার জানটা ছাড়া কেউই পাশে থাকেনা। আমার গান শুনতে ইচ্ছে হলে জান শুনায় গল্প লিখতে হলে জানে মানে ফোনে লিখি। মোটকথা আমার সয়নে স্বপনে জানই একমাত্র সঙ্গী। জানের দিকে তাকাইয়া দেখি তেইশটা মিসড কল! ভাবতেই নিজেরে বড় বড় লাগতাছে। আমার ফোনে টাকা থাকেনা কারণ আমার গাল্পেন মানে প্রেমিকা নাই। গ্রামিন সিম যা টাকা কাটে এর জন্য এয়ারটেলে টাকা ঢুকাইয়া রাইখা দেই এয়ারটেলে আবার টাকা কাটে কম। সেই কবে শত্তুর টাকা ঢুকাইছিলাম আজকেও সাতষট্টি টাকা আছে। তিন টাকা আম্মায় শেষ করছে বড় আফার লগে কথা কইয়া। ফোন ব্যাক করলাম। কিছুক্ষণ পর ওপাশ থেকে একজন কইল ' হ্যালো ' আমি হ্যালো শুইনাই থ হইয়া গেছি। মেয়েদের এত মিষ্টি কণ্ঠ থাকে জানতাম না। মেয়েদের সাথে আমি কথাও কইতে পারিনা অনেকজনকে বলছিলাম শিখাইতে কিভাবে কথা বলে কেউ শিখাইলনা। ইতস্তত হইয়া কইলাম ' আপনে ফোন দিছিলেন অনেক আমি তখন ডুবাইতেছিলাম তাই ধরতে পারিনাই। আপনি কে? ' বালিকা স্টাইল কইরা কইল ' না ভাইয়া আসলে আপনি অনেক ভাল। ' আমি বালিকার মতলব বুইঝা ফালাইছি। দাঁত ক্যালাইয়া কইলাম ' রং নাম্বার আপু আপনি ভুল জায়গায় ফোন দিছেন। আমার বাপের একদম টাকা পয়সা নাই ' কইয়াই ফোন রাইখা দিছি। আজকাল মেয়েরা আমার পিছনেও লাগে এইযে আমার গাল্পেন নাই সেটার জন্য আম্মায় আমার প্রতি খুশী না রাগ বুঝতে পারিনা। মাঝে মাঝে বলে ' প্রেম-টেম করিসনা ভুলেও ' আবার মাঝে মাঝে বলে ' কি ছেলে হইছিস একটা ইয়ে আরে তোরা যে বলিস অহ হ্যাঁ গার্ল্ফ্রেন্ডও নাই ' আজকেও এই কথা কইল। আমি কইলাম ' আম্মা তুমি আমারে যেই টাকা দেও তা দিয়া আমার জানরেই চালাইতে পারিনা আবার গাল্পেন। শোন আম্মা টাকা ছাড়া গাল্পেন থাকেনা । গাল্পেন কেন বউয়েরাও থাকেনা। তাই আমার গাল্পেন মানে প্রেমিকা নাই। ' আম্মায় কানে ধইরা টান দিয়া কইল ' ঐ হতছাড়া তোর বাপে মনে হয় আমারে টাকার উপরে রাখছে। রাজরানী কইরা রাখছে। তাই বইলা কি আমি চইলা গেছি। ' আমি চোখ ঘুরাইয় কইলাম ' এসব আগেকার দিনের কথা কইয়া লাভ নাই আম্মা। এখনকার মেয়েরা অনেক ডিজিটাল। অনেক ফ্যাশনিক। তারা যুগের সাথে তাল মিলাইয়া চলে। এখন এসব প্যাঁচাল বাদ দিয়া ডিম আন খাই । ' আম্মায় ডিম আনতে না যাইয়া আরো গম্ভীর ভাবে বসল কিছুক্ষণ ভাবল তারপর বলল ' আচ্ছা তুই একটা ভাল দেইখা মেয়ে যদি বিয়া করস মানে আমরা যদি তোরে বিয়া করাইয়া দেই তাহলে কেমন হয়? ' আম্মার কথা শুইনা আমি হাসতে হাসতে শেষ। নিজেই চলতে পারিনা আবার বউ। কইলাম ' বিয়া কইরা বউরে খাওয়াইব কি? চাকরী আমার কপালে জুটবে বলে তো মনে হয়না। ' আম্মায় ঝাড়ি দিয়া কইল ' ঐ মেয়েরা মনে হয় রাক্ষস? যে বেশী খায় বেশী পরে। আর তোর খাওয়ানো লাগবেনা আমরাই খাওয়াব ' আবারো হাসি পাইল। ইচ্ছামতন হাসলাম। তারপর কইলাম ' যে বউ তোমরা যত্ন কইরা ঘরে তুলবা সেই বউ দুদিন পরে বলবে আমারে এই বুড়া বুড়ী আমার ভাল লাগেনা। বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাও। তখন? ' আম্মায় সত্যি সত্যি চিন্তায় পইরা গেল। আর আমি কখন কইলাম ডিম আনতে! আম্মায় কইল ' তাই বলে কি তুই কোনদিন বিয়ে করবিনা? ' আমি চোখ ঘুরাইয়া কইলাম ' বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চাও? ' আম্মায় আর কোন কথা না কইয়া ডিম আনতে গেল। ডিম খাইয়া শুইয়া পরলাম। ... দুই বছর ধইরা চাকরীর ইন্টার্ভিউ মানে সাক্ষাৎকারই দিয়া যাইতাছি। আমার চাকরী আর হয়না। এর অনেক কারণ আছে আমি ঘোষ দিতে নারাজ যদি জীবনে চাকরী না পাই তাও। আর যা জিজ্ঞেস করে সব সত্য বলে দেই। আর শুধু অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করে। আরে ভাই চাকরীই না দিলে অভিজ্ঞতা কি কিনে আনব? আজকেও ইন্টার্ভিউ আছে। ভাল কইরাই জানি চাকরী হবেনা। তাও আম্মার বকা কমাইতে আসছি আরকি। আশ্চর্য ব্যাপার সাক্ষাতকার নিবে আজকে এক মেয়ে! তাও একজন! আমার থেকে কয়েকবছরের ছোট তো হবেই। অবান্তক প্রশ্ন করতে আরম্ভ করল। চাকরীর ইন্টার্ভিউ দিতে এসে কেউই এমন প্রশ্নের মুখে পরেনি তা আমি চোখ বন্ধ করে বলতে পারি। প্রথম প্রশ্ন ' আপনি নিজেকে কেমন মানুষ হিসেবে দাবী করেন? ' আমি প্রশ্ন করার সাথে সাথেই উত্তর দিলাম ' চরিত্রহীন ' উত্তর শুনে বালিকা হাঁ কইরা কিছুক্ষণ তাকাইয়া ছিল। দ্বিতীয় প্রশ্ন ' ধর্ষণের ক্ষেত্রে মেয়েদের পোশাক দ্বায়ী বলে মনে হয় আপনার? ' আমি উত্তর দিলাম ' আংশিক কারণ সব ধর্ষকরাই মানুষ কিন্তু সব মানুষই ধর্ষক না। আর যারা ধর্ষণ করে তারা পোশাক দেখে করেনা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শরীর দেখে করে। ' এবার বালিকা থ হইয়া কিছুক্ষণ বইসা থাকল। তারপর কইল ' আপনি কি পাগল? ' আমি কইলাম ' এই প্রশ্ন কি ইন্টার্ভিউয়ের অন্তর্ভুক্ত? যদি হয় তাহলে বলব আমি পাগল শুধু পাগল না মহা পাগল ' বালিকা মাথা নাড়াইল। কিছুক্ষণ আর প্রশ্ন করলনা। তারপর মাথা কুঁচকিয়ে কইল ' আচ্ছা ধরুন আপনাকে বলা হল এখন একটা মেয়েকে বিয়ে করতে তাহলে আপনি কি করবেন? ' আমি বললাম ' আমি মেয়েকে আম্মার কাছে নিয়ে যাব। যদি আম্মার পছন্দ হয় তাহলে বিয়ে করতে রাজি তবে চাকরী পাওয়ার পর ' বালিকা কইল ' আমাদের অন্যমনস্ক অন্যটাইপ আলাদা বিচিত্র স্বভাবের একজনকে দরকার ছিল আমরা মনে হয় পেয়ে গিয়েছি। আপনাকে কালকের মধ্যে জানানো হবে কবে জয়েন করছেন ' চাকরী পাইয়া যতটা না খুশী হইছি ততটা খারাপ লাগতাছে এখন আমার সামনে বালিকা বসে নাই। বালিকার সাথে আরো কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল। বালিকার নামটাও জানা হলনা। বিশেষ করে অবাক হয়ে যখন তাকাইছিল তখন চোখগুলো একদম বাচ্চাদের মত লাগছিল। সত্যিই অপরুপ। যাক এসব ভেবে লাভ নাই। হয়ত আরেকজনের প্রেমিকা। আব্বা আমার চাকরীর কথা শুইনা বাড়িতে মিষ্টি আনার বদলে বাড়িতে নিম পাতার জুস আনছে। কইল এইটাই আমার প্রতিদিনের সকালের নাস্তার অংশ। মানুষকে যে কিভাবে মারতে হয় তা আব্বার থেকে ভাল কেউ জানেনা। নিম পাতা কি তিতা সকাল সকাল নিম পাতার শর্বত খাইয়া অফিসে যাইতে হয়। অফিসে যাইয়া অবশ্য বালিকারে দেইখা মন ভাল হইয়া যায়। নিজের পাশে যদি এরকম একটা মেয়ে বসে থাকে তাহলে কাজ করার আলাদা শক্তি পাওয়া যায়। আমার কাজের নামে ঘন্টাবারি। বালিকা কাজে ব্যাস্ত। ভাবলাম একটু বিরক্ত করা যায়। কইলাম ' নিঝুম আপনার টিপটা না ঠিক জায়গায় নেই ' বালিকা বলল ' রাজ সাহেব! আমার নাম নিঝুম না আমার নাম আল্পনা। প্রত্যেকদিন কিভাবে ভুলে যান? আমি হাসি দিয়া কইলাম ' একটা হলেই হল। আচ্ছা নিঝুম তওবা আল্পনা আপনি কি জানেন আপনার চোখ অনেক সুন্দর? ' আল্পনা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়েই কইল ' আমি বিবাহিত রাজ সাহেব ' আকাশ ভাইঙ্গা মাথায় পরল। কইলাম ' সেটাই তো আমার মনে হয় প্রত্যেকটা মেয়েই যেন বিবাহিত থাকে। বিবাহিত জীবনটা কিন্তু অন্যরকম। ' আল্পনা কইল ' উফ চুপ করেন তো। আমি আনমেরিড। ' আমি দাঁত ক্যালাইয়া কইলাম ' এটাই আমি বলতে চাচ্ছিলাম। প্রত্যেকটা মেয়েরই কিন্তু সিঙ্গেল থাকা উচিৎ। সিঙ্গেল না থাকলে কিন্তু জীবনটা উপভোগ করা যায়না। ' বালিকা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল ' আনমেরিড কিন্তু সিঙ্গেল নই ' আমি এবার কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাম ' ভাল তো। বয়ফ্রেন্ড থাকা কিন্তু ভাল। আম্মায় বলেন যে মেয়েদের বয়ফ্রেন্ড থাকে সে মেয়েরা খুব চালাক হয়। ' ধ্যাত্তেরি চাকরীটাই করতে ইচ্ছে করছেনা। তিন দিন হল অফিসে যাইনা। আম্মায় বুঝছে কিছু একটা হইছে। কিন্তু কি হইছে কিভাবে বলব। পরেরদিন অফিসে যাইতেই হইল। আল্পনা জিজ্ঞেস করল ' কি আমার বয়ফ্রেন্ড আপনাকে অফিসে আসতে বারণ করে দিল নাকি? ' জবাব আমার কাছে নাই তাই চুপ করে আছি। সারাটাক্ষণ চুপ করে আছি। আমার সাথে চুপ করে থাকাটা মানায় না। আম্মায় কইছিল আমি ছোট থাকতে একদিন রাগ কইরা চুপ করে ছিলাম সেদিন বাড়ির কেউই খাইছিলনা। অফিস শেষে আল্পনা কইল ' আমাকে আপনার বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন? ' আমি কইলাম ' নেয়া তো যায়ই কিন্তু কেন? ' আল্পনা কইল ' অনেকদিন হয়ে গিয়েছে আম্মুকে দেখিনা। আপনার আম্মুর সাথে একটু কথা বলে চলে আসব। ' এরকম আবদার কখনোই ফেলবার মত নয়। রিকশাতে আমরা দুজন। মনে মনে আল্পনার বয়ফ্রেন্ডকে গালি দিচ্ছি। আর কোন মেয়ে সে পাইলনা আমার আল্পনাকেই । হঠাৎ আল্পনা কইল ' আমার বয়ফ্রেন্ড নেই রাজ বাবু আপনি চুপ করে থাকবেন না কথা বলুন। চুপ করে থাকা আপনার সাথে মানায় না। ' এই কথা শুনে আমি তো আকাশে ভাসছি। সাহস করে আল্পনার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম। যা শুনলাম তা আর লিখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। এজন্যই বিয়ে করতে ইচ্ছে হয়না। তাহলে অনেক মা বাবার ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম। আল্পনা কইল ' আপনার আর আমার মধ্যে একটা সুন্দর মিল আছে কিন্তু। আপনিও সারাজীবন বিয়ে না করে থাকতে চান আমিও সারাজীবন বিয়ে না করে থাকতেই চাই। ' ... অতঃপর (-) মাইনাসে (-) মাইনাসে (+) প্লাস হইয়া গেল। বাসর রাতের কথা বলবনা কারণ বাসর রাতে আমাকে বাইরে থাকতে হইছিল। সকাল সকাল আল্পনা ডাকা আরম্ভ করে দিল। ভাল করে একটু ঘুমও হবেনা। আল্পনা কইল ' এ্য্য্য্যাই উঠ তাড়াতাড়ি। উঠে জলদি দাঁত ব্রাশ করে খাইতে যাও নাহলে আবার বাবা নিম পাতার জোস নিয়ে আসবে ' কি আর করা তাড়াতাড়ি উঠতেই হল। কিন্তু একি আজকে আব্বায় নিম পাতার জোস না এনে হাতে ট্রেনের টিকিট ধরিয়ে দিল। বান্দরবন। গ্র্যান্ড হোটেল। হানিমুনে আসলে কি হয়? হানিমুন কেমন হয়? এসব উত্তর আমিও জানিনা। হোটেলের কাউন্টারে একটা মেয়ে ছিল শাড়ি, কাজল, টিপের স্বমন্বয়ে সেজে। সাধারণত এরকম হোটেলে কাউন্টারের কর্মীরা সুট পরে থাকে। বাঙ্গালী বাঙ্গালী একটা ব্যাপার আছে এই শাড়ি কাজলে। সত্যিই দেখে খুব ভাল লাগল। আমি শুধু মেয়েটার সাজ দেখছিলাম আর এতেই আল্পনা খ্যাপে আগুন। রুমের দরজা খুলতেই বলল ' ফ্রেশ হবা পরে আগে বল কাউন্টারের ঐ মেয়েটার দিখে এভাবে তাকিয়ে ছিলা কেন?' আমি কইলাম ' দেখছিলাম মেয়েটা কত আটা ময়দা মাখছে মুখে নাকে তবুও তোমার চেয়ে সুন্দরী হইতে পারে নাই। ' আল্পনা লজ্জা পাইয়া কইল ' সত্যি তো? যাও ফ্রেশ হয়ে আস। ' ফ্রেশ হইয়া বাজলো আরেক বিপদ। আমি গোলাপের সাথে চিরকুটে " আই লাভ ইউ আল্পনা না লিখে আই লাভ ইউ নিঝুম " লিখছিলাম। আমার কিছু করার নাই আমি ভুল করে করে ফেলছি কিন্তু আল্লাহ আল্পনাকে বুঝাবে কে? এই দুই নামে আমি শুধু গুলিয়ে ফেলি নিঝুমকে থুক্কু আল্পনাকে। শুইতে গেলাম নিঝুম এক ঝাড়ি দিয়া কইল ' বাইরে যাবা না আমি বাইরে যাব। আমার নামটা লিখতে গিয়ে অন্য মেয়ের নাম লিখ ? ' কি আর করা হানিমুনে এসে ফ্লোরেই হল আমার জায়গা। এই খনখনে ঠাণ্ডাতে শীতের ফ্লোর। সব তোর কপাল রে রাজ সব তোর কপাল। একটা বালিশ নিয়ে শুয়ে পরলাম নীচে। কম্বল তো আর উনি দিবেনা। রাতে কোনরকম ঘুম হয়েছে কি না জানিনা কিন্তু সকালে নিজেকে নতুন এক আবৃত্তে আবিস্কার করলাম। একটাই বালিশ ফ্লোরে। আল্পনা আমার বুকে ঘুম খোঁজছে। চুলগুলো এলেমেলো হয়ে আমার মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অন্যরকম মাতাল করা সুগন্ধ আসছে চুলগুলো থেকে। ঘুমের মধ্যে মেয়েদের কত নিস্পাপ দেখায়। সত্যিই অপরুপ। আমি অপলকে আল্পনার চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। একটু পরে আল্পনার চোখটা খুলবে মনে হয় দেখে আমি কইলাম ' তুমি ' আর কিছু বলতে পারলাম না। আল্পনা তাড়াতাড়ি করে কইল ' কি আমি কি? এত আদরে জড়িয়ে রাখলাম তাও কম্বল লাগবে? ' ||


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হানিমনে যেমন হয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now