বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোয়িং বাটন

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X সকালে খবরের কাগজে চোখে পড়েছিল, আজ চৈত্রের ২৩ তারিখ। রাস্তায় বেরিয়ে ‘চৈত্র’ শব্দটা আবার মাথায় উঁকি দিল। কাঠফাটা গরম পড়েছে। এমন আগুনগরম দুপুরে হলুদ পাঞ্জাবী পরা হিমুরা ঘোরের জগতে চলে যায়। আমি হিমু নই, এই নারকীয় মধ্যাহ্নের ভেতর মহাকাব্য খোঁজার চেষ্টা আমার কাছে অনাবশ্যক বিলাসিতা। অসহ্য লাগছে… একটা রিকশা পেলে মেয়েদের মত হুড তুলে চলে যেতাম। অবন্তী মেয়েটা আসলে পাগল আছে! এই ভরদুপুরেই তার এত দেখা করার প্রয়োজন পড়ল কেন কে জানে! যাই হোক, দেখা হবে এটাই বড় কথা। বড়ভাইয়ের পোলো ব্ল্যাক, প্রায় আধ বোতল সারা শরীরে স্প্রে করে এসেছি। ঘামের সাথে সেই সুগন্ধি বিক্রিয়া করে হিতে বিপরীত হয়ে যায় কিনা তা নিয়ে কিঞ্চিৎ টেনশন হচ্ছে। অবশেষে রিকশা পাওয়া গেল। রিকশাওয়ালার চেহারা অবিকল হলিউড অভিনেতা মর্গান ফ্রীম্যানের মত। লুঙ্গি পড়া অস্কারজয়ী অভিনেতা আমার সামনে রিকশা থামিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে ঘাম মুছলেন। ‘যাবা চাচা?’ ‘কুনে যাইবেন?’ ‘ধানমন্ডি ১৫।‘ ‘পঞ্চাইশ ট্যাকা।‘ বুড়া হারামজাদা দিনে দুপুরে ডাকাতি করছে। দামাদামি করার মত সময় বা ধৈর্য্য কোনটাই নেই, তাই উঠে পড়লাম। বিড়বিড় করে মর্গান ফ্রীম্যানকে ইংরেজী গালি দিলাম একটা; ছোটখাট পরাজয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেবার জন্যে ইংরেজী গালির তুলনা নাই। হুড তুলে যাচ্ছি। রোদে পোড়া চেহারা নিয়ে অবন্তীর সামনে যাওয়া যাবে না। সূর্যটাও আজ একটু বেশীই খেপে আছে। ২৭ নাম্বারে এসে সিগনালে পড়লাম। হারামীর একটা দেশ, কোন ডিসিপ্লিন নাই। …আবার ফুটপাথে জটলা কেন? ভালমত খেয়াল করে বুঝলাম, এক পকেটমার ধরা পড়েছে। ব্যাটা বোধহয় গণপিটুনির প্রাথমিক পর্যায়ে আছে- কারণ প্রহাররত মানুষের সংখ্যা পাঁচ কী ছয়। সংখ্যা আরও বাড়ার কথা। অনেকে পাশে দাঁড়িয়ে মজা দেখছে। আরে ব্যাটা এভাবে হা করে দাঁড়িয়ে থাকার কী আছে? হয় কিছু কর, নইলে কাজে যা। ছাগলের গুষ্টি! হঠাৎ রাগে আমার গা গরম হয়ে গেল। এই গেল সপ্তাহেই, আমার নতুন আইপ্যাডটা ছিনতাই হয়েছে। রিকশায় বসে ফেসবুক নোটিফিকেশন চেক করছিলাম- দু’টো চ্যাংড়া ছেলে বাইক নিয়ে এসে চোখের নিমিষে কাজটা সেরে হাওয়া হয়ে গেল। পেছনে বসা ছোকরাটা আবার দাঁত কেলিয়ে বলছিলঃ ‘থ্যাংকিউ বস’! আইন-কানুন দিয়ে এই দেশে কিছু হবে না। এদেরকে মেরে ফেলাই উচিত। ভ্যানগাড়ির পেছনে বেঁধে রাস্তায় ড্র্যাগ করা উচিত। ব্লাডি রাস্কেলস। জ্যাম তাড়াতাড়ি ছুটবার সম্ভাবনা নেই। রিকশাওয়ালাকে বললাম, ‘চাচা একটু দাঁড়াও, সিগারেট নিয়ে আসি।‘ একটা বেনসন ধরিয়ে পকেটমারটার দিকে তাকালাম। বাচ্চা ছেলে, ১২-১৩ বছর বয়স। এবার আমার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। আইপ্যাডটা নিউ ইয়র্ক থেকে ছোট মামা পাঠিয়েছিলেন। এত শখের জিনিস ছিল একটা! … ছেলেটার ঠোঁটের ডান কোনা কেটে একটু রক্ত ঝরছে। ‘যথেষ্ট নয়’, নিজেকে বোঝালাম আমি, ’ও আরো বেশী কিছু ডিজার্ভ করে।‘ সূর্য প্রায় মাথার উপর। ছোট একটা শরীর, তার উপর অনেকগুলো মানুষের ছায়া। শীর্ণ সেই দেহের উপর কালো ছায়াগুলো নড়ছে, মাথা নড়ছে, হাতগুলো নড়ছে আরো দ্রুত। অদ্ভুত দৃশ্য! ছেলেটার শরীরে মারার জায়গা খুঁজে বের করতে ভালই বেগ পেতে হল, কারণ আরো অনেকেই হাতের সুখ মেটাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ডান বগল আর কোমরের মাঝামাঝি জায়গায় পাঁজরের কিছু অংশ খালি পেলাম। এক মুহূর্তও দেরী করলাম না- এ্যাকশন! স্পষ্ট অনুভব করছি নিজের পৌরুষ, বীর্য, আসুরিক শক্তি। পিঠে ফাঁকা পাওয়া গেছে- তাড়াতাড়ি বসিয়ে দিলাম কয়েক ঘা। আচ্ছা লাথি বসানো কি ঠিক হবে? দিই একটা কাঁধ বরাবর, একটা লাথি বেশী খেলে কিছু হবে না। ছোটলোকের জাত। কাঁধের হাড়ে বাউন্স করে লাথিটা ডান কানে লেগে গেল। ব্যাড লাক। ছেলেটা প্রচন্ড নোংরা। ময়লা জামাকাপড়, মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে আরও নোংরা হয়ে গিয়েছে। ঘেন্না হচ্ছিল প্রচন্ড। সিগারেট বাঁ হাতে ধরা ছিল, হঠাৎ কী মনে হল ওর ঘাড়ে দিলাম একটা ছ্যাঁকা। বালকের চীৎকার গোঙানিতে নেমে এসেছিল, ছ্যাঁকার কারণে নতুন টাটকা আর্তনাদ শোনা গেল একটা। …আমাকে চেনো নাই হারামজাদা! মনে রাখবা সারাজীবন, এত আদরের মাঝে এক ওস্তাদ সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিয়েছিল। আমাকে চেনো নাই। মারতে মারতে ক্লান্ত একজন পাশ থেকে বলল, ‘মইরা যাবে নাকি বস?’ ‘নারে ভাই’, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হাসি দিয়ে বললাম আমি… ‘চোরের জাত, এত সহজে মরে না।‘ জ্যাম বোধহয় ক্লিয়ার হয়ে যাচ্ছে। যাই রিকশায় উঠে পড়ি। মর্গান ফ্রীম্যান কেমন যেন ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ইশ্‌, ব্যাটা সশব্দে রাস্তায় একদলা থুতুও ফেলল। এই দেশটা আসলেও কোনদিন সভ্য হবে না। আফসোস! ————- অবন্তীকে আজ রাজকন্যার মত লাগছে। নীল পোশাকে এই প্রথম দেখলাম ওকে; এত সুন্দর লাগবে জানতাম না। ‘দেরী করলে যে?’ ‘আর বোলো না,’ হতাশ কন্ঠে উত্তর দিলাম, ‘কেমন জ্যাম পড়েছে আজকে জানোই তো…’ ‘হুঁম। আচ্ছা এই ড্রেসটা গত সপ্তাহে কিনেছি। কেমন লাগছে?’…অবন্তীর লাজুক প্রশ্ন। এসি’র ঠান্ডা আর নীলপরী- দু’য়ে মিলে মাথা আগেই ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। আমি যথাসম্ভব ভরাট গলায় গুনগুন করলামঃ “আজ ফির তুমপে পিয়ার আয়া হ্যাঁয়, বেহাদ অউর বেশুমার আয়া হ্যাঁয়…” (রিমিক্সটার মিউজিক ভিডিও আমার খুব পছন্দ। ফীল আছে।) ‘ফাজিল ছেলে!’… আমার নীলপরী খিলখিল করে হেসে উঠল! চমৎকার সময় কাটল আমাদের। দুপুর, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হল। আগুনরঙা পশ্চিম আকাশের সৌন্দর্য ছিল প্রায় অবন্তীর মতই। আমরা ঘোরলাগা অবস্থায় একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছোট্ট করে চুমু খেলাম ওর ঠোঁটে। রিকশায় ফেরার পথে ওর পারফিউমের অদ্ভুত সুন্দর গন্ধটা বহুক্ষণ নাকে লেগে ছিল আমার। *** পকেটমার বাচ্চাটার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। মনে পড়ল পরদিন অবন্তীর ফোন পেয়ে। ‘হ্যালো তন্ময়, কেমন আছ?’ ‘চলছে কোনরকম। তোমার দেখা না পেলে ভাল থাকি কিভাবে বলো?’ ‘ধ্যাত্তেরি!’ ‘কী করছিলে?’ ‘ফেসবুক ঘাঁটছিলাম। ও আচ্ছা, ধানমন্ডি ২৭ নাম্বারের ঘটনাটা দেখেছো?’ …মাথাটা বোধহয় হালকা চক্কর দিয়ে উঠল। গলা যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে বললাম, ‘কী ঘটনা বলো তো?’ ‘আরে, খুবই প্যাথেটিক ব্যাপার। একটা বাচ্চা ছেলে নাকি কার পকেট মারতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। পাবলিক পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।‘ আমি সাবধানে একটা ঢোঁক গিলে বললামঃ ‘ছি ছি ছি… আজকাল হচ্ছে কী এসব?‘ ‘হুঁম… জানো আমার না খুব খারাপ লাগছে বাচ্চাটার জন্যে। একজন উইটনেস বলেছে, কে নাকি সিগারেটের ছ্যাঁকাও দিচ্ছিল। এরা কি মানুষ নাকি জানোয়ার?‘ ‘উফ… বাদ দাও তো অবন্তী! বাচ্চাদের সাথে এসব হয়েছে শুনলে সহ্য করতে পারি না। মানুষ আসলেই মানুষ নাই।‘ ‘আচ্ছা শোনো, ছেলেটার নাম সোহেল। সোহেল হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খোলা হয়েছে- আমি ‘গোয়িং’ দিয়েছি…’ আদুরে গলায় বলল অবন্তী, ‘তোমাকে লিংক পাঠিয়ে দিচ্ছি, তুমিও দিও।‘ ‘আচ্ছা দিবো নে। বাই দ্য ওয়ে, সালমান খানের নতুন মুভিটা দেখেছ? অনেক নাকি অসাম!‘ ‘এখনো দেখি নাই। এইচডি প্রিন্ট বের হলে দেখব।‘ আমরা নতুন গল্পে মগ্ন হয়ে পড়লাম। ও যা বলে তাই আমার ভাল লাগে। চুপ করে থাকলে নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতেও ভাল লাগে। তোমায় ভালবাসি অবন্তী। অনেক, অনেক ভালবাসি। যাই, অবন্তীর পাঠানো লিংকটা ওপেন করি। গোয়িং বাটনে ক্লিক করতে হবে। লেখক: ফারাবী (২০০০-২০০৬)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোয়িং বাটন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now