বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
'আপনি সবসময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন?'
'আপনার দিকে না, আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি।'
'ঐ একই কথা কিন্তু কেন?'
'আমার আর গাঁজায় নেশা হয় না।'
মেয়েটা চোখ মুখ কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল, মানে ??!!
'মানে, আপনার চোখ দেখার পর থেকে আমার আর গাঁজায় নেশা হয় না। তাই আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি।'
....গল্পের শুরুটা এভাবেই হয়েছিল। তারপর অন্যসব প্রেমের গল্পে যা হয় প্রথমে পরিচয়, তারপর পরিণয় এবং দিনশেষে একটা পরিণতি এর অপেক্ষা।
সময়টা ১৯৭০। ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ুয়া আলম মাথা নীচু করে পলাশীর মোড় থেকে কার্জন হলের দিকে রাস্তার একপাশ ধরে ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার চোখ লাল। চুল উশখুকুশখু। ঠোঁটে সিগারেট। পড়নে সাদা রঙের ময়লা পাঞ্জাবী। তার পাশে পাশে হাঁটছে মিতু। পড়নে সবুজ রঙের শাড়ি। হাতে একগাছা সবুজ চুড়ি। কপালে সবুজ টিপ। চোখে কাজল। মিতুর চোখে জল টলটল করছে। যেন যেকোন সময় নোনা বৃষ্টির ঢল নামতে পারে।
আলম আড়চোখে মিতুর দিকে তাকালো। কাজল রাঙানো টল চোখে মিতুকে সুন্দর লাগছে। একবারে যেন ভিনদেশের পরী, যে পথ ভুল করে তার সাথে হাঁটছে। আলম আবার ভাবলো, মিতু তো অবশ্যই পরী। নাহলে কোন মানবী কি এতো সুন্দর হতে পারে?
সামনে দিয়ে এক বাদাম ওয়ালাকে হেঁটে যেতে দেখে আলম মিতুকে বলল, মিতু বাদাম খাবা?
মিতু কড়া চোখে আলমের দিকে তাকালো। আর তখনই তার চোখে এতক্ষণ আটকে রাখা পানি তার গালে গড়াতে লাগল।
: ধ্যাত এটা কি করলা? তোমাকে ঐ টল চোখেই তো সুন্দর লাগছিল।
: আমার সাথে কথা বলতে তোমার লজ্জা করতেছে না?
: তোমাকে আবার লজ্জার কি আছে? আজব!
: আজব? না? তুমি জানো তুমি কতবড় একটা...একটা...
মিতুর কথা হারিয়ে ফেলে। রাগে থরথর করে কাঁপতে থাকে।
'হ্যা, আমি একটা কি বলো?' আলম চোখে প্রশ্ন নিয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে থাকে।
মিতু কিছুক্ষন চুপ করে থেকে অসহায়ের মতো বলল,তুমি না আমাকে ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করছিলা আর কোন দিন গাঁজা খাবা না?
: আমি না একটু আগে সরি বললাম এটার জন্য।
: সরি বলছো। আর সব শেষ? তুমি বার বার প্রতিজ্ঞা করবা, বার বার প্রতিজ্ঞা ভাঙবা, বার বার সরি বলবা আর আমি তোমাকে বার বার মাফ করবো?
'ঠিক আছে শেষবারের মতো এই তোমাকে ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করতেছি...' বলে আলম মিতুর হাতটা ধরতে চেষ্টা করে আর তখনি মিতু তার হাত সরিয়ে নিয়ে বলে,
খবরদার। আমাকে আর স্পর্শ না।
: আচ্ছা শান্ত হও। স্পর্শ করব না।
'আর কোন দিন আমার সাথে যোগাযোগও করবে না, কথাও বলবে না' বলে মিতু গট গট করে হেঁটে সেখান থেকে চলে যায়।
আর আলম কিছুই হয়নি এমন ভাব করে একটা সিগারেট ধরিয়ে রাস্তার পাশে বসে পড়ল।
রেসর্কোস ময়দানে আকাশের দিকে মুখ করে আশরাফ শুয়ে আছে। ষোল সতের জনের ছোট একটা দল তাকে এই অবস্থায় ঘিরে রেখেছে। এরা সবাই ঢাকা ভার্সিটির ১ম বর্ষের ছাত্র। নতুন রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে। আর আশরাফ বর্তমানে আওয়ামীলীগের ঢাকা ভার্সিটির সক্রিয় কর্মী। সে শুয়ে শুয়ে নতুনদের সাথে গল্প করছে। সবই রাজনীতিক আলাপ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। ভবিষ্যতের প্রস্তুতি এইসব। এমন সময় ভীড়ের মাঝে সে আলমের মুখ দেখতে পেল। আলম তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আলমকে দেখেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। ছোট দলটাকে বিদায় দিয়ে সে আলমকে বলল, চিৎ হয়ে শুয়ে পড়। শুয়ে শুয়ে আলাপ করি।
আলম কোন কথা না বলে বাধ্য ছেলের মতো আশরাফের পাশে মাঠের মধ্যে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল।
: বন্ধু কিছুই তো ভাল্লাগে না।
: ক্যান? কি হইছে?
: আরে বেটা গতকাল মিতুর সাথে আবার ঝামেলা হইছে।
: এমনে টাল হয়া পইড়া থাকলে ঝামেলা হইবো না? কোন মাইয়া চাইবো যে তার প্রেমিক নেশা করুক?
: কিসের টাল হয়ে পড়ে থাকি? কত কমাইয়া দিছি। এখন মাসে দুই এক বার...
: এই দুই একবারটাই বাদ দে। মাইয়াটা ভালা আছে। এমনে ওরে কষ্ট দিস না।
আলম কিছু বলল না। এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।
আশরাফ বলতে থাকলো, আর সবচেয়ে ভালা হয় পারলে এইসব প্রেম পিরীতি বাদ দে। দেশের অবস্থা ভালা না। এখন তোরা যদি প্রেম পিরীতি নিয়া থাকস তে ক্যামনে হইবো?
আলম বলল, কেন ? কি হইছে? আমরা প্রেম করা বাদ দিলে দেশের অবস্থা ভালো হয়ে যাবে?
: তা না।কিন্তু এমনে দুনিয়াদারী বাদ দিয়া এক মাইয়ার পিছে ঘুরলেও কেমন দেখায় না জিনিসটা ? এইযে কালকে তোরে রব ভাই মিটিংয়ে থাকতে কইলো আর তুই আইলি না, কাজটা কি ভালা করলি? ভাই কিন্তু খুব মনক্ষুন্ন হইছে।
: এইসব রাজনীতি আমার দ্বারা হবে না, ভাইরে তা আমি আগেই বইলা দিছি।
: হইবো না কইলে তো হইবো না। এক মাইয়া না করছে দেইখা রাজনীতি করবা না। কিন্তু ঠিকই তো মাইয়ার না অমান্য করে নেশা করতাছো। তো রাজনীতিতে সমস্যা কী?
আলম চুপ। আশরাফ বলতে থাকে,
সামনে নির্বাচন। তোর এলাকায় তোর কাজ করতে হইবো। তাছাড়া তুই নিজে বুঝতাছস না দেশের পরিস্থিতি? হালারা দেশটারে নরক বানাইয়া রাখছে না জিত্তে পারলে একবারে মাঠে মরতে হইবো। আর দেশটারে আমরা না বাঁচাইলে বাঁচাইবো কে ?
আলম আবারো চুপ করে রইলো। আশরাফ এতে বিরক্ত হয়ে উঠে বসলো। বলল, কিরে কথা কস না ক্যান?
আলম শোয়া থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, আচ্ছা পরেরটা পরে দেখা যাবে। আগে আমি মিতুর সাথে ঝামেলা মিটমাট করি। ওর সাথে কথা না বললে আমার বুক খালি খালি লাগে।
ঝগড়ার তিনদিন পরেই আলমের সাথে মিতুর আবার সব মিটমাট হয়ে গেল। মিতু আবার আলমকে বলে তাকে ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করতে যেন আর গাঁজা না খায়। আলম আবার প্রতিজ্ঞা করে। মিতু আবার আলমের বাহু জড়িয়ে ধরে ঘন্টার পর ঘন্টার গল্প করে।
আলম আর মিতুর এই প্রেম তিনবছরের। গতানুগতিক সাধারণ প্রেম। তবে সব সাধারণ প্রেমের ভিতরেই অসাধারণ একটা গল্প থাকে। তাদেরও আছে।
গল্পটা হয়তো কখনো সুখের, কখনো দুঃখের। কখনো গল্পটা লেখা থাকে মিতুর অভিমানী কান্নায় কিংবা আলমের মন খারাপি নিকোটিনে। কখনো গল্পটা লেগে থাকে তাদের ফেলে যাওয়া বাদামের খোসায় বা বিকালের ফুচকার প্লেটে। কখনো বা গল্পটা ডানা মেলে তাদের হুড তোলা রিক্সায় আর মিতু লজ্জায় লাল হওয়া গালে।
এমনি করে এক মাস। দুই মাস। ভালোই কাটছিল আলম আর মিতুর দিন। কিন্তু হঠাৎ আবার একদিন মিতু আলমের সাথে ঝগড়া করে। খুব বড় ধরনের ঝগড়া। যার ফল স্বরুপ সে আলমের সাথে প্রায় তিনমাস কথা বন্ধ রাখে।
মিতু আলমকে না করেছিল কোন রাজনীতিক মিটিং মিছিল যেতে। মিতুর ভয় হয়। আলমকে হারানোর ভয়। কারণ দেশের পরিস্থিতিটা এমন যে এইসব মিটিং মিছিলে যেকোন সময় গোলাগুলি হতে পারে।
ঊনসত্তরের গণ অভুত্থানের মাস ছয়েক আগে আলম প্রথম বারের মতো ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। মিতুও প্রথম কিছু বলে নি। কিন্তু গণ অভুত্থানে মানুষের মৃত্যু দেখে মিতুর মনে ভয় ঢুকে যায়। আলমকে তখনই প্রথম বলে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে বলে। নতুন প্রেম। রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলে মিতু রাগ করে। আবার অন্যদিক দিয়ে তখন আলমের বাবার হার্ট এটাক হয়। আলম বুঝতে পারে তার জন্য দুশ্চিন্তায় বাবার এই অবস্থা। তাই সে রাজনীতি থেকে নিজেকে একটু একটু করে গুটিয়ে নেয়। তবে পুরোপুরি না। একটা ঘটনা আবার তাকে পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে মিছিল গুলোতে নিয়মিত করে তুলে।
সময়টা ১৯৭০সালের ৮ নভেম্বর। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় এক প্রলংয়কারী সাইক্লোন। "ভোলা সাইক্লোন।" যাকে আধুনিককালের সবচেয়ে ভয়ানক ঘুর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এই ঘুর্ণিঝড় ১১ তারিখ রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানে এবং বাড়িঘর গ্রাম শস্য সব ধ্বংস করে দিয়ে যায়। ঐ রাতে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল প্রায় ১৮৫ কিমি। তিন লাখের মতো (মতান্তরে পাঁচ লাখ) মানুষ মারা যায়। সরকারী হিসেবে শুধু ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ১৬৭০০০ জনের মধ্যে শতকরা প্রায় ৪৫ জন লোক মারা যায়।
এই দুর্যোগের পরবর্তি সময়ে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার ত্রাণকার্যে অবহেলা শুরু করে। যার ফলে মারা যায় আরো অনেক মানুষ। এই ত্রাণের অভাবে দিন দিন পরিস্থিতি ভয়ানক খারাপের দিকে এগোতে থাকে। ভয়ানক খারাপ।
একটা ছোট ত্রাণ বিতরণ দলের সাথে আলম ঐ দুর্যোগ কবলিত এলাকায় যায়। চারপাশ দেখে শুধু তার বুকে হাহাকারের ঢেউ উঠে। চারদিকে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন। সব লন্ডভন্ড হয়ে আছে। সেই সাথে চারদিকে ছড়িয়ে চিটিয়ে পড়েছিল লাশ। শুধু লাশ।
দুর্যোগে বেঁচে যাবার পরেও প্রয়োজনীয় সাহায্যের অভাবে চোখের সামনে মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের দেখে এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে আলমের বুক ফেঁটে কান্না আসে। এতো কাছ থেকে সে কখনো মৃত্যু দেখেনি। আলম নির্বাক হয়ে বসেছিল। তার গলা দিয়ে ঐ শোষক সরকারের প্রতি শুধু ঘৃণা উঠে আসতে থাকে। আর ঝাপসা চোখে ভাবতে থাকে দেশটা যদি স্বাধীন হতো তবে হয়তো দুর্যোগের পরের মানুষ গুলোকে হয়তো বাঁচানো যেত। কিন্তু হায়! তার দেশ তো স্বাধীন না।
দুর্যোগ কবলিত মানুষের প্রতি এভাবে অবহেলার জন্য পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে ১৯শে নভেম্বর ঢাকায় ছাত্রদের করা একমিছিলে এবং ২৪শে নভেম্বর মাওলানা ভাসানীর এক জনসভায় আলম আশরাফের সাথে বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে যোগ দেয়। মিছিলে অংশগ্রহন আর পত্রিকায় টুকটাক কলাম এবং কবিতা লেখা ছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে আর কিছু করার মতো ক্ষমতা তখন তার ছিল না। ঐ সভায় মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানী প্রেসিডেন্টের দুর্যোগ মোকাবেলা এবং দেশ চালনার অদক্ষতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবী করেন।
হ্যাঁ। এইসব জনসভাতেই অংশগ্রহনের জন্য মিতু আলমের সাথে ঝগড়া করে। চিৎকার চেঁচামেচি করে। আলমেরও হঠাৎ জানি কি হয়। সেও মিতুকে কড়া কড়া কথা বলে। মিতু চুপ হয়ে যায়। আলম চলে যায়। মিতু বসে থাকে। আলমকে বলা হয় না,এই দুনিয়াতে আলম ছাড়া মিতুর আর কেউ নেই। আলম জানে মিতু এতিমখানায় মানুষ,তবে আলম হয়তো এভাবে ভেবে দেখে নি যে তার কিছু হলে মিতুর কি হবে? মিতু একেবারে চুপ হয়ে যায়। অভিমানে আলমের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় এবং অভ্যাসবশত আলমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
১মার্চ ১৯৭১। অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয় নি। এরপর থেকেই দেশের সার্বিক অবস্থা দিন দিন খুব খারাপ হতে থাকে।
খারাপ হতে থাকে আলমের অবস্থা। ছোট খাট মিটিং মিছিল থেকে আশরাফের সাথে বড় বড় মিছিলে তাকে দেখা যেতে থাকে। শ্লোগানে শ্লোগানে কাটতে থাকে আলম আর আশরাফের দিন।
বিশাল রাজনীতির ময়দানে খুব সাধারণ দুইজন সৈন্য। যারা কখনো ইতিহাসের পাতায় জায়গা পাবার জন্য রাজনীতি করে নি, শুধু দেশটাকে ইতিহাসের পাতায় একটা সম্মানজনক স্থান দিতে চেয়েছিল। যাদের চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন 'স্বাধীন বাংলাদেশ'। যাদের রাজনীতি (আলমের ভাষ্যমতে সাময়িক রাজনীতি) ছিল দেশের জন্য, ব্যক্তিগত লোভের অনেক উর্ধ্বে।
কিন্তু আলম যত রাজনীতির সাথে জড়াতে থাকে মিতু যেন তত তার থেকে দূরে সরতে থাকে। সারাদিন মিটিং মিছিল নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও একটা চাপা কষ্ট, একটা হতাশা, একটা র্দীঘশ্বাস সবসময় আলমকে ঘিরে রাখে। তারপর মার্চের এক তারিখ অনেক কষ্ট করে আজিমপুরের দিকে আশরাফ আলম আর মিতুর দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়।
আলম অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পর মিতু আসে। চোখ মুখ অভিব্যক্তিহীন। দুজন চুপচাপ বসে থাকে। কেউ কিছু বলে না। দুজনেই যেন কথা হারিয়ে ফেলেছে। সময় গড়িয়ে যায়। একসময় মিতু বলে, আমি যাই।
আলম বলে, আগামীকালকে খবর পাঠালে বটতলায় এসো।
'কেন?'
'আসলেই দেখতে পারবে।আর এটা রাখো' বলে একটা চিরকুট মিতুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে আলম দ্রুত পায়ে চলে যায়। কারণ চিরকুটটা পরে মিতু এখন কাঁদবে। আলমের কাছে মিতুর জলভরা চোখ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম দৃশ্য হলেও আলম মিতুর কান্না সহ্য করতে পারেনা।
মিতু ঝাপসা চোখে হাতে ধরা চিরকুটের দিকে তাকিয়ে আছে।যাতে লেখা আছে,
আমি সাঁতার পারি না,
তবু তোর দীঘল চোখে ডুব দিব।
আমি স্বাধীনতা চাই,
তবু তোর আঁচলে পরাধীন হবো।
পরদিন ২রা মার্চ মিতু ঢাকা ভার্সিটির বটতলার দক্ষিণে এক জনসমুদ্রের ভীড়ে গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে যে সবাই ছাত্রনেতা বা যারা রাজনীতি করে তা না, মিতুর মতো সাধারণ লোকের সংখ্যাই বেশী। তাদের সবার চোখ ঐ বটতলায় দাঁড়ানো মানুষ গুলোর উপর। মিতুর পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তার এক বান্ধবী শিরীন। তারা দুজনেই ভয়ে ভযে বটতলার দিকে তাকিয়ে আছে। ঐখানে ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর বর পাকিস্তানীরে পতাকা পুড়াচ্ছেন যা দেখে মিতুর গলা শুকিয়ে গেল। কারণ আসার সময় সে দেখে এসেছে বটতলা এলাকাটার বাইরে অদূরে পাকিস্তানী মিলিটারীরা ট্যাংক আর ভারী অস্ত্র নিয়ে তর্জন গর্জন করছে। মিতু চারদিকে আলমকে খুঁজলো। পেল না। এতো লোকের ভীড়ে পাবার কথাও না। মিতুর বুকের ভিতরে ভয়টা কেমন দলা পাকিয়ে উপরে উঠতে থাকলো, বিভিন্ন খারাপ চিন্তা মাথায় আসতে থাকলো।
'যদি গোলাগুলি হয়?যদি মানুষ মরে?যদি আলমের....'এইটুকু ভাবতেই মিতু দেখতে পেল লাল সবুজে হলুদ মানচিত্র খচিত পতাকাটি কেমন সমহিমায় সগৌরবে উড়ছে।
'ওমা পতাকা কখন...আমিতো খেয়ালই করিনি' মিতু বিড় বিড় করে বলল। অনেকক্ষন একনাগাড়ে পতাকার দিকে তাকিয়ে থাকার পর আনমনে অনেকটা জোরেই মিতু বলে উঠে 'আমাদের পতাকা।'
সাথে সাথে তার বুকটা গর্বে ভরে যায়। হঠাৎই সকল ভয় ভুলে তার ঠোঁটে হাসি দেখা গেল। মনে হল উড়তে থাকা এই ছোট কাপড়টা যেন বুকের ভেতর সাহস হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মুহুর্তেই একটা নতুন স্বপ্ন তৈরী হয়েছে যা শরীরের প্রতিটি রক্ত কণায় যেন তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। মিতু হাসতে হাসতে চোখের জল মুছল। এ জল আনন্দের। এ জল যে অস্তিত্ব ঘোষণার।
৭ই মার্চের পর থেকে আলমের খুব ব্যস্ত সময় কাটছে। মিতুকে দেবার মতো তেমন সময় সে যোগাড় করতে পারছেনা। তবুও ইদানীং মিতুর কোন অভিযোগ নেই। মিতু কেমন জানি বদলে গিয়েছে। আলমের কাজকর্মে বাধা দেয় না বরং আলমের সাথে সময় পেলেই দেশ, দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এসব নিয়ে কথা বলে। আলম অবাক হয়ে মিতুর দিকে তাকিয়ে থাকে। সে ধরতে পারে না কিসের জন্য মিতুর এমন পরিবর্তন।
আবার অন্য দিকে আলম ভয়ে থাকে এইবারে অনেক কষ্টে মিতু অভিমান শিথীল হয়েছে, কিন্তু এভাবে মিতুকে সময় না দিলে মিতু যদি আবার অভিমান করে? তাই আলম অনেক কষ্ট করে মার্চের ২০ তারিখ সকালে মিতুকে নিয়ে রিক্সা করে ঘুরতে বের হলো।
মিতু আলমের হাতটা ধরে ভয়ে ভয়ে বলল, জানো আমার না ইদানীং শহরে বের হতেই ভয় লাগে।
আলম হেসে দেয়। বলে, কেন?
: এমনি।
মিতুর এমনি শুনে আলম আবার হাসে।
মিতু আবার বলে, হাসো কেন?
আলম বলে, এমনি। বলেই আরো জোরে জোরে হাসতে লাগলো।
রিক্সা থামে খিলগাওয়ের তালতলা এলাকার এক সরু গলির ভিতর। আলম ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে মিতুকে বলে, কি মেমসাহেব নামতে হবে না?
মিতু নামতে নামতে জিজ্ঞাস করে, এটা কার বাসা?
: মামার বাসা।
: মামার বাসা মানে? আমি কি এখন তোমার মামা মামীর সাথে দেখা করবো?
: শুধু মামা মামী না। আব্বা আম্মাও আছেন। উনারা ঢাকায় আসছিল আব্বাকে ডাক্তার দেখাইতে। তো ডাক্তার দেখানোর পর চলে যাবার আগে আম্মা তোমাকে দেখতে চাইলো...আমি অবশ্য আগেই তোমার কথা আম্মাকে বলে রাখছিলাম।
: দাঁড়াও দাঁড়াও। তুমি আমাকে আগে জানাবা না?
: আগে জানাইলে কি হতো? আমি তোমারে সারপ্রাইজ দিতে চাইছি।
'রাখো তোমার সারপ্রাইজ।ভিতরে গেলেই উনারা আমার বাবা মা সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করবে। তখন তুমি উনাদের কি বলবা?' কথাটা বলতে বলতেই মিতুর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল।হঠাৎ করেই কোমল চেহারায় কাঠিন্য চলে এলো।
আলম বোকার মতো একটা হাসি দিয়ে বলল, উনারা সব জানেন। আমি বলছি আম্মাকে সব। আম্মা মেনে নিছে।
: আরে তুমিই আমার সম্বন্ধে কি জানো? কতটুকু জানো?
: আরে আজব! এখন জানাজানি কি হলো আবার? আর এইসব কথা আম্মা তোমাকে এখন জিজ্ঞাস করবে না। আর রাস্তায় এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে চলো, ভিতরে চলো।
: ওয়েট...কি বলছো তুমি তোমার আম্মাকে? আমি এতিমখানায় মানুষ? এতোটুকুই? তুমি কি জানো আমার মা একজন খারাপ মেয়ে মানুষ ছিল? জানো তুমি? তুমি এইগুলা তোমার আম্মাকে বলতে পারবা কোনদিন? আর এইসব কথা জানার পর তোমার আম্মা আমাকে মেনে নিবে?
মিতু কথাগুলি অনেক জোরে জোরে বলে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় এক অপরিচিত লোকও ক্ষণিকের জন্য তার দিকে আড়চোখে ফিরে চায়। আলম অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে মিতুর দিকে। মিতু শক্ত চোখে তাকিয়ে থাকে আলমের দিকে। একসময় আলম মিতুর হাত ধরে বলে, চল ভিতরে যাই। আম্মা অপেক্ষা করছে।
বিশ তারিখ রাতেই একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে কাজী ডেকে আলম আর মিতুর বিয়ে পড়ানো হয়। খুব তাড়াহুড়ো করে সবকিছুর ব্যবস্থা করে আশরাফ। প্রথমদিকে যদিও সে এই মুহুর্তে আলমের বিয়ে কোনভাবেই মেনে নিতে পারে নি। কিন্তু পরে যখন আলম তাকে সব খুলে বলল তখন আশরাফ বিরস মুখে বিয়েতে সবকিছু যোগাড় করার জন্য রাজি হয়ে যায়।
আলমের ভয় ছিল এইবুঝি মিতু ওর মামা বাসা থেকে চলে যাবার পর তার সাথে আবার আগের মতো যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে। কারণ বাসায় ঢোকার পর থেকে মিতু আলমের সাথে কোন কথা বলেনি। অন্য সবার সাথে একেবারে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে, হাসিতামাশা করছে কিন্তু আলমের সাথে কোন কথা নেই। আলম সব সহ্য করতে পারে কিন্তু তার সাথে মিতুর নীরবতা সহ্য করতে পারে না। তাই সে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, বিয়ে যখন করতেই হবে, তবে আজই নয় কেন?
পাঁচ দিন পর। মার্চের ২৬ তারিখ। একটা দুঃস্বপ্ন। একটা অন্যরকম ভোর। মিতু একদৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। সারারাত সে ঘুমায় নি। একজায়গায় ঠাঁই বসে ছিল। একনাগাড়ে চোখের পানি ফেলেছে। আর আলমের কথা ভেবেছে।
আলম গতরাতে বাসায় ফিরেনি। ২৫তারিখ সকালে কাজ আছে বলে বাইরে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত তার ফিরবার নাম নেই।
গতরাতে সারা ঢাকা শহর লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। মিতুর সেদিকে খেয়াল নেই। সে কেবল জানে মানুষটা গতরাতে বাসায় ফিরে নি। প্রথম প্রথম অশুভ চিন্তা গুলো খুব করে মাথায় ঝেকে বসেছিল কিন্তু এখন মাথাটা পুরো ফাঁকা। মিতু কিছু ভাবতেও পারছেনা। বুকের ভেতর ভয়টা কেমন জানি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। পুরোপুরি অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে মেয়েটা।
বিয়ের পর থেকে মিতুরা আলমের মামার বাসার ছাদের চিলেকোঠায় থাকা শুরু করেছে। আলমের মামী একটু আগে এসে কিছুক্ষণ তাকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। পরে চলে যান। মিতু তখনো একভাবেই বসে ছিল।
সারারাত তার অসংখ্যবার গত পাঁচ দিনের কথা খুব করে মনে পড়েছে। আর সারা শরীর কাঁপিয়ে বার বার কান্না এসেছে। বিশ তারিখ সকালের পর থেকে সে আলমের সাথে কোন কথা বলেনি। এমন কি আলমের মা যখন গিয়ে বললেন,'আজই তোমাদের বিয়ে।তোমার কোন আপত্তি নেই তো?' তখনও সে আলমের সাথে কথা বলেনি। শুধু কতক্ষণ চুপ করে থেকে মাথা নেড়ে সায় দেয়, তার কোন আপত্তি নেই। বাসর রাতেও সে না কোন কথা বলেনি। আলম একায় কিছুক্ষন যাবৎ বকবক করে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাছাড়া গত কিছুদিন ধরে আলম নানাভাবে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে, কোন লাভ হয় নি। মিতু সবসময় চুপ ছিল। সবসময়।
দোতলার সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে আলমের মামী শাহানা বেগম নীচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে গতরাতের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ করেই কান্নার শব্দ শুনে প্রায় দৌড়ে চিলেকোঠায় যান। গিয়ে দেখেন মিতু হাউমাউ করে কাঁদছে। তিনি মিতুকে জড়িয়ে ধরে বলেন,কাঁদে না মা। লক্ষী মা আমার। আলম একটু পড়েই এসে পরবে। তুই দেখিস?
মিতু শাহানা বেগমকে শক্ত করে ধরে ফোঁপাতে ফোঁপাতে অস্পষ্ট ভাবে বলে, 'মামী আমি ওর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি। খুব খারাপ ব্যবহার।' বলেই আরো জোরে জোরে ফোঁপাতে থাকে।
মিতু বসে আছে পুকুর ঘাটে। আজ পূর্ণিমা। চারদিক চাঁদের আলোয় থৈ থৈ করছে। মিতু স্থির চোখে তাকিয়ে আছে হাতের মুঠোয় থাকা জোনাক পোকাটার দিকে। পোকাটা তার হাতের মুঠোর ভিতর ছটফট করছে। মুক্তির জন্য।
মিতু ভাবে, 'পোকাটার সাথে আমাদের মিল আছে? আমরাও কি কারো হাতের করতালে বন্দী?'
জোনাকী টা উড়ে যায়। মিতু তাকিয়ে মুক্তির আনন্দ দেখে। বন্দী দশা থেকে মুক্তি। আর নিজের কথা ভাবে। সে নিজেও ছোটবেলা থেকে একটা শব্দের মাঝে বন্দী ছিল। হয়তো এখনো আছে। জন্মের পরপরেই তার মা তাকে একটা এতিম খানায় দিয়ে দেয়। নিজের কাছে রাখেনি। মিতুর যখন তের বছর তখন সে তার মায়ের পরিচয় জানতে পারে। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে এক জীবনে কতটুকু ঘৃণা করতে পারে? যতোটুকু ঘৃণা সম্ভব তার সবটুকু ঘৃণায় মিতু তার মা কে দিয়েছে,শুধুমাত্র তাকে এই পৃথিবীতে জন্ম দেয়ার জন্য। মিতু সবসময় বন্দী ছিল,'পতিতার সন্তান' নামের একটা শব্দের মাঝে।
আলমকে মিতু ভয়ে তার মায়ের পরিচয় প্রথম দিতে পারে নি।
'যদি আলম আমাকে ছেড়ে চলে যায়?' এই ভাবনাটা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেত। কারণ মিতু জানে, জন্মপরিচয়হীন এতিমখানায় বড় হওয়া একটা মানুষকে মেনে নেয়া যতোটা সহজ 'পতিতার সন্তান' এই পরিচয় জানার পর ঐ মানুষটাকে মেনে নেয়া তত সহজ না।
পায়ের শব্দ শুনে মিতু পিছনে ফিরে তাকায়। আলম এসে তার পাশে বসে। মিতুকে জড়িয়ে ধরে বলে, এতো রাতে এখানে কি করো?
: কিছু না।
: মন খারাপ?
'নাহ।চলো ভিতরে যাই।' বলে মিতু উঠে দাঁড়ায়।
'আরে বসো তো। গায়ে একটু ঝোৎস্না মাখি।' বলে আলম মিতুর হাত ধরে টান দিয়ে তার সামনাসামনি বসিয়ে দেয়।
গায়ে ঝোৎস্না মাখার কথা শুনে মিতু হেসে দেয়।
আলম মুগ্ধ হয়ে তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মানুষ এতো সুন্দর করে হাসতে পারে? এতো সুন্দর চোখ সত্যিই কোন মানবীর হয়? মিতু কি জানে তার দুই চোখ ঝোৎস্নার আলোতে যে অপার্থিব হয়ে উঠেছে?
আলমকে এভাবে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিতু বলে, কি আমাকে কখনো দেখ নাই?
আলম কিছু বলে না। চুপ করে থাকে। স্বর্গীয় কিছু দেখার সময় কোন কথা বলতে নেই।
একসময় মিতুই আবার নীরবতা ভেঙ্গে বলে, আচ্ছা আজকে সকালে তোমার কাছে আসছিল যে লোকটা উনি কে?
: এমনি দেখা করতে আসছিল। পাশের গ্রামে থাকে।
মিতু চোখ কুঁচকে বলে, তুমি যুদ্ধে যাবার পরিকল্পনা করছো না তো?
: পাগল? যুদ্ধে গেলে তো আমি ঢাকা থাকতেই যেতে পারতাম, তোমার সাথে কি তাহলে আর গ্রামে আসি?
: তুমি আমাকে ছুঁয়ে কথা দাও যুদ্ধে যাবে না।
আলম মিতুর হাতটা ধরে বলে,
এই তোমাকে ছুঁয়ে কথা দিলাম আমি কোন দিন যুদ্ধে যাবো না।
আলম যুদ্ধে যায় মে মাসের সাত তারিখ। পূর্ণিমার দুইদিন পর। মিতু ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখে পাশে আলম নেই। ভাবে হয়তো বাইরে হাঁটতে গিয়েছে। মিতু বিছানা থেকে নেমে পড়নের শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে দেখে বালিশের পাশে একটা চিঠি রাখা। সাথে সাথে মিতু চোখ বন্ধ করে ফেলে।
'আলম আবার কথা রাখে নি।'
"রাতের সকল আঁধার আমার বুক পকেটে আমি হারিয়ে যাব আঁধারে,ভোরের আলো ফোটুক তোর ঠোঁটে
খুঁজিস না আমায় ঐ আলোতে।
আঙ্গুল ফাঁকে আঙ্গুল রেখে আজ শেষবারের মতো সময় দিব থামিয়ে,আজ বীজ বুনে দিয়ে তোর রক্তে
আমি হারিয়ে যাব আঁধারে।"
এতোটুকু পরেই মিতু অজান্তে নিজের পেটে হাত দেয়। বিড় বিড় করে বলে, 'আলম জানতো?'
তারপর কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বসে থেকে চিঠির বাকি অংশটুকুর দিকে মনোযোগ দিল।
'...মিতু, আমি আর তুমি খুব সাধারণ দুইজন মানুষ। আমাদের জীবনটা সাধারণ। গল্পটা সাধারণ। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই চেয়েছি সারাজীবন তোমার হাত ধরে পাড় করবো।যেমনটা এখনো চাই। আবার ঠিক পরমুহূর্তেই মনে দ্বিধার জন্ম নিয়েছে।
শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখব? দেশের এই পরিস্থিতিতে আমার কিছু করার নেই?
আমি খুব সাধারণ মিতু। সবসময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি। সবসময়। তবে হ্যাঁ....এটাই শেষবার, আর কোনদিন তোমার ওয়াদা ভাঙ্গবো না। যদি বেঁচে থাকি তবে দেশ স্বাধীন করে এসে সত্যি সত্যি তোমার আচঁলে পরাধীন হবো। আর যদি মরে যাই...থাক ঐ কথা না হয় নাই বলি। ভালো থেকো। বিদায়।'
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now