বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তাড়াহুড়া করে মায়ের হাত থেকে টিফিন বক্স নিয়ে ক্লাসের উদ্দেশ্যে বেরোল তপু। তপু ভাওয়াল স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। সবাই তাকে ক্লাসের মধ্যম সারির ছাত্র বলেই জানে। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল আদিবা তার খুব ভালো বন্ধু। তাদের আরেক জন বন্ধু আছে, খোকা। সবাই তাকে দুষ্টুমি করে খোকা বাবু বলে ডাকে। সে একটু বোকা প্রকৃতির। ক্লাসের সবার সাথে খুব একটা মিশতে পারে না।
স্কুল গেট পার হয়ে ঢুকতেই তপুর পথ আটকে দাঁড়ালো আসলাম।
আসলামঃ "কীরে ক্রিকেটার, টিফিনে কি আনলি আজকে? মোটা কদু হয়ে যাচ্ছিস তো, রান নিতে পারবি না। তোর বান্ধবীকে দিয়ে পাঠিয়ে দিস টিফিনটা।"
তপুঃ "দেখ আসলাম আজেবাজে কথা বলবি না। আমরা শুধুই ভালো বন্ধু। সেটা তুইও ভালো জানিস। আর আমার টিফিন তোকে দেবো কেন?"
আসলামঃ "আমাকে টিফিন পাঠাতে আবার কো্নো কারণ লাগবে নাকি? সময় মত পাঠিয়ে দিস।"
তপুঃ "না পাঠাবো না। আমার টিফিনের আশায় থাকলে আজকে হাওয়া খেয়ে কাটাতে হবে।"
আসলামঃ "কি বললি?"
তপুঃ "যা শুনেছিস তাই বলেছি।"
আসলামঃ “তাহলে এখনি রেখে দেই।” বলেই তপুর ব্যাগ ধরে টান দিল আসলাম।
আসলামের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো তপু। বাঁধা পেয়ে রেগে গেল আসলাম। জোরে ধাক্কা দিলো তপুকে। টাল সামলাতে না পেরে বৃষ্টির পানি জমে থাকা গর্তে পরে গেল তপু। নাকে প্রচণ্ড ব্যাথা পেল। শার্টের বোতাম ও বাম পাশটা ছিঁড়ে গেল ওর। সারা শরীরে কাদা নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই আসলাম তার দিকে টিফিন সহ ব্যাগটা ছুড়ে মেরে বলে উঠলো, “এবার আরাম করে কাদা দিয়ে টিফিন খা।” আসলাম ও তার বন্ধুবান্ধব হাসা-হাসি শুরু করলো। লজ্জা ও ব্যাথায় চোখে পানি চলে আসলো তপুর। এই জামাকাপড় নিয়ে ক্লাসে যাওয়া যাবে না বুঝে বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করলো সে।
সেদিন ক্লাসে নামডাকার পর তপুর কোন সাড়া পাওয়া গেলো না। ক্লাসটিচার জানতে চাইলেন তপুর ব্যাপারে কেউ কিছু জানে কি না।
“স্যার, তপুর ডায়রিয়া হয়েছে। আমি ওদের বাসায় গিয়েছিলাম। ওর শরীরের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। টয়লেটে যেয়ে আর স্যালাইন খেয়েই ওর দিন কাটছে এখন।” বহুকষ্টে হাসি চেপে রেখে কথা শেষ করলো আসলাম।
কথা শেষে বইয়ের স্তূপের পিছনে মাথা ঢেকে হেসে দিলো সে। আসলামের হাসি সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়লো পুরো ক্লাসে।
স্যারের ধমক খেয়ে হাসি থামলো সবার। তিনি বুঝতে পারলেন না আসলে কি হয়েছে। আবার নাম ডাকা শুরু করলেন তিনি। নামডাকা চলার পুরোটা সময় জুড়ে আসলাম আর তার বন্ধুরা মিলে পিছনে বসে মুখচেপে হাসতেই থাকলো।
আসলাম তপুকে দেখতে গেছে, এই ব্যপারটা তপুর বন্ধু আদিবার কাছে একটু অদ্ভুত লাগলো। আসলাম আর তপু কখনোই খুব ভালো বন্ধু ছিলনা। আর তাছাড়া টিফিনের সময় ছাত্রছাত্রীদের হেনস্থা করার ব্যাপারে আসলামের বেশ নাম রয়েছে। সে ভাবলো আজ বিকেলে বাসায় ফিরে তপুকে একটা ফোন করবে।
বহুবার বাজার পর তপু ফোন তুললো। শুরুটা করলো আদিবাই।
আদিবাঃ "কিরে? কোনো খোঁজ খবর নেই। শুনলাম তোর নাকি অসুখ?"
তপুঃ "কই নাতো। ভালোই তো আছি আমি। আমার অসুখ কে বললো তোকে?" অবাক হলো তপু ।
আদিবা এবার আজকের ক্লাসের ঘটনাটা ওকে খুলে বললো।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তপু বললো, “ও কেনো আমার সাথে এইরকম করে? ওই তো সেদিন আমাকে ক্লাসে গেলে মারবে বলে হুমকি দিলো আর এখন বলছে আমার অসুখ!”
আদিবা বুঝতে পারলো তপুকে আসলাম আর ওর বদ বন্ধুরা মিলে হেনস্থা করছে। এই বাজে ব্যাপারটা মনে করিয়ে সে আর তপুকে কষ্ট দিতে চাইলো না। দ্রুতই কথার মোড় ঘুরিয়ে আজকে ক্লাসে কি পড়ানো হলো সেগুলি নিয়ে আলোচনা আরম্ভ করলো।
যদিও আদিবা নিজে কখনো এধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি, তবুও সে ঠিক করলো তপুর হয়ে লড়বে। এর আগেও সে আসলামকে তার অন্যান্য ক্লাসমেটদের হেনস্থা করতে দেখেছে। এখন যেহেতু ব্যাপারটা তার বন্ধু তপুর সাথে ঘটছে তাই এটা তাকে বিশেষ ভাবালো।
আদিবার মনে হলো সে নিজেও এখন এই সমস্যার একটা অংশ। আগে যখন আসলাম তার অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে তখনই কিছু করলে আজকের এই দিন দেখতে হতোনা। আদিবা সবসময় মনে করতো স্যারই এইসব সমস্যা খেয়াল করবেন আর থামাবেনও। কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে স্যার হয়তো কোনদিনই খেয়াল করবেন না।
তাদের আরেক বন্ধু খোকার সাথে দেখা করলো আদিবা। দুজন মিলে তপুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার উপায় খুঁজতে লাগলো।
হোমওয়ার্কের ডায়েরিটা ব্যাগে রাখতে রাখতে আদিবা বললো, "তুই কি খেয়াল করেছিস তপু গত কয়েকদিন ধরে স্কুলে আসছেনা? বদমাশ আসলাম আর ওর বন্ধুরা মিলে ওকে হুমকি দিয়েছে যেনো স্কুলে না আসে!"
চিন্তিত মুখে খোকা উত্তর দিলো, "জানি আমি সব। ফোন করেছিলাম তপুকে। কিন্তু ও রিসিভ করেনি। আসলামের সাথেও কথা বলেছিলাম। ও যা করছে সেটা মোটেও ঠিক না। ওকে বোঝাতে চাইলাম। ও উল্টা এসে আমার সাথে হইচই শুরু করে দিলো।"
আদিবাঃ "সে এভাবে মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা। আর কাউকে স্কুলে না আসতে হুমকি দেওয়ার অধিকারও তার নেই। এইবার আমাদের কিছু একটা করা উচিত।" আদিবা রেগে গেলো।
খোকাঃ "কি করবি বলে ভাবছিস? আমি কিন্তু কোনো ঝুটঝামেলায় নাই।"খোকা কিছুটা ইতস্তত করে বললো।
আদিবাঃ "কিন্তু তোর বন্ধু বিপদের মধ্যে! আজকে যদি আমরা কোনো কিছু না বলি একদিন হয়তো তোর কিংবা আমার সাথে ও একই ব্যবহার করবে।” আদিবার গলায় ক্ষোভ।
খোকাঃ "আমরা সাধারণ ছাত্রছাত্রী। এসব দেখার দায়িত্ব শিক্ষকদের, আমাদের না।" খোকা কে এবার কিছুটা চিন্তিত দেখালো।
আদিবাঃ “আসলে তুই যেভাবে ভাবছিস সেটা ঠিক নাও হতে পারে। আচ্ছা একটা ব্যাপার ভেবে দেখতো। আমাদের ক্লাসে যদি কেউ অংকে ফেল করে আমরা কি বলি? ওই স্যারের দোষ কিংবা ওই ছাত্রের। অথচ এইখানে কিন্তু আমাদেরও কিছু করার আছে। চাইলেই আমরা ওই ছাত্রটাকে দু একটা অংক বুঝতে সাহায্য করতে পারি। কিংবা একটা কঠিন সূত্র বুঝিয়ে দিতে পারি। পারি কি না বল?" কিছুক্ষণ চুপ থেকে আদিবা বললো।
খোকা কিছু বলার আগেই ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজলো। টিফিন টাইম শেষ হওয়ার আগেই ক্লাসে থাকতে হবে। দেরি হলে আবার শাস্তি পেতে হবে।
ক্লাসে ফেরার সময় খোকার মাথায় শুধু একটা জিনিসই ঘুরছিলো। সে কেনো এতদিন বুঝতে পারলোনা এই সমস্যাগুলো সমাধানে তারও একটা দায়িত্ব আছে।
চিন্তামূলক প্রশ্ন :
তোমার কি মনে হয়, আসলামের প্রতি অন্যায় বন্ধ করার জন্য দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসা কি আদিবার জন্য সঠিক হবে?
আমরা যা শিখলামঃ
আর দশটা সাধারণ মানুষ থেকে নেতৃত্ব চর্চাকারীর পার্থক্য এইখানেই যে তিনি চারপাশের সমস্যাগুলিকে ভয় পাননা। বরং মোকাবেলা করেন। সাধারণ মানুষ যখন সমস্যার জন্য একে অপরকে দায়ী করে তখন এগিয়ে আসেন নেতা। সাহসের সাথে সমস্যার মুখোমুখি হন। মানুষকে উৎসাহিত করেন সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে।
আমাদের মাঝে একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে সকল সমস্যার জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসল সত্যটা হলো একটা পরিবেশের প্রতিটি মানুষই সেখানকার সমস্যা সৃষ্টির জন্য প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে দায়ী। সব দায় কর্তৃপক্ষের উপর চাপিয়ে দিয়ে আমরা শুধু নিজেদের দায় এড়ানোর একটা চমৎকার অজুহাত বের করি মাত্র। আমরা ভাবি আসলে এটা খুবই সহজ একটা কাজ। কিন্তু এটাতো আমার দায়িত্ব না। আমি কেন করবো? এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দিই আমরা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now