বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়ে খুব ভাল ভাবে সম্পুন্য হলো
মানে খুব ভাল ভাবে রাক্ষুসীর
হাতে আমাকে তুলে দেওয়ার
আয়োজন সম্পুন্য হলো,,,,,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে হাত
ধুইলাম,,,অনেক বেলা হয়ে গেছে
একটু পর আবার আমাদের বাসায়
যাওয়া হবে। এর আগে কিছু
নিয়ম টিয়ম নাকি আছে,,
ওগুলো পালন করার আছে.
রাক্ষুসীর রুমে নিয়ে যাওয়া হলো
আমাকে,,,
কিছুক্ষন পর আন্টি মানে আমার
শাশুড়ি মা আসলেন
তারপর আমাকে আর রাক্ষুসী
কে পাশাপাশি বসালেন…….।
নাহ রাক্ষুসী টাকে অনেক
সুন্দর লাগছে,,,হেহ কি ভাবছি
আমি,,রাক্ষুসী আবার
সুন্দর হয় নাকি?? এগুলো
হচ্ছে পার্লারের কেরামতি,,,
শুনছি পার্লারে ডুকে সকিনা আর
বের হয় ক্যাটরিনা কাইফ,,,
আর আমার দিকে হয়েছে উল্টা
ডুকেছে রাক্ষুসী আর বের হয়েছে
ময়দা মাখা রাক্ষুসী ,, হেহে,,
কিন্তু আজকে অনেক চুপচাপ
রাক্ষুসী টা,,,হয়তো বিয়ে বলে,,
যাই হোক রাক্ষুসীর মা
আমাদের দুধ ভাত খাওয়ালেন,,,
আরো অনেক নিয়ম পালন
করেছে,,,এবার আমাদের যাওয়ার
পালা,,,
বিছানায় বসিয়ে ছিল আমাদের
তাই জুতা খুলতে হয়েছে,,,
কিন্তু বিছানা থেকে নেমে দেখছি
আমার জুতা নাই
হায় হায় জুতা গেল কই,,
আমার বন্ধুরা বিছানার নিচে পর্যন্ত
ডুকে গেছে জুতা ভিতরে
আছে কিনা তা দেখতে,,,কিন্তু
জুতার কোন দেখা নাই,,হাওয়া
হয়ে গেল নাকি
আবার সেই বিচ্ছু মেয়ে গুলো
হো হো হো করে হাসছে,,,এবার
বুঝেছি এগুলো এদের-ই কান্ড
ওদের দলের মধ্যে একটা পিচ্ছি
মেয়ে বলে উঠলো পাচঁ হাজার টাকা
না দিলে জুতা দিবো নাহ ,,,
ওকে থামিয়ে আরেকটা মেয়ে
বললো আরে পাচঁ হাজার কি
কোন টাকা নাকি??? দশ হাজার
পুরো দিতে হবে,,
হায় আল্লাহ আমি কি বিয়ে
করতে আসছি নাকি ফকির হতে
আসছি,,,এরা তো দিনে দুপুরে
ডাকাতি করছে
আমি এবার পুরাই শেষ,,, রাক্ষুসী
টা আমাকে দেখে মুচকি মুচকি
হাসছে,,, ওর হাসি দেখে
আমার শরীর টা জ্বলে যাচ্ছে
আমার বন্ধু রবি এবার
আমার মনের কথাটা বলে দিলো
আরে আপনারা কি ডাকাতি
শুরু করলেন নাকি????
ওরে থামিয়ে আবির বললো
কুল ম্যান কুল,,,কোন
টেনসেন করিস নাহ,,, আমি জানতাম
ওরা এমন কিছু করবে। কারন
আমার বিয়ে তেও একি
অবস্থা হইছে:'( ,,, যাই হোক
এবার আমি হার মানছি
নাহ,,,আমার বন্ধুর বিয়ের প্রস্তুতি
আমি নিয়ে এসেছি ,,,
ওই রবি আমার ব্যাগ টা নিয়ে
আয় তো,,,রবি যেয়ে
ব্যাগ টা নিয়ে আসলো,,,,
আরে একেই বলে বন্ধু
তখন আমাকে পঁচাইলেও এখন
একটা দারুন কাজ করেছে
আরেক জোড়া জুতা নিয়ে এসেছে
জুতা গুলো দেখে ওই মেয়ে গুলোর
হাসি মাখা মুখ গুলো পুরা বাংলার
পাচঁ এর মত হয়ে গেছে
এখন ইচ্ছে করছে আমি হো হো হো
করে হাসি,,কিন্তু সেই উপায়
নেই,,নতুন জামাই তো তাই
জুতা গুলো পরে গাড়িতে উঠলাম।
রাক্ষুসী টা অনেক কান্না
করছে,,,ওর মা-বাবা সবাই
খুব কান্না করছে,,এই প্রথম
রাক্ষুসী টাকে কান্না করতে দেখছি,,
খুব খারাপ লাগছে রাক্ষুসী টার জন্য।
আমাকে আর রাক্ষুসী কে
একটা গাড়িতে উঠালো ,,, সারা
রাস্তা একটা কথাও বললো নাহ
রাক্ষুসী টা চুপচাপ ছিল…আর কান্না
করছিল পুরো পথে,,,,,
কিছুক্ষন পর আমরা সবাই
বাসায় এসে পৌছালাম,,,,
ওমা গো এতো ভিড় কেন,,,
সবাই হুড়মুড়িয়ে রাক্ষুসী কে
নিয়ে পরলো,,,
নতুন বউ এসেছে নতুন বউ
এসেছে বলে সবাই
দৌড়ে আসলো,,,
আমাকে সবাই ভুলে গেছে
আমাকে ঢাক্কা দিয়ে ফেলে দিল,,
আর ওরে সবাই ঘরে নিয়ে যাচ্ছে
আমি আমার মা-বাবার কান্ড দেখে
হা করে আছি,,, পিছন থেকে
আবির এসে বললো
দোস্ত তোর দিন শেষ,,,আমাদের ও
একি অবস্থা হইছিল,,,,
যাই হোক আমি আমার রুমে গিয়ে
ফ্রেশ হলাম,,, অনেক ধকল
গেছে বন্ধুরা মিলে তারপর অনেক্ষন
আড্ডা দিয়েছি,,,,
বন্ধুরা সেই তখন থেকে বলছে
আজকে রাত্রে যে ভাবেই হোক
তোকে বিড়াল মারতে হবে,,,
আমি ওদের কথার কোন
মাথা মুন্ডুই বুঝছি নাহ,,,হঠাৎ বিড়াল
মারবো কেন???
…..
_ ওই আবির,,,আজকে বিড়াল
মারবো ক্যান রে???
আরে আজকেই তো মারবিরে
গরু,,আজকে যদি না
মারতে পারিস তাহলে তোর
লাইফ
শেষ,,,
_ একটা বিড়াল না মারলে
আমার লাইফ শেষ??
ওরে আবুল,,,ওই বিড়াল নাহ,
(আতিফ)
_ তাহলে
……
এতক্ষনে বুঝলাম কোন
বিড়াল
এর কথা বলছে,,,এটা ছোট
বিড়াল
নাহ বড় বিড়াল এর কথা বলছে।
আই মিন রাক্ষুসী বিড়াল,,,,
রবি কিছুক্ষন পরে এসে
বললো
বাসর ঘর সাজানো শেষ,,,
অভ্র কে নিয়ে চল,,,
আমিই জানি ওটা বাসর ঘর
নাকি বাঁশের ঘর,,,
আমাকে নিয়ে ওরা ফুলশয্যার
রুমে গেল,,,
কিন্তু দরজার সামনে যেতে না
যেতে আমার পিচ্ছি মামাতো
বোন আরো অনেক মেয়ে এসে
দরজায় আটকালো
আমাদের,,,
ওদের ১০ হাজার ৫০১ টাকা
দিতে
হবে না হলে রুমে ডুকতে দিবে
নাহ
আমি তো মনে মনে দারুন
খুশি
রাক্ষুসীর সাথে থাকতেও হবে
নাহ আর টাকাও দিতে হবে নাহ
আর তাই আমি বলে উঠলাম
ঠিক আছে আমি তাহলে
আসি,,,
টাকা আমি দিবো নাহ
আর রাক্ষুসীর সাথে থাকবো
ও
নাহ,,,আমার কথায় বেচারি
দের মুখ পুরো কালো হয়ে
গেল,,আর আমি অনেক খুশি
হলাম,,কিন্তু আমার সুখ
আমার বন্ধু দের সহ্য হলো
নাহ
ওরা ওদের বললো
দেখছিস তো অভ্র কি বলেছে
এখন তোরা যদি ৫ হাজার
টাকায়
রাজি থাকিস তাহলে বল
নাহলে আমরা যাই এই বলে
আবির আমাকে নিয়ে চলে
যাচ্ছিল
আমি তো মহা খুশি,,কিন্তু
পিছন থেকে মেয়ে গুলো
বললো আমরা পাচঁ হাজার
৫০১টাকায় রাজি:'(
সাথে সাথে আমার মাথায় বাজ
পরলো
আবির ওদের টাকা দিল
ওরা টাকা পেয়ে এক দৌড় দিল
আর আবির,রবি,আতিফ আর
অন্য বন্ধুরা ভাল করে
বললো
বিড়াল মারার কথা,,,
আমার গলা পুরো শুকিয়ে কাঠ
হয়ে গেছে,,
ওরা আমাকে রুমের ভিতর
ঢাক্কা দিয়ে ডুকিয়ে দরজা লক
করে দিল
আমি বিছানা থেকে অনেক
দূরে দাড়িয়ে আছি,,
আর রাক্ষুসী টা মাথায়
গোমটা
দিয়ে ফুলের বিছানার মাঝ
খানে
বসে আছে মাথা নিচু করে ।
অামাকে দেখে মাথা উঠালো,,,
আমি ভয়ে পুরো চুপসে
আছি আর এখনো বিছানা
থেকে অনেক দূরে দাড়িয়ে
আছি।
মাথা উঠিয়ে রাক্ষুসী যা
বললো
তাতে আমার চোখ কপালে
উঠে গেছে,,,,
রাক্ষুসী টা আমাকে বলে
কি হলো ওই দিকে দাড়িয়ে
আছেন
কেন??? বিড়াল মারবেন নাহ,,
আজকে না মারলে তো
আপনার লাইফ শেষ,,,
ও এগুলো কিভাবে
জানলো তা বুঝতেছি নাহ
আমি মনে হয় এখন পুরাই শেষ
…
কিন্তু রাক্ষুসী তেমন কিছু
করলো নাহ,, বিছানা থেকে
নেমে
আমার কাছে এসে আমাকে
সালাম করলো,,,,,
আমি তো পুরাই অবাক,,,
আমি ওকে উঠিয়ে দেখলাম
নাহ খুব সুন্দর লাগছে রাক্ষুসী
টা কে
ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো
প্রথম একটু অবাক ই
হলাম,,কিন্তু বেশি কিছু না
ভেবে আমি ও জড়িয়ে ধরলাম
রাক্ষুসী টা কেন জানি
অনেক কান্না করছে,,,, আমি
ওকে তুলে ওর চোখের
পানি মুছে দিলাম,,, আর
জিজ্ঞেস করলাম,,,কি
হয়েছে???
কান্না করছো কেনো? ??
ও বললো
বাড়ির কথা মনে পড়ছে,,,
আমি বললাম ও আল্লাহ কি
বলে সেই দিন বললো
এটা নাকি তার বাড়ি
এখন আবার ওই বাড়ির জন্য
কান্না করছে,,বিয়ের আগে
অধিকার বুঝতে এসেছিলে
নাহ??
তবে এখন কেন কান্না
করছো ???
বোকা মেয়ে কান্না করে
নাহ,,,
কেন জানি আরো জোরে
কান্না করছে….
কি নিয়ম দুনিয়ার ছোট থেকে
মেয়েরা
এক যায়গায় থাকে আর বিয়ের
পর সেই যায়গা ত্যাগ করে……
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now