বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প: #প্যাড়া_এবং_ভালোবাসা ২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shakib Ahammed (০ পয়েন্ট)

X শাকিব দৌড়াচ্ছে আর মনে মনে বলছে,"একটু না হয় আপু ডাকছি, তাই এভাবে প্রতিশোধ নিবি"। ঐ দানবের মতো লোক গুলো ও শাকিব এর পিছু পিছু আসছে। সে দৌড়াচ্ছে আর পিছন ফিরে ছেলে গুলো কে দেখছে। হঠাৎ করেই একটা কিছুতে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলো। হাতে অনেক টা ছুলে গেছে,সে কোনো ভাবে উঠে আবার দৌড় শুরু করলো। শাকিব দৌড়াতে দৌড়াতে প্রায় নিরাপদ জায়গাতে চলে এসেছে। সে এসে তাদের এলাকার একটা "চা এর দোকানে বসলো"।দেখলো শাকিব এর বন্ধুরা সেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে"। সেও গিয়ে তাদের পাশে গিয়ে বসলো আর মনে মনে বলতে লাগলো, "উফফ বাবা কি বাঁচান টাই না বাঁচলাম,আজ যদি ঐ দানব গুলো আমায় ধরতে পারতো তাহলে আমার আড্ডা গুড্ডি একটারো আস্ত থাকতো না"। "সে রীতিমতো হাপাচ্ছে,শাকিব এর এভাবে হাপানি আর হাতে ক্ষত দেখে তার বন্ধু রা বলতে লাগলো, ---কিরে দুস্ত এভাবে হাপাচ্ছিস কেন?আর হাতে এমন ভাবে ব্যথা পাইলি কিভাবে?" শাকিব কি বলবে বুঝতাছে না।কারন তার বন্ধুরা যদি এই ঘটনা টা শুনে তাহলে তার "প্রেস্টিজ এর বারো টা বাজাবে,পুরো এলাকাজুরে তাকে নিয়ে ট্রল করে বেড়াবে"। শাকিব এর হাপানি কোনো ভাবেই থামছে না। তার এই অবস্থা দেখে তার বন্ধু আবির, শাকিব এর হাতে ১ গ্লাস পানি দিয়ে বললো, ---পানি খা যেভাবে হাপাচ্ছিস।আর হাতর অবস্থা তো খারাপ অনেক রক্ত ও তো বেরুচ্ছে।কিভাবে হলো এসব একটু বলবি? শাকিব আবিরের হাত থেকে পানির গ্লাস টা নিয়ে এক নিশ্বাস এ পানি টা খেয়ে নিলো।আর তার সত্যিটা লুকাতে বলতে লাগলো, "আর বলিস না আজ পার্ক গিয়ে একটা লেডিস কুকুর কে একটা গোলাপ দিয়েছিলাম,গোলাপ টা দেওয়ার সাথেই ঐ লেডিস কুকুর টা ঘেউঘেউ করে উঠলো, 'পাশেই ৫/৬ টা পুরুষ কুকুর দাঁড়িয়ে ছিলো তারা লেডিসস কুকুর টার চিল্লানি শুনে আমায় তাড়া করলো' অতঃপর আমার এই অবস্থা"। শাকিব এর কথা শুনে তার বন্ধুরা সবাই উচ্চস্বর এ হেসে উঠলো আর বলতে লাগলো, ---তুই তো না তাহিয়ার সাথে দেখা করতে গেলি পার্ক এ।তো আবার কুকুর এর পিছনে পড়লি কিভাবে? ---সে অনেক ইতিহাস রে ভাই, "এবার আমার হাতে ব্যান্ডেজ এর ব্যবস্থা কর,অনেক ব্যথা করতাছে"। শাকিব এর বন্ধুরা তাকে নিয়ে ডাক্তার এর কাছে যাওয়ার জন্য রওনা দিলো। রাত প্রায় ১০ টা শাকিব বিছানায় শুয়ে আছে আর তাহিয়ার কথা ভাবছে। "নিশ্চয় পাগলী টা আমার নাম্বারে ফোন দিচ্ছে"। ফোন দিয়েও লাভ নেই, ফোন তো আর আমি অন ই করবো না।সেই সন্ধ্যায় ফোন অফ করে দিয়েছি।ফোন টা আর আজ খুলবোই না। শাকিব শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছে। "শালী এক বার সুযোগ পায় তারপর বুঝবি কত ধানে কত চাল" আমাকে দৌড়ানির খাওয়ার প্রতিশোধ আমি শুধে আসলে নিবো। সে নিয়ত করলো টানা দুই দিন আর ফোন ই অন করবে না। অনেক কষ্টে বাসায় হাতের ব্যাপার টা অনেক মিথ্যে বলে ম্যানেজ করেছে। পরের দিন সকালে, শাকিব আর তার বন্ধুরা বসে চা এর দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো, এমন সময় শাকিব দেখতে পেলো তাহিয়া তার দিকে আসছে। তাহিয়ার ভাবসাব দেখে শাকিব বুঝতে পারলো, তাহিয়ার মেজাজ টা অনেক টা বিগড়ে আছে। তাহিয়া শাকিব এর সামনে এসে বলতে লাগলো, ----কি ব্যাপার কাল থেকে ফোন বন্ধ রেখেছো কেন?(রাগন্তিত ভাবে)....(তাহিয়া) ---ফোনে চার্জ ছিলো না।.....(নরম স্বরে)...(শাকিব) ---ফাজলামি করো হা, কাল থেকে ফোনে চার্জ ছিল না "তোমার এই ডাহা মিথ্যা কথা টা আমি বিশ্বাস করবো এতো টা বোকা আমায় ভেবো না।.....(তাহিয়া) তাহিয়ার নজর শাকিব এর হাতের দিকে গেলো, ---কি ব্যাপার হাতে কি হয়ছে?.....(তাহিয়া) ---কিছু না.....(শাকিব) ----কিছু না মানে কি?বলবা কি না?...(তাহিয়া) তাহিয়ার কথা শুনে শাকিব এর বন্ধু আবির বলতে লাগলো, ----কি রে তুই তাহিয়া কে কাল কের ঘটনা বলিস নাই?.....(আবির) শাকিব আবিরের দিকে রাগন্তিত ভাবে তাকিয়ে বলতে লাগলো, ----তুই চুপ থাক!.....(শাকিব) তাহিয়া এবার শাকিব এর দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলতে লাগলো, ---তুমি চুপ থাকো,আবির ভাই কি হয়ছে বলেন তো?....(তাহিয়া) শাকিব মনে মনে বলছে,"না এবার আমার বারো টা বাজাবে" ---আসলে হয়েছে কি,"কাল নাকি ও পার্ক এর ওখানে একটা লেডিস কুকুর কে ফুল দিয়েছিলো, আর কুকুর টা,নাকি খুব জোরে ঘেউঘেউ শুরু করছিলো।তাদের পাশেই নাকি কয়েকটা পুরুষ কুকুর ছিলো তারা নাকি শাকিব কে তাড়া করেছিলো।তাড়া খেয়েই শাকিব এর এই অবস্থা।....(আবির) কথা টা শুনে তাহিয়ার গাল গুলো যেন রাগে লাল হয়ে গেলো।তাহিয়া অনেক রাগন্তিত ভাবে শাকিব এর দিকে তাকালো আর বলতে লাগলো। ----তুই আসলেও একটা????তোকে পরে বোঝাবো। এই বলে তাহিয়া চলে গেলো।তাহিয়ার চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। "কেন যে কাল এই সালাদের কাল এটা বলতে গিয়েছিলাম" মনে মনে এসব বলছে শাকিব।এমন সময় আবির শাকিব কে বলতে লাগলো, ---কি রে দুস্ত তাহিয়া ঘটনা টা শুনে এতো রেগে গেলো কেন? শাকিব এবার চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো। ---সালা প্রেট্টোল এ আগুন দিয়ে বলছিস যে আগুন লাগলো কেন?বলছিলাম না চুপ থাকতে।সালা তোদের মতো বন্ধু থাকার চেয়ে শত্রু থাকা ভালো।..(শাকিব) ---কি রে দুস্ত,তুই এমন করছিস কেন? তর আবার কি হলো?.....(আবির) ---কি আর হবে কিছুই না।(শাকিব) এই বলে সে চলে আসলো সেখান থেকে। আর তাহিয়ার নাম্বারে ফোন দিলো। ফোন টা রিসিভ করেই তাহিয়া বলতে লাগলো, ---ঐ তুই ফোন দিছিস কেন? ----আরে বাবু রেগে যাচ্ছো কেন?আমার কথা টা শুনো আগে? ---ঐ কি শুনবো তোর কথা?আমি লেডিস কুকুর,তর মতো ছেলের সাথে আমার রিলেশন করাটাই ভুল হয়ছে। ---আরে আমি তোমায় ওটা বলিনাই। ---চুপ আর একটা মিথ্যা কথা বলবি না।ছিঃ তুই তর বন্ধুদের সাথে এটা বলতে পারলি।তুই না জানি তর বন্ধুদের সামনে আমায় নিয়ে আর কত কি বলিস। ---আরে ভুল বুঝতাছো বাবু। ---ঐ চুপ আমায় বাবু ডাকবিনা।আমার লেডিস কুকুর বলার মজা তুই হাড়ে হাড়ে টের পাবি।আমি নাকি ঘেউঘেউ করি ছি ছি ছি। এই বলে তাহিয়া ফোন কেটে দিলো। শাকিব আবার ফোন দিলো কিন্তু কাজ হলো না,কারন তাহিয়া নাম্বার ব্ল্যাক লিষ্ট এ ফেলেছে। "রাগ কমলে নিজে থেকেই ফোন দিবে।কেন যে বন্ধু দের কাল মিথ্যা কাহিনী শুনাতে গেলাম।সব দোষ ঐ আপু ডাক টার।না জানি তাহিয়ার মাথায় আবার আমাকে ফাদে ফেলার নানা শয়তানি কাজ করছে"। শাকিব মনে মনে এসব বলছে। প্রায় ২ দিন পর....... এই দুইদিন শাকিব এর তাহিয়ার সাথে কোনো কথা হয়নি। শাকিব অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু লাভ হয়নি। প্রায় বিকেল হয়ে এসেছে শাকিব বাসায় এসেই চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলো। শাকিব এর বাবা,আর মায়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ----ছেলে টাকে অতি আদরে বাদর বানিয়েছো।....(শাকিব এর বাবা) ---আমি আদর দিয়েছি তুমি কি করছো।তুমি যেমন ছেলেও তেমন হয়েছে।...(শাকিব এর মা) ---আজ আসুক বাসায়। এলাকাতে তো মুখ দেখানো যাবে এই ছেলের জন্য। শাকিব বুঝতে পারলো কথা গুলো তাকেই বলছে তার বাবা।কারন শাকিব পরিবারের একটা মাত্র ই সন্তান। সে ভেবে পাচ্ছেনা তার বাবা কেন এসব বলছে, তার জানামতে সে তো এমন কোনো কাজ করে নাই যে যার জন্য কেউ তার বাবার কাছে তার নামে বিচার দিবে। শাকিব বুঝতে পারলো নিশ্চয় এর পেছনে তাহিয়ার হাত আছে।তাহিয়া নিশ্চয় কোনো পেচ কষেছে। শাকিব বাসার ভেতর ঢুকতেই তার বাবা......... আজ এই পর্যন্ত ই,,, পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প: #প্যাড়া_এবং_ভালোবাসা ৩
→ গল্প: #প্যাড়া_এবং_ভালোবাসা ৩
→ গল্প: #প্যাড়া_এবং_ভালোবাসা ২
→ গল্প: #প্যাড়া_এবং_ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now