বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:
:
:
ফাহমিদার ঘুঁড়ি প্রায় আকাশ ছুঁই ছুঁই। যত সুতা ছাড়ছে ততই সাদা মেঘ পেরিয়ে যাচ্ছে। সবার উপরে উড়োজাহাজের সাথে উড়ে চলেছে। ফাহমিদা চিৎকার করছে আর আনন্দে লাফাচ্ছে। সকলে পলকহীন চোখে তার ঘুঁড়ির উড়ানো দেখছে।
.
ঘুঁড়িটা উড়ছেতো উড়ছেই নিরন্তর। যেন সেটার গন্তব্য মহকাশের সেই অজানা গ্রহে। যেন তারকাদের সাথে সেটার বহুদিনের আত্মীয়তা। আজকে দেখা করতে যাচ্ছে। পিছু ফিরছেনা একটি বারের জন্য। নানান রঙ্গের কাগজে বানানো ঘুঁড়িটির গায়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে "ফাহমিদা "। নাম দেওয়ার কাহিনী হচ্ছে, ঘুঁড়িটা যেখানেই যাক হয়তোবা হারিয়ে যাবে আর যে পাবে অন্তত নামটি যপে ঘুঁড়ির বানানোর প্রশংসা করবে।
.
দুই বিল্ডিং পরের ছাদ থেকে অপলকে চেয়ে আছে নিরব। যেখানে সবাই ঘুঁড়ি নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে নিরব ফাহমিদার দর্শনে ন্যস্ত। সে প্রত্যহ ছাদে আসে ফাহমিদাকে দেখার জন্য। তারও একটা ঘুঁড়ি আছে মাঝেমাঝে উড়ায়। ঘুঁড়ি উড়ালে আকাশপানে চেয়ে থাকতে হয় বলে ফাহমিদাকে দেখা মিস করে তাই ঘুঁড়ি বাসায় রেখে দেয়।
.
ঐ ঘুঁড়িটাও ফাহমিদার বানানো। একদা ছাদে এসে দেখে একটা সুন্দর ঘুঁড়ি পড়ে আছে। এদিক সেদিক দেখলো কেউ নেই। ঘুঁড়িটা হাতে নিয়ে সুতার দিকে তাকাতেই দেখলো সেই ছাদ থেকে একটি মেয়ে সুতা টেনে ঘুঁড়িটা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘুঁড়িতে নামটি দেখেই বুঝতে পারলো তার নাম ফাহমিদা। ঈশারা করছিলো ঘুঁড়িটা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু একটা নির্দিষ্ট দুরুত্ব থাকাতে কথার শব্দ হচ্ছিলো না। নিরবও ঈশারা করে বুঝিয়ে দিলো "ঘুঁড়িটা তার পছন্দ হয়েছে দিবে না"। না! মেয়েটি নাছোঁড়বান্দা দিতেই হবে। ছেলেটি আরো বেশি নাছোঁড়বান্দা দিবে না এটা তার পছন্দ হয়েছে। দু' জনে ঈশারায় অনেক্ষন কথোপকথন করলো কিন্তু নিরব তা আর ব্যাক দিলো না। এই ঘুঁড়িটাই নিরব মাঝেমাঝে উড়ায়। বিশেষ করে যেদিন ফাহমিদা ছাদে আসেনা, সেদিন উড়ায়।
.
ফাহমিদা ভালো ঘুঁড়ি বানাতে পারে। তার বানানো ঘুঁড়িগুলো সবার থেকে আলাদা। পাড়ার ছেলে-মেয়েরা প্রত্যেকটা দিন তার কাছে বায়না নিয়ে বসে ঘুঁড়ি বানিয়ে দিতে। সে সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে ঘুঁড়ি বানিয়ে দেয়। শুধু নামটা নিজের লিখে। তাই পাড়ায় ফাহমিদার ঘুঁড়ি নামে একটা খ্যাতি আছে।
.
প্রায় সময় ঘুঁড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতাও করে। কার ঘুঁড়ি কতটুকু উপরে উঠবে, কারটা কে কাটতে পারবে! ফাহমিদা ঘুঁড়িটা একটু উপরে উঠিয়ে হালকা ত্যাচড়া টান মেরে সুতাটা কেটে দেয় আর ততক্ষনাৎ প্রতিযোগীর ঘুঁড়িটা চলে যায় অজানায়। এভাবে কত যে কেটেছে তার হদিস নেই। নিজে খুব কমই হারিয়েছে।
.
ফাহমিদা বুঝতে পারতো যে সামনের ঐ ছাদ থেকে কিউট ছেলেটি তাকে প্রত্যহ ফলো করে। তাইতো সেদিন ঘুঁড়িতে চিঠি পাঠিয়েছিলো যাতে লেখা ছিলো " তোমার নাম কি? তুমি আমাকে কিছু বলতে চাও "? ঘুঁড়িটা নিরবের ছাদ বরাবর যেতেই একটা হ্যাচকা টান মেরে ফেলে দিলো। নিরব চিরকুটটা নিয়ে আটরেকটা আটকে দিলো। সে লিখেছিলো "আমি নিরব । বলারতো অনেক কিছু আছে কিন্তু কিভাবে বলি "! এভাবে প্রত্যেকদিন তাদের ভিতর বোবা ভাষায় কথা হতো।
.
চিঠি অথবা ঈশারায় দু' জন দু' জনের পছন্দের জামা গায়ে দিতো। সুন্দর লাগছে বলে হাতের ঈশারায় প্রশংসা করতো। একে অপরের সাথে ঈশারাতেই রাগ করতো। তারা ছাদে এসে হাসতো, গাইতো, নাচতো কখনো কখনো কাঁদতো।
.
একদিন ভাবের আদান-প্রদানে দু' জনে দেখা করার করার সিদ্ধান্ত নিলো। আর ছাদে নয়, ঈশারায় নয়, চিরকুটে নয়। এবার যা হবে সরাসরি। চোখে চোখ রেখে মুখোমুখি হয়ে। এতদিনের ঈশারাতেই দুজন দুজনের দারুন ভক্ত হয়ে গেছে। মুহুর্তের অনুপস্থিতিতে মিস করে। তাই একে অপরকে পছন্দের কথা বলবে বলে এই সিদ্ধান্ত।
.
ফাহমিদা সেদিন নিরবের পছন্দ করা নীল রংয়ের শাড়ি পড়েছিলো সাথে ম্যাচিং করা ব্যাসলেট, লিপিস্টিক, টিপ, খোপায় বাঁধা নীল কাটা, নীল রংয়ের হ্যান্ড ব্যাগ। সেদিন ফাহমিদা ছিলো নীলে নীলাঞ্জনা। তার হাসিও বের হয়েছিলো নীল নীল। একবুক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলো নিরবের জন্য।
.
বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর নিরব আসবে না বলে ফাহমিদার মনে হচ্ছিলো। চারিদিকে তাকাতে থাকলো। ঘুঁড়ির চিরকুটে কথা হত কিন্তু কখনো ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হলো না। তাই ফোন হাতে থাকা সত্বেও যোগাযোগ অফ। অতঃপর ফাহমিদা হতাশ মনে বাসায় ফিরে গেলো। ফিরে আসার সময় বারবার পিছনে দেখলো না'জানি নিরব এসে ডাকছে। কিন্তু না , নিরবের আসা হলো না।
.
সেদিনের পর থেকে আর নিরবকে দেখা গেলো না। ফাহমিদা ঘুঁড়ি উড়িয়ে নিরবের আসার দিকে চেয়ে থাকতো কিন্তু নিরব আর তার ঘুঁড়ি উড়ানো দেখার জন্য আসলো না। যেই জায়গাটাতে নিরব দাড়িঁয়ে থাকতো এখন সেখানে খালি পড়ে আছে।
.
নিরবের অনুপস্থিতি ফাহমিদাকে দারুনভাবে কষ্ট দিতে লাগলো। আর নিজেকে কোনভাবেই বুঝাতে না পেরে নিরবের বাসার খোঁজ নিয়ে বাসায় গেলো। গিয়ে শুনতে পেলো নিরব আর নেই। তাকে মরণব্যাধি ব্রেইন ক্যান্সার না'ফেরার দেশে নিয়ে গেছে। ফাহমিদা তখন আর কোন কথা বলতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলো।
.
নিরবকে হারিয়ে সেদিন থেকে ফাহমিদা ঘুৃঁড়ির মধ্যে নিরব নাম লিখে ঘুঁড়ি উড়ায় আর নিরবের দাঁড়িয়ে থাকা জায়গার দিকে অপলকে চেয়ে থেকে কাঁদে। তখন থেকে সবার ঘুঁড়িতে লিখে দেয় নিরব। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত করে শুধুই নিরব নিরব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now