বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গফুর মিয়ার স্বপ্ন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X রিক্সার চাকা ঘুরছে। রিক্সার চাকাগুলো এমনি এমনি ঘুরছেনা। গফুর মিঞা রিক্সার প্যাডেলে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে পা চালাচ্ছে। এই শক্তির জোড়েই ঘুরছে রিক্সার চাকা। গফুর মিঞার রিক্সাতে,গফুর ব্যতিত অারও দুই জন মানুষ অাছে। একজন মা তার সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। . গফুর মিঞার কানে স্পষ্ট ভেসে অাসছে। যে মা তার সন্তানকে বলছে খেয়ে ননে বাবা। পরীক্ষা দিবি শরীর সুস্থ্য থাকা দরকার। এইটা খেয়ে নে।. . গফুর মিঞা প্যাডেল মারছে অার মাঝে মাঝে পেছনে ফিরে তাকাচ্ছে। দেখছে যে ছেলেটা খাচ্ছেনা।এতো জোড়াজুড়ির পরেও ছেলেটা খাচ্ছেনা। মা বার বার মুখে তুলে দিচ্ছে কিন্তু খাচ্ছেনা। কিন্তু মা তবুও যেনো হাল না ছাড়ে। মা যেনো পণ করেছে খাওয়াবে। কারণ মায়ের মন বলে কথা। . গফুর মিঞা মায়ের এমন জোড়াজোড়ি দেখে। তার লুঙ্গির বাজে হাত দিলো। হাত দিয়ে দেখলো অাপেলটা অাছে নাকি পরে গেছে। মা ছেলের অাগে অন্য পেসেঞ্জার গফুর মিঞাকে একটা অাপেল দিয়েছিল। সেটাই দেখলো লুঙ্গির বাজে অাছে কিনা। . পেসেঞ্জারের দেওয়া অাপেলটা না খেয়ে রেখে দিয়েছে গফুর মিঞা তার ছেলের জন্য।মা ছেলের এই কৃত্বিকলাপ দেখে গফুর মিঞারও তার ছেলের কথা মনে পড়ে যায়।অাজকে বাড়ি থেকে অাসার সময় গফুর মিঞার চোখ দিয়ে পানি ঝড়াতে হয়েছে। . সকাল বেলা গফুর মিঞার ছেলেটা এসে বলে -বাজান রিস্কা কই টেহা দাম? এরকম কথা শুনে গফুর মিঞা বেবাচেকা খায়! তবুও মুখে একটু হাসি নিয়ে বলে - কেনো বাজান? তুমি রিস্কার দাম জিগাও কেরে? (গফুর) - কই টেহা দাম বাজান? অামিও একটা রিস্কার কিনুম (গফরের ছেলে) - না বাজান তুমি রিস্কা কিনতা কেরে? তুমি তো ডাক্তার হবা! - না অামি ডাক্তার হমুনা। বাজান অামি কাইলকা দেখছি মহাজনে তোমারে দমকাই। তুমি নাহি রিস্কা চালাইতে পারোনা অাগের মতন।যার লাইগা রিস্কার টেহাও দিতে পারোনা। - ছেলের মুখে এসব শুনে চমকে যায় গফুর। তবুও বলে,বাজান দমকাই নাই।এমনেই কইছে। - না না তুমি মিছা কথা কইতাছো। অামি দেখছি:মহাজন তোমারে দমকাইছে। বাজান অামিও রিস্কার কিনুম। অামারে রিস্কা কিইন্যা দেও। - -বাজান তুমি রিস্কা দিয়া কি করতা।বাজান রিস্কা মেলাদাম। - বাজান অামিও রিস্কা চালায়াম। তোমার কষ্ট অামার ভালা লাগেনা। তোমারে মহাজনে বকছে। বাজান অামার লেহাপড়ার দরহার নাই।অামি রিস্কা চালায়া তোমারে খাওয়ামু। . অার চোখের পানি বাঁধা মানলোনা। গফুর মিঞা তার স্ত্রীকে ডেকে ছেলেকে নিতে বলে। এদিক দিয়ে গফুর মিঞার স্ত্রীও ভাপ ছেলের কথা শুনছিল। গফুর মিঞা লক্ষ করল তার স্ত্রীর চোখেও পানি। ছেলের এমন কথা শুনে দু'জনের হৃদয় কেঁপে ওঠে। . গফুর মিঞা তার ছেলেকে কখনোই তার মত রিক্সা চালক হতে দিবেনা। গফুর মিঞার স্বপ্ন তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। যতই কষ্ট হোক, না খেয়ে থাকলেও ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। তাই যদি কখনো কোন প্যাসেঞ্জার কোন কিছু খেতে দেয়, বা রাস্তার পাশে ভাল কিছু কিনতে পারে কম দামে। তখন সেগুলো ছেলের জন্য রেখে দেয়।কারণ তার স্বপ্ন যে পূরণ করতেই হবে। . ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন, এর একমাত্র কারণ গফুর মিঞার মায়ের মৃত্যু। বিনা চিকিৎসাতে গফুর মিঞার মা মারা যায়।তাদের গ্রামে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়।তাই ছেলেকে ডাক্তার বানিয়ে মানুষের সেবা করাবে, যেনো অন্ততপক্ষে তাদের গ্রামে কেউ বিনাচিকিৎসাতে মারা না যায়। তার স্বপ্ন সে পূরণ করবেই। . এই খালি যাবে? - না স্যার যামুনা। - একজন প্যাসেঞ্জার পাইছিল।কিন্তু গফুর মিঞা না করে দিয়েছে। মা ছেলেকে নামিয়ে দিয়েছে সেই কখন। এখন অার কোন ভাড়া নিবেনা। বাড়ি চলে যাবে। ছেলেটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। মা ছেলের খাওয়া নিয়ে জোড়াজোড়ি দেখে ছেলের কথা মনে পড়ে যাই।গফুর মিঞাও ভাবে, সেও তো এমনি জোড় করে তার ছেলেকে খাওয়ানোর সময়। মা বাবারা বুঝি এমনি হয়। . . . writer : (পিচ্চি পোলা)......gj


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গফুর মিয়ার স্বপ্ন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now