বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ শুক্রবার। এখন রাত ১০টা বাজে। হিমু এখন মাজেদা খালার বাসার ছাদে। এই জায়গাটা হিমুর অনেক পছন্দের। এখন প্রতি সপ্তাহে একবার মাজেদা খালার বাসায় আসতে হয়। মাজেদা খালার কড়া নির্দেশ। সপ্তাহে ছয় দিন ভবঘুরের মত যা ইচ্ছে করে বেড়ালেও শুক্রবার মাজেদা খালার কথামতোই চলতে হয়। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে যে মাজেদা খালা আবার হিমুর বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এইসব উদ্ভট পরিস্থিতি হিমু আগেও সামলেছে। কিন্তু এইবার মাজেদা খালা একেবারে কোমড় বেধে নেমেছে। আজ মাজেদা খালা নিজের হাতে হিমুকে খাইয়ে দিয়েছে। ব্যাপারটা একটু চিন্তার বিষয়। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। তাই নিরিবিলি ছাদে এসে বসে বসে ভাবছে হিমু।
-ভাইয়া একা একা বসে আছেন যে?
হঠাৎ পেছন থেকে বলে উঠলো কেউ। হিমু পেছন ফিরে তাকালো। শঙ্খনীল। এ বাড়ির ভাড়াটিয়া। ছেলেটা ভালো। অনেকটা ভবঘুরে টাইপের। হিমু হতে চায়।
-বসতে পারি?
-হুমম। বসো।
-এতো গভীরভাবে কি ভাবছেন?
-ভাবছি কিছু, কিন্তু গভীরভাবে না।
-আপনাকে অনেকদিন পর দেখলাম।
-হুম। কেমন আছো তুমি?
-জি ভাইয়া, ভালো। কিন্তু আপনি মনে হয় ভালো নেই।
-হম। কিভাবে বুঝলে?
-বুঝেছি। একটা গোপন সংবাদ আছে। সেটা শোনার পরেই কিছুটা আন্দাজ করেছি।
-কি?
-মাজেদা খালা নাকি আপনার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছে?
এতো গোপন একটা সংবাদ অথচ সবাই জানে? হিমু কিছুটা অবাক হলো। এটা নিশ্চয়ই মাজেদা খালার কাজ। এই মানুষটা সত্যিই অদ্ভূত।
-ভাইয়া এইবার আপনার জন্য এতো সুন্দরী মেয়ে দেখা হচ্ছে যে আপনি চাইলেও আর বিয়েতে না করতে পারবেন না।
-এইটাও কি গোপন সংবাদ?
-জ্বি।
-মানুষ চাইলে সবই পারে। তাহলে আমি কেন না করতে পারবনা?
-অতি সুন্দরী যে !! দেখলেই আপনি লাড্ডু হয়ে যাবেন।
-লাড্ডু হয়ে যাব?
-জ্বি ভাইয়া। মাজেদা খালা তো সেইরকমই কিছ বললো।
-ও আচ্ছা।
-আমাকে বলেছে যেন সবসময় সেভ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকি। আমার জন্যও নাকি ভালো মেয়ে খুজে দিবে। মুখে দাড়ি থাকলে নাকি ভালো মেয়েরা পছন্দ করেনা।
-ভালো মেয়ে কিভাবে খুজে?
-জানিনা ভাইয়া। খালা বললো তাই অামিও মাথা নেড়ে গেলাম। উল্টো প্রশ্ন করলে ভাবতে পারে আমি বিয়ে পাগল।
-হুম। ভালো করেছ।
-ভাইয়া আমি আজ একটা হলুদ পাঞ্জাবি কিনেছি। ভেবেছিলাম যেদিন আপনার সাথে দেখা হবে সেদিন পাঞ্জাবিটা পড়বো। তারপর সারারাত আপনার সাথে খালি পায়ে ঘুরে বেড়াব। আজ মনটা ভালো নেই।
-কেন?
-জানিনা। আমি কি পাঞ্জাবিটা পড়ে আসবো?
-আচ্ছা যাও।
শঙ্খনীল অনেকটা দৌড়ে নিচে নেমে গেল। কিছুক্ষন তার প্রস্থানের দিকে তাকিয়ে থেকে হিমু আবার চিন্তায় ডুব দিল। মাজেদা খালার গোপন খবর আর কার কার কাছে পৌছেছে কে জানে! ছাদের বেঞ্চিটায় শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছে হিমু। আজ আকাশেও তারা নেই। মেঘলা আকাশ। আকাশটা কেমন জানি গুমড়ো ভাব করে আছে। অনেকদিন ছাদে শুয়ে জোছনা দেখা হয়না। এখন শুধু ভাবনার আকাশে মেঘলা আকাশ আর জোছনা আকাশের পার্থক্য খুজছে হিমু।ভাবনার ভিতরে আবার চলে এল মেয়েটা। মাজেদা খালা বলেছে আজ রাতেই নাকি মেয়েটিকে দেখাবে। পছন্দ অপছন্দ নয় শুধু বিয়ের আগে মেয়ে দেখার একটা নিয়ম আছে তাই। আচ্ছা বিয়েটা কি আজকেই নাকি? অবশ্য এসব নিয়ে হিমুর কোন চিন্তা নেই। এখন ভাবছে শঙ্খনীল ছেলেটিকে নিয়ে। এই ছেলেটির হটাৎ মন খারাপের ঘটনা কি? হিমু এখানে আসলেই ছেলেটি খুশি হয়ে উঠে যা ওর চোখে মুখে প্রকাশ পায়। আজ কেমন যেন অন্ধকার।
রাত তিনটা বাজে। পুরো এলাকা অন্ধকার থাকলেও মাজেদা খালার বাড়ি আলোকিত। প্রতিটি ফ্লাটের মানুষ জেগে আছে। সবার চোখে মুখেই হাসি শুধু মাজেদা খালা মুখ অন্ধকার করে এক কোনে বসে আছে। মাজেদা খালা কিছুক্ষন পর পর সোফার উপরে বসা হলুদ পাঞ্জাবি পরা শঙ্খনীলে দিকে তাকাচ্ছে। ছেলেটির পাশে মেয়েটিকে খুব সুন্দর মানিয়েছে। অনেক ইচ্ছা ছিল ভবঘুরে ভাগ্নের সাথে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে একটি ভাল কাজ করতে। কিন্তু হিমু অাবার সব পন্ড করে দিলো। তবে এইবার যা করেছে সেটা সত্যিই অকল্পনীয় !!
-খালা আমি এখন যাই।
-দেখ হিমু আমাকে বিরক্ত করবি না। যাসনি কেন এখনো ? তোকে না যেতে বলেছি অনেক আগেই। আমার চোখের সামনে হতে বিদায় হ্। অনেকটা যেন হাপিয়ে উঠেছে খালা এই কথা গুলো বলতে যেয়ে।
- ঠিক আছে যাচ্ছি। আরেকটি মেয়ে দেখে রেখো। এবার কথা দিচ্ছি বিয়েটা করেই ফেলবো। হাজার হলেও তুমি আমার খালা। তোমার কথা তো মানতেই হবে।
কথা গুলো বলেই হিমু গেটের দিকে এগিয়ে যায় সেই বিখ্যাত হাসি টা দিয়ে।
উপসংহারঃ হিমু বঝতে পারে শঙ্খনীলের সাথে মেয়েটির আগে হতেই সম্পর্ক আছে। ছেলেটি হিমু কে এত ভালবাসে যে কথাটি বলতে পারেনি। তাই হিমু মেয়েটির বাবা মার সাথে কথা বলে ছেলেটির সাথে বিয়ে দিয়েই বাসা হতে বের হয়ে যায়।
আসলে হিমুরা এমনই। নিজের জন্য নয় অন্যকে ভাল রাখাতেই তাদের আনন্দ। হিমুর জন্য শঙ্খনীলদের ভালবাসার কাছে মেয়েটি কিছুই না........
শ্রদ্ধেয় হুমায়ন স্যারের স্মরনে লেখা......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now