বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আম্মুঃ কিরে এত তারা হুরা করে করে কোথায় যাচ্ছিস?
আমিঃ বন্ধুর বাসায় দাওয়াত আছে। আমার নীল কালারের শার্টটা খুজে পাচ্ছি না।দেখতো কই?
আম্মুঃ এইনে শার্ট....
কিছুক্ষণ পরেই আমি তারাহুরা করে চলে গেলাম।
ওহ! আমার পরিচয়টাইতো দেয়নি।আমি আসিফ(ছদ্দ নাম)।এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র।
কোন অলোকক্ষনে সময়ে যে বন্ধুর বাসায় দাওয়াত ছিল.........তাড়াহুড়ো করে বেরতে গিয়ে মোবাইলটা ডাইনিং টেবিলে ফেলে এসেছিলাম.........
এক এর পর “মেয়ে বন্ধুদের’’call আসা শুরু হয়। মা ফোন ধরেন......রিসিভের সাথে সাথেই কেউ বলে, “জান কি কর?”... কেউ বলে, “কেমন আছে আমার দুস্টুটা?”...। এক জন তো ফোন করেই..............
ওরা যে আমার বন্ধু ছিল তা আম্মু কিছুতেই বুঝছিল না।
নারীমহলে ছেলের বিরাট জনপ্রিয়তা দেখে মা তো রীতিমত শিউরে উঠেন......। “নাহ..., ছেলে তো control এর বাইরে চলে যাচ্ছে......এখুনি কিছু একটা করা লাগবে নাহলে তো ছেলে না জানি কবে বংশের মুখে “ঢাকা ওয়াসার পানি” ছিটিয়ে দিয়ে যায়...”। পরদিন বাসায় জরুরী meeting...। আপু-দুলাভাই এসেছেন। দুলাভাই আমাকে বলছে, “তুমি তো মিয়া বিরাট চালু...দেখে তো মনে হয় ভাজা মাছটা উল্টায়া খাইতে পার না......আর এক সাথে চার-চারটা.......!! manage কর কেমনে? আমি তো life এ সর্বসাকুল্যে দুইটা প্রেম করসি......।’’ আমি বুঝছি না যে এতে দোষের কি আছে,ওরা আমার বান্ধবী ছিল,একটু ফ্রি হলে যা হয়। তবুও নিরব শ্রোতার মত শুনে যাচ্ছি়।
সারাদিন আমার বৈঠকের পর স্বিদ্ধান্ত হল যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমার বিয়ে দেয়া হবে। আমাকে tide দেওয়ার জন্য।
“ওমা!!! কি বলো এসব!! কেবল মাত্র অনার্স ফাইনাল ইয়ারে এ পড়ে আর এখনি বিয়ে!!! কি মুশকিল!!” আমিতো যথারীতি বিপাকে পরে গেলাম। এমন বিচার আশা করে নি।
এই স্বিদ্ধান্তের জনক অামার বাবা, তাই আমি প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। উনি চরম বদরাগী ও ঘাড়ত্যাড়া পাবলিক। আমি যমের মত ভয় পায় তাকে। চিন্তা করে মানে মানে তার কথা মেনে নেয়াই ভাল।
দুদিন পর পাত্রীর নাম ঘোষনা করা হল। তানিয়া (ছদ্দ নাম)। মা’র বান্ধবীর ফুপাতো বোনের মেয়ে। ইডেনে পড়ে।
কোথাকার কোন মেয়ের সাথে সারাজীবন থাকা লাগবে। অন্তত মেয়েটার সাথে কয়েকদিন ঘোরাফেরার সুযোগ দিত। তা না, ধুম করে বিয়ে।
অবশেষে বিয়ে হল। বাসর রাত। বন্ধুরা বলেছে বেড়াল মারতে। ওমা! আমি কি বিড়াল মাড়বো! ঘরে ঢুক ে আমিই বিড়াল হয়ে গেলাম । ঘরে ঢুকে দেখি যে নতুন বউ ঘরের মাঝখানে কোমরে দুই হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।আমি কিছু বলার আগেই তানিয়া বলে, “দেখো আমি তোমার সম্পর্কে সব শুনসি......তুমি খুবই লুইচ্চা একটা ছেলে......আমার বাপটা যদি হঠাৎ করে মরে না যেতো তাহলে তোমার মত লুইচ্চা ছেলেরে জীবনেও বিয়ে করতাম না...। যতদিন না এইসব লুইচ্চামি ছাড়বা ততদিন আমার সাথে স্বামীগিরি ফলাইতে আসবা না......।’’
হতবম্ব হয়ে কথাগুলো শোনছি। কি বলে এই মেয়ে...! আমি লুইচ্চা...! তাও আবার আমার ঘরে দাড়িয়ে...! ঘটনার আকস্মিকতায় আর কিছু বলতে পারছি।
বিছানা থেকে একটা বালিশ নিয়ে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে তানিয়া বলে- ‘নিচে শোও’।
আমার মনে হয় যে ঘর থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে অনেক মানুষ। লোকে কি বলবে এই ভেবে বালিশটা নিয়ে চুপচাপ নিচেই শুয়ে পড়ি.....।।
এভাবেই কয়েকদিন কেটে যায়......পারতপক্ষে তানিয়া কে এড়িয়ে চলছি। সামান্য কথা হয় কিন্তু কি তেজ রে বাবা! আরে এতই যদি আমাকে অপছন্দ তাহলে বিয়েতে কে তাকে রাজি হতে বলেছে। মেজাজ সবসময় খিটখিটে। কোন সময় মানুষের সামনে কোন বেফাস কথা বলে ফেলে- এই জন্য ও বেশ ভয়ই পায় তানিয়াকে। অথচ বান্ধবীরাই কি সুন্দর করে কথা বলে....!
কিছুদিন পরের কথা। ফ্রেন্ডগুলা কিভাবে যেন আমার বিয়ের কথা জেনে গেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরানো বান্ধবী শাহানা। ওর জন্যই সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে। শাহানাও কেমন যেন হয়ে গেছে। বিয়ের ঝামেলার মধ্যে ওর সাথে ঠিকমত কথা না বলায় একটা gap তৈরি হয়ে গেছে। ইদানিং ইমির ফোন খালি busy থাকে। কোথাকার কোন আলিফের (ছদ্দ নাম) সাথে নাকি কথা বলে। এটাও officially চলে যাবে, experience তো আর কম হয় নি।
আজ ক্লাস শেষে বাসায় না ফিরে বন্ধুর বাসায় চলে যায়। মোবাইল বন্ধ করে সারাদিন ওখানে আড্ডা দিয়েই পার করে দেয়। রাতে একেবারে খেয়েদেয়ে বাসায় ফেরে। প্রায় ১২ টা বাজে। বেল চাপে। মা’র বড়সড় ঝাড়িমূলক লেকচার শোনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম। কিন্তু দরজা খোলে তানিয়া। খুলেই ব্যাপক ঝাড়ি। “মোবাইল বন্ধ ক্যান তোমার? কই ছিলা সারাদিন? জানো মা কত tension করসে!’’
আমিঃ একটু নরম সুরেই বললাম...........‘দেখ আমার মনটা খুব খারাপ, প্লিজ বকাবাজি কোরো না। তোমার রাগ করা চেহারা দেখলে না তোমাকে ফুলন দেবী’র মত লাগে।’’
তানিয়াঃকথাটা শুনেই তানিয়া ফিক করে হেসে দেয়।
আমার শরীরে ইলে ক্ট্রিক শক্ লাগে............এত্ত সুন্দর ওর হাসি!!! তানিয়া কে কখনও ওর সামনে হাসতে দেখিননি। হঠাৎ খেয়াল করে যে, আজ তানিয়া একটা শাড়ী পড়েছে। সবুজ রঙের। চুল ছাড়া,বুঝলাম ভেজা। মনে হয় গোসল করেছে। ওর রাতে গোসল করার অভ্যাস আছে। ‘কিন্তু তানিয়াকে আজ এত সুন্দর লাগছে কেনো.........??’ -ভাবছি....!!!
তানিয়াঃ “ভেতরে আস’’- তানিয়ার কথায় তন্দ্রা ভাঙ্গল।
ভেতরে ঢুকে দেখে ঘর মোটামুটি অন্ধকার। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।
বাথরুম থেকে fresh হয়ে বেরিয়ে দেখি যে ডাইনিং এর লাইট জ্বলছে। গিয়ে দেখি তানিয়া বসে আছে। দুটো প্লেট দেখে....
আমিঃতুমি খাও নি?
তানিয়াঃ না । বসো, খেয়ে নাও।
পেট ভরা। তাও খেতে ইচ্ছে করে। তানিয়া ওর প্লেটে ভাত তুলে দেয়।
এই জিনিসটা ও নাটক-সিনেমা এবং ওর মা’কে ওর বাবার জন্য করতে দেখেছে............।
আমি বেশ অবাক হলাম উদ্ধত এই ঠোটকাটা মেয়েটার অবনত আর স্নিগ্ধ রুপ দেখে.........।
একটু একটু করে বেশ খানিকটাই খায় আর আড়চোখে তানিয়াকে দেখছি । মেয়েটার চোখে অনেক কিছু আছে। একদম অন্যরকম মেয়েটা। তানিয়ার প্রতি আমার ভয়টা কেটে যায়।
আমার খাওয়া শেষ। তানিয়ার একটু বাকি।
পুরো বাড়ি নিরব। আমি নিরবতা ভাঙ্গে।
আমিঃ-তানিয়া, তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড হবা.....
তানিয়াঃ প্লেটের দিকে তাকিয়েই বলে, ‘হতে পারি এক শর্তে......’
আমিঃ-কি ??
তানিয়াঃ -‘আমি কিন্তু আমার বয়ফ্রেন্ডকে কারো সাথে শেয়ার করতে পারব না......।।’ বলেই তানিয়া আবার ফিক করে হেসে দেয়।
উচ্ছ্বসিত কন্ঠে.....এমন গার্লফ্রেন্ড একটা হলেই তো চলবে.........!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now