বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত দেড়টার মতো বাজে।গ্রামে এতোক্ষণে
মানুষের দুই প্রহরের ঘুম শেষ।অন্যান্য দিনের
মতো আজকের দিন টা হলে আমিও শান্তিতে ঘুমাতাম।
এখনো ঘুমাবো,শান্তির ঘুম,যেই ঘুম কোনোদিন
আর ভাঙবে না।আমার জন্য তোমাদের কাউকে আর
কোনোদিন মুখ ঢাকতে হবেনা,কোনোদিন ও
বলতে হবে না-হ্যাঁ,ওই নষ্ট মেয়েটা আমার-ই
মেয়ে,কোনো চক্ষুলজ্জার ভয় থাকবে না,আমিও
স্বাধীন,তোমরাও স্বাধীন। কী চেয়েছিলাম
আমি?একটু বাঁচতে,একটু সম্মান,একটু স্বাধীনতা? এর
চেয়ে বেশি কিছু?আরেকটা জিনিস চাইতাম গাঙের
জলে কাগজের নৌকা ভাসাবো।নৌকা হয়তো আর
ভাসবে না,ভাসবে একটা লাশ,একটা নষ্ট মেয়ের লাশ।
আচ্ছা,আমার কী কোনো দোষ ছিল যখন পাড়ার
বড়ভাই আমাকে স্কুলে নিয়ে আসতে-যেতে
চাইতো?আমি কী বলেছিলাম তাকে?আমি কী
বলেছিলাম আমাকে ধর্ষণ করার জন্য?হ্যাঁ,আমি একজন
ধর্ষিতা।পড়ন্ত বিকেলে সখীদের সাথে বাসায়
ফেরার সময় আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।কে
গিয়েছিল জানো-সলিম মাতব্বরের ছেলে।হ্যাঁ,আমি
জানি তোমরা সবাই জানো এটা।আমার আগে এমন
অনেক মেয়েকেই সলিম মাতব্বরের ছেলে
তুলে নিয়ে গেছিলো,তাদের ভাগ্যে কী
হয়েছে জানো নিশ্চয়ই?যাদের বাবারা সলিম
মাতব্বরকে খাজনা দিতে পারতো,তারা এখন সলিম
মাতব্বরের ছেলে মোজাফফরের বউ?অনেক
শান্তির ভাবছো এটাকে?সলিম মাতব্বরের ঘরের
বউ,অনেক সম্মানের?গিয়ে খোঁজ নিয়েছো
কেউ ওরা কেমন আছে?সেইতো সেদিন পাশের
গ্রামের রোজিনা আপার সাথে দেখা!জানো তো
নিশ্চয় সে ও আমার মতোই বেজন্মা। তাকে
দেখে আমি চিনতেই পারিনি প্রথমে।সমস্ত
শরীরে মারের দাগ,বাম হাতে পোড়া চিহ্ন।অনেক
জিজ্ঞেস করার পর আপা আমাকে ধরে কেঁদে
বলেন,"তামান্না তুই ভাইগা যা এখান থেইকা,ওই
মোজাফফরের কুনজর তোর দিকে,আমার মতো
মরিস না বোইন,ভাইজ্ঞা যা এহান থেকা"।আমি মৃদু
হেসে তাকে অভয় দিয়েছিলাম,কিচ্ছু হবে না আমার।
মা-বাবা,ভাই-ভাবি সবাই আছে আমার।কিন্তু ভাগ্য আমার
পক্ষে কখনোই ছিলোনা।সেদিন বিকেলে
আমাকে যখন ওই জানোয়ারগুলো উঠিয়ে নিয়ে
গেছিলো,তখন আমার চিৎকার, আর্তনাদ চাপা পড়ে যায়
ওই জানোয়ারদের অট্টহাসিতে।পরেরদিন পাওয়া যায়
আমাকে গাঙের পাড়ে।ভেবেছিলাম-মা আমার সাথে
থাকবে।কিন্তু আমাকে বাড়িতে আনার সাথে সাথে
সে আমাকে কী বলে জানেন,"দূর হো
অলক্ষ্মী আমার সামনে থেকে,তোকে দেখাও
পাপ"।আমি কাঁদিনি,কান্না সবার জন্য নয়,কষ্টটাকে বুকে
চেপে রাখতে পারে কয়জন?হ্যাঁ,মা,আমাকে দেখা
আসলেই পাপ।আমি পাপি,আমি ধর্ষিতা।আগামীকাল আমার
বিয়ে,কার সাথে জানেন?ওই মোজাফফরের সাথে।
বেশ ধুমধাম করেই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে।
আমাকে দুই হাতে ভরে মেহেদি দেওয়া
হয়েছে।কিন্তু মেহেদি পাতা যেমন নিজে সবুজ
হয়েও হাতকে লাল করে দেয়,আমিও ঠিক
সেইভাবেই আজ নিজে মরবো।আমি জানি হয়তো
আমার মৃত্যুতে কারোর কিছুই হবেনা,কিন্তু আমি
প্রথম হবো যে কি না ধর্ষিতা হয়ে আত্মহত্যা
করেছে।লোকলজ্জার ভয়ে আমি আত্মহত্যা
করবো না,আমি আত্মহত্যা করবো ওই
জানোয়ারদের শাস্তির জন্য।পুলিশ আসবে,মিডিয়া
আসবে।পুলিশ হয়তো কিছুই করতে পারবে না,কিন্তু
এখন ফেসবুক না কী একটা আছেনা,ওটাতে আমার
ছবি ছাপা হবে,হয়তো লিখবে,"তামান্নার মুক্তি
চাই,মোজাফফরের মৃত্যু চাই"।আমার মুক্তি সেই দিন ই
মিলবে যেদিন এই জানোয়ার টা আমার মতো ধর্ষিতার
হাতে মরবে।সেদিন হয়তো আমি আমার এই গাঙেই
ফিরে আসব।বিকেলে দখিনা বাতাসে আমার সত্তা
হেসে উঠবে।এই গাঙ অনেক স্মৃতি বহন করবে।
অম্লান সব স্মৃতি।
[এটা কোনো গল্প নয়,এটা বাস্তবতা, আপনার আমার
মতো একটা মানুষের জীবনের কথা।আমাদের
দেশে এখনো ধর্ষিতাকে একটা ঘরে বন্দি করে
রাখা হয়,আস্তে আস্তে তার সব স্বপ্ন কে মুছে
ফেলা হয়,কিন্তু আর কতদিন।বদল চাই আমরা,মুক্তি চায়
এমন হাজারো অপূর্ণ স্বপ্ন।নতুন দিনের প্রত্যাশা
হোক শুভর আঙ্গিকে]
collected
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now