বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩.
পর্যাপ্ত ঘুম এবং খাওয়ার পর আক্কু কাজে লেগে পড়লেন। তার মেইন আইডিয়া হল, গাধা হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে পরিশ্রমি প্রাণী, তাই বাঙ্গালিদেরকেও পরিশ্রমি হতে হলে, তাদেরকে গাধা বানাতে হবে। মানে মানুষের জিনের সাথে যদি গাধার জিন ট্রান্সপ্লান্ট করা যায়, তবেই কেল্লা ফতে। বাঙ্গালিরা তখন সারাদিন গাধার মত খাটবে। এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আক্কু কাজ করতে লাগলেন।
এজন্য প্রথমেই একটা গাধা ধরে নিয়ে আসা হল। মনে করা হয়েছিল গাধা পেতে সমস্যা হবে, কিন্তু বাসার কাছেই মাঠে একটা গাধা পাওয়া গেছে। তাকেই নিয়ে আসা হয়েছে। গাধাটার মাথার দারুণ বুদ্ধি, তাকে যা করতে বলা হয়, তা-ই করে।
প্রায় চার মাসের ক্লান্তিময় পরিশ্রম শেষে, আবারো ল্যাবরেটরি থেকে চিৎকার ভেসে এল-
ই-উ-রে-কা .........
মকবুল দৌড়ে গেল।
গিয়ে দেখে আক্কু বিছানার উপর বানরের দক্ষতায় লাফাচ্ছেন। মকবুলকে দেখে লাফ দিয়ে তার কোলে উঠে পড়লেন। ক্ষীণকায় মকবুল, বিশালদেহী আক্কুর ভার বহন করতে পারল না, তাকে নিয়ে প্রপাত ধরণীতল।
-“মকু ওহ! মকু আমার সাধনা সার্থক। আমি অবশেষে গাধার জিন ট্রান্সপ্লান্টের অষুধ আবিষ্কার করে ফেলেছি।”
-“ কনগ্রাটস বস”
-“থ্যাংকস, এখন চটপট হা করোতো, তোমাকে দিয়ে শুরু করি”।
-“এ্যা, কিন্তু স্যার এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আমার মতো নাদানকে দিয়ে পরীক্ষা করানো কি ঠিক? এর যোগ্য হতে পারে সমাজের বিশিষ্ট কোনো লোক।”
-“ইয়েস, ঠিক কথা। এই সমাজে আমার চেয়ে বিশিষ্ট আর কে আছে, তাই আমিই টেস্ট করি-”
বলেই দৌড়ে গিয়ে, মকবুল বাধা দেবার আগেই বীকার থেকে ওষুধ নিয়ে খেয়ে ফেললেন এবং সাথে সাথেই মুখ বিকৃত করে ফেললেন।
-“উফ! জঘন্য স্বাদ”- মকবুলের জিজ্ঞাসু চোখের জবাব দেন।
-“প্রবলেম নাই, বস। রেস্ট নেন আপাতত, তারপর ঘুম থেকে উঠে দেখেন যে কি হয়।”
-“তা-ই ভাল, দেখা যাক কি হয়” বলে তিনি বিশ্রাম নিতে চলে গেলেন।
আর মকবুল ছুটল পর্যাপ্ত ডায়রিয়া আর পেট খারাপের ওষুধ কিনে আনতে, আল্লাহই জানে কি হয়?
সারাদিন ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙ্গল আক্কুর, ঘুম থেকে উঠেই চিৎকার-
-“মকু, মকু চা নিয়ে এসো”
মকবুল চা নিয়ে এল। কিন্তু এসে আক্কুর দিকে তাকাতেই কি যেন হয়ে গেল, প্রথমে হাত থেকে কাপ পড়ে ভেঙ্গে গেল। এরপর নিজেই মাথা চেপে ধরে পড়ে গেল। বিস্মিত আক্কু স্বগোক্তি করেন,
-“উফ, এদের নিয়ে আর পারা যায় না। এই সামান্য কাজটুকু করতেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আমার মত কাজ করতে হলে তো মাথার চুল একটাও থাকত না।”
আক্ষেপ করতে করতে তিনি বাথরুমের দিকে যান। টয়লেট সেরে হাতমুখ ধুতে আয়নার দিকে তাকাতেই আক্কু নিজেই এবার ফিট হয়ে পড়ে যান।
না, আক্কুর চেহারা গাধার মত হয়ে যায়নি, তবে খুব অল্প একটা পরিবর্তন এসেছে। তার কান দুটো গাধার কানের মতো লম্বা হয়ে গেছে।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় আক্কু- একটা মাংকি ক্যাপ পরে বসে আছেন। কিন্তু এই গরমকালে মাংকি ক্যাপ পরা অবস্থায় তাকে খুবই কিম্ভূত দেখাচ্ছে।
মকবুল ও তার সামনে অধিক শোকে পাথর অবস্থায় বসে আছে। আক্কু পুরোপুরি বিভ্রান্ত । এরকমতো হবার কথা নয়। তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই ওষুধটা বানিয়েছিলেন। সমস্যাটা কি হল ধরতে পারছেন না।
হঠাৎ ফোন বাজে, দুজনেরই চমক ভাঙ্গে।
হতাশ আক্কু উদাস ভঙ্গিতে ফোন তুলে নেন।
-“হ্যালো”
-“হ্যালো ও ও ও ও ও”- কণ্ঠটা শুনেই রাগে শরীরে আগুন ধরে গেল আক্কুর। ফোন করেছে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দিশিহারা হাগুমুতু।
-“কি চাই?” রেগে গেলেও কণ্ঠস্বর সামলে জবাব দেন আক্কু।
-“না, তেমন কিছু না, লম্বা কানে শুনতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, তা জানতেই ফোন করেছিলাম?”
ভয়ে মুখ শুকিয়ে যায় আক্কুর, তার এই অবস্থার কথা শয়তানটা জানালো কিভাবে?
-“কি আক্কু, কি ভাবে জানলাম, তা-ই ভাবছ তো? হা, হা, হা,”
শোনে আক্কু, তুমি খুবই ভাল মানুষ এবং অমিত প্রতিভাধর, এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই, কিন্তু খুবই বোকা কিসিমের। তুমি কাল যে ওষুধটা খেয়েছ, ওটা তোমার ওষুধ না, আমার আবিষ্কৃত ওষুধ। তোমার আগেই গবেষণাটা আমি শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমার ওষুধটা মানুষকে কাজের দিক দিয়ে গাধা না বানিয়ে, চেহারার দিক দিয়ে গাধা বানিয়ে দেয়। তুমি গবেষণার জন্য যে গাধাটা ব্যবহার করেছিলে, সেটা আসলে গাধা না, আমারই সহকারী আগামাথা। আমার ওষুধ খেয়ে ওর এই অবস্থা। তাই যখনই জানতে পারলাম যে, তুমিও একই গবেষণা করবে, তাই ভাবলাম, আমার আর কষ্ট করার দরকার কি? তাই কৌশলে আগামাথাকে তোমার ল্যাবে ঢুকিয়ে দিলাম। ও তোমার ওষুধ চুরি করে আমারটা রেখে চলে এল।”
-“ তবে রে শয়তান, তোকে তোকে আমি .........”
কথা খুজে পান না আক্কু, এদিকে দুচোখ দিয়ে অঝোরে ঝরছে অশ্রু“।
-“এই দ্যাখো, এতই ভাল মানুষ তুমি, এত ক্ষতি করার পরও আমার ক্ষতি করার কথা ভাবতে পারছ না। এজন্যইতো ওষুধের ডোজ অনেক কমিয়ে পাঠিয়েছিলাম। নাইলেতো তুমিও পুরোটাই আগামাথার মত হয়ে যেতে।
হা .....হা.....হা...........
তোমার আবিষ্কৃত ওষুধ এখন আমি খাব, আর কিছুদিনের মধ্যেই পরিণত হবো দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীতে, হা ......হা.......হা.........।
আর তোমার কান মাংকি ক্যাপ দিয়ে ঢেকে কয়দিন রাখবে?
হা .......হা.......হা.......।
তোমার এই সমস্যার অ্যান্টিডোট আমার কাছে আছে। আমি তা দেব, কিন্তু এক শর্তে, যদি তুমি এই গাধার কান নিয়ে বাইরে বের হও, আর সবার সামনে স্বীকার কর যে, তুমি গাধা।"
আক্কুর আর সহ্য হয় না, মোবাইলটা আছড়ে ফেলে বাচ্চাদের মত হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now