বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাছ বন্ধু

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X ছেলেটির নাম রুমেল ক্লাস টেনে পড়ে।রুমেলরা গ্রামে থাকে।ছোট বেলায় তার মা-বাবা একটা ছোট্ট এক্সিডেন্ট এ মারা যায়।তারপর থেকে রুমেল তার ছোট চাচা আর চাচির কাছেই মানুষ হয়।তার চাচার আবার কোন সন্তান নেই তাই রুমেল কে খুব ভালবাসে তারা। . সামনে রুমেলের এস,এস,সি পরিক্ষা।ফরম ফিলাপ করার জন্য প্রায় তিনহাজার টাকা দরকার।তার চাচা ছিল কৃষক।তেমন টাকা পয়সা ছিল না।তাই ফরমফিলাপ করার জন্য তেমন হাতে এত্ত টাকা ছিল না তার চাচার।তাই চিন্তা করলো আম গাছটা কেটে বিক্রি করে দিলে প্রায় পাচ হাজার টাকার মত পাওয়া যাবে।তারপর রুমেলের ফরম ফিলাপ করতে পারবে। . ছোট বেলায় যখন রুমেল বুঝতে শিখেছে তখন থেকে সে তার বাড়ির পাশের ছোট্ট আম গাছটার যত্ন করত।মা-বাবা হারানোর পর থেকে সে সেই আম গাছটার সাথে কথা বলত সব সুখ আর দুঃখের কথা বলত।যদিও গাছটা কোন কথা বলতে পারতো না।তবুও কেন যেন রুমেল তার কথা গুলো গাছটার কাছে বলার পর নিজেকে খুব হাল্কাবোধ মনে করত। . অন্যদিকে,আবার রুমেলের তেমন কোন বন্ধু ছিল না ছিল না কোন খেলার সাথি তাই সবসময় এই আম গাছটার নিচে একা একা বসে খেলতো।মন খারাপ থাকলে গাছের নিচে বসে থাকতো।মা-বাবার কথা মনে হলে এই গাছটার কাছে এসে কান্না কাটি করতো রুমেল।তার একমাত্র ভাল বন্ধু ছিল এই আম গাছটা। . আজকে চাচা যখন সকালে বলেছে যে আম গাছটা কেটে ফেলবে তখন থেকেই রুমেলের মনটা ভিষন খারাপ হয়ে গেছে,কারন আম গাছটা তার প্রিয় বন্ধু ছিল।তাই মন খারাপ করে তার চাচির কাছে গিয়ে বলল যেন তার প্রিয় গাছটা না কাটে।জবাবে তার চাচি বলল,,আব্বাজান তোমার চাচা যা রাগি আমি বলতে পারবো না আবার যদি গাছটা না কাটে তোমার ফরম ফিলাপ কিভাবে করবা। . রুমেল আর কথা না বলে চলে আসলো গাছটার কাছে এসেই কান্না করতে লাগলো।আর চিন্তা করতে লাগলো যে তার চাচা অনেক গরিব এত গুলা টাকা দিতে পারবেনা তাই গাছটা বিক্রি করতেই হবে।কিন্তু গাছটা কাটতে যে তার মন সায় দিচ্ছে না। . রাতে রুমেল কিছু না খেয়েই চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলো।তার চাচা অনেকক্ষণ ডাকল কিন্তু রুমেল খেতে গেল না।তার চাচাও কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো।কারন রুমেল কে ছাড়া তার চাচা একা একা কোনোদিন খায়নি। . আজ সকালে গাছটা কাটতে লোক আসলো।তার চাচা লোকজনকে গাছটা দেখিয়ে দিলো।আর পাশে দাঁড়িয়ে গাছটা কাটতে সাহায্য করছিলো।দুর থেকে রুমেল গাছটার দিকে তাকিয়ে থাকলো।তার অজান্তেই চোখের কোনায় পানি জমতে শুরু করল। . তার চাচা রুমেল কে দেখলো। দেখলো রুমেল নিরবে কান্না করছে।রুমেলের চাচা রুমেলের কাছে এগিয়ে গেলো।তারপর রুমেলকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো,,আব্বাজান তুমি কান্না করতাছো কেরে।গাছটা বিক্রি ছাড়া যে তোমার ফরম ফিলাপ করতে পারব না।আমার কাছে যে টাকা নেই।থাকলে কি আমার আব্বাজানের প্রিয় গাছটা বিক্রি করতাম।এই বলে কাঁদতে লাগলো। . রুমেল তার চাচাকে বলল,,চাচা আমার কিচ্ছু হবে না।আগে পড়ালেহা তারপর গাছ।যদি গাছটা বিক্রি কইরা ফরম ফিলাপ করতে হয়।তাহলে বিক্রি কইরা দেন শুধু আপনি কাইন্দেন না।আপনি কানলে আমারো যে অনেক কান্দা আহে। . সাথে সাথে রুমেলের চাচা রুমেলকে আরো জোরে জড়িয়ে ধরল।আর বলল যে কাল গাছ বিক্রির বাকি দুইহাজার টাকা দিয়ে আরো অনেক গাছ কিনে দিবে।তারপর গাছগুলোকে ভাল করে যত্ন করলে আরো সুন্দর বড় গাছ হবে। . পরদিন রুমেলের চাচা আরো অনেক গাছের চারা কিনে একটা ছোট্ট বাগান করে দিলো রুমেল কে।রুমেল তার পরিক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি গাছগুলির ভাল ভাবে যত্ন নিতে থাকলো।আস্তে আস্তে গাছগুলা বড় হতে থাকলো।আগের গাছটার কথা তেমন রুমেলের মনে পরে না কারন এখন রুমেলের অনেক বন্ধু,গাছ বন্ধু


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গাছ বন্ধু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now